কবি আল মাহমুদ জীবনের প্রতিটি বাঁকে যখনই আদর্শিক ভোল বদলে নতুন পরিচয় ধারণ করেছেন, তখনই সেই নতুন সত্তাকে পোক্ত করতে নিজের ফেলে আসা অতীত ও আদর্শকে নির্মমভাবে অস্বীকার করেছেন।
বিপ্লবী থেকে আওয়ামী লীগ, জাসদ, পুনরায় আওয়ামী লীগ, কিংবা জিয়ার দরবার—এ পর্যন্ত আসতে আসতে ক্ষমতার সমীকরণ আর বাঁকবদলের খেলায় তিনি বারবার পূর্বতন আল মাহমুদকে হত্যা করেছেন। প্রতিবারই তিনি স্বেচ্ছায় আত্মহনন করেছেন এবং নতুন চাদর জড়িয়ে এক নতুন আল মাহমুদের জন্ম দিয়েছেন। এই রূপান্তরের সপক্ষে সবসময়ই ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে তথাকথিত ‘অসহায়ত্বের অজুহাত’। কিন্তু সত্য এই যে, প্রতিবার এই রূপান্তরের বলি হয়েছে তাঁর ভেতরের বিশুদ্ধ কবিত্ব। ক্ষমতার অলিন্দে হাঁটতে হাঁটতে এবং এরশাদ-পর্ব পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে তাঁর ভেতরের সেই আদি কবিসত্তা পুরোপুরি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।
শারীরিক মৃত্যুর বহু আগেই তিনি রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে থিতু হয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর বুদ্ধিজীবী হিসেবে। এটাই তাঁর স্ব-নির্বাচিত শেষ এবং চূড়ান্ত পরিচয়। নিজের সচেতন সিদ্ধান্তে বেছে নেওয়া পরিণতি।
তাই আজ যে আল মাহমুদের ফেলে আসা সোনালী অতীত নিয়ে একদল মানুষ কাতর, সেই কবির প্রকৃত হত্যাকারী আল মাহমুদ স্বয়ং। নিজের হাতে নিজের সৃষ্টি আর আদর্শকে গলা টিপে মারার পর অবশিষ্টাংশ নিয়ে বিলাপ করা সাজে না।
এখন প্রশ্ন হলো, শোকের এই ক্ষণে আপনি আসলে কাঁদবেন কার জন্য?
খুন হয়ে যাওয়া আদি আল মাহমুদের জন্য, নাকি খুনি আল মাহমুদের জন্য?
