‘প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ’ কেবল একটি নাম নয়, এটি মূলত একটি প্রযুক্তিভিত্তিক গণ-সংগঠন। তথ্যপ্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে দক্ষ পেশাজীবী ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের এক মহৎ সামাজিক আন্দোলন।
এই দীর্ঘ যাত্রার সূচনা হয়েছিল আজ থেকে আড়াই দশক আগে, ১৯৯৯ সালে। কুষ্টিয়া জেলা থেকে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে “প্রযুক্তিতে কুষ্টিয়া” নামে আমাদের এই স্বপ্নের কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। মফস্বল শহর থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি খুব দ্রুতই গতি পায়। তথ্যপ্রযুক্তির অপার সম্ভাবনা অনুধাবন করে স্থানীয় তরুণ সমাজ ছাড়াও ক্রমশ শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই প্রতিষ্ঠানের পতাকাতলে যুক্ত হতে শুরু করেন।

কুষ্টিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের এই দর্শনের হাওয়া লাগে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে আমাদের স্থানীয় চ্যাপ্টার (Chapters) তৈরি হতে থাকে। তৃণমূলের তরুণদের কারিগরিভাবে দক্ষ করা, আইটি সচেতনতা তৈরি এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা তৈরিতে আমরা নানাবিধ সময়োপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করি। যার অনেকগুলোতেই জাতীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য সফলতা পরিলক্ষিত হয়।
দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী ও তরুণদের কর্মকাণ্ডকে একক ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে গঠিত হয় কেন্দ্রীয় সংগঠন “প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ”।
আমি অত্যন্ত গর্ব ও বিনয়ের সাথে স্মরণ করি যে, আমি “প্রযুক্তিতে কুষ্টিয়া” এবং পরবর্তীতে মূল জাতীয় প্ল্যাটফর্ম “প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ”-এর দায়িত্ব পালন করার এক পরম সৌভাগ্য ও সুযোগ পেয়েছিলাম। দীর্ঘ সময় ধরে তরুণদের নিয়ে পথচলার সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, চড়াই-উতরাই ও সফলতার গল্পগুলো নিয়েই সাজানো হয়েছে আমার এই বিশেষ সিরিজ।
আরও দেখুন:
