এপ্রিল গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার বা খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের চতুর্থ মাস। এ মাসে মোট ৩০ দিন। এপ্রিল মাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং বিশেষ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দিনপঞ্জি – এপ্রিল মাস
০১/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশের শরণার্থীদের আশ্রয়দান কার্যক্রম জোরালো হয়।
০২/০৪/১৯৭১: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস ‘জিঞ্জিরা গণহত্যা’ সংঘটিত হয়।
০৩/০৪/১৯৭১: তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের গণহত্যার প্রতিবাদে এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানকে চিঠি দেয়।
০৪/০৪/১৯৭১: সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তি বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঐতিহাসিক বৈঠক (তেলিয়াপাড়া রণকৌশল) অনুষ্ঠিত হয়।
০৫/০৪/১৯৭১: মার্কিন ম্যাগাজিন ‘নিউজউইক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘Poet of Politics’ বা রাজনীতির কবি হিসেবে আখ্যায়িত করে।
০৬/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ঢাকা থেকে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ পাঠিয়ে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
০৭/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে চুয়াডাঙ্গাকে মুক্ত ঘোষণা করে সেখানে অস্থায়ী সদর দপ্তর স্থাপনের চেষ্টা চলে।
০৮/০৪/১৯৭১: মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে কর্নেল (অব.) এম এ জি ওসমানীর নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।
০৯/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনী পাবনা ও কুষ্টিয়া এলাকায় ভারী বিমান হামলা চালায়।
১০/০৪/১৯৭১: বাংলাদেশের প্রথম সরকার ‘মুজিবনগর সরকার’ গঠিত হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (Proclamation of Independence) গৃহীত হয়।
১১/০৪/১৯৭১: প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম বেতার ভাষণ প্রদান করেন।
১২/০৪/১৯৭১: এম এ জি ওসমানী আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৩/০৪/১৯৭১: চৈত্র সংক্রান্তি ও নীল পূজা— বাংলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বর্ষবিদায়ের লোকজ উৎসব।
১৪/০৪/১৯৭১: পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ (বাঙালির প্রাণের উৎসব)। একাত্তরের এই দিনে কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গায় তুমুল যুদ্ধ চলে।
১৫/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে তারা বাংলাদেশের শরণার্থীদের খাদ্য ও আশ্রয় দেবে।
১৬/০৪/১৯৭১: ভারতের বিভিন্ন সীমান্তে শরণার্থী শিবিরের সংখ্যা এবং সাহায্য বৃদ্ধি পায়।
১৭/০৪/১৯৭১: মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (মুজিবনগর) স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।
১৮/০৪/১৯৭১: কলকাতায় তৎকালীন পাকিস্তান ডেপুটি হাইকমিশনের বাঙালি কর্মকর্তারা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন এবং প্রথম বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
১৯/০৪/১৯৭১: বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে জনমত গঠনে প্রবাসী বাঙালিরা সক্রিয় হয়।
২০/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর গেরিলা আক্রমণ জোরদার হয়।
২১/০৪/১৯৭১: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বনফুল (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়)-এর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তাঁর সাহিত্য স্মরণ।
২২/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনী ময়মনসিংহ ও আশপাশের এলাকায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়।
২৩/০৪/১৯৭১: শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী (১৯৬২); তিনি ছিলেন ‘বাংলার বাঘ’ খ্যাত মহান নেতা।
২৪/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ বাংলাদেশের শরণার্থীদের মানবেতর জীবন নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
২৫/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে প্রবাসী সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে সামরিক ও মানবিক সাহায্যের আবেদন জানায়।
২৬/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে বিশ্বজুড়ে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির মতো দেশগুলো পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে।
২৭/০৪/১৯৭১: শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের মহাপ্রয়াণ দিবসের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।
২৮/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে বিদেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
২৯/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এই দিনে পাকিস্তানি সেনারা ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় উসকানিমূলক শেল নিক্ষেপ শুরু করে।
৩০/০৪/১৯৭১: একাত্তরের এপ্রিলের শেষে মুক্তিবাহিনীর সেক্টরগুলো সুসংগঠিত হয় এবং প্রথম মাসব্যাপী গেরিলা যুদ্ধের কৌশল চূড়ান্ত করা হয়।
