কর্মসূচি – তথ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ [ Project – Information Technology Training ]

এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে আধুনিক বিশ্বের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলা। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তি কেবল একটি অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়, বরং এটি একটি অপরিহার্য দক্ষতা। আমাদের উদ্দেশ্য, প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আইটি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের স্বাবলম্বী ও কর্মক্ষম করে তোলা।

কর্মসূচি – তথ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ

কর্মসূচির বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • সম্পূর্ণ ফ্রি প্রশিক্ষণ: আর্থিক অসচ্ছলতা যেন শিক্ষার পথে বাধা না হয়, তাই এই কার্যক্রমের আওতায় যেকোনো শিক্ষার্থী কোনো প্রকার ফি ছাড়াই রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে আধুনিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে পারে।
  • নিজস্ব আধুনিক ল্যাব: কুমারখালী ও খোকসা উপজেলায় প্রশিক্ষণের জন্য আমরা স্থাপন করেছি অত্যাধুনিক সব কম্পিউটার ল্যাব, যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে (Practical) শেখার সুযোগ পায়।
  • দক্ষ মেন্টরশিপ: অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমান বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
  • কর্মসংস্থান সহায়তা: প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের চাকুরিবাজারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। ইতোমধ্যে আমাদের অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের সাথে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন।

 

 

প্রশিক্ষণের ধাপসমূহ

আমরা শিক্ষার্থীদের দক্ষতাকে ধাপে ধাপে উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছি:

  • প্রাথমিক ধাপ (বেসিক কোর্স): প্রথমে এক মাসের একটি ‘অপরিহার্য দক্ষতা প্রশিক্ষণ’ (Essential IT Skills) প্রদান করা হয়। এতে কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার, ইন্টারনেট এবং অফিস অ্যাপ্লিকেশনের ওপর ধারণা দেওয়া হয়।
  • উন্নত ধাপ (অ্যাডভান্সড কোর্স): প্রাথমিক ধাপ সফলভাবে শেষ করার পর শিক্ষার্থীর মেধা ও আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষণ (যেমন: গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং ইত্যাদি) প্রদান করা হয়।

কীভাবে যুক্ত হবেন?

কুমারখালী-খোকসা উপজেলার যেকোনো আগ্রহী শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমাদের এই ফ্রি কোর্সে অংশ নিতে পারেন।

“প্রযুক্তির জ্ঞানে দক্ষ তরুণ সমাজই গড়বে স্মার্ট বাংলাদেশ।”

 

ফ্রি তথ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ

 

 

পেশা পরামর্শ সভা’র ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সফলতা:

কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার শিক্ষিত বেকারত্ব দূরীকরণে এই কর্মসূচি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। আমাদের ল্যাব থেকে প্রশিক্ষিত হয়ে তরুণরা এখন শুধু চাকুরিজীবী নয়, বরং দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে।

শহিদুল তোমাকে অভিনন্দন !

আমাদের পেশা পরামর্শ সভার “তথ্য প্রযুক্তি অপরিহার্য দক্ষতা” ফ্রি কোর্সটি শেষে “মানিক শেখ” Nr Software Technology তে চাকরি পেয়েছে।

ওর বাড়ি খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের বুজরুক মির্জাপুর গ্রামে। পিতা জনাব মো: শহিদুল ইসলাম।

মানিক তোমাকে অভিনন্দন | পেশা পরামর্শ সভা'র ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সফলতা
সুফি ফারুক এর পেশা পরামর্শ সভা’র ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সফলতা। মানিক শেখ, পিতা জনাব মো: শহিদুল ইসলাম, খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের বুজরুক মির্জাপুর গ্রাম।

 

জাহিদুল তোমাকে অভিনন্দন !

আমাদের পেশা পরামর্শ সভার “তথ্য প্রযুক্তি অপরিহার্য দক্ষতা” ফ্রি কোর্সটি শেষে “জাহিদুল ইসলাম” Nr Software Technology তে চাকরি পেয়েছে।

জাহিদুল ইসলামের নানার বাড়ি খোকসা উপজেলার মির্জাপুরে । তার পিতা জনাব সুরুজ আলী। জাহিদুল নানার বাড়ি থেকে কোর্সটি সম্পন্ন করে।

জাহিদুল তোমাকে অভিনন্দন | পেশা পরামর্শ সভা'র ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সফলতা
সুফি ফারুক এর পেশা পরামর্শ সভা’র ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সফলতা। জাহিদুল ইসলাম, পিতা জনাব সুরুজ আলী, খোকসা উপজেলার মির্জাপুর।

 

 

রাকিবুল তোমাকে অভিনন্দন !

আমাদের পেশা পরামর্শ সভার “তথ্য প্রযুক্তি অপরিহার্য দক্ষতা” ফ্রি কোর্সটি শেষে “রাকিবুল ইসলাম” একটি পোশাক শিল্প কারখানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করছে।

রাকিবুলের বাড়ি শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রামে। তার পিতা জনাব নিজাম উদ্দিন। বিভিন্ন কারণে রাকিবুলের এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হয়নি। দশম শ্রেণীতেই একাডেমিক লেখাপড়ার ইতি টানতে হয়েছে।

রাকিবুল তোমাকে অভিনন্দন | পেশা পরামর্শ সভা'র ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সফলতা
সুফি ফারুক এর পেশা পরামর্শ সভা’র ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সফলতা। রাকিবুল ইসলাম, পিতা জনাব নিজাম উদ্দিন, শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রাম।

 

আমার এলাকা কুমারখালী-খোকসায় এদের মতো বহু ছেলেমেয়ে কর্মহীন রয়েছে। এমনকি গ্রাজুয়েট অনেকেই ১০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির জন্য মাসের পর মাস ঘুরছে।
এদিকে শুধুমাত্র কম্পিউটার অপারেশন এবং ভালো টাইপ জানার কারণে এদের শুরুতেই বেতন হয়েছে ১৫,০০০ টাকা।

মজার বিষয় কি জানেন? এদের বেশিরভাগ এখনো আমাদের কাছ থেকে সার্টিফিকেটও তোলেনি। শুধুমাত্র দক্ষতা দেখিয়ে কাজটি পেয়েছে। সার্টিফিকেট জমা দিলে নাকি সুযোগ সুবিধা আরও একটু বাড়বে।

এদের দৃঢ় মনোবল আর পরিশ্রম দিয়ে সব বাধাকে অতিক্রম করেছে।
আমরা স্বপ্ন দেখি এরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে আরও পেশাদারী দক্ষতা অর্জন করবে, সেটার স্বীকৃতি অর্জন করবে। কাজের পাশাপাশি সে একজন রুচিশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবে।

এদের গল্প আমাদের কাজটি করে যাবার সাহস দেয়, অনুপ্রেরণা দেয়।
আমরা বিশ্বাস করি, শত বাধা বিপত্তির মধ্যেই আমাদের ছেলেমেয়েরা – শিক্ষিত, দক্ষ, কর্মঠ, রুচিশীল ও মানবিক হয়ে গড়ে উঠবে।

এটাই আমাদের সংগ্রাম, এটাই আমাদের রাজনীতি।
রাকিবুলদের সফলতা আমাদের সংগ্রাম ও রাজনীতির ফসল।

আপনাদের দোয়া সমর্থন ও সহযোগীতা চাই।