ইসমত চুগতাই বা ইসমত চুঘতাই বা ইসমত চুগ়তাই। অনুজরা সবাই তাকে ইসমত আপা বলে ডাকতো। মান্টোর তুলনায় ইসমত দীর্ঘজিবী ছিলেন। । সেই দীর্ঘ পথচলায় ইসমত আমাদের জন্য রেখে গেছেন এমন কিছু চরিত্র, এমন কিছু চাবুকের মতো সত্য, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে অস্বস্তিতে ফেলবে। চরম বেপরোয়া, আপসহীন, ঠোঁটকাটা আর প্রথাবিরোধী স্বভাবের একজন নারী ছিলেন তিনি—যাঁকে দূর থেকে চেনা যায়, কিন্তু প্রচলিত সমাজের সামাজিক নিক্তিতে মেপে বন্দনা করা প্রায় অসম্ভব। সেই অদম্য, অপ্রতিরোধ্য ইসমত! সত্যি বলতে, তাঁর মতো এক সিংহী সাহিত্যিককে নিয়ে দু-কলম লেখার যোগ্যতা বা স্পর্ধা আমার নেই।
কিন্তু ‘লিহাফ’ (Lihaaf) কিংবা ‘চৌথী কা জোড়া’ (Chauthie Ka Jaora)-র মতো গল্পগুলো যদি আপনার জীবনের কোনো এক বিষণ্ণ বিকেলে আপনি ভুল করেও একবার পড়ে ফেলেন, তবে ইসমতের প্রতি এক গভীর, অবাধ্য কৃতজ্ঞতা আপনার মনে জন্ম নিতে বাধ্য। মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারের পর্দার ভেতরের যে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ, নারীর অবদমিত যৌনতা আর তীব্র বৈষম্য তিনি কলমের ডগায় তুলে এনেছেন, তা পড়ার পর আপনি আর আগের মানুষটি থাকবেন না। তখন ইসমতের জন্মদিন হোক, মৃত্যুদিন হোক কিংবা অন্য যেকোনো সাধারণ সময়ে—হঠাৎ করেই অবচেতন মনে এই খ্যাপাটে নারীটির কথা ভেসে উঠবে, আর বুক চিরে এক ধরণের অস্ফুট শ্রদ্ধা চলে আসবে।
আজ ২১ আগস্ট ইসমতের জন্মদিন। ভাবলাম, তাঁর স্মরণে কিছু লেখা যায় কিনা!
ইসমত চুগতাই
“Log kehte hain ki main gandi baatein likhti hoon. Agar jo kuch samaj mein ho raha hai wo ganda hai, to mera kya kasoor? Main to bas us pardey ko uthati hoon jo samaj ne apne gunahon par daal rakha hai…
Mujhe kisi se dar nahi lagta, kyunki main sach bolti hoon. Aur sach hamesha kadwa hota hai.”
উর্দু সাহিত্যের বেপরোয়া সম্রাজ্ঞী ইসমত চুগতাইয়ের এই অবিনাশী কথাগুলোর বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়—
“মানুষ বলে আমি নোংরা বা অশ্লীল কথা লিখি। সমাজব্যবস্থায় যা ঘটছে তা যদি নোংরা হয়, তবে তাতে আমার কী দোষ? আমি তো কেবল সেই পর্দাটা তুলে ধরি, যা সমাজ তার নিজের পাপগুলোকে ঢাকার জন্য টেনে রেখেছে…
আমি কাউকে ভয় পাই না, কারণ আমি সত্য বলি। আর সত্য সব সময়ই তিতা হয়।”
আজ থেকে বহু বছর আগে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চোখের দিকে চোখ রেখে এই চরম সত্যিটা বলে দিতে পেরেছিলেন একজনই—তিনি ইসমত চুগতাই। যিনি নারীজীবনকে কোনো রকম মেকি সতীত্ব বা কৃত্রিম আদর্শের চাদরে ঢেকে দেখতেন না। বন্ধ ঘরের অন্ধকার কোণে নারীর যে মনস্তাত্ত্বিক কঁাদন, যে না-বলা ব্যাকুলতা—ঠিক ততটাই নগ্ন, ততটাই নিষ্ঠুর আর ততটাই বাস্তব রূপ তিনি তাঁর কলমের ডগায় তুলে আনতেন। আর এই কারণেই জীবদ্দশায় তাঁকে বারবার আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে, সইতে হয়েছে সমাজের তীব্র গালিগালাজ আর মৌলবাদীদের ফতোয়া। কিন্তু ইসমত তাঁর ধারালো কলমকে কোনো দিন থামতে দেননি।
ইসমতের ছেলেবেলা
আমাদের চেনা সামাজিক ছকে নারীদের একটা শান্ত, সুশীল ভাবমূর্তি তৈরি করে রাখা হয়। কিন্তু ইসমত ছিলেন এই চেনা ছকের একদম বাইরে। তিনি ছিলেন দুরন্ত, জেদি, একরোখা, আবার একই সাথে প্রচণ্ড সংবেদনশীল এক মননের অধিকারী। ১৯১৫ সালের ২১ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাদায়ূঁ শহরের এক সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। দশ ভাইবোনের বিশাল পরিবারে ছকভাঙা এই মেয়েটির শুরুটা কিন্তু খুব একটা সহজ ছিল না।
ছেলেদের মতো পোশাক পরা, গাছে চড়া আর ভাইদের সাথে মারামারি করা ইসমতকে ছোটবেলা থেকেই ‘বেহায়া’ তকমা সহ্য করতে হয়েছে। পরিবার চাইত তিনি চার দেয়ালের ভেতর সেলাই শিখুন আর বিয়ের জন্য তৈরি হোন। কিন্তু ইসমতের চোখ ছিল মুক্ত আকাশের দিকে। পড়ার প্রতি তাঁর ছিল অদম্য ক্ষুধা। সমস্ত সামাজিক ও পারিবারিক বাধা ভেঙে তিনি লখনউ ও আলিগড় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তৎকালীন মুসলিম নারী সমাজের মধ্যে প্রথম বি.এ. এবং বি.টি. ডিগ্রি অর্জনকারী স্বাবলম্বী নারীদের একজন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
নানা রঙের দিনগুলো
ইসমতের জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল আর রোমাঞ্চকর অধ্যায়টি কেটেছিল বোম্বাই (বর্তমান মুম্বাই) শহরে। ১৯৪০-এর দশকে বোম্বাইয়ের সিনেমা জগৎ ও সাহিত্য অঙ্গনে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ইসমত সেখানে এসেছিলেন স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার তাগিদে। স্কুল ইন্সপেক্টরের চাকরি ছেড়ে তিনি যুক্ত হন বোম্বাইয়ের চলচ্চিত্র ও সাহিত্য ধারার সাথে।
পরবর্তীকালে চলচ্চিত্র পরিচালক শহীদ লতিফের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তিনি বোম্বাইকে নিজের প্রধান কর্মক্ষেত্র বানিয়ে নেন। ‘অরজু’, ‘জিদ্দী’ কিংবা কালজয়ী ‘গরম হাওয়া’ চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লিখে তিনি সাড়া ফেলে দেন। বোম্বাইয়ে তিনি পেয়েছিলেন একঝাঁক প্রগতিশীল বন্ধুকে—যাঁদের মধ্যে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও সমমনোভাবাপন্ন ছিলেন সাদাত হাসান মান্টো। মান্টো ও ইসমত ছিলেন উর্দু সাহিত্যের দুই যমজ তুফান। দুজনেই বিশ্বাস করতেন, সমাজকে ভালো করতে হলে তার ঘা-গুলোকে আগে উন্মুক্ত করতে হবে।
পিতৃতন্ত্র ও মধ্যবিত্ত সমাজ: চিরস্থায়ী বিদ্রোহ
১৯৪৭ সালের দেশভাগ কিংবা বোম্বাইয়ের রূপালী জগত—ইসমতের মূল ফোকাস কিন্তু কেবল রাজনীতিতে আটকে থাকেনি। তাঁর মূল নজর ছিল মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারের ভেতরকার ভণ্ডামি, নারীদেহের ওপর পুরুষতান্ত্রিক অধিকার এবং নারীর মানসিক বন্দিদশার ওপর।
ইসমত খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন, কীভাবে একটি মেয়েকে শৈশব থেকে কেবল বিয়ের বাজারের এক টুকরো পণ্য বানিয়ে তোলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কীভাবে তার যৌনতা, তার আকাঙ্ক্ষা আর তার সজীবতাকে ঘরের অন্ধকারের আড়ালে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয়। ইসমত তাঁর কলম দিয়ে সেই বন্ধ ঘরের জানালাগুলো এক ঝটকায় খুলে দিয়েছিলেন।
ইসমতের গল্প: পর্দার অন্তরালের সত্য
ইসমত চুগতাই একে একে লিখলেন ‘লিহাফ’ (The Quilt), ‘চৌথী কা জোড়া’ (The Fourth Day’s Dress), ‘গেন্দা’ (Gainda), ‘ঘরওয়ালী’ (Gharwali) এবং ‘টেড়ি লকীড়’ (The Crooked Line)-এর মতো সাহিত্যকর্ম।
‘লিহাফ’ (Lihaaf):
১৯৪২ সালে প্রকাশিত এই গল্পটি উর্দু সাহিত্যের ইতিহাসে এক পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। এক অভিজাত নবাবের স্ত্রীর চরম একাকীত্ব ও যৌন অবদমনকে কেন্দ্র করে লেখা এই গল্প। নবাব সাহেব ছিলেন সমকামী, স্ত্রীর দিকে তাঁর কোনো ভ্রূক্ষেপ ছিল না। বেগম জান নামের সেই নিঃসঙ্গ নারী নিজের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা মেটাতে আশ্রয় নেন নিজের পরিচারিকা রব্বোর কাছে। এক অবোধ বালিকার দৃষ্টি দিয়ে ইসমত দেখিয়েছিলেন রাতের অন্ধকারে কেঁপে ওঠা সেই বিখ্যাত ‘লিহাফ’ বা লেপের রহস্য। সমকামিতা ও নারীদেহের গোপন আকুতিকে এত সূক্ষ্ম কিন্তু শকিং উপায়ে সাহিত্যে তুলে আনার সাহস এর আগে কেউ দেখায়নি।
‘চৌথী কা জোড়া’ (Chauthie Ka Jaora):
মধ্যবিত্ত পরিবারের পণপ্রথা ও বিয়ের বাজারের নির্মম বাস্তবতার গল্প। এক দরিদ্র মা তাঁর অসুস্থ ও সাধারণ দেখতে মেয়ে কুবরার বিয়ের জন্য জমানো টাকা দিয়ে একের পর এক সুন্দর জামা (চৌথী কা জোড়া) সেলাই করে যান। বাড়িতে আসা দূরসম্পর্কের এক পুরুষ মেহমানকে খাওয়ানো-পরানোর মাধ্যমে যদি কুবরার একটা গতি হয়—এই আশায় পুরো পরিবার সর্বস্বান্ত হয়। কিন্তু সেই মেহমান মেয়েটিকে ব্যবহার করে কেটে পড়ে। শেষ পর্যন্ত কুবরা যক্ষ্মায় ভুগে মারা যায়, আর যে কাপড়ের জোড়াটি তার বিয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় তার কাফনের কাপড়ে।
‘গেন্দা’ (Gainda):
অভিজাত ঘরের দাসী পরিবারের মেয়ে ‘গেন্দা’র গল্প। ইসমত এখানে সামাজিক শ্রেণীভেদের নির্মম রূপ দেখিয়েছেন। উচ্চবিত্ত ঘরের ছেলের সাথে গেন্দার শৈশবের খেলা ও পরবর্তীতে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ক গেন্দাকে গর্ভবতী করে তোলে। কিন্তু সমাজ তাকে স্বীকৃতি দেয় না; বরং সে পরিণত হয় এক পরিত্যক্ত খেটে খাওয়া নারীতে। ক্ষমতার দাপটে কীভাবে দরিদ্র নারীর শরীর ও জীবন চূর্ণ হয়, তা ইসমত করুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
‘ঘরওয়ালী’ (Gharwali):
‘লাজো’ নামের এক প্রথাভাঙা ও প্রাণোচ্ছল নারীর গল্প। সে সমাজের তথাকথিত নৈতিকতা, সতীত্ব কিংবা স্বামীর স্বত্বাধিকার মানতে নারাজ। লাজোর কাছে তার শরীর ও স্বাধীনতা নিজস্ব। তাকে বিয়ে করে ‘ভদ্র ঘরওয়ালী’ বানানোর যে পুরুষতান্ত্রিক চেষ্টা, তা লাজোর বাঁধভাঙা কাম ও স্বাধীনতার সামনে ভেস্তে যায়। ইসমত এই গল্পের মাধ্যমে সমাজ নির্ধারিত ‘ভালো নারী’ ও ‘নষ্ট নারী’র কৃত্রিম সংজ্ঞাটি ভেঙে চুরমার করে দেন।
‘টেড়ি লকীড়’ (Terhi Lakir):
এটি ইসমতের কালজয়ী উপন্যাস। গল্পের নায়িকা ‘শামান’-এর শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার যে মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা, তা মূলত তৎকালীন ভারতীয় নারীসমাজের এক অবাধ্য দলিল। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চোখ রাঙানিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শামান যেভাবে নিজের অস্তিত্ব ও কামনাকে খুঁজে ফেরে, তা বাংলা বা উর্দু সাহিত্যে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
কাঠগড়ায় ইসমত: ‘লিহাফ’ ও অশ্লীলতার মামলা
সমাজ যখন নিজের মুখ আয়নায় দেখতে ভয় পায়, তখন সে সাহিত্যিককে শূলে চড়াতে চায়। ‘লিহাফ’ গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার পর পরই পুরো উপমহাদেশে হইচই পড়ে যায়। ইসমতের বিরুদ্ধে ‘অশ্লীলতা’ (Obscenity)-র অভিযোগ এনে লাহোর আদালতে মামলা ঠুকে দেয় ব্রিটিশ সরকার।
১৯৪৪ সালে লাহোর হাইকোর্টে শুরু হয় সেই ঐতিহাসিক বিচার। একই ট্রেনে চেপে লাহোর গিয়েছিলেন ইসমত চুগতাই এবং সাদাত হাসান মান্টো (যাঁর বিরুদ্ধে ‘বু’ গল্পের জন্য মামলা হয়েছিল)। লাহোর কোর্টে বিচারক যখন ইসমতকে ক্ষমা চাইতে বললেন বা অনুশোচনা প্রকাশ করতে বললেন, ইসমত সোজা দাঁড়িয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
ইসমতের আইনজীবী চতুরতার সাথে সরকারি প্রসিকিউটরকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন—গল্পটির কোন শব্দে বা বাক্যে সরাসরি কোনো ‘অশ্লীল’ বা ‘যৌন’ শব্দ লেখা আছে তা দেখিয়ে দিতে। অবাক করার বিষয় হলো, পুরো গল্পে কোথাও সরাসরি কোনো অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা হয়নি; যা ছিল তা সবই ছিল মনস্তাত্ত্বিক ও রূপক। বিচারক বাধ্য হয়ে ইসমতকে খালাস দেন। কিন্তু সমাজ ও ধর্মীয় গোঁড়াদের মানসিক অত্যাচার ইসমতকে শেষ দিন পর্যন্ত সহ্য করতে হয়েছে।
শেষ ইচ্ছা ও চরম বিতর্কিত বিদায়
জীবনের শেষ দিনগুলোতেও ইসমত ছিলেন সমান তেজস্বী। তিনি কখনো কোনো রাষ্ট্রীয় পদক বা সামাজিক প্রশংসার তোয়াক্কা করেননি। তিনি জানতেন, যে সমাজ ধর্ম আর লিঙ্গের নামে মানুষকে ভাগ করে, মৃত্যুর পর সেই সমাজও মানুষকে নিয়ে ভণ্ডামি করবে।
তাই ১৯৯১ সালের ২৪ অক্টোবর, ৭৬ বছর বয়সে বোম্বাইতে যখন এই মহীয়সী নারী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। মৃত্যুর আগেই ইসমত তাঁর শেষ উইলে পরিষ্কার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন—মৃত্যুর পর যেন তাঁকে কবর দেওয়া না হয়; বরং চন্দনওয়াড়ি শ্মশানে নিয়ে তাঁর দেহ যেন দাহ (Cremation) করা হয়!
একজন মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া বিখ্যাত লেখিকার এই শ্মশানে দাহ করার সিদ্ধান্ত তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। বহু মৌলবাদী এর তীব্র বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু ইসমতের পরিবার তাঁর ইচ্ছা সম্মান জানিয়ে শ্মশানেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করে। মৃত্যুর পরও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে ইসমত প্রমাণ করে গিয়েছিলেন—তিনি কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় শৃঙ্খলের দাসী নন; তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন।
ইসমতের প্রাসঙ্গিকতা এবং ইতিহাসের জয়
ইসমত চুগতাই চলে গেছেন আজ কয়েক দশক হয়ে গেল। কিন্তু যে পিতৃতান্ত্রিক কুপমণ্ডূকতা, নারী নির্যাতন এবং ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছিলেন, তা আজও আমাদের সমাজে একইভাবে বিদ্যমান। আজ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীবাদের পাঠে ইসমত চুগতাই এক অপরিহার্য নাম।
যতোই ভালোবাসুন, ইসমতকে যথেষ্ট ভালোবাসা যায় না, তাঁর স্পর্ধার কাছাকাছি পৌঁছানো যায় না।
