কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী তথা সমগ্র অঞ্চলের নারী শিক্ষার প্রসারে যে ক’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে, তার মধ্যে ‘কুমারখালী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ’ অন্যতম। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি কুমারখালী উপজেলার বাটিকামারা এলাকায় এক মনোরম ও শান্ত পরিবেশে অবস্থিত।
মূলত কুমারখালী এবং এর আশেপাশের অঞ্চলের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করা এবং গ্রামীণ অনগ্রসর নারীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃত নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এই কলেজটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহাবিদ্যালয়টির অফিশিয়াল ইআইআইএন (EIIN) নম্বর ১১৭৭২৮। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় পর্যায়ে এক দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও সুশিক্ষিত নারী সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কুমারখালী আর্দশ মহিলা ডিগ্রি কলেজ
শিক্ষা কার্যক্রম ও একাডেমিক পরিকাঠামো
শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে কলেজটি শুরু থেকেই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে:
- উচ্চ মাধ্যমিক স্তর: প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের অধীনে এইচএসসি (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) শাখা পরিচালনা করে।
- উচ্চতর শিক্ষা: উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মেয়েরা যাতে ঝরে না পড়ে, সেজন্য গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে এখানে তিন বছর মেয়াদী ডিগ্রি (পাস) কোর্স চালু রয়েছে।
- শিক্ষক মণ্ডলী: কলেজটিতে ছাত্রীদের পরম স্নেহে ও যত্নে পাঠদানের জন্য একঝাঁক অভিজ্ঞ, নিষ্ঠাবান ও দূরদর্শী শিক্ষক মণ্ডলী রয়েছেন।
অবকাঠামো ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রম
শুধু ক্লাসরুমের পড়াশোনাই নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কুমারখালী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের রয়েছে প্রয়োজনীয় সব আয়োজন:
- ক্যাম্পাস ও ল্যাব: অবকাঠামোগত দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে সুপরিসর একাডেমিক ভবন, ছাত্রীদের জ্ঞানপিপাসা মেটানোর জন্য একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগারের সুবিধা।
- মনন বিকাশ: স্রেফ পুঁথিগত বিদ্যার ফ্রেমে ছাত্রীদের আটকে না রেখে, তাদের মেধা ও মনন বিকাশে এখানে প্রতি বছর নানা আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে নিয়মিত জাতীয় দিবস উদযাপন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাহিত্য চর্চা এবং মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন অন্যতম।
কুষ্টিয়ার নারী শিক্ষার অন্যতম এই অগ্রদূত প্রতিষ্ঠানটি স্রেফ প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট দেওয়াই শেষ কথা মনে করে না; বরং যুগোপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রীদের ভেতর দেশপ্রেম, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে শুরু থেকেই নিরন্তর ভূমিকা রেখে চলেছে।
আরও দেখুন: