কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার মানচিত্রে এক নিভৃত ও শান্ত গ্রামের নাম আড়ুয়াবান্ধা। প্রশাসনিকভাবে এটি ১১ নং চরসাদীপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই গ্রামটি গ্রামীণ বাংলার চিরায়ত রূপ ও প্রকৃতির এক অনন্য নিদর্শন।
চরসাদীপুর ইউনিয়নটি ভৌগোলিক দিক দিয়ে বেশ বৈচিত্র্যময়। এটি কুমারখালী উপজেলার অংশ হলেও পদ্মা নদী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন। পাবনা জেলার সীমানা সংলগ্ন এই চরাঞ্চলের গ্রাম আড়ুয়াবান্ধা। পলিমাটি বিধৌত এই গ্রামের মাটি অত্যন্ত উর্বর। চারদিকে সবুজের সমারোহ আর নদীমাতৃক আবহাওয়া গ্রামটিকে দিয়েছে স্নিগ্ধতা।
আড়ুয়াবান্ধা গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। এখানকার উর্বর জমিতে ধান, গম, পাট, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির ব্যাপক আবাদ হয়। কুমারখালী উপজেলা তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত হলেও, আড়ুয়াবান্ধা যেহেতু চর এলাকায় অবস্থিত, তাই এখানে কৃষি ও মৎস্য শিকারই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তবে অনেক পরিবার গবাদি পশু পালন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সাথেও জড়িত।
পদ্মা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় একসময় নৌপথই ছিল এখানকার যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। বর্তমানে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। তবে মূল কুমারখালী উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য নদী পারাপার বা পাবনা হয়ে দীর্ঘ পথের প্রয়োজন হতে পারে, যা এই গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এক সংগ্রামের অংশ।
গ্রামটি মুসলিম অধ্যুষিত হলেও এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। গ্রামের মসজিদ, মক্তব বা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এখানকার সামাজিক বন্ধন। বিকেলের হাটে বা চায়ের দোকানে গ্রামের মানুষের আড্ডা এখানকার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও আড়ুয়াবান্ধা আজও ধরে রেখেছে তার গ্রামীণ সরলতা। পদ্মার পলিমাখা এই গ্রামটি চরসাদীপুর ইউনিয়নের এক অনবদ্য অংশ, যা নিজের স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।