জাত্রফা গাছের সম্ভাবনা । কৃষি । পেশা পরামর্শ সভা

জাত্রফা গাছের সম্ভাবনা। জাত্রফা একটি তৈল বীজ সমৃদ্ধ ঔষধি গাছ। এ গাছ পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী। একটি জাত্রফা গাছ বছরে ৮ কেজি কার্বনডাইঅক্সাইড গ্যাস শোষণ করে। এ গাছের বীজ থেকে জ্বালানী তৈল উৎপাদিত হয়। পাশাপাশি খৈল হতে উৎকৃষ্ট মানের সার উৎপাদিত হয়। জাত্রফা বীজ হতে উৎপাদিত জ্বালানী তৈল খনিজ ডিজেলের পরিপূরক। এছাড়া খনিজ ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের তুলনায় জাত্রফা জ্বালানী চালিত ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব প্রায় দ্বিগুণ।জাত্রফা থেকে উৎপাদিত বায়োডিজেল চালিত ইঞ্জিন (যেমন- বাস, ট্রাক, ট্রলার, লঞ্চ, পাওয়ার টিলার, স্যালো ইঞ্জিন ইত্যাদি) খনিজ ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের তুলনায় ৮০% কার্বনডাইঅক্সাইড গ্যাস নির্গমন করায় পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী।

 

জাত্রফা গাছের সম্ভাবনা

জাত্রফা গাছের সম্ভাবনা

 

জাত্রফা গাছের জন্য জমির প্রকৃতিঃ

জাত্রফা গাছ কোন ফসলী জমিতেহবেনা। এটি বেলে মাটি সহ যেকোন অনুর্বর মাটি যেমনঃ রাস্তার দু’ধারে,নদীর পার,পুকুর পার, চরাঞ্চল, পাহাড়ী এলাকা, পতিতজমি।

 

জাত্রফা রোপন পদ্ধতিঃ

জাত্রফা তিন ভাবে রোপন করা যায়-

১)নার্সারী পদ্ধতি ২)সরাসরি বীজ রোপন পদ্ধতি এবং ৩)ডাল কাটিং পদ্ধতি। প্রতিটি গাছের দূরত্ব হতে হবে ৬’x ৬’।

 

জাত্রফা পরিচর্যাঃ

জাত্রফার চারা রোপনের সময় ১ কেজি পরিমাণ জৈব সার/গোবর সার ব্যবহার করলে ভাল।আপনি ওর যত্ন নিবেন প্রথম ২ বছরসে আপনার যত্ন নিবে ৬০ বছর।

 

জাত্রফার সাথি ফসলঃ

জাত্রফা বাগানে সাথী ফসল হিসেবে – আদা, হলুদ, রসুন, পিয়াজ, সরিষা, তিল, তিশি, ঢেমশি, টমেটো, তরমুজ, সয়াবিন প্রভৃতি ফসল চাষ করা যায়।

জাত্রফার অর্থনৈতিক সাফল্যঃ

একটি জাত্রফা গাছ আনুমানিক ৬০ বছর পর্যন্ত একাধারে প্রতি বছর ৩-৫ কেজি পরিমাণ বীজ দেবে জাত্রফার বীজ থেকে জ্বালানী এবং সার উৎপাদন হয় এবং এর বীজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জাত্রফা বীজ বিক্রি করে একটি পরিবার খুব সহজেই অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে পারে।

 

জাত্রফার উপকারিতাঃ

১। নদীভাঙ্গন, ভূমিক্ষয় ও ভূমিধস রোধ করে।

২। জমির উর্ববরতা শক্তি বৃদ্ধি করে।

৩। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থিক উন্নয়ন।

৪। সার ও জ্বালানী উৎপাদন এবং বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয়।

৫। অধিক পরিমাণ কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস শোষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধ।

 

জাত্রফা গাছের সম্ভাবনা

 

এক নজরে জাত্রপা পরিচিতিঃ-

Jatropha curcas বা জাত্রপা প্রাচীনকালে হইতেই দক্ষিন আমেরিকায় উদ্ভাবিত একটি পরিবেশ বান্ধব ভেষজ উদ্ভিদ। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে ইহা আফ্রিকা ও ভাতীয় উপ-মহাদেশে আবির্ভূত হয় । তৎপরবর্তীতে ইহা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যত্র-তত্র উদ্দেশ্যহীনভাবে চাষাবাদ হয়ে আসছে। স্থানীয়ভাবে ইহা এলাকাভেদে শাইল,জামালগোঠা বা এন্ডা হিসাবে পরিচিত।

 

উদ্দেশ্য/ জাত্রপার উপহার ঃ-

আশ্চর্য গাছ Jatropha curcas ফল উৎপন্ন করে যাহাতে শতকরা ৩৭ ভাগ তৈল (বায়ো ডিজেল) রয়েছে । যাহা পরিশোধন করে পেট্রোলিয়াম ডিজেল বা জীবাশ্ম জ্বালানীর বিকল্প ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব ।

 

জাত্রপার উপকারীতা / প্রয়োজনীয়তা ঃ

১। তৈল নিশ্‌কাষনের পর প্রাপ্ত খৈল নাইট্রোকেন ফসফরাস পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ার ইহা যথাক্রমে ইউরিয়া টিএসপি এবং এমওপি সারের বিকল্প হিসাবে পুষ্টি উপাদান মাটিতে যোগাতে সক্ষম ।

২। ইহা উদ্ভিদের শিকড় মজবুতসহ মাটিস্থ অণুজীবের কার্যাবলী ত্বরানিত করে dj¯^i“c মাটি র্উবর থেকে র্উবরতর হয়।

৩। ইহার মাটির ক্ষয়রোধের পাশাপাশি বালুকা রাশির স্থানান্তর রোধ করে।

৪। একটি গাছ বছরে ৮ কেঝি কার্বন-ডাইঅক্সাইড শোষন করে অর্থাৎ পরিবেশের উষতা রোধ করার আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে এই গাছের ।

৫। নদীভাগ্‌ঙন ,ভূমির ক্ষয়রো এবং মাটিকে ঠান্ডা রাখার সাথে সাথে পরিবেশ নির্মল করতে সাহায্য করে ।

৬। জাত্রপা গাছ হতে উৎপাদিত বায়োডিজেলে সহনশীল মাত্রায় কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন- ডাইঅক্সাইড নির্গত করে ফলে ইহা দ্বারা চলিত ইন্‌িজন দীর্ঘদিন দীর্ঘস্থায়ী ও মানে ভাল থাকে ।

 

জাত্রফা গাছের সম্ভাবনা

 

জাত্রপার উৎপাদন কৌশল (production technology):

মাটিঃ-

জাত্রপা উষ্‌ন ও অবউষ্‌ন খরা সহ্যশীল একটি উদ্ভিদ ,যাহা বেলে,বেলে- দোঁয়াশ ,র্উবর এমনকি অর্নবর জমিতে চাষ করা যায় ।

বংশবৃদ্ধিঃ-

ইহা অং্‌গজ ও যৌন পদ্ধতিতে অর্থাৎ বীজ,চারা ,কাটিং থেকে বংশবৃদ্ধিতে সক্ষম ।

রোপন দূরত্বঃ-

গঠন ও বিদ্যমান কৃষি জলবায়ু ভূমির বন্ধুরতা অনুসারে আেন একটি কৃষি অঞ্চলে পরিবেশ উপযোগী এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান বিভিন্ন ধরনের সবজি ডাল জাতীয় ফসল এবং ক্ষেত্রবিশেষ রোপন দূরত্ব বমা করলে সয়াবিন চাষ করে আন্তঃফসল হিসাবে ভাল ফলন পাওয়া সম্ভব ।

পরিচর্যা,সেচ ও ফলন ঃ-

জাত্রপা চাষাবাদের জন্য আগাছা ও পোকামাকড় যুক্ত ঝুরঝুরে মাটি ।আবশ্যক। খরা মৌসুমে প্রতি ২০-২৫ দিন অন্তর সেচ দিলে হেক্টর প্রতি ৮হইতে ৯ মেঃটস পর্যন্ত ফলন (পড) পাওয়া যায়।

পরিপক্কতা ও ফল সংগ্রহ ঃ-

বীজ কিছু বা কাটিং হতে ক্ষেত্র বিশেষ দেড় হতে দুই বৎসরের মধ্যে ফল আসে । ফল ধারণের পর দেড় হতে দুই মাসের মধ্যে ফল হালকা হলুদাভ আকার ধারণ করলে সংগ্রহ করা যায়।

বীজ সংগ্রহ :

ফল সংগ্রহের পর ২/৩ টি রোধ দিয়ে ফল হাত দ্বারা ফাটিয়ে বীজ সংগ্রহ করা যায় এবং সংগ্রহীত বীজ হতে সামস্‌ এন্টারপ্রাইজ এর কারিগরী সহায়তায় সহজেই বীজ হতে বায়োডিজেল সংগ্রহ করা যাবে।

 

আরও দেখুন:

Leave a Comment