ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের বিবর্তনের ইতিহাসে ঘরানা প্রথা এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। বিশেষ করে খেয়াল গায়নরীতিতে প্রতিটি ঘরানার নিজস্ব অলঙ্করণ, স্বর প্রক্ষেপণ এবং লয়কারি থাকে যা তাদের একে অপরের থেকে পৃথক করে। রামপুর-সহসওয়ান ঘরানা কেবল একটি গায়নরীতি নয়, বরং এটি তানসেনের বংশীয় ঐতিহ্য এবং মুঘল দরবারের আভিজাত্যের এক সার্থক উত্তরাধিকার। উত্তরপ্রদেশের বদায়ুন জেলার ‘সহসওয়ান’ নামক ছোট শহর এবং তৎকালীন রামপুর দেশীয় রাজ্যের রাজদরবার—এই দুই ভৌগোলিক কেন্দ্রের মিলনেই এই ঘরানার নামকরণ। এই ঘরানাটি তার বিশাল পরিসর, অবিশ্বাস্য তানের গতি এবং ধ্রুপদ-অঙ্গের গম্ভীর আলাপচারিতার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। যেখানে গোয়ালিয়র ঘরানা খেয়ালের ভিত্তি স্থাপন করেছে, সেখানে রামপুর-সহসওয়ান ঘরানা তাকে দিয়েছে এক রাজকীয় অলঙ্করণ এবং জটিল স্বরবিন্যাসের কারিগরি দক্ষতা।
খেয়ালে রামপুর-সহসওয়ান ঘরানা

উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
রামপুর-সহসওয়ান ঘরানার শেকড় প্রোথিত রয়েছে হিন্দুস্তানি সংগীতের সূর্য পুরুষ মিয়া তানসেনের ঐতিহ্যে। এই ঘরানার প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয় ওস্তাদ এনায়েত হোসেন খাঁ (১৮৪৯-১৯১৯) সাহেবকে। এনায়েত হোসেন খাঁ ছিলেন গোয়ালিয়র ঘরানার প্রবাদপ্রতীম ওস্তাদ হদ্দু খাঁ সাহেবের জামাতা এবং ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খাঁ সাহেবের শিষ্য। বাহাদুর হোসেন খাঁ ছিলেন তানসেনের বংশধর (সেনিয়া ঘরানা) এবং বিখ্যাত সুরবাহার ও সেতার বাদক। ফলে জন্মগতভাবেই এনায়েত হোসেন খাঁ সেনিয়া ঘরানার ধ্রুপদ-ধামার এবং সুরের গাম্ভীর্য লাভ করেছিলেন।
ঐতিহাসিকভাবে, রামপুরের নবাবরা ছিলেন অত্যন্ত সংগীতপ্রেমী। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর যখন দিল্লির মুঘল দরবার ভেঙে যায়, তখন বহু গুণী শিল্পী আশ্রয় খোঁজেন রামপুর দরবারে। সেখানে সেনিয়া ঘরানার উজির খাঁ সাহেবের (যিনি পণ্ডিত ভাতখণ্ডেরও গুরু ছিলেন) সান্নিধ্যে এই ঘরানাটি একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে। এনায়েত হোসেন খাঁ সাহেব সহসওয়ান থেকে রামপুরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং নবাবের দরবারে প্রধান সংগীতশিল্পী হিসেবে নিযুক্ত হন। এই ভৌগোলিক ও শৈল্পিক সমন্বয়ই ‘সহসওয়ান’ ঘরানাকে ‘রামপুর-সহসওয়ান’ হিসেবে পরিচিতি দান করে। এই ঘরানাটি মূলত গোয়ালিয়রের সরলতা এবং সেনিয়া ঘরানার গাম্ভীর্যের এক জটিল কিন্তু সুমধুর মিশ্রণ।

খেয়াল গায়নে রামপুর-সহসওয়ান ঘরানার ভূমিকা
হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতে খেয়াল গায়নরীতি যখন ধ্রুপদের কঠোর শৃঙ্খলা থেকে বেরিয়ে এসে অলঙ্করণ ও তানের চপলতাকে গ্রহণ করছিল, তখন রামপুর-সহসওয়ান ঘরানা সেই বিবর্তনে এক ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ঘরানাটি মূলত গোয়ালিয়র ঘরানার সরলতা এবং সেনিয়া ঘরানার (তানসেনের বংশধরদের শৈলী) গাম্ভীর্যের এক সার্থক সমন্বয়। খেয়াল গায়নে এই ঘরানার সবচেয়ে বড় অবদান হলো গায়কীর ‘আভিজাত্য’ রক্ষা করা। যেখানে অন্যান্য অনেক ঘরানা কেবল দ্রুত তানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, সেখানে রামপুর-সহসওয়ান ঘরানা ‘সুরের ওজন’ এবং ‘শব্দ উচ্চারণের শুদ্ধতা’কে প্রাধান্য দিয়েছে। এই ঘরানার প্রভাবেই খেয়ালের ভেতরে ধ্রুপদী আলাপের গাম্ভীর্য এবং ছোট খেয়ালের দ্রুত তানের এক সুশৃঙ্খল কাঠামো তৈরি হয়েছে। ওস্তাদ এনায়েত হোসেন খাঁ এবং পরবর্তীতে ওস্তাদ মুশতাক হোসেন খাঁ সাহেবরা খেয়ালকে এমন এক রূপ দিয়েছিলেন যা একই সাথে রাজকীয় দরবারের উপযোগী এবং সাধারণ শ্রোতাদের কাছেও চিত্তাকর্ষক।

গায়নশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য (কারিগরি বিশ্লেষণ)
রামপুর-সহসওয়ান ঘরানার গায়নশৈলী অত্যন্ত বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময়। এর প্রতিটি অঙ্গ—আলাপ থেকে শুরু করে তান ও বন্দিশ—এক একটি নির্দিষ্ট জ্যামিতিক শৃঙ্খলায় আবদ্ধ। নিচে এর কারিগরি বৈশিষ্ট্যগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. আলাপ ও বিস্তার
এই ঘরানার আলাপে ‘নোম-তোম’ বা ধ্রুপদ অঙ্গের আলাপের গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। আলাপ শুরু হয় অত্যন্ত ধীর লয়ে, যেখানে প্রতিটি স্বরের ওপর দীর্ঘ সময় অবস্থান করা হয়। এই ঘরানার আলাপে স্বরপ্রক্ষেপণ হয় সরাসরি (Straight notes), খুব বেশি অপ্রয়োজনীয় আন্দোলন বা কম্পন এখানে বর্জিত। আলাপের সময় স্বরের শুদ্ধতা এবং গভীরতাকে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় যেন রাগের প্রতিটি স্বর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিলম্বিত খেয়ালের ক্ষেত্রে এরা গোয়ালিয়র ঘরানার মতো ‘অষ্টপদী’ বা আটটি চরণের বিস্তার না করে বরং স্বর-বিস্তার ও রাগের চলনকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
২. বন্দিশের শুদ্ধতা ও বাণী
রামপুর-সহসওয়ান ঘরানায় বন্দিশের গুরুত্ব অপরিসীম। এদের বন্দিশগুলো সাধারণত খুব সুললিত এবং কাব্যিক হয়। বন্দিশ গাইবার সময় শব্দের উচ্চারণ বা ‘বাণী’ অত্যন্ত পরিষ্কার হতে হয়। এই ঘরানার শিল্পীরা মনে করেন, বন্দিশের প্রতিটি শব্দ যদি শ্রোতা বুঝতে না পারেন, তবে রাগের রস নিষ্পত্তি হবে না। বিশেষ করে মধ্য লয় এবং দ্রুত তালের বন্দিশগুলোতে এরা শব্দের ছন্দের সাথে সুরের এক চমৎকার খেলা দেখান। এদের সংগ্রহে বহু দুষ্প্রাপ্য এবং অপ্রচলিত রাগের বন্দিশ রয়েছে যা এই ঘরানার সমৃদ্ধিকে প্রমাণ করে।
৩. তানের বৈচিত্র্য ও গতি (বিশেষত্ব)
এই ঘরানার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং টেকনিক্যাল দিক হলো এদের তান। রামপুর-সহসওয়ান ঘরানাকে বলা হয় ‘তানের ঘরানা’। এদের তানের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
- সপা ত তান (Sapat Tan): এটি এই ঘরানার সিগনেচার স্টাইল। এক সপ্তক থেকে অন্য সপ্তকে তিরের মতো দ্রুত গতিতে সোজা উঠে যাওয়া বা নেমে আসাকে সপা ত তান বলে। এই তানে প্রতিটি স্বর দানা-দানা হয়ে ফুটে ওঠে, যা অত্যন্ত কঠিন একটি প্রক্রিয়া।
- বক্র তান ও গমক: এরা তানের মধ্যে বক্রগতি এবং গমকের ব্যবহার করে তানের জটিলতা বাড়িয়ে দেয়।
- তানের গতি: এই ঘরানার শিল্পীদের তানের গতি বিশ্ববিখ্যাত। ওস্তাদ নিসার হোসেন খাঁ সাহেবের মতো শিল্পীরা যে গতিতে তান করতেন, তা আজও গবেষণার বিষয়। তবে তানের গতি বাড়লেও এরা স্বরের শুদ্ধতা (intonation) কখনও হারায় না।
৪. তালের প্রয়োগ ও লয়কারি
এই ঘরানায় তালের ক্ষেত্রে সাধারণত ত্রিতাল, একতাল এবং ঝাঁপতাল-এর আধিক্য দেখা যায়। বিলম্বিত খেয়ালগুলো সাধারণত ‘বিলম্বিত একতাল’ বা ‘তিলওয়াড়া’ তালে গাওয়া হয়। এদের লয়কারিতে ধ্রুপদের প্রভাব থাকায় তালের বাঁট বা তালের ফাঁকগুলোকে এরা খুব চমৎকারভাবে ব্যবহার করে। সমে (তালের প্রথম মাত্রা) আসার ভঙ্গিটি হয় অত্যন্ত সপ্রতিভ এবং রাজকীয়।

শিক্ষণপদ্ধতি: স্বর সাধনার কঠোর বিজ্ঞান
রামপুর-সহসওয়ান ঘরানার শিক্ষণপদ্ধতি বা ‘তালিম’ অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক এবং কষ্টসাধ্য। এই ঘরানায় একজন শিক্ষার্থীকে সরাসরি গান বা বন্দিশ শেখানোর আগে বছরের পর বছর ‘স্বর সাধনা’ বা কণ্ঠের প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হয়। নিচে এর কারিগরি দিকগুলো আলোচনা করা হলো:
১. মেড়খণ্ড (Merukhand) পদ্ধতি:
এই ঘরানায় স্বর সাধনার জন্য ‘মেড়খণ্ড’ পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা যায়। এটি মূলত গাণিতিক বিন্যাস ও সমাবেশের (Permutation and Combination) মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকটি স্বরকে শত শত উপায়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে গাওয়ার এক প্রক্রিয়া। এর ফলে শিক্ষার্থীর কণ্ঠ যেকোনো জটিল স্বরবিন্যাস বা তান গাইতে সক্ষম হয়।
২. আকার ও তান সাধনা:
এই ঘরানায় ‘আকার’ (Akar) অর্থাৎ কেবল ‘আ’ ধ্বনি দিয়ে স্বর সাধনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে ‘সপা ত তান’ বা দ্রুতগতির তানগুলোতে প্রতিটি স্বর যাতে ‘দানা-দানা’ (প্রত্যেকটি স্বর যেন পৃথক ও স্পষ্ট বোঝা যায়) হয়ে ফুটে ওঠে, তার জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে দীর্ঘক্ষণ রেওয়াজ করানো হয়।
৩. বুক ও কণ্ঠের সমন্বয় (Chest Voice):
রামপুর-সহসওয়ান ঘরানার শিল্পীরা মূলত বুক থেকে নির্গত গম্ভীর ও উদাত্ত কণ্ঠস্বরের (Chest voice) ওপর নির্ভর করেন। কৃত্রিমভাবে কণ্ঠকে সরু বা মোলায়েম করার চেয়ে প্রাকৃতিক গম্ভীর আওয়াজে তিন সপ্তক জুড়ে বিচরণ করার ক্ষমতা তৈরি করা এই তালিমের মূল লক্ষ্য।

এই ঘরানার প্রবাদপ্রতিম ও বর্তমানের বিখ্যাত শিল্পীরা
রামপুর-সহসওয়ান ঘরানা ভারতীয় সংগীত জগতকে একের পর এক রত্ন উপহার দিয়েছে। এই ঘরানার বংশপরম্পরা এবং শিষ্য পরম্পরা অত্যন্ত সমৃদ্ধ:
ওস্তাদ এনায়েত হোসেন খাঁ (১৮৪৯-১৯১৯): এই ঘরানার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি গোয়ালিয়র ঘরানার হদ্দু খাঁ সাহেবের জামাতা এবং সেনিয়া ঘরানার বাহাদুর হোসেন খাঁ সাহেবের শিষ্য ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই ধ্রুপদের গাম্ভীর্য ও খেয়ালের অলঙ্করণের সমন্বয় ঘটে।
ওস্তাদ মুশতাক হোসেন খাঁ (১৮৭৮-১৯৬৪): তিনি ছিলেন এই ঘরানার প্রথম শিল্পী যিনি ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর গায়কীতে রামপুর দরবারের আভিজাত্য পূর্ণরূপে বিকশিত হয়েছিল। তিনি দীর্ঘকাল শান্তিনিকেতনেও সংগীত শিক্ষা দিয়েছেন।
ওস্তাদ নিসার হোসেন খাঁ (১৯০৬-১৯৯৩): তানের রাজা হিসেবে পরিচিত। তাঁর কণ্ঠের গতি এবং ‘তারানা’ গায়নের স্পষ্টতা আজও বিস্ময়ের উদ্রেক করে। তিনি এই ঘরানাকে আধুনিক শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলেন এবং স্বরগ্রাম সাধনার এক অনন্য উচ্চতা স্পর্শ করেন।
ওস্তাদ গোলাম মোস্তফা খাঁ (১৯৩১-২০২১): এই ঘরানার অন্যতম প্রধান দিকপাল। তিনি কেবল একজন মহান শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পীই ছিলেন না, বরং আধুনিক ভারতের সংগীত শিক্ষার এক বিশাল স্তম্ভ। তিনি এ আর রহমান, সোনু নিগম, হরিহরন এবং শান-এর মতো বিখ্যাত শিল্পীদের তালিম দিয়েছেন। তাঁর গায়কীতে এক বিশেষ ধরনের কোমলতা ও শাস্ত্রীয় শুদ্ধতার মেলবন্ধন ছিল।
ওস্তাদ রশিদ খান (১৯৬৮-২০২৪): বর্তমান সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয় শিল্পীদের একজন। ওস্তাদ নিসার হোসেন খাঁ সাহেবের নাতি ও শিষ্য রশিদ খান তাঁর গায়কীতে রামপুর-সহসওয়ান ঘরানার গাম্ভীর্যের সাথে এক মায়াবী ও আবেগঘন সুরের সংযোগ ঘটিয়েছিলেন। পণ্ডিত পন্ডিত ভীমসেন জোশী তাঁকে হিন্দুস্তানি সংগীতের ‘ভবিষ্যৎ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর প্রয়াণ এই ঘরানার তথা ভারতীয় সংগীতের এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ওস্তাদ হাফিজ আহমেদ খাঁ: তিনি এই ঘরানার একজন প্রাজ্ঞ শিল্পী এবং সংগীত তাত্ত্বিক ছিলেন। অল ইন্ডিয়া রেডিওর ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে তিনি শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রসারে বিশাল ভূমিকা রাখেন।
ওস্তাদ গুলাম সাদিক খাঁ: ওস্তাদ মুশতাক হোসেন খাঁ সাহেবের পুত্র এবং একজন অত্যন্ত শক্তিশালী গায়ক। তাঁর গায়কীতে ঘরানার প্রাচীন তানের কাজগুলো খুব স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়।
ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ: মূলত ইমদাদখানি ঘরানার সেতার শিল্পী হলেও, তাঁর বাজানোয় রামপুর-সহসওয়ান ঘরানার গায়কী অঙ্গের (বিশেষ করে তানের কাজ) গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
বর্তমান প্রজন্মের ধারক: ওস্তাদ গোলাম মোস্তফা খাঁ সাহেবের পুত্রগণ (যেমন মোস্তফা গোলাম মুর্তজা খাঁ, কাদির মোস্তফা খাঁ), ওস্তাদ রশিদ খানের পুত্র আরমান খান, এবং ওস্তাদ নিসার হোসেন খাঁ সাহেবের বংশধরগণ আজও এই ঘরানার দীপশিখাটি জ্বালিয়ে রাখছেন।

রামপুর-সহসওয়ান ঘরানা কেবল একটি গায়নরীতি নয়, এটি হলো সংগীতের একটি জীবন্ত ইতিহাস। মুঘল দরবারের শেষ দিনগুলো থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক কনসার্ট হল পর্যন্ত এই ঘরানা তার বিশুদ্ধতা ও রাজকীয় মর্যাদা ধরে রেখেছে। যেখানে সুরের গাম্ভীর্য, তানের ক্ষিপ্রতা এবং বন্দিশের আভিজাত্য—এই তিনের মিলন ঘটে, সেখানেই রামপুর-সহসওয়ান ঘরানার সার্থকতা। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক ঘরানা তার মৌলিকতা হারালেও, এই ঘরানাটি তার বৈজ্ঞানিক শিক্ষণপদ্ধতি ও শক্তিশালী উত্তরাধিকারের কারণে আজও হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের মেরুদণ্ড হিসেবে টিকে আছে।
