শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জলবায়ু পরিবর্তন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই ঝুঁকির সম্মুখভাগে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই বৃক্ষরোপণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের যে ডাক দিয়েছিলেন, তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত এক দশকে (২০০৯-২০১৮) পরিবেশ ও বন ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু কূটনীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে এক রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১০ বছরে বাংলাদেশ কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হিসেবে নয়, বরং এই সংকট মোকাবিলায় অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মান ‘চ্যাম্পিয়নস অফ দ্যা আর্থ’ পদকে ভূষিত হয়েছেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ২০০৯ সালে নিজস্ব অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এন্ড অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়ন করে এবং নিজস্ব রাজস্ব থেকে ৩,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করে সারা বিশ্বে সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় গত এক দশকে সংবিধানে ১৮(ক) অনুচ্ছেদ সংযোজন, ওজোনস্তর ক্ষয়কারী সিএফসি গ্যাসের ব্যবহার ১০০% বন্ধ করা এবং বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৃক্ষরোপণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপের ফলে দেশে বৃক্ষাচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ ১.৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৩.২৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি গাজীপুরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক’ এবং রাঙ্গুনিয়ায় ‘শেখ রাসেল এভিয়ারি’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আধুনিকতার স্পর্শ লেগেছে।

বর্তমান নিবন্ধে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু অভিযোজন এবং সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গৃহীত বিভিন্ন নীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মাঠপর্যায়ের সাফল্যের চিত্র বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হলো।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “পরিবেশ, বন ও জলবায়ু” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "পরিবেশ, বন ও জলবায়ু" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

  • মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব জলবায়ু কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেওয়া। উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অফ দ্যা আর্থ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
  • বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ ইউএনএফসিসিসি’র ৬টি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্যপদ এবং আরও ৪টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে। এগুলো হচ্ছে বন ব্যবস্থাপনায় ইকুয়েটর প্রাইজ, উপকূলীয় বনায়নের জন্য আর্থ কেয়ার অ্যাওয়ার্ড, বন সংরক্ষণের জন্য ওয়াঙ্গারি মাথাই এ্যাওয়ার্ড এবং সিএফসি গ্যাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক ওজোন কমিটির স্বীকৃতি সনদ।
  •  উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এন্ড অ্যাকশন প্ল্যান অব ২০০৯’ শিরোনামে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে।
  • বর্তমান সরকার পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানে আর্টিকেল ১৮(ক) সংযোজন করেছে। এরই স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ অর্জন করেছে ‘The Cilobal Green Award 2014
  • গাজীপুরে প্রায় ৪ হাজার একর এলাকা জুড়ে প্রায় ৩২৫.৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক।
  •  জীববৈচিত্র সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন” নামে জাতীয় পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে।
  •  পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অধিকতর অর্থায়ানের উদ্দেশ্যে আগামী ৫ বছরে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার (৫৬ হাজার কোটি টাকা) অর্থায়নের পরিকল্পনা করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় একটি জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা (Country Investment Plan-CIP) তৈরি করেছে।
  •  বৃক্ষরোপনে গুরুত্ব আরোপের ফলে দেশে বৃক্ষাচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ বেড়েছে। ২০০৮ সালের ১.৫ শতাংশের স্থলে ২০১৭ সালে ১৩.২৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
  •  চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শেখ রাসেল এভিয়ারি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

ঝুঁকি মোকাবিলায় গৃহীত কার্যক্রম

  • জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় অভিযোজন কর্মপরিকল্পনা – National Adaptation Programme of Action (NAPA) প্রণয়ন করা হয়েছে।
  •  জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার জন্য সরকার কর্তৃক রাজস্ব বাজেট হতে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে ২০০৯-১০ অর্থবছর হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত (৯ অর্থবছরে) ৩২০০ (তিন হাজার দুইশত) কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
  • বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কনভেনশন UNFCCC (United Nations Framework Convention on Climate Change) CDM (Clean Developmnet Mechanism) এক্সিকিউটিভ বোর্ড, এডাপটেশন কমিটি ফান্ড বোর্ড এডাপটেশন কমিটি, Compliance কমিটি এবং কনসালটেটিভ গ্রুপ অব এক্সপার্ট এর সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "পরিবেশ, বন ও জলবায়ু" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউসেফ) এর নির্বাহী পরিচালক Achin Steiner-এর কাছ থেকে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫

 

  •  বাংলাদেশ ২০১২ সালে রিও ডি জেনারিওতে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত রিও+২০ সম্মেলনের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
  •  সরকার অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশসমূহের সাথে অগ্রাধিকারমূলক অভিযোজন কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে National Adaptation Programme of Action (NAPA) update- করেছে এবং NAPA-এর আওতায় বাংলাদেশ ১৮টি অগ্রাধিকারমূলক অভিযোজন কার্যক্রম (প্রকল্প) চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ UNFCCC-এর আওতায় গঠিত Least Developed Countries Fund (LDCE) হতে NAPA- এ চিহ্নিত প্রথম অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প Community Based Coastal Afforestation প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বন অধিদপ্তর ৪.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা মোকাবেলার জন্য ‘সেকেন্ড ন্যাশনাল কমিউনিকেশন’ (Second National Communication) নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
  •  ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের আর্থিক সহায়তায় দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনসহ পৌরসভাসমূহের জৈব আবর্জনা হতে গ্রিন হাউস গ্যাস উদগীরণ হ্রাসের লক্ষ্যে প্রোগ্রামেটিক সিডিএম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
  • ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধে সরকার ১লা জানুয়ারি ২০১০ হতে ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (সিএফসি), কার্বন, টেট্রাক্লোরাইড (সিটিসি) এবং মিথাইল ক্লোরোফরাম (এমসিএফ) ১০০% ফেইজ আউট নিশ্চিত করেছে। এ জন্য মন্ট্রিল প্রটোকল সচিবালয় থেকে বাংলাদেশের অনন্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে একটি ক্রেস্ট প্রদান করে।
  •  জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশনের আওতায় গত ৩০ নভেম্বর হতে ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত সময়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন। সম্মেলন (cop21) এ সকল সদস্য রাষ্ট্রের ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্যারিসে চুক্তি গৃহীত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশের পক্ষে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ

  •  সরকার ঢাকা শহরের বায়ু দূষণ রোধের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ১৪৬.০৪৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নির্মল বায়ু এবং টেকসই পরিবেশ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
  •  সরকারি নির্দেশনায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে দেশের ইটভাটাগুলোতে ইট পোড়ানোর ফলে। বায়ুদূষণ উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। ইতোমধ্যে দেশে ৪.২৭৭টি জিগজ্যাগ, ৬০টি হাইব্রিড হফম্যান, ৫৭টি টানেল ভাটা এবং ৫টি ভার্টিক্যাল শ্যাফট/অন্যান্য পদ্ধতির আধুনিক ইটভাটা স্থাপিত হয়েছে।
  • ৩১৮.৪৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নির্মল বায়ু এবং টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
  • ঢাকা শহরের চারপাশের নদীসমূহকে দূষণ হতে রক্ষার জন্য বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীকে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং বর্ণিত নদীসমূহের পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নে খাড়া নির্দেশিকা প্রণয়ন করা: হয়েছে।
  •  বিগত সরকারের সময়ে যেখানে মাত্র ১১৬ টি শিল্পকারখানায় ইটিপি স্থাপিত হয়েছিল, সেখানে বর্তমান সরকারের পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুফল হিসেবে দেশের ২০১৭টি ইটিপি স্থাপনযোগ্য শিল্পকারখানার মধ্যে ১৬১৯ টি শিল্প-প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে, যা বেপরোয়া দূষণ প্রশমন সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।
  •  দূষণ নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী ব্যবস্থা হিসেবে এনফোর্সমেন্ট ও মনিটরিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্পবর্জ্য হতে পানি পরিবেশ দূষণের দায়ে ৩৯৮৪ শিল্প প্রতিষ্ঠান হতে ২৬৩.০২ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৯.৪৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে, বাকিগুলো আদায়ের প্রক্রিয়াধীন।
  •  পানি দূষণের দায়ে ১৪২৫টি প্রতিষ্ঠান হতে ১৮০.৪২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করে ১১১.১০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।
  •  শিল্প ইউনিটে ইটিপি স্থাপনসহ অন্যান্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে সহজ শর্তে। ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে।
  •  নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগের অবাধ ব্যবহার বন্ধ এবং গাড়ির কালো ধোঁয়া নিঃসরণ রোধে জানুয়ারি, ২০০৯ হতে এ পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে যথাক্রমে ৮ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে ও ৮৭৬.২১ টন পলিথিন জব্দ করা হয়েছে এবং ৪৭ টি অবৈধ পলিথিন কারখানা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
  •  জ্বালানি কাঠের ব্যবহার হ্রাসকরণের জন্য ৭ হাজার ৮ শত বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন; এবং ৯ লক্ষ ৭৩ হাজার উন্নত চুলা বিতরণ করা হয়েছে।
  •  প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ১২ হাজার ৮ শত ৭২টি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
  •  সরকার কর্তৃক ঘোষিত প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকাসমূহের প্রতিবেশ ব্যবস্থার জন্য ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে Community Based Adaptation in the Ecologyeally Critical Areas Through Biodiversity Conservation and Social Protection শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
  •  Ecologycally Critical Areas (ECA) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা (খসড়া) প্রণয়ন করা হয়েছে।
  • প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকাসমূহে গঠিত সমিতি পরিচালনার জন্য “এনডোমেন্ট ফান্ড” (Endowment Fund) গঠন ও তা ব্যবহারের জন্য গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে।
  •  প্রকল্পের উপকারভোগীদের মধ্যে মাইক্রোক্রেডিট প্রদানের জন্য গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "পরিবেশ, বন ও জলবায়ু" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

  •  দেশের বায়োডাইভারসিটি সংরক্ষণের জন্য জীববৈচিত্রের বর্তমান অবস্থা এবং হুমকিসমূহ বিশ্লেষণপূর্বক ২০২০ সাল পর্যন্ত করণীয় কার্যক্রম চিহ্নিত করে Biodivdersity National Assessment and Programme of Action 2020 শীর্ষক প্রতিবেদন প্রণয়নপূর্বক তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
    কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
  • পরিবেশসম্মতভাবে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকার 3R (Reduce, Reuse & Recycle) স্ট্র্যাটেজি এবং কঠিন আবর্জনা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০১১ প্রণয়ন করেছে ।
    • শহরের বর্জ্য থেকে গ্রিন হাউজ পাস উদ্‌গীরণ হ্রাসের লক্ষ্যে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে শহরগুলোর (সিটি কর্পোরেশন/ পৌরসভা) জৈব আবর্জনা ব্যবহার করে শহরের বর্জ্য থেকে গ্রিণ হাউজ গ্যাস উদগীরণ হ্রাসের পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে।
  •  বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের বন ব্যবস্থাপনাকে কার্বন ট্রেডিং এর উপযোগী করে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
  •  বাংলাদেশে আগর শিল্প একটি সম্পূর্ণ রপ্তানীমুখী শিল্প। আগর শিল্পকে উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বন গবেষণা ইনস্টিটিউিট উন্নত জাতের আগর বীজ উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট আগর গাছের কাঠ থেকে আগরের তেল নিষ্কাশনে উন্নত পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে।
  • ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে একটি তেলবাহী জাহাজের ট্যাংকার হতে তেল নিঃসরণ সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়। এর ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
  •  বৈজ্ঞানিক উপায়ে (ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতি) বাঘ শুমারী সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি আমাদের সুন্দরবনের বাঘ সুরক্ষার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

 

পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই এক দশক ছিল বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এক বৈপ্লবিক সময়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নে ৩,২০০ কোটি টাকার ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন এবং সংবিধানে পরিবেশ রক্ষার বাধ্যবাধকতা (আর্টিকেল ১৮ক) সংযোজন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার প্রাপ্তি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি জলবায়ু কূটনীতিতে বাংলাদেশের নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

বনায়নের পরিমাণ ১.৫% থেকে বাড়িয়ে ১৩.২৩%-এ উন্নীত করা, দূষণকারী শিল্প কারখানায় ইটিপি স্থাপন নিশ্চিত করা এবং ওজোনস্তর ক্ষয়কারী গ্যাসের ব্যবহার শতভাগ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপগুলো টেকসই উন্নয়নের পথে বড় মাইলফলক। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও শেখ রাসেল এভিয়ারির মতো আধুনিক স্থাপনা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। গত ১০ বছরের এই সমন্বিত উদ্যোগসমূহ প্রমাণ করে যে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সবুজ ও জলবায়ু-সহিষ্ণু ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে এই এক দশকের অগ্রগতিই হবে আমাদের প্রধান শক্তি।