২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচালনার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘আইন বিভাগ’ এক অভূতপূর্ব অগ্রগতি ও আধুনিকায়নের যুগে প্রবেশ করে। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং বিচার বিভাগকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এই এক দশকে বৈপ্লবিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
ইতিহাস ও রাজনীতির এই বিশেষ পর্বে আমরা আলোচনা করব কীভাবে নবম ও দশম জাতীয় সংসদের মাধ্যমে রেকর্ডসংখ্যক গণমুখী আইন পাস, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের ডিজিটাল যাত্রা এবং আন্তর্জাতিক সংসদীয় কূটনীতিতে (সিপিএ ও আইপিইউ) বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্ব লাভ দেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। একই সাথে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি, লেজিসলেটিভ আধুনিকায়ন এবং নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে আইন বিভাগ কীভাবে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র এই নিবন্ধে উন্মোচিত হবে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আইন বিভাগের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
বিল ও আইন পাস:
জানুয়ারি ২০০৯ হতে ২৯ অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত নবম ও দশম সংসদে মোট ৩৮৪টি আইন পাস হয়। এ সময় ৩৭টি বেসরকারি বিলের নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৩টি পাসসহ মোট ৩৪টি বিল নিষ্পত্তি করা হয়। এছাড়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর মোট ৩০টি সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদীয় প্রশ্নোত্তর:
নবম ও দশম সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরের জন্য ৭,২১৭টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে ১,৯১৭টি প্রশ্নের জবাব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং প্রদান করেন। একই সময়ে মাননীয় মন্ত্রীদের জন্য মোট ১২০,৮০৯টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায় এবং তাঁরা ৭৯,৬৩৯টি প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন।
স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম:
এই সময়কালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদীয় ও মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৩,৫৩৪টি এবং সাব-কমিটির ৬৮০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটিসমূহের বৈঠকে সর্বমোট ২৬,৯৭৯টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে ৩৮৪টি বিল মহান সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
ডিজিটাল সংসদ ও মিডিয়া:
সংসদে ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ২০১৬ সালে সংসদ টেলিভিশনের স্টুডিওতে ডিজিটাল লাইটিং স্থাপনের মাধ্যমে এর আধুনিকায়ন করা হয় এবং বিভিন্ন আঙ্গিকে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া ১ নম্বর এলডি হলের দ্বিতীয় তলায় আধুনিক প্রযুক্তির সাইক্লোরোমা লাইটসহ ১০০ ও ২০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এলইডি লাইট দ্বারা স্টুডিও সজ্জিত করে অনুষ্ঠান নির্মাণ করা হচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে স্টুডিও ও মাস্টার কন্ট্রোল রুমের সম্প্রচার সংশ্লিষ্ট আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও নকশা সংরক্ষণ:
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বহিঃবেষ্টনী ফেন্সিং বা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে সংসদ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটি আর্কিটেকচারাল আর্কাইভস (Pennsylvania University Architectural Archives) হতে স্থপতি লুই কান (Louis Kahn) নকশাকৃত শেরে বাংলা নগরস্থ জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্স ও সংশ্লিষ্ট এলাকার মহাপরিকল্পনা এবং এর অন্তর্ভুক্ত অঙ্গের স্থাপত্য নকশার ৪ সেট (৪১টি কার্ডবোর্ড বক্স) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছায়, যা বর্তমানে সেখানে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া সংসদ ভবনে অত্যাধুনিক ‘ফায়ার ডিটেকশন অ্যান্ড অ্যালার্ম সিস্টেম’ (Fire Detection and Alarm System) চালু করা হয়েছে। মানিক মিয়া এভিনিউ ও নাখালপাড়ার ১০টি সংসদ সদস্য ভবনের গেটে ১০টি আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর এবং সংসদ ভবন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বিধানে স্থাপিত ৭২টি সিসিটিভি সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আর্থিক ও প্রশাসনিক আধুনিকায়ন:
২০১৪ সাল হতে সংসদ সদস্য এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী, বেতন ও ভাতাদি ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) পদ্ধতির মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। মাননীয় সংসদ সদস্যদের স্বেচ্ছাধীন অনুদান (বার্ষিক তহবিল) ২০০৯-২০১০ অর্থ-বছরে ছিল ১,০০,০০০/- টাকা, যা ২০১০-২০১১ থেকে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৩,০০,০০০/- টাকা এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ৫,০০,০০০/- টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সাংবাদিক লাউঞ্জ ও আইটি উন্নয়ন:
সংসদ ভবনস্থ সাংবাদিক লাউঞ্জে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সাংবাদিক লাউঞ্জ থেকে অধিবেশনের নিউজ কাভারেজ করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজ নিজ মিডিয়া হাউজে প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে। জাতীয় সংসদের প্রশাসনিক কাজে কম্পিউটারের সংখ্যা ৪৯০টি হতে বৃদ্ধি করে আরও উন্নত করা হয়েছে। এছাড়া ফটোকপিয়ার মেশিন ৭৫টি থেকে ৮৫টিতে, ফ্যাক্স মেশিন ৪২টি থেকে ৫৭টিতে এবং কম্পিউটার স্ক্যানার মেশিন ২৪টি থেকে ৪৪টিতে উন্নীত করা হয়েছে। ২০১২ সাল হতে কাস্টমাইজড সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ডেটাবেজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংসদের নিজস্ব ডায়নামিক ওয়েবসাইট ও ওয়েব মেইল এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চিকিৎসা ও যানবাহন সুবিধা:
সংসদের প্রথম মেডিকেল সেন্টারটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এখানে চোখের চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজার মেশিন ও অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। সংসদ গ্রন্থাগারকে আরও আধুনিক করতে কম্পিউটার, আইটি যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার সরবরাহ করা হয়েছে। লজিস্টিকস সাপোর্টের জন্য ৫টি এসি কার, ৫২ আসনের ২টি বাস, ৫টি মাইক্রোবাস, ৩টি এসি মাইক্রোবাস, ১টি এসি মিনিবাস, ৪টি পাজেরো জিপ এবং ২টি ডাবল কেবিনযুক্ত পিকআপ ভ্যান যুক্ত করা হয়েছে।
ক্যাফেটেরিয়া ও আবাসন:
সংসদের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়া আন্তর্জাতিক মানে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি নতুন ক্যান্টিন ‘ক্যাফে জয়িতা’ স্থাপন করা হয়েছে। ফাস্টফুডের চাহিদা মেটানোর জন্য সংসদের বাইরে ‘সিপি ফাস্টফুড’-এর আউটলেট স্থাপন করা হয়েছে। মাননীয় ভিআইপি, তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য ৩০০০ লাইন পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য অত্যাধুনিক মডেলের একটি নতুন পিএবিএক্স (PABX) এক্সচেঞ্জ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৪৪৮টি আবাসিক কোয়ার্টার বা বাসা নির্মাণ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৯ম জাতীয় সংসদের সময়কালীন শেরেবাংলা নগর সদস্য ভবনে সংসদ সদস্যদের অনুকূলে ১৯২টি অফিস কক্ষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে, যা ১০ম জাতীয় সংসদেও অব্যাহত ছিল।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও নেতৃত্ব:
৯ম জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পর কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (CPA) এবং ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU)-এর সদস্যপদ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ২০১০ সালে ঢাকায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়, UNDP, CPA এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ইনস্টিটিউট (WBI)-এর সহযোগিতায় ‘পার্লামেন্টারি বেঞ্চমার্ক ওয়ার্কশপ’ আয়োজন করা হয়। ২০১১ সালে সংসদ ভবনকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’-এর অন্তর্ভুক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালে ঢাকায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংসদীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং একই বছর সংসদে ‘শিশু গ্যালারি’ স্থাপন করা হয়।
বৈশ্বিক পদক ও গৌরব:
২০১৪ সালে ৬০তম সিপিএ সম্মেলনে মাননীয় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তিন বছরের জন্য সিপিএ নির্বাহী কমিটির ইতিহাসে প্রথম নারী চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সালে তিনি ‘ওয়ার্ল্ড উইমেন লিডারশিপ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। ২০১৪ সালে আইপিইউ-এর ১৩১তম অ্যাসেম্বলিতে জনাব সাবের হোসেন চৌধুরী তিন বছরের জন্য আইপিইউ-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, যিনি বাংলাদেশ থেকে প্রথম এই গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া মাননীয় ডেপুটি স্পীকার জনাব মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ২০১৬ সালে ‘আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। সংসদ সদস্য বেগম সাগুফতা ইয়াসমিন ২০১৭ সালের জন্য ‘কমনওয়েলথ উইমেন পার্লামেন্টারিয়ানস’ (CWP)-এর প্রেসিডেন্ট এবং জনাব এ.বি.এম. ফজলে করিম চৌধুরী ২০১৬ সালে আইপিইউ-এর ‘হিউম্যান রাইটস কমিটি অব পার্লামেন্টারিয়ানস’-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে ঢাকায় ১৩৬তম আইপিইউ অ্যাসেম্বলি এবং ৬৩তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্স (CPA) সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
নিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক উইং সৃজন:
‘জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ বিধিমালা, ২০১০’ প্রণয়ন করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুরূপ সরাসরি/পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভগ্নাংশ পূর্ণসংখ্যায় পদোন্নতির সাথে যুক্ত করে নিয়োগ বিধি সংশোধন করা হয়েছে। ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩৬৯টি নতুন পদ, কমিটির সভাপতিগণের জন্য ৪২টি পিএ ও ৪২টি অফিস সহায়কের প্রিভিলেজ পদ এবং আউটসোর্সিংয়ের জন্য ২৬টি পদ সৃজন করা হয়েছে। এর আওতায় ৩০০ জন কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগ এবং ২১১টি পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের পিএ-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে ২৫০ জনকে প্রিভিলেজ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১০ সালে ‘ব্রডকাস্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি’ নামে একটি নতুন উইং এবং প্রটোকল, গণসংযোগ, প্রোগ্রামিং ও আইটিসহ ৯টি অধিশাখা, ১০টি নতুন শাখা এবং ১টি ইঞ্জিনিয়ারিং সেল গঠন করা হয়। ২টি উপ-সচিবের সুপারনিউমারারি পদ সৃজনসহ মোট ১৪টি উপ-সচিব পদে এবং ৬টি পরিচালক পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। যুগ্ম-সচিবের ২টি পদকে অতিরিক্ত সচিব পদে উন্নীত করা হয় এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ৩য় শ্রেণিতে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়োগবিধি সংশোধন করা হয়।
মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ:
মাননীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য ১২৭টি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৯ জন কর্মকর্তাকে ভারতের লোকসভা, নয়াদিল্লীতে ‘পার্লামেন্টারি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’ সম্পর্কে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ
আইন প্রণয়ন ও চুক্তি নিরীক্ষা:
রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে ২০০৯ থেকে ২০১৮ (জুন) সময়কালে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সহায়তায় বিপুলসংখ্যক আইন, অধ্যাদেশ, এসআরও (SRO) প্রণয়ন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি নিরীক্ষা (Vet) করা হয়েছে। এ বিভাগের অনুবাদ দপ্তর হতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইন, বিধিমালা, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের (MoU) নির্ভরযোগ্য অনুদিত পাঠ প্রস্তুত ও প্রদান করা হয়েছে।
২০০৯ সালের উল্লেখযোগ্য আইনসমূহ:
এ বছর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন’ প্রণয়ন করা হয়। এছাড়া ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত বিধান যুগোপযোগী করতে ‘ট্রেডমার্ক আইন’, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘তথ্য অধিকার আইন’, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’, ‘ভোটার তালিকা আইন’ এবং ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প (ভূমি অধিগ্রহণ) আইন’ সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন করা হয়।
২০১০ সালের উল্লেখযোগ্য আইনসমূহ:
দেশের নাগরিকদের মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও বিনোদন প্রদানের লক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার আইন’, বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর আইন’, বীমা শিল্পের নিয়মতান্ত্রিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন’ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন’ প্রণয়ন করা হয়।
উচ্চশিক্ষা, পরিবেশ ও অর্থনীতি (২০১০):
বেসরকারি পর্যায়ে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’, গ্যাস সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ গ্যাস আইন’ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন’ প্রণয়ন করা হয়। একই বছর ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন’, ‘বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইন’, ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন’, ‘রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন’, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’, ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন’, ‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন’ এবং ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন’ এর মতো যুগান্তকারী আইনসমূহ তৈরি করা হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইন:
ইউনেস্কো (UNESCO) কর্তৃক মহান ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের অভ্যন্তরে মাতৃভাষার উন্নয়ন-সংরক্ষণ এবং বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইন’ প্রণয়ন করা হয়।
২০১১ সালের উল্লেখযোগ্য আইনসমূহ:
দুর্নীতি প্রতিরোধে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশকারীকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ‘জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা) আইন’, ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি (পুনর্বাসন) আইন’, ‘মৎস্য ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন’ এবং ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প (ভূমি অধিগ্রহণ) আইন’ প্রণয়ন করা হয়।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী (২০১১):
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের চেতনা পুনরুদ্ধার এবং সংবিধানের অন্যতম মূল স্তম্ভ ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে সামরিক ফরমান বা অধ্যাদেশ দ্বারা বিলুপ্ত অনুচ্ছেদসমূহ পুনঃপ্রবর্তনের অভিপ্রায়ে ‘সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১’ পাস করা হয়।
২০১২ সালের উল্লেখযোগ্য আইনসমূহ:
মানব পাচার ও মানিলন্ডারিং দমনে ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২’, ‘অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা আইন’ এবং ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন’ সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন করা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মান ও চাহিদার সাথে সংহতি রেখে একটি স্বাধীন ‘পরমাণু শক্তি কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠা, নিউক্লীয় দায়ের পরিধি নির্ধারণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন’ এবং দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন’ প্রণীত হয়। দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা হ্রাসকল্পে ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ (ADR) পদ্ধতি চালু, হিন্দু নারীদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে ‘হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন’ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ‘টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১২’ প্রণয়ন করা হয়।
জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার প্রয়াস:
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য জঘন্য অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত ও জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অধ্যাদেশসমূহের হেফাজত ও ২০১৩ সালের আইন:
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে সামরিক শাসন আমলের (১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর) অধ্যাদেশসমূহ এবং সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল ঘোষিত হয়। ফলশ্রুতিতে উক্ত সময়ে জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহ ও এসবের অধীনে কৃত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং আইনি বৈধতা বহাল রাখার লক্ষ্যে মোট ১৬৬টি অধ্যাদেশকে হেফাজত (Ratification and Confirmation) দিয়ে ২০১৩ সালে পৃথক দুটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হয়।
সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্পিত সম্পত্তি আইন:
অসহায় ও প্রবীণ বাবা-মা এবং দাদা-দাদি, নানা-নানির প্রতি সন্তানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সুনির্দিষ্ট করে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়। এছাড়া ২০০১ সালে প্রণীত ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন’-এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং বাস্তবভিত্তিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে একটি সংশোধনী আইন প্রণয়ন করা হয়।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী (২০১৪):
বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যায় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত সংসদের হাতে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা পুনঃপ্রবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) আইন, ২০১৪’ পাস করা হয়, যা ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের অনুরূপ।
বাংলাদেশ কোড ও ডিজিটাল আইনি সেবা:
১৭৯৯ সাল থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রচলিত সকল আইনকে হালনাগাদ ও কালানুক্রমিক সূচিপত্রসহ মোট ৪২ খণ্ডে ‘বাংলাদেশ কোড’ (Bangladesh Code) আকারে ২০১৭ সালে মুদ্রণ ও প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে ‘লজ অব বাংলাদেশ’ (Laws of Bangladesh) নামক একটি সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট (http://bdlaws.minlaw.gov.bd) প্রস্তুত করা হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের আইসিটি সেল কর্তৃক প্রচলিত আইনের সর্বশেষ সংশোধিত রূপ নিয়মিত এই ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করা হচ্ছে, যার ফলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ বাংলাদেশে প্রচলিত যেকোনো আইনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারছেন। এই বিভাগ ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’-কেও নিরবচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে আসছে।

নির্বাচন কমিশন
স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন:
দেশের সব রাজনৈতিক দলের মতামত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ ‘সার্চ কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সার্ভার স্টেশন:
ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা/থানা পর্যায়ে ‘কনস্ট্রাকশন অব উপজেলা অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট সার্ভার স্টেশনস’ (Construction of Upazila and District Server Stations) প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সার্ভার স্টেশনসমূহ নির্মাণ করা হয়েছে।
স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ:
নাগরিকদের উন্নত ও নির্ভরযোগ্য আইনি পরিচয় নিশ্চিত করতে বিশাল ব্যয়ে ‘স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র’ উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এই স্মার্ট কার্ড বিতরণকালে নাগরিকের নিরাপত্তা ও নিখুঁত পরিচয় নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে দশ আঙুলের ছাপ (Biometric) এবং চোখের মণির (Iris) প্রতিচ্ছবি বা স্ক্যান সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ডিজিটাল নির্বাচন ব্যবস্থাপনা:
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনার অংশ হিসেবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সংযোজন করা হয়েছে। ‘ক্যান্ডিডেট ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (Candidate Information Management System) এবং ‘রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (Result Management System) সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা, নির্ভুলতা ও দক্ষতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিচার বিভাগ
চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ:
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২,৩৮৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা সদরে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্প (ফেব্রুয়ারি ২০০৯ হতে জুন ২০২০, ২য় সংশোধিত) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ৪২টি জেলায় ১২ তলা ভিতবিশিষ্ট ৮/১০ তলা আধুনিক আদালত ভবন নির্মাণ করা এবং অন্য ২২টি জেলায় আদালত ভবন নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে এবং সেগুলোতে বিচারিক কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির বিচারকদের এজলাস, রেকর্ড রুম ও মালখানার দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট দূর হয়েছে।
ভৌত অবকাঠামোর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ:
২০১৪-২০১৭ মেয়াদে ১৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭টি জেলার বিদ্যমান জেলা জজ আদালত ভবনগুলোর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০০৯-২০১২ সময়কালে ১৩ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঢাকা জজ কোর্ট ভবনের ৫ম তলা হতে ১০ম তলা পর্যন্ত এবং মালখানা কাম পুলিশ ব্যারাকের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হয়েছে। স্থান সংকুলান দূর করতে ২০১০-২০১৩ মেয়াদে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ ভবনের ৬ষ্ঠ তলার ওপর ৭ম, ৮ম, ৯ম এবং ১০ম তলার আংশিক ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হয়। একই সাথে ১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘আইন কমিশন’ ভবনটিকে ১২ তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
চৌকি আদালত ও আইনজীবী সমিতি অনুদান:
জুলাই ২০০৯ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বাগেরহাট, রংপুর, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণ এবং বইপুস্তক ক্রয়ের জন্য ৬৬ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিচারকার্য সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ৯টি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৯টি চৌকি আদালত স্থাপন করা হয়েছে।
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন:
সন্ত্রাসবিরোধী মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২টি ‘সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ স্থাপন করা হয়েছে এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগীয় শহরে আরও ৫টি ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের কাজ চলছে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেশে আরও ৪১টি ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল’ স্থাপন করে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে ঢাকায় ১টি ‘সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল’ স্থাপন করা হয়েছে।
বিচারক নিয়োগ ও লজিস্টিকস সাপোর্ট:
২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৬৫ জন এবং অধস্তন আদালতে ৮৮৩ জন নতুন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কর্মরত বিচারকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে জুলাই ২০০৯ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত ১৭৬টি সিডান কার এবং মাইক্রোবাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ:
২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ‘বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’-এ ৩,৫১৩ জন বিচারক, ২২৮ জন জিপি-পিপি (Government Pleader & Public Prosecutor) এবং ৭২৫ জন কর্মচারীকে পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ২২৩ জন, ভারতে ১৮৪ জন ও জাপানে ১৫ জনসহ মোট ৪২২ জন বিচারককে বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
মামলা ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি:
বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এজলাস সংকট নিরসনের পাশাপাশি সরকার মামলা ব্যবস্থাপনার (Case Management) দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকায় সলিসিটরের নেতৃত্বে একটি ‘মনিটরিং সেল’ এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘ন্যাশনাল জাস্টিস কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ (National Justice Co-ordination Committee) গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ (ADR) পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন:
অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপনের ঘটনা এটিই প্রথম।
সরকারি আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড):
দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলা সদরে এবং সুপ্রিম কোর্টে ‘লিগ্যাল এইড অফিস’ স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ‘শ্রমিক আইন সহায়তা সেল’ চালু করা হয়েছে এবং লিগ্যাল এইড অফিসগুলোর প্রশাসনিক কাজের জন্য ১৯২টি সহায়ক কর্মচারীর পদ সৃজন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইনি পরামর্শ ও সেবাকে সহজলভ্য করতে ২০১৬ সালে টোল-ফ্রি জাতীয় হেল্পলাইন নম্বর ‘১৬৪৩০’ চালু করা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৮শে এপ্রিল জাতীয়ভাবে ‘আইনগত সহায়তা দিবস’ উদযাপন করা হচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’-এর মাধ্যমে ৩ লক্ষ ২২ হাজার ৭৬৭ জন নাগরিক আইনি সেবা লাভ করেছেন।
ডিজিটালাইজেশন ও বিচারিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ:
অল্প সময়ে ও কম খরচে বিচারিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিচার বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ সরবরাহ করা হয়েছে। এই এক দশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড মামলার বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিবন্ধন অধিদপ্তরের আধুনিকায়ন:
জেলা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসমূহকে আধুনিক ভৌত অবকাঠামো সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৮টি জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ও ৪২টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পূর্বে বালাম বহির অভাবে মূল দলিলের নকলের কাজ প্রায়ই বন্ধ থাকত এবং জনগণকে মূল দলিল ফেরত পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো। বিগত চার বছরে তিন দফায় ২ লক্ষ ৩৫ হাজার বালাম বহি ছাপিয়ে তা দেশের জেলা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে সরবরাহ করে বালাম সংকট সম্পূর্ণ দূর করা হয়েছে।
নকল নবিশদের অধিকার রক্ষা ও প্রশিক্ষণ:
সরকার নকল নবিশদের প্রতি পৃষ্ঠা লেখার পারিশ্রমিক ১৬ টাকা থেকে ২৪ টাকায় উন্নীত করেছে এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছে। নকল নবিশগণ যাতে প্রতি মাসে নিয়মিত পারিশ্রমিক পেতে পারেন সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে তাঁরা এখন প্রতি মাসের পারিশ্রমিক পরবর্তী মাসেই উত্তোলন করতে পারছেন। নিবন্ধন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের আধুনিকায়নে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো সব জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারকে পর্যায়ক্রমে ‘বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ এবং ‘বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ (BPATC)-এ বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। উন্নত দেশের ভূমি নিবন্ধন পদ্ধতি সম্বন্ধে ধারণা নেওয়ার জন্য ২০১৭ সালে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ২৯ জন কর্মকর্তাকে ইংল্যান্ডে উচ্চতর প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়।
অধিদপ্তরে উন্নীতকরণ:
প্রশাসনিক পরিধি বাড়াতে এই সময়ে নতুন ৬টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সৃজন করা হয়েছে। পরিশেষে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করে ২ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে ‘নিবন্ধন পরিদপ্তর’-কে পূর্ণাঙ্গ ‘নিবন্ধন অধিদপ্তর’-এ উন্নীত করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
কমিশন প্রতিষ্ঠা ও গঠন:
দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুসংহত করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’ (২০০৯ সালের ৫৩ নম্বর আইন) প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের আলোকে মানবাধিকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সংবিধিবদ্ধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১ জন চেয়ারম্যান ও ৬ জন সদস্যের সমন্বয়ে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ গঠন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও বৈচিত্র্য:
সর্বক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিশনের বর্তমান পূর্ণাঙ্গ সদস্যবৃন্দের মধ্যে ৩ জন নারী সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এবং একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত আছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও বাজেট বৃদ্ধি:
কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। প্রথম দিকে জনবল সংকট থাকলেও বর্তমানে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন করে আরও ৪০টি পদের মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে। কমিশনের কর্মপরিধি ও গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং জাতিসংঘের ‘প্যারিস প্রিন্সিপালস’ (Paris Principles)-এর আলোকে এটিকে শক্তিশালী করতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও আর্থিক স্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি লজিস্টিকস সহায়তার জন্য যানবাহন ও প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়েছে এবং কমিশনের নিজস্ব কার্যালয় নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
অভিযোগ গ্রহণ ও স্বপ্রণোদিত তদন্ত:
২০০৯ সালের আইনের আলোকে যেকোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমিশন নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কিংবা স্বপ্রণোদিত (Suo Moto) হয়ে তদন্ত পরিচালনা করে থাকে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের শাস্তি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আইনানুগ সুপারিশ পেশ করা হয়। ফলে অসহায়, গরিব ও তৃণমূলের গণমানুষের উপেক্ষিত অধিকার আদায়ের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে এই কমিশন।
প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা ও পরিদর্শন:
দেশের নাগরিকগণ সরাসরি কমিশনের নিকট সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে বা প্রতিবেদন তলবের মাধ্যমে প্রতিকারমূলক সুপারিশ প্রদান করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন সময় জেল বা সংশোধনাকৃতি কারাগার, থানা হেফাজত এবং চিকিৎসা কেন্দ্রসমূহ সশরীরে পর্যবেক্ষণ করে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিতকরণ এবং বিচারপ্রার্থীদের সুপ্রাপ্যতা বজায় রাখতে কমিশন বলিষ্ঠ সুপারিশ পেশ করে আসছে।
আইনি সহায়তা ও প্যানেল আইনজীবী:
মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে কমিশন সারা দেশে প্যানেল আইনজীবী (Panel Lawyers) নিয়োগ দিয়েছে। একই সাথে মানবাধিকার বঞ্চিত সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের পদ্ধতিসমূহ প্রচারের মাধ্যমে সহজলভ্য করায় দিন দিন সেবাগ্রহীতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
মানবাধিকার সংরক্ষণ ও সুরক্ষার বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের জন্য নিয়মিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যা নিরীহ জনগণের ন্যায্য বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে। এই বলিষ্ঠ ও সাহসী পদক্ষেপের জন্য ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ’ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনসমূহের বৈশ্বিক ফোরাম (Global Alliance of National Human Rights Institutions – GANHRI) কর্তৃক ‘বি’ (B) স্ট্যাটাস এবং এশিয়া প্যাসিফিক ফোরাম (APF) কর্তৃক সহযোগী সদস্যপদ লাভ করেছে, যা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
কৌশলগত পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতা:
কমিশন অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার সাথে নিয়মিতভাবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করে থাকে। প্রথম পাঁচ বছর মেয়াদি (২০১০-২০১৫) কৌশলগত পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদি (২০১৬-২০২০) কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করে তা দূরীকরণে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে কার্যকর প্রয়াস চালানো হয়েছে।
আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন:
তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ঢাকার বাইরে কমিশনের ২টি আঞ্চলিক শাখা কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে—যার একটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে এবং অন্যটি খুলনা জেলায় অবস্থিত। আগামীতে দেশের সব জেলা ও বিভাগে কমিশনের শাখা অফিস স্থাপন করে মানবাধিকার ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার বড় পরিকল্পনা রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রোহিঙ্গা ইস্যু:
সরকার কর্তৃক গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। কমিশন সর্বদা এই ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে নীতিগত সমর্থন প্রদান করেছে এবং এ বিষয়ে একটি সহজপাঠ্য পুস্তিকা প্রণয়ন করে তা জনগণের মাঝে বিলি করেছে। এছাড়া মিয়ানমারে বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুঃখ-কষ্টের চিত্র এবং মানবিক অধিকারের বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোরালোভাবে তুলে ধরতে কমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আরও দেখুন:
