কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ৯নং চাঁদপুর ইউনিয়নের গোবরা ও চাঁদপুর গ্রামের সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো গোবরা চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মহান ব্রত নিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। গোবরা এবং চাঁদপুর—এই দুই গ্রামের নামানুসারে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় ঐক্যের প্রতীক।
একাডেমিক কার্যক্রম:
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এই বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। এখানে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত (MPO) প্রতিষ্ঠান, যার EIIN নম্বর ১১৭৬৭৬। অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক মণ্ডলী দ্বারা নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। জেএসসি (বর্তমানে স্থগিত) ও এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির ফলাফল সন্তোষজনক।
অবকাঠামো ও পরিবেশ:
বিদ্যালয়টির একটি নিজস্ব ক্যাম্পাস রয়েছে, যেখানে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, অফিস কক্ষ, বিজ্ঞানাগার এবং লাইব্রেরি বিদ্যমান। বিদ্যালয়ের সামনে একটি খেলার মাঠ রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করে। গ্রামীণ শান্ত ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় এখানে পড়াশোনার জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে।
সামাজিক গুরুত্ব:
৯নং চাঁদপুর ইউনিয়নের শিক্ষা বিস্তারে এই বিদ্যালয়টির ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে গোবরা, চাঁদপুর, ধলনগর ও আশেপাশের গ্রামের ছেলে-মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার প্রধান ভরসাস্থল এই প্রতিষ্ঠান। দূরে উপজেলা সদরে গিয়ে পড়াশোনা করা যাদের জন্য কষ্টসাধ্য, তাদের জন্য এই বিদ্যালয়টি আশীর্বাদস্বরূপ। বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী শিক্ষা প্রসারেও বিদ্যালয়টি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে গোবরা চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আগামীর সুনাগরিক ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে এই বিদ্যাপীঠটি তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
গোবরা চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সুফি ফারুক এর কার্যক্রম:
এই বিদ্যালয়ে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর কর্মসূচির বিস্তারিত নিচে দেয়া হল:
কুমারখালীর গোবরা চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘টিম সুফি ফারুক’-এর ‘পড় মুজিব’ কর্মসূচি পালিত
মফস্বলের শিশু-কিশোরদের মাঝে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব, কৈশোর ও আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গোবরা চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘পড় মুজিব’ কর্মসূচি। ‘টিম সুফি ফারুক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বঙ্গবন্ধুকে জানার এক নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
কুষ্টিয়া থেকে শুরু হওয়া এই ‘পড় মুজিব’ কর্মসূচিটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে সারা দেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এখন একই ধরনের আয়োজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কর্মসূচির বিষয়বস্তু ও প্রক্রিয়া:
‘পড় মুজিব’ কর্মসূচিটি মূলত বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে রচিত ‘মুজিব গ্রাফিক নভেল’-এর পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধুর ৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক-এর উদ্যোগে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) ২৪ পাতার এই বইটি প্রকাশ করে, যা দেশের প্রথম জীবনীভিত্তিক গ্রাফিক নভেল।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রথমে গ্রাফিক নভেলটি পড়ে শোনানো হয় অথবা প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয়। এরপর বইটির বিষয়বস্তু থেকে কুইজ আকারে প্রশ্ন করা হয়। কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে ‘মুজিব গ্রাফিক নভেল’-এর কপি তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া:
অনুষ্ঠানে গোবরা চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাতিঘর। তাঁকে না জেনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা সম্ভব নয়। বর্তমান প্রজন্মের সকলকে বঙ্গবন্ধুকে জানতে এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ধারণ করতে এই বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এমন একটি মহৎ উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।”
কর্মসূচির প্রধান উদ্যোক্তা, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরামের সভাপতি সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বলেন, “‘পড় মুজিব’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো মফস্বলসহ সারা দেশের মানুষের কাছে, বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের কাছে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ তুলে ধরা। যাতে তারা বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও ছেলেবেলা সম্পর্কে জানতে পারে। ‘টিম সুফি ফারুক’ এই কর্মসূচি সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
আয়োজকরা জানান, স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহেই মূলত এই আয়োজন সফল হচ্ছে। ‘টিম সুফি ফারুক’ এক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান ও গ্রাফিক নভেল সরবরাহের মাধ্যমে সার্বিক সহযোগিতা করছে।
