বিদেশি চলচ্চিত্রে সাধারণত গানের রেওয়াজ নেই। আমাদের এই উপমহাদেশে, বিশেষ করে ভারতেই এই ঐতিহ্যের জন্ম। সেখান থেকেই পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে চলচ্চিত্র সঙ্গীতের এই স্বতন্ত্র ধারাটি ছড়িয়ে পড়েছে। গানের এই বিশেষ উপস্থিতির কারণেই ভারতীয় চলচ্চিত্র বিশ্বজুড়ে এক বিশাল এবং আলাদা ফ্যান বেইজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
তাই আমাদের দেশে এই শিল্পের প্রাণভোমরা হলো ‘চলচ্চিত্র সঙ্গীত’ বা ‘প্লেব্যাক’। যখন একটি স্থিরচিত্র পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে, তখন তার আবেগ, বিষাদ কিংবা আনন্দকে পূর্ণতা দেয় নেপথ্যের সুর। চলচ্চিত্র সঙ্গীত মূলত এমন এক বিশেষ গীতধারা, যা কাহিনীর প্রেক্ষাপট অনুযায়ী রচিত হয় এবং চরিত্রগুলোর মনের না বলা কথাগুলোকে সুরের মূর্ছনায় দর্শকহৃদয়ে পৌঁছে দেয়। এটি কেবল একটি গান নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের চিত্রনাট্যকে কালজয়ী করার শৈল্পিক হাতিয়ার।
বাংলা গানের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ভাণ্ডারে চলচ্চিত্র সঙ্গীতের অবদান অপরিসীম, এমনকি অনস্বীকার্য। বিশ শতকের শুরুর দিকে যখন বাংলা সংস্কৃতিতে আধুনিক গানের উদ্ভব ঘটছে, তখন চলচ্চিত্র ছিল সেই আধুনিকতাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রধান বাহন। রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি বা লোকসংগীতের যে আভিজাত্য শিক্ষিত সমাজের বৈঠকখানায় সীমাবদ্ধ ছিল, চলচ্চিত্রের গান তাকে হাটে-মাঠে-ঘাটে পৌঁছে দিয়েছে। দুই বাংলার—অর্থাৎ পূর্ব বাংলার (বাংলাদেশ) এবং ওপার বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ)—সংস্কৃতিকে এক সুতোয় গেঁথে রাখার ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রের গানের চেয়ে বড় মাধ্যম আর নেই।
বাংলা গানের ইতিহাসে আমরা যে সব কালজয়ী সুরকার, গীতিকার এবং কণ্ঠশিল্পীদের পাই, তাঁদের সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠ অংশটিই ব্যয় হয়েছে রূপালি পর্দার জন্য। চলচ্চিত্রের গানই আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে একটি তিন-চার মিনিটের সুরে মহাকাব্যিক বিরহ কিংবা পাহাড়সমান আনন্দ প্রকাশ করা যায়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে যেমন ফুটে উঠেছে মাটির টান আর সংগ্রামের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, তেমনি ওপার বাংলার গানে দেখা গেছে ধ্রুপদী আভিজাত্য ও নাগরিক আধুনিকতার বিবর্তন। বাঙালির যাপিত জীবনের এমন কোনো অনুভূতি নেই, যা চলচ্চিত্রের গানে জায়গা পায়নি। তাই বাংলা সংস্কৃতির শিকড় বুঝতে হলে এই রূপালি পর্দার সুরভাণ্ডারকে বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য।
দুই বাংলার চলচ্চিত্রের গান: সুরের মায়াজালে বাঙালির জীবন গাঁথা
(এই আর্টিকেলটি ২০২৬ সালে আপডেট করা হয়েছে)

১. বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গান: শেকড় থেকে শিখরে
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল এমন এক সময়ে যখন এই ভূখণ্ডটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় খোঁজার লড়াইয়ে ব্যস্ত। এদেশের চলচ্চিত্রের গান কেবল বিনোদন নয়, বরং তা ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের এক প্রচ্ছন্ন বহিঃপ্রকাশ।
আদি পর্ব: ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ (সূচনালগ্ন)
১৯৫৬ সালে আব্দুল জব্বার খান যখন এদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ নির্মাণ করেন, তখন থেকেই চলচ্চিত্রের গানের জয়যাত্রা শুরু। এই ছবির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন সমর দাস। সে সময় কারিগরি সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সমর দাস লোকজ সুরকে নাগরিক আবহে উপস্থাপন করেছিলেন। এরপর ১৯৫৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘এদেশ তোমার আমার’ ছবিতে খান আতাউর রহমানের সঙ্গীত পরিচালনা বাংলা চলচ্চিত্রের গানে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই শুরুর দিনগুলোতে গানের বাণীতে পল্লীগীতি, বিশেষ করে ভাটিয়ালী ও ভাওয়াইয়ার এক গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যেত।
ষাটের দশক: মেলোডির স্বর্ণযুগ ও রবিন ঘোষের রাজত্ব
ষাটের দশককে বলা হয় ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুরের আধুনিকায়নের যুগ। এই দশকের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন রবিন ঘোষ। তাঁর সুরারোপিত ‘হারানো দিন’ (১৯৬১) ছবির গানগুলো আজও কালজয়ী। বিশেষ করে ‘আমি রূপনগরের রাজকন্যা’ বা ‘সহজ হবে না বলা’ গানগুলো প্রমাণ করেছিল যে বাংলা গান আন্তর্জাতিক মানের অর্কেস্ট্রেশনের সাথে মিশে যেতে পারে। রবিন ঘোষের সাথে তাঁর সহধর্মিণী ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম-এর রসায়ন ঢাকাই ছবিকে পাকিস্তানেও তুমুল জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
একই সময়ে খান আতাউর রহমান তাঁর প্রতিভা দিয়ে চলচ্চিত্রের ভাষাকে বদলে দেন। ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ (১৯৬৭) বা ‘সাত ভাই চম্পা’ (১৯৬৮)-র মতো ছবিতে তিনি লোকজ ও ধ্রুপদী সুরের যে মিশেল ঘটিয়েছিলেন, তা ছিল অতুলনীয়। তাঁর পরিচালিত ও সুরারোপিত গানগুলো সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরতে শুরু করে। এই সময়েই আমরা পাই ফেরদৌসী রহমান, আঞ্জুমান আরা বেগম এবং বশীর আহমদ-এর মতো শিল্পীদের, যাঁদের কণ্ঠ চলচ্চিত্রের গানকে এক অভিজাত উচ্চতায় নিয়ে যায়।
জহির রায়হান ও আলতাফ মাহমুদের বৈপ্লবিক চেতনা
ষাটের দশকের শেষার্ধে জহির রায়হানের চলচ্চিত্রগুলো কেবল কাহিনীতে নয়, গানেও বিপ্লব নিয়ে আসে। ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০) ছবিটি এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। এই ছবিতে শহীদ আলতাফ মাহমুদের সঙ্গীত পরিচালনায় ব্যবহৃত হয় ‘আমার সোনার বাংলা’ এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। চলচ্চিত্রের পর্দায় এই গানগুলোর ব্যবহার কেবল বিনোদন ছিল না, বরং তা ছিল পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে এক শৈল্পিক প্রতিবাদ। আলতাফ মাহমুদের লোকজ সুরের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা এবং পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সঙ্গীতের জ্ঞান ঢাকাই ছবির গানকে সমৃদ্ধ করেছিল।
সত্তরের দশক: স্বাধীনতা উত্তর মুক্তি ও প্লেব্যাক সম্রাটের উদয়
১৯৭১-এর যুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে চলচ্চিত্র শিল্পে এক নতুন জোয়ার আসে। এই দশকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল আলাউদ্দিন আলী এবং আনোয়ার পারভেজ-এর মতো সুরকারদের আবির্ভাব। আলাউদ্দিন আলী লোকজ সুরকে একটি আধুনিক ‘পপ’ বা ‘মেলোডি’ আদলে নিয়ে আসেন। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৮) বা ‘সুন্দরী’ (১৯৭৯) ছবির গানগুলো এর প্রমাণ। তাঁর সুর করা ‘আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’ কিংবা ‘চোখ যে মনের কথা বলে’ গানগুলো বাঙালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়।
এই সময়েই আমরা পাই এন্ড্রু কিশোর-কে, যাঁকে নির্দ্বিধায় বলা যায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় পুরুষ কণ্ঠ। তাঁর কণ্ঠের বৈচিত্র্য এবং হাই পিচে গাওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তাঁর সাথে পাল্লা দিয়ে গেয়েছেন কিংবদন্তি রুনা লায়লা এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সাবিনা ইয়াসমিনের মিষ্টতা আর রুনা লায়লার আধুনিক গায়কি ঢাকাই ছবিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচয় করিয়ে দেয়। সৈয়দ আব্দুল হাদী তাঁর গম্ভীর ও আধ্যাত্মিক কণ্ঠ দিয়ে ‘যেও না সাথী’ বা ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’-র মতো গানে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন।
আশির দশক:
আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে এক নতুন ধরনের মেলোডি এবং যান্ত্রিক আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে। এই সময়ের গানগুলো যেমন বাণিজ্যিক সাফল্যে শীর্ষে ছিল, তেমনি শৈল্পিক বিচারেও ছিল অনন্য।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ও নব্বইয়ের দশকের বিপ্লব
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে একক আধিপত্য বিস্তার করেন মুক্তিযোদ্ধা ও কিংবদন্তি সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। তাঁর সুরের বিশেষত্ব ছিল দেশপ্রেম ও বিরহের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। তিনি চলচ্চিত্রের গানকে সস্তা অনুকরণ থেকে বের করে এনে এক আধুনিক ও গীতিধর্মী রূপ দান করেন। সালমান শাহ্ অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর গান—যেমন: ‘ও আমার বন্ধু গো’, ‘চিঠি লিখেছে বউ আমার’ বা ‘পড়ে না চোখের পলক’—সুর ও বাণীর গুণে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে যায়। বুলবুল সাহেবের সুর করা গানগুলোতে যেমন খোলের তাল পাওয়া যেত, তেমনি সিন্থেসাইজারের আধুনিক আবহও ছিল অত্যন্ত চমৎকার।
সালমান শাহ যুগ ও আধুনিক তারুণ্য
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সালমান শাহ্-এর আবির্ভাব চলচ্চিত্রের গানের দৃশ্যকাব্য বদলে দেয়। গানের চিত্রায়নে আধুনিক কোরিওগ্রাফি এবং পশ্চিমা পোশাকের ব্যবহার শুরু হয়। এই সময়ে এন্ড্রু কিশোর, কনকচাঁপা এবং আগুন-এর ত্রয়ী জুটি অসামান্য সব প্লেব্যাক উপহার দেন। কনকচাঁপার কণ্ঠে ‘প্রেমের তাজমহল’ বা ‘তুমি আমার এমনই একজন’ গানগুলো রোমান্টিকতার এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করে।

২. ওপার বাংলার (পশ্চিমবঙ্গের) চলচ্চিত্রের গান: আভিজাত্য ও শৈল্পিক ধ্রুপদ
পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রের গান বা টালিগঞ্জের গানের ইতিহাস অত্যন্ত সুসংহত এবং গবেষণালব্ধ। বিশ শতকের শুরুর দিকে যখন বাংলা চলচ্চিত্র নির্বাক থেকে সবাতে রূপ নিল, তখন থেকেই গানের এক নতুন ঘরানা তৈরি হয় যা মূলত ‘ফিল্মি মিউজিক’ নামে পরিচিত হলেও এর শিকড় ছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত ও অতুলপ্রসাদীর গভীরে।
নিউ থিয়েটার্স ও রাইচাঁদ বড়ালের যুগ
কলকাতার চলচ্চিত্রের গানের আদি ভূমি হলো নিউ থিয়েটার্স (New Theatres)। ১৯৩০ ও ৪০-এর দশকে রাইচাঁদ বড়াল (R.C. Boral) এবং পঙ্কজ কুমার মল্লিক-এর হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের সুর এক বিশ্বজনীন রূপ পায়। রাইচাঁদ বড়ালকে বলা হয় ‘ভারতীয় চলচ্চিত্রের গানের জনক’। তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং সমবেত কণ্ঠের সুশৃঙ্খল ব্যবহার শেখান। পঙ্কজ মল্লিকের সুরারোপিত গানগুলোতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ছোঁয়া থাকলেও তা চলচ্চিত্রের কাহিনীকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করত। এই সময়ে কে. এল. সায়গল (K.L. Saigal) এবং কানন দেবী-র কণ্ঠের গানগুলো আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সলিল চৌধুরী: সুরের এক অনন্য জাদুকর
পঞ্চাশের দশকে টালিগঞ্জের গানের দৃশ্যপট আমূল বদলে দেন সলিল চৌধুরী। তিনি ছিলেন এমন একজন সঙ্গীতজ্ঞ যিনি পাশ্চাত্য ক্ল্যাসিক্যাল সিম্ফনির সঙ্গে বাংলার লোকজ সুরের এক অকল্পনীয় মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। তাঁর সুর করা ‘পথের ক্লান্তি ভুলে’ কিংবা ‘রানার’ গানগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসে একেকটি মাইলফলক। সলিল চৌধুরী কেবল সুরকার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজসচেতন শিল্পী। তাঁর হাত ধরেই হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কিছু প্লেব্যাক উপহার দেন।
উত্তম-সুচিত্রা যুগ ও মেলোডির জয়গান
পঞ্চাশ ও ষাটের দশককে বলা হয় টালিগঞ্জের ‘স্বর্ণযুগ’। মহানায়ক উত্তম কুমার এবং মহানায়িকা সুচিত্রা সেন-এর পর্দার রসায়নকে অমর করে রাখতে নেপথ্য গায়কদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে এবং সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়—এই তিনজনের গান ছাড়া বাংলা সিনেমার রোমান্টিসিজম অপূর্ণ। ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ (সপ্তপদী) বা ‘তুমি যে আমার’ (হারানো সুর) গানগুলো বাঙালির হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। মান্না দে-র কণ্ঠের ধ্রুপদী গভীরতা এবং হেমন্তের কণ্ঠের মায়াবী বিষাদ চলচ্চিত্রের একেকটি দৃশ্যকে মহাকাব্যিক করে তুলেছিল।
কিশোর কুমারের একক আধিপত্য ও আধুনিকায়ন
ষাট ও সত্তরের দশকে কিশোর কুমার যখন বোম্বে (মুম্বাই) থেকে কলকাতায় এসে প্লেব্যাক শুরু করেন, তখন টালিগঞ্জের গানে এক ধরণের ‘এনার্জি’ ও চপলতা যোগ হয়। ‘লুকোচুরি’ ছবির গান থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ছবিতে তাঁর গায়কি ছিল বিস্ময়কর। কিশোর কুমার কেবল গায়ক ছিলেন না, তাঁর বহুমুখী প্রতিভা বাংলা চলচ্চিত্রের সুরের ভাষাকে আরও জনপ্রিয় ও সাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছিল।
ওপার বাংলা: আর. ডি. বর্মণ ও যন্ত্রানুষঙ্গের নতুন দিগন্ত
সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের গানে এক বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, যার প্রধান কারিগর ছিলেন রাহুল দেব বর্মণ বা সবার প্রিয় ‘পঞ্চম দা’। তিনি কেবল বোম্বেতে রাজত্ব করেননি, বরং কলকাতার বাংলা ছবির গানেও এক অকল্পনীয় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন।
পঞ্চমের সুরের প্রধান বিশেষত্ব ছিল শব্দ নিয়ে খেলা করা। তিনি প্রচলিত বাদ্যযন্ত্রের বাইরেও প্রাত্যহিক জীবনের নানা শব্দকে সুরের ভেতর গেঁথে দিতেন। ‘এক যে ছিল রাজা’ বা ‘রাজকুমারী’র মতো ছবিগুলোতে তাঁর কাজ বাংলা গানকে আধুনিক ‘পপ’ ও ‘রক’ ঘরানার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলে-র কণ্ঠের মাধুর্য পঞ্চমের সুরে এক অন্য মাত্রা পেয়েছিল। ‘ও আমার মন যমুনা’ কিংবা ‘আজ গুনগুন গুঞ্জন’—এই গানগুলো প্রমাণ করেছিল যে, বাংলা গানের মেলোডি বজায় রেখেও বিশ্বমানের অর্কেস্ট্রেশন করা সম্ভব। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবিতে ড্রামস, ইলেকট্রিক গিটার এবং সিন্থেসাইজারের বহুল ব্যবহার শুরু হয়।

৩. চলচ্চিত্রকারদের সঙ্গীত দর্শন: সত্যজিৎ, ঋত্বিক ও মৃণাল
বাংলা চলচ্চিত্রের আলোচনা অপূর্ণ থেকে যাবে যদি আমরা বিশ্ববিখ্যাত ত্রয়ী—সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক ও মৃণাল সেন-এর সঙ্গীতভাবনা নিয়ে আলোচনা না করি। তাঁদের কাছে চলচ্চিত্রের গান কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ ছিল না, বরং তা ছিল কাহিনীর অংশ বা কখনো কখনো রূপক।
সত্যজিৎ রায়: সত্যজিৎ রায় কেবল পরিচালক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অসামান্য সুরকার। ‘পথের পাঁচালী’তে রবি শংকরের সেতারের সুর যেমন বিশ্বজয় করেছিল, তেমনি পরবর্তীতে সত্যজিৎ নিজেই তাঁর ছবির সুরারোপ শুরু করেন। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ সিরিজের গানগুলোতে তিনি যে গাণিতিক ও ধ্রুপদী পরিমিতিবোধ দেখিয়েছেন, তা বিশ্ব চলচ্চিত্রে বিরল। তাঁর সৃষ্ট ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’ বা ‘দেখো রে নয়ন মেলে’ গানগুলো আজও বাঙালির সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
ঋত্বিক ঘটক: ঋত্বিকের ছবিতে গানের ব্যবহার ছিল শেকড়মুখী। ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ছবিতে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি লোকজ সুরের যে হাহাকার তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দর্শককে স্তম্ভিত করে দেয়। তিনি সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষের অস্তিত্বের সংকটকে তুলে ধরতেন।
মৃণাল সেন: মৃণাল সেনের ছবিতে গান সরাসরি কম থাকলেও আবহ সঙ্গীতের (Background Score) ব্যবহার ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও রাজনৈতিক। তিনি সুরকে ব্যবহার করতেন নীরবতার ভাষা হিসেবে।

৪. কলকাতার চলচ্চিত্রে মেলোডির প্রত্যাবর্তন ও নতুন ভাষা
নব্বইয়ের দশকের খরা কাটিয়ে কলকাতার ছবিতে মেলোডির জোয়ার আনেন জিত গাঙ্গুলী। তাঁর সুর করা ‘সাথী’ বা ‘পাগলু’র গানগুলো কমার্শিয়াল ছবির ধারা বদলে দেয়। কিন্তু সমান্তরাল ধারার ছবিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন অনুপম রায়। ‘অটোগ্রাফ’ ছবিতে তাঁর ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’ গানটি বাংলা চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। এরপর শমীক ঘোষ, প্রীতম, শান্তনু মৈত্র-রা বিশ্বমানের সাউন্ড ডিজাইন নিয়ে আসেন টালিগঞ্জে। গানের কথা হয়ে ওঠে আরও বেশি আটপৌরে ও নাগরিক জীবনঘেঁষা।

৫. বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ফিউশন ও আন্তর্জাতিকায়ন
বাংলাদেশে একবিংশ শতাব্দীতে চলচ্চিত্রের গানে বড় পরিবর্তন আনেন হাবিব ওয়াহিদ। তাঁর হাত ধরে চলচ্চিত্রের গানে ইলেকট্রনিক মিউজিক ও লৌকিক সুরের এক অপূর্ব ফিউশন তৈরি হয়। ‘হৃদয়ের কথা’ বা ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’র গানগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। এরপর এস আই টুটুল, ইবরার টিপু, এবং আরফিন রুমী-রা এই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যান। বর্তমানে ফুয়াদ আল মুক্তাদির বা প্রীতম হাসান-রা চলচ্চিত্রের গানে এমন সব বৈচিত্র্য নিয়ে আসছেন যা বিশ্বসঙ্গীতের সমতুল্য।
অরিজিৎ সিং ও দুই বাংলার বর্তমান সংযোগ
বর্তমান সময়ে দুই বাংলার চলচ্চিত্রের গানের এক বিশাল যোগসূত্র হলেন অরিজিৎ সিং। মুর্শিদাবাদের ভূমিপুত্র অরিজিতের কণ্ঠ আজ ঢাকা থেকে কলকাতা—সর্বত্র রাজত্ব করছে। এছাড়া দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনার ছবির সংখ্যা বাড়ার ফলে গায়ক, সুরকার ও গীতিকারদের মধ্যে এক দারুণ আদান-প্রদান ঘটছে। কলকাতার অনুপম রায় যেমন বাংলাদেশের ছবিতে সুর করছেন, তেমনি বাংলাদেশের ইমরান মাহমুদুল বা কণা-র গানও কলকাতায় সমানভাবে সমাদৃত হচ্ছে।

৬. দুই বাংলার কালজয়ী গীতিকার ও শব্দশৈলী
চলচ্চিত্রের গানের সাফল্য কেবল সুরকার বা গায়কের ওপর নির্ভর করে না; বরং একটি গানের প্রাণভোমরা থাকে তার বাণীতে। দুই বাংলার চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু গীতিকার এসেছেন, যাঁদের কলমের ছোঁয়ায় গানগুলো নিছক বিনোদন থেকে সাহিত্যে রূপান্তরিত হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের শব্দকার: টালিগঞ্জের স্বর্ণযুগের অন্যতম স্থপতি ছিলেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ থেকে শুরু করে ‘মঙ্গলদীপ জ্বেলে’—তাঁর প্রতিটি গানে রোমান্টিকতা ও আধ্যাত্মিকতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ছিল। তাঁর পাশাপাশি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নাম নিতেই হয়। মান্না দে-র অধিকাংশ কালজয়ী গান তাঁরই লেখা। তাঁদের উত্তরসূরি হিসেবে শ্যামল গুপ্ত বা পরবর্তীকালে অনুপম রায় ও শ্রীজাত চলচ্চিত্রের ভাষাকে আধুনিক ও নাগরিক করে তুলেছেন।
বাংলাদেশের শব্দসৈনিক: বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের গানকে সাহিত্যের মর্যাদা দিয়েছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ২০ হাজারেরও বেশি গানের এই রচয়িতা মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্যায়কে ছুঁয়ে গেছেন। তাঁর লেখা ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ যেমন যুদ্ধের ময়দানে শক্তি যুগিয়েছে, তেমনি ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’ বাঙালির নস্টালজিয়াকে উসকে দিয়েছে। এছাড়া আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এবং মাসুদ করিম-এর অবদান ঢাকাই ছবির গানকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁদের লেখা গানগুলোতে মাটির টান এবং কাব্যিক সুষমা সবসময়ই স্পষ্ট ছিল।

৭. আবহ সঙ্গীত (Background Score):
চলচ্চিত্রের গান বলতে আমরা কেবল ঠোঁট মেলানো গানকেই বুঝি, কিন্তু ‘আবহ সঙ্গীত’ বা ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর একটি ছবির মেজাজ তৈরি করে দেয়। দুই বাংলাতেই এই ক্ষেত্রে অসামান্য কাজ হয়েছে।
সত্যজিৎ রায়ের উত্তরাধিকার:
সত্যজিৎ রায় তাঁর ছবিতে আবহ সঙ্গীতকে এমনভাবে ব্যবহার করতেন যে, কোনো সংলাপ ছাড়াই দর্শক দৃশ্যটির গভীরতা বুঝতে পারতেন। তাঁর ‘অপু ট্রিলজি’র সেই সেতারের ধুন আজ বিশ্ব চলচ্চিত্রের এক আইকনিক আবহ।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আবহ:
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সত্য সাহা এবং সুজা মিঞা-র মতো গুণীরা আবহ সঙ্গীতে বৈচিত্র্য এনেছিলেন। বিশেষ করে গ্রামীণ পটভূমির ছবিতে বাঁশি এবং দোতারার ব্যবহার দৃশ্যের আবেদনকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিত। বর্তমানে আধুনিক চলচ্চিত্রে সিন্থেসাইজার ও অর্কেস্ট্রার ব্যবহার এই আবহ সঙ্গীতকে আরও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলছে।

৮. কারিগরি বিবর্তন: গ্রামোফোন থেকে স্পটিফাই
চলচ্চিত্রের গানের প্রসারে প্রযুক্তি এক বিশাল ভূমিকা পালন করেছে।
১. গ্রামোফোন ও রেডিও যুগ: এক সময় চলচ্চিত্রের গানের প্রধান মাধ্যম ছিল গ্রামোফোন রেকর্ড ও রেডিও। বাড়ির বড়রা শনি-রবিবার রেডিওর সামনে বসে থাকতেন প্রিয় ছবির গান শোনার জন্য।
২. অডিও ক্যাসেটের বিপ্লব: আশির ও নব্বইয়ের দশকে অডিও ক্যাসেটের বিপ্লব ঘটে। বাংলাদেশে ‘সাউন্ডটেক’ বা ‘সঙ্গীতা’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলো চলচ্চিত্রের গানকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়। সালমান শাহ্-এর ছবির গানগুলো তখন কয়েক লক্ষ কপি বিক্রি হতো।
৩. ডিজিটাল ও স্ট্রিমিং যুগ: বর্তমানে ইউটিউব এবং বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কারণে গান এখন হাতের মুঠোয়। এখন আর গান শোনার জন্য ছবির মুক্তির অপেক্ষা করতে হয় না। লিরিক্যাল ভিডিও বা মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমেই গান আগে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে এই ডিজিটাল যুগে গানের স্থায়িত্ব নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়—আগের মতো গানগুলো কি এখন বছরের পর বছর মানুষের মনে গেঁথে থাকছে?

৯. চলচ্চিত্রের গানে লোকজ ও সুফি প্রভাব
সাম্প্রতিক সময়ে দুই বাংলার চলচ্চিত্রের গানেই ‘সুফি’ এবং ‘ফোক’ বা লোকজ সুরের এক নতুন জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের হাবিব ওয়াহিদ বা ওপার বাংলার অরিজিৎ সিং—সবার গানেই কোথাও না কোথাও লালন, হাসন রাজা বা শাহ্ আব্দুল করিমের ছোঁয়া পাওয়া যায়। আধুনিক ইন্সট্রুমেন্টেশনের সাথে এই মাটির গানগুলো যখন বড় পর্দায় আসে, তখন তা এক অনন্য শৈল্পিক মাত্রা পায়।

১০. বর্তমান যুগের সংকট: মেলোডির অভাব ও অনুকরণের সংস্কৃতি
বিগত কয়েক দশকে প্রযুক্তির অসামান্য উন্নতি ঘটলেও চলচ্চিত্রের গানের মৌলিকত্ব নিয়ে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ষাট বা সত্তরের দশকে একটি গানে যে পরিমাণ সময় ও মেধা ব্যয় করা হতো, বর্তমানের দ্রুতগতির যুগে তা অনেকটাই অনুপস্থিত।
অনুকরণ ও রিমেক: বর্তমানে দুই বাংলাতেই পুরোনো জনপ্রিয় গানগুলোকে ‘রিমেক’ বা নতুন করে কম্পোজ করার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে সাময়িক জনপ্রিয়তা পাওয়া গেলেও গানের দীর্ঘস্থায়ী আবেদন নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া অনেক সময় হিন্দি বা পাশ্চাত্য গানের অন্ধ অনুকরণ বাংলা চলচ্চিত্রের গানের নিজস্ব মেজাজকে ব্যাহত করছে।
ভোকাল অটো-টিউন: প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রে গায়কের প্রকৃত কণ্ঠের চেয়ে মেশিনের কারুকাজ বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে স্বর্ণযুগের সেই প্রাকৃতিক মাধুর্য বা গায়কির বৈচিত্র্য আধুনিক গানে কিছুটা কম লক্ষ্য করা যায়।

১১. কপিরাইট ও রয়্যালটি: শিল্পীর অধিকারের লড়াই
চলচ্চিত্রের গানের বাণিজ্যিক প্রসারের সাথে সাথে শিল্পীদের অধিকার বা রয়্যালটির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আইনি জটিলতা: বাংলাদেশে আইয়ুব বাচ্চু বা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মতো কিংবদন্তিরা তাঁদের গানের কপিরাইট নিয়ে দীর্ঘ লড়াই করেছেন। বর্তমানে কপিরাইট আইন কঠোর হওয়ায় শিল্পীরা তাঁদের সৃষ্টির মালিকানা ফিরে পাচ্ছেন।
ডিজিটাল রয়্যালটি: ইউটিউব বা স্পটিফাই-এর যুগে ভিউ এবং স্ট্রিম থেকে প্রাপ্ত অর্থ কীভাবে শিল্পী, সুরকার ও গীতিকারদের মধ্যে বণ্টিত হবে, তা নিয়ে দুই বাংলাতেই নতুন নিয়মাবলী তৈরি হচ্ছে। এটি সুস্থ সঙ্গীত চর্চার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।

১২. দুই বাংলার মেলবন্ধন: বিশ্বমঞ্চে বাংলা চলচ্চিত্রের গান
বর্তমানে ভৌগোলিক সীমানা ছাপিয়ে দুই বাংলার চলচ্চিত্রের গান একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে ঢাকার শ্রোতারা যেমন মুহূর্তেই টলিউডের গান শুনছেন, কলকাতার মানুষও তেমনি কোক স্টুডিও বাংলা বা ঢালিউডের নতুন গানের ভক্ত হচ্ছেন।
যৌথ প্রয়াস: অরিজিৎ সিং, অনুপম রায়, মিনার রহমান কিংবা আরমান আলিফদের গান আজ আর কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের নয়। দুই বাংলার এই সাঙ্গীতিক আদান-প্রদান বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষাকে আরও শক্তিশালী করছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: অস্কার বা গ্র্যামির মতো মঞ্চে ভারতীয় চলচ্চিত্রের গান যেমন জায়গা করে নিচ্ছে, বাংলাদেশের ‘হাওয়া’ ছবির ‘সাদা সাদা কালা কালা’র মতো গানগুলোও বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, শেকড়সন্ধানী সুরের আবেদন দেশ ও কালের সীমানা মানে না।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গান যেমন তার মাটির গন্ধ আর সংগ্রামের ইতিহাস দিয়ে আমাদের ঋদ্ধ করেছে, ওপার বাংলার গান তেমনি তার ধ্রুপদী আভিজাত্য আর শৈল্পিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে আমাদের রুচি উন্নত করেছে। চলচ্চিত্রের পর্দা কালো হয়ে গেলেও, আলো নিভে গেলেও—এই গানগুলো মানুষের মনের অন্ধকার দূর করতে মশাল হয়ে জ্বলে থাকে। যত দিন বাঙালি থাকবে, তত দিন এই সুরের মায়াজাল ছিন্ন হওয়ার নয়।
আরও দেখুন:
