শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি এবং খাদ্য নিরাপত্তা একটি জাতির সার্বভৌমত্বের প্রতীক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই কৃষকদের জন্য যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন, তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত এক দশকে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য খাতে যে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তা আজ বিশ্বজুড়ে এক রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃষিবান্ধব নীতির ফলে বাংলাদেশ আজ কেবল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, বরং উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনে ৪১৩ লাখ মেট্রিক টনের মাইলফলক স্পর্শ করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে দশম স্থানে অবস্থান করছে। পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন থেকে শুরু করে ১০৮টি উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন—কৃষি গবেষণায় বাংলাদেশের সাফল্য আজ আকাশচুম্বী। ফসলের নিবিড়তা ১৯৪ শতাংশে উন্নীত হওয়া এবং সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় ও আম উৎপাদনে সপ্তম স্থানে উঠে আসা প্রমাণ করে যে, কৃষি আজ কেবল জীবনধারণের মাধ্যম নয়, বরং একটি বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তরিত হয়েছে।

পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। বাংলাদেশ আজ ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম এবং মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ঐতিহাসিক সমুদ্র বিজয়ের ফলে ব্লু-ইকোনমির যে সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে, তা কাজে লাগাতে ‘আর. ভি. মীন সন্ধানী’র মতো গবেষণা জাহাজ যুক্ত হয়েছে আমাদের নৌ-বহরে। অন্যদিকে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণ এবং হতদরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারের জন্য ‘১০ টাকা কেজি চাল’ বিতরণের মতো মানবিক ও সাহসী পদক্ষেপসমূহ শেখ হাসিনার সরকারের এক অনন্য অর্জন।

বর্তমান প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গৃহীত নীতি, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং মাঠপর্যায়ের সাফল্যের চিত্র বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হলো।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

কৃষি

কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। খাদ্য শস্য উৎপাদন, টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাণিজ্যে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপি’তে কৃষিখাতের অবদান ১৪.১১ শতাংশ।

বর্তমান সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে রূপকল্প ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ এর আলোকে জাতীয় কৃষিনীতি, ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট, ডেল্টাপ্রান ২১০০ এবং অন্যান্য পরিকল্প দলিলের আলোকে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২০ প্রাপ্তদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা, ৭ জানুয়ারি ২০১০

 

কৃষিক্ষেত্রে সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে খোরপোষের কৃষি আজ বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে দেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারিত হয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান দশম। অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

  • এক ও দুই ফসলি জমি অঞ্চল বিশেষে প্রায় চার ফসলি জমিতে পরিণত করা হয়েছে এবং দেশে বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা ১৯৪%।
  •  ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দানাদার খাদ্যশস্যের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ শত ৭ দশমিক ১৪ লাখ মেট্রিক টন, উৎপাদন হয়েছে ৪ শত ১৩ দশমিক ২৪৯ লাখ মে. টন যার ফলে দেশ আজ দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

স্বরণী : ২০০৮-০৯ হতে জুন ২০১৮ অর্থবছর পর্যন্ত প্রধান প্রধান ফসলের উৎপাদন

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

  • কৃষিক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার নিয়মিত প্রদানের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
  • কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও বায়োটেকনোলোজির যথাযথ প্রয়োগের সাফল্য স্বরূপ ২০১৪ সালে কর্ণেল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশকে Science and Technology Award করেছে।
  • কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) কে IDB Prize 2016 প্রদান করেছে।
  • দক্ষিণ অঞ্চলে ভাসমান বেড়ে চাষাবাদ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। ভাসমান বেড়ে সবজি উৎপাদনের পদ্ধতিটিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ২০১৫ সালে কৃষিতে বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
  • শেখ হাসিনার সরকার সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ ইত্যাদি খাতে আর্থিক সহযোগিতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
  • ২০০৮-০৯ অর্থবছর হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত সকল খাতে মোট ৬৫ হাজার ৪ শত ৪৭ কোটি টাকার মধ্যে সার খাতেই ৫৮ হাজার ৯ শত ৪৫ কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।
  • বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার ২০০৮-০৯ অর্থবছর হতে প্রণোদনা / কৃষি পুনর্বাসন চালু করেছে। অদ্যাবধি এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৮২৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৭৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৩ জন কৃষক উপকৃত হয়েছে।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া এবং বিভিন্ন ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন বাবদ ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
  • উৎপাদনমুখী কৃষিবান্ধব সরকার নানাবিধ সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে মোট ২ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান করেছে।
  • শেখ হাসিনার সরকার কৃষককে মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ করে দেওয়ায় ১ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৪৮টি ব্যাংক হিসাব খোলা সম্ভব হয়েছে, যেখানে বর্তমান স্থিতি প্রায় ২ শত ৮২ কোটি টাকা।
  • ২০০৮-০৯ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত বাজেট ছিল ৭ হাজার ৯ শত ২৪ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩ শত ৩ দশমিক ৮৪ কোটি টাকায় অর্থাৎ ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • ২০০৮-০৯ অর্থবছর হতে ২০১৭-১৮ কৃষি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মোট ২০৪টি প্রকল্পের কার্যক্রম গ্রহণ করে। ২০৪টি প্রকল্প বাবদ মোট বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৪ শত ৯৮ দশমিক ৯৩ কোট টাকা। ইতোমধ্যে ১৫৩টি প্রকল্প সমাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে ৫১টি প্রকল্প চলমান আছে।
  • ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। লবণাক্ততা, খরা, জলমগ্নতা সহনশীল ও জিংকসমৃদ্ধ, ধানসহ এ পর্যন্ত ধানের ১০৮টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এতে ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • নিবিড় সবজি চাষের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন করে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
    Homestead Gardening Rooftop Gardening এবং ছাদ কৃষি এর মাধ্যমে সবজি, ফল ও মসলা উৎপাদনে শহর এবং মফস্বল এলাকায় বসবাসকারীদের সরকার উৎসাহিত করছে এবং এক্ষেত্রে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
  •  বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে লবণাক্ত সহিষ্ণু ধান, ফলমুল, শাকসবজি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব বৃদ্ধি করা হয়েছে।
  • আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম। দেশে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১২.৮৮ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছে।
  • মসলা জাতীয় ফসল চাষ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
পাটের জীবনরহস্য উম্মোচনকারী বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা, ২৪ জুন ২০১০

 

  • Floriculture একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষে উৎসাহ প্রদান করছে এবং ফুল চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
  • কৃষি পণ্য রফতানি থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬ শত ৭৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে এবং এ সময়ে ৭৭.৯৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন সবজি, ২ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন ফল এবং ৬৭ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়।
  • ২০০৯ হতে বিভিন্ন ফসলের ৫৮৪টি উচ্চফলনশীল নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে এবং ৪৪২টি উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছর হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত বিআরআরআই কর্তৃক ধানের ৩৫টি জাত, বিএআরআই কর্তৃক বিভিন্ন ফসলের ১৭০টি জাত, বিজেআরআই কর্তৃক পাটের ১টি জাত, বিএসআরআই কর্তৃক ইক্ষুর ৮টি জাত ও সুগার বীটের ৪টি জাত, সিডিবি কর্তৃক তুলার ৭টি জাত এবং বিআইএনএ কর্তৃক বিভিন্ন ফসলের ৫৫টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। জিএমও প্রযুক্তি ব্যবহার বিটি বেগুনের ৪টি জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং বিটি তুলার জাত উদ্ভাবনের কাজ চলমান রয়েছে।
  • দেশী ও তোষা পাটের জীবনরহস্য আবিষ্কার এবং পাটসহ পাঁচ শতাধিক উদ্ভিদ ফসলের ক্ষতিকর একটি ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৯টি পাট ও পাট জাতীয় আঁশ ফসলের উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও উন্মুক্ত করা হয়েছে।
  • দেশের জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পুষ্টি বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বছরব্যাপী ফল উৎপাদন, প্রাপ্তি ও ব্যবহারের মাধ্যমে পুষ্টি নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • সরকার ২০১৮ সালে গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে গম ও ভূট্টার গবেষণা আরও সম্প্রসারিত হবে। ইতোমধ্যে গবেষণার মাধ্যমে গম ও ভুট্টার নতুন নতুন জাত মাঠে সম্প্রসারিত হয়েছে।
  • দেশের ১৬টি স্থানে ‘বাংলাদেশে সুগার বিট চাষ প্রযুক্তি নামক একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। হেক্টর প্রতি বিভিন্ন জাতের সুগার বিটের উৎপাদন ৮৮ থেকে ১৩৩ টন।
  • ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ধান, গম, পাট, ভূট্টা, আলু, সবজি, তৈল ও মসলাসহ বিভিন্ন ফসলের গুণগত মানসম্মত বীজ সরবরাহের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮ শত ৭৪ মে.টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩ লক্ষ ২৯ হাজার ৯ শত ২২ মে.টন।
  • দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় মানসম্মত বীজের ঘাটতি মোকাবিলায় পটুয়াখালীর দশমিনায় বীজ বর্ধন খামার ও নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ডাল ও তেল বীজ বর্ধন খামার এবং বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
  •  ডাল, তেল ও মসলা জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ডাল, তেল ও মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন সম্প্রসারণে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভূট্টাসহ ২৪টি ফসলের চাষ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষক ভাইদের ৪% সুদে ঋণ প্রদান করছে।
  •  সারাদেশে নারিকেল, তাল ও খেজুর চাষ বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান। ইতোমধ্যে ৭ লাখ খাটো জাতের নারিকেলের চারা, ৩০ লাখ তালের চারা এবং ১০ হাজার খেজুরের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অপ্রচলিত ও বিদেশি ফল চাষে উৎসাহ প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
  • ফসলের উৎপাদন খরচ হ্রাস করার লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার কৃষিবান্ধব সরকার। সারের মূল্য ৪ লক্ষা কমিয়ে বর্তমানে প্রতিকেজি টিএসপি ৮০ টাকা থেকে কমিয়ে ২২ টাকা, এমওপি ৭০ টাকা থেকে ১৫ টাকা, ডিএপি ৯০ টাকা থেকে ২৫ টাকায় নির্ধারণ করেছে।
  • কৃষকের মৃত্তিকা নমুনা সরেজমিনে পরীক্ষা করে ফলাফলের ভিত্তিতে সুষম মাত্রার সার সুপারিশ করার লক্ষ্যে ১০টি ভ্রাম্যমান মৃত্তিকা পরীক্ষাগার চালু করা হয়েছে। এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিক ফলাফলের ভিত্তিতে সুষম সার ব্যবহারের জন্য। সুপারিশ করছে।
  • কৃষি এবং কৃষি ভিত্তিক সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ই-কৃষি সেবার উন্নয়ন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য Online Fertilizer Recommendation Software, Bangladesh Rice Knowledge Bank ইত্যাদি।
  • সঠিক শস্যবিন্যাস অনুসরণের লক্ষ্যে জলবায়ু ও মৃত্তিকা উপযোগিতা অনুযায়ী ১৭টি ক্রপ জোনিং ম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে।
  • আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর রাবারড্যাম চালুর ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ৫ শত হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।।
  • সেচের পানির উৎস বৃদ্ধিকল্পে ভূপরিস্থ পানি (বৃষ্টি ও বন্যার পানি) সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য খাল-নালা, পাহাড়ী ছড়া ইত্যাদি পুনঃখনন /সংস্কার। ৭ হাজার ১শত ২৪ কিলোমিটার খাল-নালা পুনঃখননের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৪ হাজার ৪ শত ৭৫ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা হয়েছে।
  • ২ হাজার ৮শত ১৮ কিলোমিটার ভূ-উপরিস্থ পাকা সেচ নালা এবং ৮ হাজার ৪শত ৪৬ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ (বারিড পাইপ) সেচনালা নির্মাণ করা হয়েছে।
  • সেচ কাজে ভূ-উপরিস্থ পানি সম্পদের প্রাপ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলার নদী সংলগ্ন এলাকায় সেচ উপযোগী রাবার ড্যাম এবং হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণাধীন রয়েছে।
  • ৩০টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প এবং ৪৫০টি আর্টিজান নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। • ভূগর্ভস্থ পানির লক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে গ্রাউন্ড ওয়াটার জোনিং ম্যাপ প্রবর্তন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে সেচ কাজে নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌরশক্তি) ব্যবহার উৎসাহিত করা হচ্ছে। সেচের আওতাধীন এলাকা সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সেচকৃত জমির আয়তন ছিল ৬৬.১০ লাখ হেক্টর।
  •  ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো, পুনর্ভরণ (Recharge) এবং ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ পরিচালনায় নব উদ্ভাবিত সৌরবিদ্যুৎ চালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুপেয় পানির ব্যবস্থাকরণ এবং সেচ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত ১৭২ টি পাতকুয়ার (Dugwell) স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য হওয়ায় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও নরসিংদী জেলায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি ঠাও করে ১৯ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা হয়েছে।
  • ৫ হাজার ৮ শত ২৫ টি বিভিন্ন ক্যাপাসিটির শক্তিচালিত পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
  • পার্বত্য এলাকায় ৫০ টি ঝিরিবাঁধ নির্মাণের ফলে ৬ শত ২৫ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এসেছে।
  • ২ হাজার ৪ শত ৫৮ টি স্মার্ট কার্ড প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।
  • ২০২১ সালের ভিশন ৬ দশমিক ৩০ লক্ষ হেক্টর সেচ এলাকা টেকসই করা। সেচকাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারকে অগ্রাধিকার প্রদান, সেচ দক্ষতা ৩৫% থেকে ৫০% এ উন্নীতকরণ, ধানের ফলন পার্থক্য ৩ টন/হেক্টর থেকে ১ টন/হেক্টরে কমানো।
  • বর্তমান সরকার Vield Cap এবং Post harvest loss কমিয়ে আনার উপর বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এতে গড়ে খাদ্যশস্য উৎপাদন এবং সংরক্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
    ২৮ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি আলুবীজ হিমাগার নির্মাণ এবং ৪টি টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।
  • কৃষি যান্ত্রিকীকরণ রোড ম্যাপ ২০২১, ২০৩১ ও ২০৪১ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল প্রণীত ভিশন ডকুমেন্ট ২০৩০ অনুসরণে গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • কৃষি যান্ত্রিকীরণের ক্ষেত্রে দেশের হাওড় ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার কৃষকের জন্য ৭০% এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৫০% হারে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সরকার আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এ পর্যন্ত ২২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
  • ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২০ হাজার ৯ শত ৯৮ দশমিক ৭০ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ১৪ হাজার ৫ শত ২০ দশমিক ৪২ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করা হয়েছে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত)। ১৮.৪৭ লক্ষ নারী কৃষক ও উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রায় ৬২৪০.৬৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
  • বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাংকগুলো কৃষি ও পল্লীর ঋণ কর্মসূচির আওতায় ঋণ প্রদান করছে।
  • আমদানিকৃত বীজের রোগবালাই পরীক্ষার জন্য Post Entry Quarantine Centre স্থাপন করা হয়েছে। উন্নত জাতের চারা-কলম তৈরির জন্য টিস্যু কালচার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
  •  ডিজিটাল কৃষি তথা ‘ই-কৃষি’র প্রবর্তন করা হয়েছে। দেশে মোট ৪৯৯টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি), কৃষি কল সেন্টার- ১৬১২৩, কৃষি কমিউনিটি রেডিও, কৃষি তথ্য বাতায়ন, কৃষক বন্ধু ফোন- ৩৩৩১, ই-বুক, অনলাইন সার সুপারিশ, ই-সেচ সেবা, রাইস নলেজ ব্যাংক, কৃষি প্রযুক্তি ভাণ্ডার, ই-বালাইনাশক প্রেসক্রিপশন, কৃষকের জানালা, কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা, ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ও সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে।
  • ডিজিটাল কৃষি বাস্তবায়নে কৃষি তথ্যসেবা ও কমিউনিটি রেডিও কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য কমিউনিটি রুলার রেডিও স্থাপন করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায় ৪ শত ৯৯ টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রে মাধ্যমে কৃষি সম্পর্কিত সময়োপযোগী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
  • ২০০৮-০৯ হতে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত ৩৯ দশমিক ৬ লাখ কপি কৃষি কথা, ১ কোটি ৫ লাখ কপি সম্প্রসারণ বার্তা, ৩৫ দশমিক ৮২ লাখ কপি পোস্টার/ বুকলেট/লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। ১২৪ টি ফিল্ম/ফিলার/ ডক্যুমেন্টারি তৈরী, ৭ হাজার ৪ শত ২০টি প্রদর্শনী করা হয়েছে।
  • সামুদ্রিক শৈবাল চাষাবাদ বাংলাদেশে এটি নতুন সূচনা। বিএআরসি এ বিষয়ে Adaptive Trials on Seaweed Project এর মাধ্যমে সামুদ্রিক শৈবালের ৭টি প্রজাতি নার্সারিতে সাফল্যজনকভাবে চাষ করতে সক্ষম হয়েছে।
  • বর্তমান সরকার ১৯৯৯ সালে কৃষিনীতি প্রণয়ন করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সময়োপযোগী কৃষিনীতি প্রণয়ন করে। ২০১৮ সালে পুনরায় সময়োপযোগী করে কৃষিনীতি ২০১৮ প্রণয়ন করে। এছাড়া ক্ষুদ্রসেচ নীতিমালা, জৈব কৃষিনীতি, কৃষি উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যকরী ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করেছে।
  •  স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ ফল ও সবজির উৎপাদনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কৃষিখাতে বায়োটেকনোলজি, পার্চিং, ফেরোমন ফাঁদ, IPM, ICM, Good Agriculture Practice (GAP) ইত্যাদি ব্যবহার করে যথাসম্ভব বালাইনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পরিবর্তিত জলবায়ুতে চাষের উপযোগী জাত উদ্ভাবন, বায়োফটিফিকেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানসমৃদ্ধ শস্য উৎপাদন এবং উদ্ভিদ রোগ প্রতিরোধ ও ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ পাটের জিনোম সিকোয়েন্স করতে এরই মধ্যে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ এখন টেকসই খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
  • ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ সরকারের একটি মহৎ পরিকল্পনাই নয় এটি অর্থনৈতিক মুক্তির চ্যালেঞ্জের ভিশন। ভিশন 2021, 20৪১ ও ডেল্টাপ্লান ২১০০ বাস্তবায়নে বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ২০২১, ২০৪১ ও ভেস্টাপ্লান ২১০০ বাস্তবায়ন হলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে বাস্তবরূপ ধারণ করবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

  • মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাপূরণে ব্যবস্থাগ্রহণ।
  • বিগত ৯ বছরে মাছের উৎপাদন ২৭.০১ লাখ মেঃ টন থেকে বেড়ে ৪১.৩৪ লাখ মেঃ টন উন্নীত, যা ২০১৬-১৭ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪০.৫০ লক্ষ মেট্রিক টনের চেয়ে ৮৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি। ২০১৭-১৮ সালে ৪২৭৭ লক্ষ মে.টন মাছ উৎপাদন হবে বলে আশা করা যায়।
  • মাংসের উৎপাদন ১০.৮০ লাখ মেঃ টন থেকে বেড়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭১.৬০ লাখ মেঃ টনে উন্নীত, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৭২.৬০ লাখ মে. টন হয়েছে। • দুধের উৎপাদন ২২৯ লাখ মেঃ টন থেকে বেড়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯২.৯ লাখ মেঃ টন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯৪.০৬ লাখ মেঃ টনে উন্নীত।
  • ডিমের উৎপাদন ৪৬৯.৬১ কোটি থেকে বেড়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৫৫২ কোটিতে উন্নীত।
  •  বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭-এর তথ্য মতে, এদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’র ৩.৬১ শতাংশ এবং মোট কৃষিজ আয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মৎস্য খাত
  • কৃষিজ জিডিপিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১৬.০১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৬.৩১ শতাংশে উন্নীত।
  • মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ ১৬৪.০১ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭১২.০১ কোটি টাকায় উন্নীত।
  • মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩১ শতাংশ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৬১ শতাংশ মানুষ জড়িত জনসংখ্যার প্রায় ২০% প্রত্যক্ষ এবং ৪৫% পরোক্ষভাবে প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর এবং ১১ শতাংশের অধিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্যখাতে নির্ভরশীল।
  •  ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮.৩০৫.৬৮ মে.টন মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি করে ৪২৮৭.৬৪ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল 3283.81 কোটি টাকা।

মৎস্য উৎপাদন (লক্ষ মেট্রিক টন)

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

  • মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে রপ্তানি আয় ৩,৩৯৬.২৮ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৩৫৩,৩৬ কোটি টাকায় উন্নীত।
  • রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য ইতোমধ্যে মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে।
  • মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যরপ্তানির ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অর্জন। ফলে বর্তমানে কোনপ্রকার পরীক্ষা ছাড়াই ইউরোপে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে।
  • ঐতিহাসিক সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার জলসীমায় আইনগত একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠা। ফলে সৃষ্ট ব্লু-ইকোনমির বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে গবেষণা ও জরিপ জাহাজ ক্রয় এবং সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের জরিপ কার্যক্রম শুরু।
  • গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মত লং লাইনার ও পার্সসেইনিয়ার প্রকৃতির মৎস্য আহরণ কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১৫ উপলক্ষে গণভবন থেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা, ২৯ জুলাই ২০১৫

 

  • সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের গণমুখী কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ইলিশ উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
  • সরকারের বাস্তবধর্মী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ ইলিশ ভৌগলিক পণ্যের নিবন্ধন সনদ অর্জন।
  • দৈনিক মাথাপিছু মাছের প্রাপ্যতা ৪৮ গ্রাম থেকে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় স্থিরকৃত দৈনিক চাহিদা ৬০ গ্রাম এ উন্নীত।
  • দৈনিক মাথাপিছু মাংসের প্রাপ্যতা ২০ গ্রাম থেকে ৭ম পঞ্চমবার্ষিকী পরিকল্পনায় স্থিরকৃত দৈনিক চাহিদা ১২০ গ্রাম এ উন্নীত।
  • দুধ এবং ডিমের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সাধিত হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে দুধের মাথাপিছু প্রাপাতা ৪৩.৪৩ মি.লি./দিন/জন থেকে বেড়ে ১৫৮.১৯ মিলি/দিন/জন-এ উন্নীত হয়েছে।
  • ইতোমধ্যে ১০টি আইন ও ৬টি বিধিমালা নতুনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে। ৯ বছরে ৮৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত ।
  • ইলিশের উৎপাদন ২.৯৮ লক্ষ মে.টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫.০০ লক্ষ মে. টনে উন্নীত। ২০১৫-১৬ বছরে ইলিশের উৎপাদন হয়েছে ৩.৯৫ লক্ষ মে. টন।
  • ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় জাটকা সমৃদ্ধ ১৭ জেলার ৮৫টি উপজেলায় জাটকা আহরণে বিরত থাকতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩জন জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় মোট ৩৮,১৮৭.৬৮ মে. টন চাল প্রদান করা হয়েছে।
  • ২০০৮-০৯ সালের পূর্বে ৭ বছরে জেলেদের সহায়তা কর্মসূচিতে খাদ্যশস্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬,৯০৬ মে. টন। বিগত ৯ বছরে ২০১৬-১৭ সাল পর্যন্ত এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫৪৫ মেট্রিক টন।
  • বিভিন্ন নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে ৫৩৪টি মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন।
  • বর্তমান সরকারের আমলে প্রকৃত জেলেদের সনাক্ত করে নিবন্ধকরণ ও পরিচয়পত্র প্রদানের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত একটি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে জুন ২০১৭ পর্যন্ত ১৬ লক্ষ ২০ হাজার মৎস্যজীবী জেলেদের নিবন্ধন ও ডাটাবেইজ প্রস্তুত এবং ১৪ লক্ষ ২০ হাজার জেলের পরিচয়পত্র বিতরণ সম্পন্ন।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগে (ঝড়, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস) এবং জলদস্যুর আক্রমণ, বাঘের থাবা, কুমির ও সাপের কামড়ের কারণে মৃত্যুবরণকারী ৫৮৭টি জেলে পরিবারকে মোট ২৮৯ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা অনুদানের অর্থপ্রদান।
  • বঙ্গোপসাগরে নতুন নতুন মৎস্য আহরণক্ষেত্র চিহ্নিত করে তলদেশীয় ও ভাসমান মৎস্য আহরণের লক্ষ্যে মৎস্য গবেষণা ও জরিপ জাহাজ “আর. ভি. মীন সন্ধানী” ক্রয়। “আর ভি. মীন সন্ধানী” দ্বারা বঙ্গোপসাগরে ১৭৬ প্রজাতির মৎস্য, ১৩ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪টি অন্যান্য প্রজাতির ক্রাস্টাসিয়ান ও মোলাস্ক চিহ্নিত
  • গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ৪টি লং লাইনার প্রকৃতির ফিশিং ট্রলারের লাইসেন্স প্রদান ।
    Indian Ocean Tuna Commission (IOTC)-এর সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে Cooperating Non- Contracting Party-র মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এসব কার্যক্রমের ফলে টুনামাছসহ অন্যান্য পেলাজিক মাছ আহরণ বাড়বে এবং মৎস্য রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।
  • উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাচূর্য সমৃদ্ধকরণ এবং প্রজাতি-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্তি কার্যক্রম ও বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিগত তিনবছরে উন্মুক্ত জলাশয়ে মোট ২৭৩৬ মে.টন পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে এবং স্থাপিত বিল নার্সারির সংখ্যা ২৩৪৯টি।
  • ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতের আওতায় দেশব্যাপী প্রায় ৫৫৮:৩৫ মে.টন পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে এবং ১২৫১টি বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে প্রায় ১০৪৩ লক্ষ পোনা উৎপাদিত হয়েছে। এতে মাছের উৎপাদনবৃত্তির পাশাপাশি অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিরও পুনরাবির্ভাব ঘটেছে।
  • এ কার্যক্রম পরিচালনার ফলে দেশের উন্মুক্ত জলাশয়ে বার্ষিক প্রায় দুই হাজার মে.টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদন।
  • ২০১০ সালে হালদা নদীর উজানে ফটিকছড়ি অংশের নাজিরহাট ব্রিজ থেকে নদীর ভাটির অংশে হালকা- কর্ণফুলির সংযোগস্থলসহ কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত যার ৪০ কিমি মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে।
  • ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে হালদা নদী থেকে মোট ৩ হাজার ৩২৫ কেজি কৌলিতাত্ত্বিক বিশুদ্ধ মানের রেণু সংগ্রহ করা হয়েছে, বার্ষিক গড় উৎপাদন প্রায় ৪৭৫ কেজি।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
বাংলাদেশকে দুধে স্বয়ং-সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক কৃষকদের মধ্যে স্বল্পসুদে ২০০ কোটি টাকা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি ২০১৬

 

  • হালদার তীরবর্তী অঞ্চলে ৬টি আধুনিক মৎস্য হ্যাচারি স্থাপন করা হয়েছে। ডিম আহরণকারীরা এসব হ্যাচারি থেকে উন্নত পদ্ধতিতে ডিম পরিস্ফুটন করে অক্সিজেন সহযোগে দেশের দূর-দূরান্তে সরবরাহ করে থাকে। ফলে মাছের রেণু পোনা মারা যাবার হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। • ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ৩টি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মৎস্য মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার স্থাপন।
  • প্রায় ২ লক্ষ ৭ হাজার চিংড়ি খামার এবং ৯ হাজার ৬২৪টি বাণিজ্যিক মৎস্য খামারের রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন।
  • ই-টেসিবিলিটি পাইলটিং করা হচ্ছে। এনআরসিপি ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে।
  • ১৯টি পুরাতন গলদা হ্যাচারি সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং ৬টি নতুন গলদা হ্যাচারি নির্মাণ।
  • গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ জেলায় তিনটি মৎস্য ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট স্থাপন।
  • বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রার্জনকারী চিংড়িসম্পদের উন্নয়নে ২০১১ সালে বাগেরহাট জেলায় চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। • গিফট তেলাপিয়ার চারটি জেনারেশন, কৈ মাছের ৩টি ও পাঙ্গাস মাছের ১টি জেনারেশন তৈরি।
  • কুচিয়ামাছ অত্যন্ত পুষ্টি সমৃদ্ধ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন। কুচিয়া রপ্তানি করে ১৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত। কুচিয়ার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ইনস্টিটিউট একটি গবেষণা ও সম্প্রসারণধর্মী উন্নয়ন। কুচিয়ার পোনা উৎপাদন। ইনস্টিটিউটের লোনাপানি কেন্দ্র, পাইকগাছা এবং সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, কক্সবাজারে গবেষণাগার কাম হ্যাচারি স্থাপন।
  • চট্টগ্রাম কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণ তীরে চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরে মাল্টি চ্যানেল দুই-চ্যানেল বিশিষ্ট স্লিপওয়ে স্থাপনের কাজ চলমান।
  • হাওর-বাওর হতে আহরিত মাছ সংরক্ষণ, বিতরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থানার জন্য হাওর অঞ্চলে মৎস্য অবতরণকেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলায়, নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় এবং সুনামগঞ্জ জেলার ওয়েজধানী ঘাটে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
  • ট্রান্সবাউন্ডারী রোগপ্রতিরোধের জন্য দেশের বিমান, স্থল ও সমুদ্র বন্দরে ২৪টি কোয়ারেন্টাইন স্টেশন স্থাপন।
  • ৬৩টি উপজেলায় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
  • প্রাণিসম্পদ লালনপালন, চিকিৎসা সেবাসহ যেকোন ধরনের সমস্যার জন্য যেকোন মোবাইল হতে ১৬৩৫৮ নম্বরে বিনামূল্যে এস এম এস এর মাধ্যমে পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়

  • দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা ২০২১ সালের মধ্যে ৩০ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
  • বর্তমানে দেশে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা প্রায় ২১.১৮ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত। বর্তমানে আরও ৬.৪০ লক্ষ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার আধুনিক খাদ্য গুদাম/সাইলো নির্মাণের লক্ষ্যে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
  •  বিদ্যমান জরাজীর্ণ খাদ্যগুদামের কার্যকর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে ৯৪ হাজার মে.টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্য গুদাম মেরামত করা হয়।
  • দেশের উত্তরাঞ্চলে ১.১০ লক্ষ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্যগুদাম নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলে মোট ১৪০টি গুদামসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
কুড়িগ্রামে প্রতি কেজি দশ টাকা দামে চাল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কড়িগ্রাম, ৭ সেপ্টেম্বর 2017

 

  • সারাদেশে ১০০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষম ৭০ টি গুদাম এবং ৫০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষম ১৩০টি গুদাম নির্মাণ।
  • হালিশহর সিএসডি ক্যাম্পাসে ০.৮৪ লক্ষ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের অধীন ১০০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষম ৭৭টি কলাম এবং ৫০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষম ১৪টি গুদাম নির্মাণ করা হয়।
  • পোস্তগোলায় সরকারিভাবে দৈনিক ২০০ মেট্রিক টন ক্রাশিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১টি ময়দা মিল নির্মাণ। এছাড়া ১০,০০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ১টি সাইলোসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ। ২০১৫ সাল হতে ময়দা মিলের অপারেশন কার্যক্রম চলছে।
  • মংলা বন্দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন কনক্রিট গ্রেইন সাইলো, আনলোডার, সাইলো জেটি নির্মাণ, সাইলো ভবনসহ বিভিন্ন ধরনের কনভেয়িং সিস্টেম ও ওজন যন্ত্র স্থাপন। ২০১৬ সাল হতে সাইলোর অপারেশন কার্যক্রম চলছে।
  • বগুড়া জেলার সান্তাহার সাইলো ক্যাম্পাসে বহুতল গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। সোলার প্লান্টসহ ২৫,০০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার মাল্টিস্টোরিড ওয়্যারহাউজ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত। সোলার প্লান্টসহ মাল্টিস্টোরিড ওয়্যারহাউজের কার্যক্রম চলছে।
  • দেশের ৮টি কৌশলগত স্থানে (চট্টগাম, আগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মধুপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল এবং মহেশ্বরপাশা) মোট ৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫ শত মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার ৮টি আধুনিক স্টীল সাইলো নির্মাণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
  • সারাদেশে ১:০৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প চলমান রয়েছে।
  •  নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি।
    ওএমএস খাতে চালের সাথে আটা সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রয় প্রচলন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৭ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ২.৩০ লাখ মেট্রিক টন আটা বিক্রি। এই বিক্রি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
  •  ভিজিডি, ভিজিএফ, জিআর ইত্যাদি খাতে ২০১৬-১৭ অর্থ-বছরে ৮.৩৭ মেট্রিক টন পরিমাণ খাদ্যশস্য সরবরাহ।
  • সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার হতে বছরে গড়ে ১৩-১৪ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করছে। সরাসরি কৃষকদের । নিকট হতে ধান ক্রয় এবং ২০১৬ সালে ৭ লাখ মেট্রিক টন ধান ক্রয়। ৮৫ কেজির স্থলে শ্রমবান্ধব ৩০ ও ৫০ কেজির বস্তা ব্যবহার।
  • ভিজিডি খাতে পুষ্টি চাল বিতরণ; হাওর এলাকায় ১০০ দিন কর্মসূচিতে ১০ টাকা মূল্যে চাল বিতরণ ও ওএমএস কার্যক্রম গ্রহণ।
  • নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুমোদিত। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়। দেশের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক।
  • নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস’ ঘোষণা।
  • ২০১৫ সালে শ্রীলংকায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি। ২০১৬ সালে নেপালে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল সাহায্য হিসেবে প্রেরণ।
  • ২০১৬ সাল হতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৫০ লক্ষ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে প্রতি মাসে পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে প্রতি বছর ৫ মাস (সেপ্টেম্বর, নভেম্বর ও মার্চ-এপ্রিল) চাল ১০ টাকা কেজিতে বিতরণের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৬.৮৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ।
  • কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা (Bangladesh Country Invest Plan BCIP) ২০১১ প্রণীত হয়েছে।
  • নিরাপদ খাদ্য (রাসায়নিক দূষক, টক্সিন ও ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ) প্রবিধানমালা ২০১৭, নিরাপদ খাদ্য (নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা এবং বিশ্লেষণ) প্রবিধানমালা ২০১৭, নিরাপদ খাদ্য (খাদ্যে সংযোজন দ্রব্য ব্যবহার) প্রবিধানমালা ২০১৭ এবং নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা ২০১৭।
  • নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ৫ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন। নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নের জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই এক দশক ছিল বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কৃষি উপকরণের মূল্য হ্রাস, ২ কোটিরও বেশি কৃষককে সহায়তা কার্ড প্রদান এবং মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন থেকে শুরু করে সবজি ও মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।

পাটের জিনোম সিকুয়েন্স আবিষ্কার এবং লবণাক্ততা-সহিষ্ণু নতুন নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন প্রমাণ করে যে, আমাদের কৃষিব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণ বিজ্ঞাননির্ভর। পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে অভাবনীয় সাফল্য এবং ৫০ লক্ষ হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ বা ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের মাধ্যমে সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করেছে। সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা ২১ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীতকরণ এবং আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের উদ্যোগসমূহ ভবিষ্যতের যেকোনো খাদ্য সংকট মোকাবিলায় দেশকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে। গত ১০ বছরের এই সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কেবল কৃষকের মুখে হাসি ফোটায়নি, বরং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজন্ম লালিত স্বপ্ন—ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এক আধুনিক ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণের পথকে প্রশস্থ করেছে।