আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ কিন্তু সোনা-দানা বা খনিজ তেল নয়; আমাদের আসল সম্পদ হলো এই ১৬ কোটিরও বেশি মানুষ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫৮% মানুষই তরুণ এবং কর্মক্ষম—অর্থনীতির ভাষায় যাকে বলা হয় এক বিরল ও ঈর্ষণীয় ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ (Demographic Dividend)। পৃথিবীর খুব কম দেশের ভাগ্যেই এমন তরুণ খনি জোটে! এই বিপুল তরুণ প্রজন্মকে যদি আমরা কেবল গৎবাঁধা সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটিয়ে, আধুনিক কারিগরি দক্ষতা দিয়ে দেশ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে তুলতে পারি, তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চেহারা এক ঝটকায় ৩৬০ ডিগ্রি বদলে ফেলা সম্ভব।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা কি আসলেই সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি? নতুন প্রজন্মের এই দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য আমাদের প্রচলিত পড়াশোনার চেনা ফ্রেম থেকে বের হয়ে একদম নতুন করে ভাবতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে আমাদের ঠিক ৩টি জায়গায় সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন:
- আগামীর পেশা চিনে নেওয়া: প্রযুক্তির জোয়ারে কোন প্রথাগত চাকরিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে আর নতুন যুগের কোন পেশাগুলো সামনে আসছে, তা এখনই নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে হবে।
- সঠিক রণকৌশল তৈরি: স্রেফ দায়সারা ট্রেনিং নয়; বরং বৈশ্বিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ পেশাজীবী তৈরির জন্য একটি কার্যকর ও আধুনিক স্ট্র্যাটেজি বা কৌশল সাজাতে হবে।
- অবকাঠামো ও ট্রেইনার তৈরি: দক্ষ জনশক্তি এমনি এমনি তৈরি হয় না; এর জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের ট্রেইনার (প্রশিক্ষক), স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট এবং শক্তিশালী পরিকাঠামো।
এই সম্ভাবনাময় খাতের ভেতর লুকিয়ে থাকা অবারিত সুযোগ, চ্যালেঞ্জ আর বাস্তব সমাধানগুলো নিয়েই আমার এই দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক বিশ্লেষণ, লেখনী এবং মাঠপর্যায়ের কর্মযজ্ঞ। আমি সবসময় একটা কথাই বলি—আসুন, স্রেফ মুখস্থ বিদ্যার দেয়াল ভেঙে আমরা দেশকে একটি দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও কর্মমুখী জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে একসাথে কাজ করি।
আমি শুধু লেখালেখি বা তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যেই এই ভাবনাকে সীমাবদ্ধ রাখিনি; দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে এই লক্ষ্য নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আমার ‘পেশা পরামর্শ সভা’ কার্যক্রমের মাধ্যমে হাজারো তরুণকে যেমন সঠিক ক্যারিয়ারের পথ দেখাচ্ছি, তেমনি নিজ উদ্যোগে বেশ কয়েকটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। শুধু তাই নয়, টেকনিক্যাল শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে সারা বাংলাদেশে যাঁরা নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চেয়েছেন বা চাচ্ছেন, তাঁদের আমি ব্যক্তিগতভাবে সঠিক পরামর্শ ও গাইডলাইন দিয়ে নিরলসভাবে সাহায্য করে যাচ্ছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, টেকনিক্যাল শিক্ষার বিস্তার যত বাড়বে, আমাদের দেশের মেরুদণ্ড তত বেশি শক্ত হবে।

আরও দেখুন: