বাংলা সাহিত্যের চিরসবুজ কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অসামান্য কবিতা “উত্তরাধিকার”। নিজের ভালোলাগার এই ডায়েরিতে কবিতাটি তুলে রাখলাম, জানি জীবনের কোনো না কোনো বাঁকে এসে আমাদের সবার বুকেই এই লাইনগুলো নতুন করে কড়া নাড়ে।
মানুষ যখন জীবনের একটা লম্বা পথ পেরিয়ে কিছুটা থিতু হয়, তখন পেছনের ফেলে আসা ছোট ছোট সাধারণ ঘটনাগুলো অনেক বড় বড় জাগতিক সাফল্যের চেয়েও বেশি দামি মনে হতে থাকে। সুনীলের এই কবিতায় ঠিক সেই স্মৃতির ঝাঁপিটাই খুলে দেওয়া হয়েছে। এখানে আছে ‘বোতাম বিহীন ছেঁড়া শার্ট’, ‘ভুল পুরুষ বাক্য’ কিংবা ‘সিগারেট চুরি’র মতো অতি তুচ্ছ, কিন্তু ভীষণ অমূল্য কিছু যাপনের গল্প।
জীবন সায়াহ্নে এসে মানুষ বুঝতে পারে, কেবল জয় বা সফলতাই শেষ কথা নয়; তার ভুলগুলো, ব্যর্থতাগুলো এবং বুক পকেটে লুকিয়ে রাখা ‘দুঃখ বিহীন দুঃখ’ গুলোও আসলে তার জীবনের সবচেয়ে বড় অলঙ্কার—তার একান্ত নিজস্ব উত্তরাধিকার।
উত্তরাধিকার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
নবীন কিশোর,
তোমাকে দিলাম ভুবন ডাঙ্গার মেঘলা আকাশ
তোমাকে দিলাম বোতাম বিহীন ছেঁড়া শার্ট
আর ফুসফুস ভরা হাসি
দুপুর রৌদ্রে পায়ে পায়ে ঘোরা
রাত্রির মাঠে চিত হয়ে শুয়ে থাকা।
এসব এখন তোমারই
তোমার হাত ভরে নাও আমার অবেলা
আমার দুঃখ বিহীন দুঃখ, ক্রোধ শিহরন
নবীন কিশোর, তোমাকে দিলাম আমার যা কিছু আভরণ।
জ্বলন্ত বুকে কফির চুমুক, সিগারেট চুরি।
জানালার পাশে বালিকার প্রতি বারবার ভুল পুরুষ বাক্য
কবিতার কাছে হাঁটু মুড়ে বসা, ছুড়ির ঝলস।
গুঢ় অভিমানে মানুষ কিংবা, মানুষের মত
আর যা কিছুর বুক চিরে দেখা,
আত্মহনন।
শহরের পিঠ তোলপাড় করা অহংকারে দ্রুত পদপাত।
একখানা নদী, দুতিনটি দেশ, কয়েকটি নারী।
এসবই আমার পুরনো পোশাক, বড় প্রিয় ছিল
এখন শরীরে আঁট হয়ে বসে। মানায় না।
তোমাকে দিলাম,
নবীন কিশোর
ইচ্ছে হয়তো অঙ্গে জড়াও
অথবা ঘৃণায় দুরে ফেলে দাও
যা খুশি তোমার।
তোমাকে আমার তোমার বয়সী
সবকিছু দিতে বড় সাধ হয়।
আরও পড়ুন: