ঠিকানা না রেখে ভালই করেছ বন্ধু [ গানের বানী ] অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

ঠিকানা না রেখে ভালই করেছ বন্ধু ….. গানটি হৈমন্তী শুক্লার কণ্ঠের একটি বিখ্যাত গান। গানটির সুর করেছিলেন মান্না দে, কথা লিখেছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন অক্টেভে বিস্তৃত কম্পোজিশনটির পরতে পরতে তীব্র হয়ে ফুটে উঠেছে বিরহ, অভিমান। মিড়, পুকার গুলো মুহূর্তে মুহূর্তে তার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে। অনেক দিন আগের রেকর্ড হওয়া এই গানটি এখনো যেন চিরনবীন।

এই গানের পিছনে বিচিত্র গল্প আছে। হৈমন্তী শুক্লাকে নিয়ে ইংল্যান্ডে গান গাইতে গিয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ফিরে এলে শুরু হল বিতর্ক। শোনা যায়, হেমন্তের স্ত্রী বেলা বাড়ি থেকে প্রায় তাড়িয়েই দিয়েছিলেন হৈমন্তীকে। ক্যারিয়ার প্রায় ধ্বংসের পথে তখনকার উঠতি গায়িকা হৈমন্তীর। ধরলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি নিয়ে গেলেন মান্না দের কাছে। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়েরই লেখা দুটি গান ছিল মান্না দের কাছে। সেই গান দুটির সুরও করা ছিল। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় আর মান্না দে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে গান দুটি দিলেন হৈমন্তীকে। ‘আমার বলার কিছু ছিল না’ এবং ‘ঠিকানা না রেখে ভালোই করেছ বন্ধু’, হৈমন্তী গাইলেন। আবার প্রাণ ফিরে পেল তাঁর সংগীত জীবন।

 

ঠিকানা না রেখে ভালই করেছ বন্ধু [ গানের বানী ]

ঠিকানা না রেখে ভালোই করেছ বন্ধু
না আসার কোন কারণ সাজাতে হবে না তোমায় আর,
বানানো কাহিনী শুনাতে হবে না কথা দিয়ে না রাখার।
ঠিকানা না রেখে ভালোই করেছ বন্ধু।

হঠাৎ খেয়ালী দিনে কাছে এসে পথ চিনে ।।
সুযোগ পাবে না দিয়ে যেতে আর অভিনয় উপহার
না আসার কোন কারণ সাজাতে হবে না তোমায় আর
ঠিকানা না রেখে ভালোই করেছ বন্ধু…

তোমার হিসাবে কি ভুল রয়েছ নিজেই ধরেছ তুমি
ভুলে যেতে চেয়ে ভালোই করেছ তুমি
আমার নিয়তি নিয়ে কোন অভিযোগ দিয়ে ।।
আমিও পাবো না কোন অবকাশ কোন কথা জানাবার
না আসার কোন কারণ সাজাতে হবে না তোমায় আর
ঠিকানা না রেখে ভালোই করেছ বন্ধু…

 

হৈমন্তী শুক্লা
হৈমন্তী শুক্লা

 

মান্না দে ছিলেন অত্যন্ত নিয়মানুবর্তী এবং খুতখুঁতে সুরকার। শোনা যায়, ‘ঠিকানা না রেখে ভালোই করেছ বন্ধু’ গানটি হৈমন্তীকে দেওয়ার সময় মান্না দে একটি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। গানটির স্বরলিপি এতটাই জটিল ছিল (তিনটি সপ্তক বা থ্রি-অক্টেভ রেঞ্জ) যে, মান্না দে দেখতে চেয়েছিলেন হৈমন্তী তাঁর মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে এই সুরের গাণিতিক কঠিনতা সামলাতে পারেন কি না। হৈমন্তী শুক্লা তাঁর সমস্ত আবেগ ও অভিমান সেই গানে ঢেলে দিয়েছিলেন। গানটির সেই বিখ্যাত ‘পুকার’ এবং উচ্চ সপ্তকের কাজগুলো শুনে মান্না দে নিজে অভিভূত হয়ে বলেছিলেন, “হৈমন্তী, তুমি শুধু গায়িকা নও, তুমি একজন যোদ্ধা।”

রেকর্ডের পর গানটি যখন রাতারাতি সুপারহিট হলো, তখন হেমন্ত-পত্নী বেলা মুখোপাধ্যায় গানটি শুনে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। যদিও পারিবারিক তিক্ততা ছিল, কিন্তু শিল্পী হিসেবে তিনি হৈমন্তীর গায়কীকে অস্বীকার করতে পারেননি। পরবর্তীতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে হৈমন্তী জানিয়েছেন যে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তাঁকে মেয়ের মতো স্নেহ করতেন এবং সেই বিতর্কের মেঘ কেটে যাওয়ার পর তাঁদের সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক হয়েছিল।

 

আরও দেখুন:

Leave a Comment