একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড নির্ধারিত হয় তার সেবা খাতের উৎকর্ষের ওপর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবনের লালিত স্বপ্ন ছিল একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত এবং সেবামুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গত এক দশকে বাংলাদেশের সেবা খাত, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পুষ্টি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
এই ১০ বছরে বাংলাদেশ কেবল গড় আয়ু বৃদ্ধিতেই সফল হয়নি, বরং শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসে বিশ্বজুড়ে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে চালু হওয়া ১৩ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক আজ বিশ্ব দরবারে ‘উত্তম চর্চা’ (Best Practice) হিসেবে স্বীকৃত। স্বাস্থ্য খাতে তথ্যপ্রযুক্তির সফল প্রয়োগের জন্য বাংলাদেশ লাভ করেছে জাতিসংঘের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। শুধু স্বাস্থ্যই নয়, ঔষধ শিল্পে অভাবনীয় সাফল্যের ফলে বাংলাদেশ আজ ঔষধ আমদানিকারক দেশ থেকে বিশ্বের ১৪৫টি দেশে ঔষধ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।
একই সাথে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ প্রণয়ন, গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুসংহত করা হয়েছে। অটিজম সচেতনতা থেকে শুরু করে রোহিঙ্গাদের মানবিক চিকিৎসাসেবা প্রদান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ মানবিকতা ও সক্ষমতার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ১০ বছরের এই উন্নয়ন অভিযাত্রা কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক সমৃদ্ধি নয়, বরং এটি একটি জাতির আত্মনির্ভরশীল ও ডিজিটাল সেবামুখী হয়ে ওঠার মহাকাব্য। নিচের প্রতিবেদনটিতে সেবা খাতের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হলো।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “বাংলাদেশের সেবা খাত” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
- গড় আয়ু ৭২.৮ বছর। নারীর ৭৩ এবং পুরুষের ৭০।
- পাঁচ বছরের বয়সী শিশু মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ৩৪.২ জন। গত ১০ বছরে ৭৪ ভাগ কমেছে।
- নবজাতক মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ১৯ জন।
- প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণের হার ৬৪%। আমরা একে শতভাগে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।
- মাতৃমৃত্যু হার প্রতি লাখে ১৬৮.৫ (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের জরিপ)।
- ১৬২৬৩ নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রদান চালু হয়েছে। এই সেবার মাধ্যমে দেশের যেকোন প্রাস্তে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পাওয়া যাচ্ছে।
- যেকোন ব্যক্তি এই নম্বরে ফোন করে তার প্রয়োজনীয় তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। ২০১৭ সালে ১০ লক্ষ ৪৩ হাজার ব্যক্তি ফোন করে সেবা নিয়েছেন। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের মাধ্যমে ৮৬ হাজার প্রেসক্রিপশন প্রদান করা হয়েছে।
- সারা দেশে ১৩.৪৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়েছে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭%-এ হ্রাস, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৬৩.৭%-এ উন্নীত, মোট প্রজনন হার বা মহিলা প্রতি গড় সন্তান জন্মদানের হার ২.৩-এ হ্রাস পেয়েছে।
- কয়েক দফায় গত ১০ বছরে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় ৫শত অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়েছে। দেশের সকল স্থানে গর্ভবর্তী মায়েদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিনামূল্যে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৪৫টি দেশে বাংলাদেশের ঔষধ রপ্তানী হচ্ছে।
- শুধুমাত্র ২০১৭ সালে ৩ হাজার ১৯৬ কোটি ১২ লক্ষ টাকার ঔষধ রপ্তানি হয়েছে।
- সরকার ২০০৯-২০১৮ মেয়াদে মোট ১৮.৬৬৫ জন চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। ২০১৮ সালে ৫ হাজার নিয়োগ। ২০১৭ সালে ৩৫তম বিসিএস-এ নিয়োগ পেয়েছে ৪৪২ জন চিকিৎসক। ২০১৬ সালে নিয়োগ পেয়েছে ২২০ চিকিৎসক। দেশের ইতিহাসে ইতিপূর্বে একত্রে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৬,৩২৩ জন চিকিৎসক যোগদেন ২০১৪ সালে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৬ সালে পিএসসি’র মাধ্যমে ৯ হাজার ৪৭৮ জন নার্স নিয়োগ হয়েছে। ২০১৮ সালে ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র স্টাফ নার্সদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২য় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
- গত নয় বছরে চিকিৎসক, নার্স, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির শূণ্য পদে মোট ৪১ হাজার ৩২৪ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
- ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির শুন্যপদে আরও ৪০ হাজার জনবল নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস কার্যক্রম
- ৪২৫ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ বেসিক জরুরি প্রসূতি সেবাকার্যক্রম চালু আছে। ১৩২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫৯টি জেলা হাসপাতাল ও ২৭টি সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সমন্বিত জরুরী প্রসূতি সেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবর্তী মায়েদের প্রসূতি সেবাসহ যেকোন জটিলতার সেবা প্রদান নিশ্চিতকল্পে ৬৭১ জন চিকিৎসককে অবস-মাইনী এবং এ্যানেসথেসিয়া বিষয়ে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
- হতদরিদ্র গর্ভবর্তী মায়েদের নিরাপদ প্রসব সেবা নিশ্চিত কল্পে মাতৃস্বাস্থ্য ডিম্যান্ড সাইড ভাউচার স্কীম (ডিএসএফ) কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে ৫৫টি উপজেলায় উন্নীত করা হয়েছে। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ১০৩-এ উন্নীত হবে। ২০০৯-২০১৭ সময়কালে ১০ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫৭৫ জন দরিদ্র গর্ভবর্তী মা এর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন।
- তৃণমূল পর্যায়ে গর্ভবর্তী মায়েদের প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করার জন্য ১২,৪৮০ জন নারীকে কমিউনিটি স্কিলড বার্থ অ্যাটেনডেন্ট (সিএসবিএ) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থিত স্বাস্থ্য কেন্দ্র/স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসমূহে গর্ভবর্তী মায়েদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবা এবং প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করার জন্য সিনিয়র স্টাফ নার্সদের ৬ মাসের মিডওয়াইফারী প্রশিক্ষণ এবং ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা মিডওয়াইফারী কোর্স চালু করা হয়েছে। ১,২০০ জন মিডওয়াইফকে কোর্স সমাপ্তি শেষে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পদায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ৬৬০ জন পদায়নের অপেক্ষায় আছে।
শিশু মৃত্যু হার হ্রাস এবং টিকাদান কর্মসূচি - ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০১৫ সালের মধ্যে অনুর্ধ্ব ৫ শিশু মৃত্যুর হার শতকরা ৭৪ ভাগ কমেছে। এমডিজি ২০১৫ লক্ষ্যমাত্রা ছিল শতকরা ৬৬ ভাগ কমানো । জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী অনুর্ধ্ব ৫ শিশুমৃত্যুর হার এখন প্রতি হাজার জীবিত জন্মে ৩৪.২ এবং নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতিহার জীবিত জন্মে ১৯। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই হারকে যথাক্রমে ২৫ এবং ১২-তে নামিয়ে আনতে হবে।
- সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-তে এখন ১১টি টিকা অন্তর্ভুক্ত আছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের সর্ববৃহৎ হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ৯ কোটি ৩০ লক্ষ শিশুকে এসময় টিকা দেওয়া হয়।
- জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধে ইপিআই কর্মসূচীতে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভেকসিন। সংযোজনের জন্য গাজিপুরে এপ্রিল ২০১৬-তে সূচিত ডেমোনেস্ট্রশন কর্মসূচি সফলভাবে ২০১৭ সালের শেষভাগে সম্পন্ন হয়েছে।
- জাপানীজ এনকেফালাইটিস রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সারাদেশে সার্ভেলেন্স কার্যক্রম শুরুর জন্য জন ২০১৭-তে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- টিকাবীজের গুণগত মান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে মানসম্পন্ন টিকা প্রদান করার জন্য ১৫টি জেলায় ইপিআই স্টোর নির্মাণ করা হয়।
- সকল উপজেলায় ইনটিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অফ চাইল্ডহুড ইলনেস (আইএমসিআই) কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ৪৮৭টি উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে আইএমসিআই ও পুষ্টি কর্ণারের মাধ্যমে ৫ বৎসরের কম বয়সী অসুস্থ শিশুদের মানসম্মত সেবা প্রদানকরা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের যথাযথ চিকিৎসার লক্ষ্যে ইনডোর ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন শীর্ষক পকেট বই রয়েছে।
- জাতীয় নবজাতক কৌশলপত্রের আলোকে ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৩৫টি জেলা হাসপাতালে মারাত্মক অসুস্থ নবজাতক ও ছোট শিশুদের চিকিৎসার জন্য স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট (SCANU) ও ৬১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিউবর্ন স্ট্যাবলাইজিং ইউনিট (NSU) রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকলজেলা হাসপাতালে স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ণ ইউনিট তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নবজাতকের নাভির সংক্রমণ রোধকল্পে নবজাতকের নাড়ি কাটার পর ৭.১% ক্লোরো হেক্সিডিন ব্যবহার কার্যক্রম চলছে।
কমিউনিটি ক্লিনিক
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ভাবনী উদ্যোগের মোট ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বর্তমানে ১৩.৪৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। এ বছর ১২ কোটিরও অধিক রোগী সেবা নেয়েছেন। গড়ে প্রতিদিন ৩৮ জন রোগী ক্লিনিকে যাচ্ছেন। আজ পর্যন্ত গত ৯ বছরে ৬৩ কোটি ৪০ লক্ষ ৫০ হাজার বার বিভিন্ন জন স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। যাদের ৮০ শতাংশ নারী ও শিশু। ১ হাজার ১০০ কমিউনিটি ক্লিনিকে নিরাপদ প্রসব হচ্ছে। এ সংখ্যা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৭ রকমের ঔষধ দেওয়া হয়।
- প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে ল্যাপটপ কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ আছে। এর মাধ্যমে তারা ডিএইচআইএস ২ সফটওয়ারের মাধ্যমে অনলাইনে হালনাগাদ স্বাস্থ্য তথ্য প্রদান করে। এত ব্যাপক সংখ্যক স্বাস্থ্য স্থাপনায় সফটওয়্যারটি ব্যবহৃত হয় বলেই বাংলাদেশ বিশ্বের সবোর্ত্তম ও সর্ববৃহৎ ডিএইচআইএস 2 (DHIS2) সফটওয়্যার ব্যবহারকারী দেশের মর্যাদা পেয়েছে।
- ২০১৪ সালে জার্মানী সরকার বাংলাদেশের এধরণের তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বের উত্তম চর্চা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে A quiet revolution: strengthening the routine health information system in Bangladesh প্রকাশ করেছে।
- কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনা স্থানীয় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে হয়ে থাকে। পরিচালনার জন্য সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল অংশ নিয়ে কমিউনিটি গ্রুপ নামে ন্যূনতম ৪ জন নারী সদস্যসহ ১৩-১৭ সদস্যের কমিটি আছে। এছাড়াও রয়েছে ১৩-১৭ সদস্য বিশিষ্ট ৩টি সাপোর্ট গ্রুপ।
- কমিউনিটি ক্লিনিক নারীর ক্ষমতায়নের চমৎকার উদাহরণ। সেবাদানকারী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের শতকরা ৫৪ ভাগই নারী। সেবাগ্রহীতাদের শতকরা ৮০ ভাগই নারী ও শিশু। কমিউনিটি গ্রুপ ও কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপের সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশই নারী যাদের মধ্যে কিশোরীও রয়েছে।
- কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্যের কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা ও জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান যেমন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি, ইউনিসেফ, গ্যাভি, ইউএসএআইডি, টার্কি ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি, ডিএফআইডি, বিশ্বব্যাংক, জাপানী মেডিকেল যন্ত্রপাতি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওমরন” কমিউনিটি ক্লিনিককে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করতে এগিয়ে এসেছে। ২২টি বেসরকারী সংস্থার (এনজিও) সাথে কমিউনিটি ক্লিনিকের পার্টনারশীপ চুক্তি রয়েছে।
ভারতের অর্থায়নে হাওড় অঞ্চলে ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন - এমডিজি অর্জনের জন্য শিশু মৃত্যুহার কাঙ্ক্ষিত হারে কমিয়ে আনায় জাতিসংঘ পুরস্কার স্বাস্থ্য উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড ২০১১।
- নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য ২০০৯ সালে এবং ২০১২ সালে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন্স অ্যান্ড ইম্যুনাইজেশন (GAVI) শ্রেষ্ঠ অ্যাওয়ার্ড প্রদান ।
নতুন হাসপাতাল নির্মাণ ও স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ - প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে দেশের ৩৪টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট (ICU) চালু করেছে এবং আরও ৮টি এরকম হাসপাতাল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
- লিভার সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঢাকার মহাখালীতে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল’ এর নির্মান কাজ সমাপ্ত।
- বাংলাদেশ সরকার এবং কোরিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১০০০ বেডের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। ঢাকার উত্তরায় ‘কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রি সরকারি হাসপাতাল’ পুনরায় চালু।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন ৪৩০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এগুলোর মোট শয্যা সংখ্যা ১৮.৭০১।
- উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও রয়েছে ৫৯টি সাধারণ হাসপাতাল (১০, ২০, বা ৩১ শয্যার)। মোট শয্যা সংখ্যা ১,০৭৬।
- আরও রয়েছে ১১টি ট্রমা সেন্টার। প্রতিটিতে ২০টি হিসেবে মোট শয্যা সংখ্যা ২২০।
- ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে ৩,০৮৩টি। এগুলোতে দিবাকালীন বহির্বিভাগীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়।
- ২০১৪ হতে আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত এসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ১২ কোটির বেশী রোগী বহির্বিভাগের সেবা নিয়েছে। জরুরী বিভাগের সেবা নিয়েছে প্রায় ২ কোটি মানুষ। ভর্তিরোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড়কোটি। প্রসব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সেবা নিয়েছে।
- যথাক্রমে প্রায় ৮৬ লক্ষ ও ২৬ লক্ষ নারী। রাজধানীর চানখার পুলে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল নির্মিত ।
- গাজীপুরে চালু হয়েছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল।
- নতুন হাসপাতালগুলোর কয়েকটি হলো- (ক) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স, ঢাকা, (খ) ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে কুর্মিটোলা ৫শ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, (গ) রাজধানীর খিলগাও-এর মুখদায় ৫শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, (খ) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি, তেজগাঁও, ঢাকা, (৫) ঢাকার শ্যামলীর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল (২৫০ শয্যা), (চ) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস, ফকিরহাট, চট্টগ্রাম, (হ) ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়া, ঢাকা, (জ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আধুনিকিকরণ ও সম্প্রসারণ, ঢাকা, (ঝ) ইএনটি হেড নেক ক্যান্সার হাসপাতাল, ঢাকা, (এ) খুলনার আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল ( ২৫০ শয্যা), (ট) ১০০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন, গোপালগঞ্জ, (ঠ) ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ঢাকা ও (ড) আহসানিয়া ক্যান্সার মিশন হসপিটাল, ঢাকা।
- রাজধানীর কমলাপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতালকে জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে।
অতি দরিদ্রের জন্য ‘শেখ হাসিনা হেলথ কার্ড চালু
- টাঙ্গাইলের কালিহাতি, মধুপুর ও ঘাটাইলে অতি দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রাপ্তি সহজলভ্য করতে শেখ হাসিনা হেলথ কার্ড বিতরণ শুরু। ৫০টি রোগের চিকিৎসার খরচ এই কার্ডের মাধ্যমে বহন করা হবে। পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা শিক্ষা
- মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়নে কঠোর অবস্থানে থেকে নীতিমালা পূরণ করতে পারছে না। এমন কলেজ চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ জন্যে মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন টিম নিয়মিত কলেজ পরিদর্শন করছে।
- সর্বোচ্চ নিখুঁত প্রক্রিয়ায় এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হচ্ছে গত কয়েক বছর যাবত।
- ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৪টি সরকারি ও ৫টি সামরিক বাহিনীর অধীনে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২০১৮ সালে পাঁচটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ চালু।
- ২০১৮ সালে সব সরকারি কলেজে ১০ বছর পর ৭৫০ আসন বাড়ানো হয়েছে।
- চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অনুমতি দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিলেটের জমি নির্ধারণ হয়েছে ও আইন প্রণয়ন চলছে।
- দেশের সরকারী স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ৪০ হাজার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদ শুনা আছে। ২০১৮ মহামান্য আদালত কর্তৃক সামরিক শাসনামলে জারি করা আইন, আদেশও বিধি- বিধান বাতিল ঘোষণা করায় এতদিন এই পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া যায়নি। এসব পদের নিয়োগ বিধি প্রণয়নের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে। অচিরেই এসব পদে বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের পর থেকে এ যাবত ৪১.৩২৪টি পদে নতুন জনবল নিয়োগ করেছে। চিকিৎসক ১৩,৬৬৫ জন এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে ২৭,৬৫৯ জন। স্বাস্থ্য সহকারী ৬,৩৯১ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ২৬১ জন, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ১.২৫০ জন, কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার ১৩,৫০০জন, অন্য ক্যাটাগরিতে তৃতীয় শ্রেণির বিভিন্ন পদে ২,৬২৬ জন ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে ৩,৬৩১ জন।
অটিজম সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন
- মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজমকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে। বিশ্বব্যাপী মানুষের স্বাস্থ্যমান উন্নয়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গৃহীত কর্মসূচিতে মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজমকে যেন পৃথক গুরুত্ব দেওয়া হয় সেলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা গৃহীত হয়।
- বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের যৌথ উদ্যোগে ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি সহায়তায় ভুটানে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় (১৮-২১ এপ্রিল ২০১৭)। সহযোগিতা করে সূচনা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং এবিলিটি ভুটান সোসাইটি। সার্বিক পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধান করেন বাংলাদেশ অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারপার্সন সায়মা হোসেন। ২০১৬ সালে প্রণীত ন্যাশনাল স্ট্রাটেজি কাম প্লান অন অটিজম এন্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস-এর উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারপার্সন সায়মা হোসেনকে দু’বার বিশেষ সম্মানসূচক স্বীকৃতি দেয়। প্রথমে চ্যাম্পিয়ন অফ দি অটিজম ইন সাউথ ইস্ট এশিয়া এবং পরে গুদ্র উইল অ্যামবাসেডর অন অটিজম ইন সাউথ ইস্ট এশিয়া ঘোষনা করে।
- অটিজম ও স্নায়ু-বিকাশজনিত সমস্যার চিকিৎসা সেবা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর নিউরো ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অটিজম ইন চিল্ড্রেন (CNAC)- কে ইনস্টিটিউট ফর পেডিয়াট্রিক নিউরো-ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (IPNA) নামে আলাদা ইনস্টিটিউট হিসেবে রূপান্তর করা হয়।

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক বাংলাদেশকে পোলিও এবং ধনুষ্টংকারমুক্ত ঘোষণা
- ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা নির্মূলে ও অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ এখন থাকলেও দ্রুত সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে। গত বছর জুন পর্যন্ত মাত্র ৮ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
- জিকা, ইবোলা ভাইরাসের মতো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ঘাতক রোগকে বাংলাদেশে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা হয়েছে। সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে এ জাতীয় ভাইরাস প্রবেশ করতে পারেনি। এইচআইভি/ এইডস রোগেও প্রায় গুণ্যের কোটায়।
- ২০০৯ সালে দেশের ১৯ জেলা ফাইলেরিয়ার ঝুঁকিপ্রবণ ছিল। এখন বাংলাদেশ ফাইলেরিয়ার ঝুঁকি মুক্ত।
- যক্ষ্মা মোকাবিলা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমডিআর টিবি রোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত ছয় মাসের কোর্সের ঔষধ সাফল্যের সাথে কার্যকর হচ্ছে।
অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ
- অসংক্রামক রোগ সংক্রান্ত ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৭৩,২০৫ জনস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মীকে অসংক্রামক রোগ চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ১২৪টি উপজেলায় উচ্চ রক্তচাপ ও বহুমূত্র রোগের স্ক্রিনিং কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয়েছে।
- অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে টার্গেট করে বাংলাদেশ অগ্রসর
হচ্ছে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়িয়ে মানুষের জীবনযাত্রার ধরনে গুণগত মান উন্নয়নই লক্ষ্য। হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ এ জাতীয় রোগ মোকাবিলায় নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা ও গবেষণা কাজে জোর দেওয়া হয়েছে। তামাকজাত পণ্য বিপণনের সময় সচিত্র মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার
- ই-প্রক্রিওরমেন্ট (e-GP) পদ্ধতিতে ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে যা ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য জনবল ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার সেন্ট্রাল অটোমেটেড এইচআরআইএস সিস্টেম সম্প্রতি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২২টি দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতায় মর্যাদাপূর্ণ এপিকটা পুরস্কার ২০১৭ জিতেছে।
- কর্মস্থলে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে ইলেক্ট্রনিক হাজিরা মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে বায়োমেট্রিক যন্ত্র। অভিযুক্ত কয়েকশ’ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলা
- জলবায়ু পরিবর্তন জনিত পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।
- ২০১৭ সালে ৩টি বড় ধরণের জরুরী স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখা দেয়। চিকুন গুনিয়া, বন্যাজনিত এবং রোহিঙ্গা আশ্রয় প্রার্থীর বিশাল সংখ্যায় আগমন।
- ইমার্জেন্সী প্রিপেয়ার্ডনেস এন্ড রেসপন্স কর্মসূচির আওতায় অত্যন্ত সফলভাবে পর্যাপ্ত লজিস্টিকস সরবরাহ, মেডিকেল টিম, প্রশিক্ষণ ও সকল ব্যবস্থার মাধ্যমে সারাদেশে এবং যেখানে যেমন প্রযোজ্য সেখানে তেমনভাবে এই জরুরী স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হয়।
ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন
- নতুন ঔষধ নীতি-২০১৭ প্রণয়ন।
- বাংলাদেশ বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে মিটাতে সক্ষম।
- বর্তমানে শুধুমাত্র কিছু হাইটেক প্রোডাক্ট (ব্লাড প্রোডাক্ট, বায়োসিমিলার প্রোডাক্ট, এন্টিক্যান্সার ড্রাগ, ভ্যাকসিন ইত্যাদি) আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ঔষধ আমদানিকারী দেশ হতে রপ্তানিকারী দেশে পরিণত হয়েছে এবং সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ঔষধ ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে।
- বর্তমানে স্থানীয় চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করে বাংলাদেশ বিদেশে ঔষধ রপ্তানি করছে এবং সরকারের সার্বিক সহযোগীতায় ঔষধ রপ্তানির পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- বিগত ২০১৪ সালে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় ৯২টি দেশে মোট ৭৩৩.২৭ কোটি টাকা, ২০১৫ সালে ১২০টি দেশে মোট ৮১২ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা এবং ২০১৬ সালে মোট ১২৭টি দেশে ২২৪৭.০৫ কোটি টাকার ঔষধ রপ্তানি করেছে।
- ২০১৭ সালের জানুয়ারি হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৪৫টি দেশে ৩১৯৬ ৩২ কোটি টাকার ঔষধ রপ্তানি করেছে।
- বাংলাদেশকে কাঁচামাল উৎপাদনের স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা গজারিয়ায় কাঁচামাল উৎপাদনের নিমিত্তে এপিআই (Active Pharmaceutical Ingredients) পার্ক স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ প্রদান করেছে।
- উক্ত এপিআই পার্কের জমি উন্নানসহ অন্যান্য কাজ ইতোমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৮ সালে উক্ত পার্কে এপিআই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা স্থাপনের নিমিত্তে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
- সারাদেশে মডেল ফার্মেসি চালু। মডেল ফার্মেসিতে সার্বক্ষণিক গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট-এর তত্ত্বাবধানে ফার্মেসি পরিচালিত হবে। গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট রোগীকে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
- ঔষধ সেবনের নিয়ম, ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং উন্নত প্রযুক্তির ঔষধের সেবন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে রোগীকে বুঝিয়ে দেবেন।
- মডেল ফার্মেসীতে তাপ সংবেদনশীল ঔষধের গুণগত মান রক্ষার জন্য সঠিক তাপমাত্রায় ঔষধ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
- মডেল ফার্মেসীতে প্রাথমিক চিকিৎসা যেমন, ওজন মাপা, ব্লাড প্রেসার মাপা, ব্লাড সুগার, মাপা, বডি টেম্পারেচার মাপা, নেবুলাইজেশন করা প্রভৃতির ব্যবস্থা থাকছে।
- মডেল ফার্মেসীতে নকল ভেজাল, আনরেজিস্টার্ড ঔষধ থাকবে না। এখান থেকে জনগণ সঠিক মূল্যে মানসম্পন্ন ঔষধ পাবে।
- মেডিক্যাল ডিভাইস গাইড লাইন অনুযায়ী আমদানিকৃত মেডিক্যাপ ডিভাইসসমূহকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৮৬৯টি আমদানিকৃত মেডিক্যাল ডিভাইসের রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হয়েছে। মেডিক্যাল ডিভাইসের রেজিস্ট্রেশন প্রদানের পাশাপাশি মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কার্ডিয়াক স্টেন্ট, ইন্ট্রাওকুলার লেন্স, সার্জিক্যাল সুচার, হার্ট ভাব, পেসমেকার এর মূল্য নির্ধারণ পূর্বক মোড়কে গজচ মুদ্রিত করা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পুষ্টি উন্নয়ন কর্মসূচি
- জাতীয় পুষ্টি পরিষদ পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। জাতির জনক ১৯৭৫ সালের ২৩ এপ্রিল “বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ’ গঠনের আদেশ স্বাক্ষর করেন। ২০১১ সাল থেকে পুষ্টিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবার মূলস্রোত ধারার সাথে সম্পৃক্ত করে ‘জাতীয় পুষ্টিসেবা’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- ইতিমধ্যে জাতীয় পুষ্টি উন্নয়ন সূচক সমূহের যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। অনুর্ধ্ব ৫ স্বল্প ওজনের শিশুর হার ২০১১ সালের ৩৬ শতাংশ হতে কমে ৩৩ শতাংশ হয়েছে: অনুর্ধ্ব ৫ খর্বাকৃতি শিশুর হার ২০১১ সালের ৪১ শতাংশের স্থলে কমে হয়েছে ৩৮ শতাংশ। ১৫ বছর আগে জন্মকালীন কম ওজনের শিশুর হার ৩৬ শতাংশ ছিল। এখন তা ২২.৬ শতাংশ। ৬ মাস হতে অনুর্ধ্ব ৫ শিশুদের সফলভাবে বছরে দু’বার ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ফলে রাতকানা রোগের হার শতকরা ১-এর নিচে রাখা সম্ভব হয়েছে।
- ইতিপূর্বে জাতীয় পুষ্টিনীতি-২০১৫: মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশু খাদ্য আইন-২০১৩: ভোজ্যতেলে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণ আইন-২০১৩ ও নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ প্রণীত অথবা হাল নাগাদ করা হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম
- ১,৩৪,৩৩২ জন মহিলা ও পুরুষকে পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী পদ্ধতি এবং ৫.৬৫.৯২৪ জন মহিলাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির সেবা প্রদান করা হয়েছে।
- দূর্গম ও কম অগ্রসরসম্পন্ন এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে সারাদেশে প্রায় ১২০০ জন Paid Volunteer নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
- অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ড ডিজিটাইজেশনের লক্ষ্যে বিশেষায়িত হাসপাতালসমূহ অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে এবং অধিদপ্তরে ই-ফাইলিং, ই-রেজিস্টার, ই-ডায়েরি চালু করা
হয়েছে। - সারাদেশে ২২০০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪/৭ ঘন্টা নরমাল ডেলিভারি সেবা চালু করা হয়েছে যা গর্ভধারণ/মাতৃমৃত্যু রোধে বিশেষ অবদান রাখছে।
- কিশোরী গর্ভধারণ হ্রাসে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সেবা প্রদানের জন্য ২০৩টি সেবা কেন্দ্রে কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্য কর্ণার চালু করা হয়েছে।
- আইইএম ইউনিট হতে প্রকাশিত ও নির্মিত বিভিন্ন ধরনের আইইসি উপকরণ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য ‘ডিজিটাল আর্কাইভ’ গড়ে তোলা হয়েছে এবং অনলাইনে সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
- জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী, এমএসআর ও অন্যান্য সরবরাহ সেবা যুগোপযোগী করতে এবং ক্রয়/ সংগ্রহ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ট্র্যাকিং করার জন্য ভবন- Based Supply Chain Management Portal ব্যবহার শুরু হয়েছে।
- পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী ও দীর্ঘ মেয়াদী পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য নিম্ন অগ্রগতি সম্পন্ন ১০টি জেলার সকল উপজেলার ক্লায়েন্ট ফেয়ার বা গ্রহীতা মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
- মাতৃমৃত্যু রোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে এবং গর্ভবর্তী মায়ের জন্য ‘মায়ের ব্যাংক’ চালু করা হয়েছে।
- গর্ভবর্তী মায়েদের মোবাইলে রেজিট্রেশনের মাধ্যমে এএনসি, ডেলিভারি ও পিএনসি সেবা নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে এসএমএস বা মোবাইল বার্তা প্রেরণ করা হচ্ছে।
নার্সিং পেশার বিকাশ - সেবা পরিদপ্তর’কে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উন্নীত করা হয়েছে। এক্সাসন অ্যান্ড কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট অব নার্সিং এডুকেশন প্রকল্প শুরু। ইন্টাবলিশমেন্ট অব নার্সিং ইন্সটিউট’, ডায়াবেটিক সমিতি, পাবনা স্থাপন।
- সাভারস্থ কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল সংলগ্ন স্থানে নার্সিং ইন্সটিটিউট স্থাপন- কোরিয়ার সহায়তায় ঢাকার মুগদায় ৫০০ শয্যা বিশিস্ট জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা সংলগ্ন নার্সিং
ইন্সটিটিউট চালু। - নার্সিং পেশার মানোন্নয়নে ২০১১-১৬ মেয়াদে ৩০০ কোটি টাকার বিভিন্ন কার্যক্রম
- নার্সিং পেশার মানোন্নয়নে ২০১৭-২২ মেয়াদে ৪০৬.২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
- খুলনা জেলার খালিশপুর শহরে নার্সিং ইন্সটিটিউট নির্মাণ।
- শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং ইন্সটিটিউট, গোপালগঞ্জ চালু।
- পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় একটি নার্সিং ইন্সটিটিউট নির্মাণ কাজ শুরু। ৩ বছর মেয়াদী মিডওয়াইফারি কোর্স চালু করা হয়েছে।
- ১২টি জেলায় নতুন ১২টি নার্সিং ইনস্টিটিউট চালু করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
- নার্সিং ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্সে আসন সংখ্যা ১১৫০ থেকে ১৬২০ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- নার্সিং কলেজের বিএসসি-ইন-নার্সিং কোর্সে আসন সংখ্যা ৫২৫ থেকে ১২৭৫-এ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- নার্সিং সেবার মান উন্নয়ন করার জন্য ৩ বছর মেয়াদী নার্সিং কোর্সকে ৪ বছরে উন্নীত করা হয়েছে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও নির্দেশনা অনুযায়ী নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের প্রস্তাব মোতাবেক ২১ নভেম্বর ২০১৬ সালে নার্সিং পারসোনেলদের জাতীয় পোশাক পরিবর্তন করে সেবা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য নির্দেশক্রমে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি
- জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যবস্থাপক ও ইউনানী, আয়ুর্বেদী ও হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, কম্পাউন্ডার ও হার্বাল সহকারীসহ মোট ৭৬৪ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। সরকারী ইউনানী ও আয়ুর্বেদী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্নীদের ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
- ইউনানী, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী ও হোমিও প্যাথিক আইন ও পূর্ণাংশ রেজিস্ট্রেশন কাউন্সিল গঠণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
- হোমিওপ্যাথিক, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাকে চিকিৎসা সেবার মূল স্রোতে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিকল্প চিকিৎসার জন্য মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নতুন আইন
- বাংলাদেশ জনসংখ্যানীতি, ২০১২ প্রণীত।
- বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১১ প্রণয়ন।
- বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১ (সংশোধিত) প্রণয়ন করা হয়েছে।
- মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধিত) আইন এবং বিসিপিএস আইন প্রণয়ন হয়েছে।
- ‘বিসিপিএস আইন’ প্রণয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য আইন ২০১৮ প্রণয়।
রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা
- ২০১৭ সালের শেষে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় কেন্দ্রে দ্রুততার সাথে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে প্রায় একশত স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন, শতাধিক চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, কক্সবাজার মেডিকেল হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- রোহিঙ্গা শিশুদের মাঝে বিভিন্ন টিকা প্রদান করা হয়েছে। তাদের অনেকের মধ্যে পোলিও রোগ থাকায় তার টিকা দেওয়া হয়েছে এবং এই রোগের বিস্তার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- প্রসূতি নারীদের মাঝে বিশেষ সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের প্রসব সেবা অব্যাহত রয়েছে।
- রোহিঙ্গাদের অনেকেরই এইডস রোগ বহন করছে যার চিকিৎসাও নিশ্চিত করেছে সরকার।
- মাত্র তিনদিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ৭ লাখ কলেরা ভ্যাকসিন খাওয়ানো হয়েছে।
তথ্য
- বর্তমান সরকারই ১৯৯৬ সালে দেশ পরিচালনায় এসে প্রথম বেসরকারি টেলিভিশনের লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে টেলিভিশনকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে।
- তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও জনগণের তথ্য জানার অধিকার সুনিশ্চিত ও সংরক্ষণ করার জন্য তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন গঠন করা হয়।
- বর্তমান সরকার গঠিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট হতে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা ভাতা/অনুদান হিসেবে ২০১১-১২ অর্থ-বছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত। সর্বমোট ১০ কোটি ৭ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে ২০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ায় ট্রাস্টের সক্ষমতার যুগান্তকারী বৃদ্ধি সাধিত হয়েছে।
- তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজকে আরও গতিশীল করা, আইনের আওতায় আনা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়বদ্ধতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গত ১০ বছরে ১৮টি আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন ও সংস্কার হয়েছে।
- ৩২ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জাতীয় সংসদ কার্যক্রম, কৃষি শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক চেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন’ নামে একটি পৃথক চ্যানেল চালু করা হয় যার সম্প্রচার কার্যক্রম ২৫ জানুয়ারি ২০১১ তারিখ হতে শুরু হয়েছে।
- কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। • বেসরকারি ৪৪টি চ্যানেলের মধ্যে বর্তমানে মোট ৩০টি বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি রেডিও
স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনার জন্য এই যাবত ৩২টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৭টি চালু রয়েছে। • বেসরকারি মালিকানায় এফএম বেতার কেন্দ্র স্থাপন ও
পরিচালনা নীতিমালা-২০১০
- প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এই নীতিমালার আওতায় বর্তমান সরকারের সময়ে ২৪টি এফএম বেতার কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২২টি চালু রয়েছে। • চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের জন্য চলচ্চিত্রকে ‘শিল্প’ হিসেবে ঘোষণাসহ করা হয়েছে এবং ৩ এপ্রিলকে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণে সহযোগিতা প্রদানের জন্য ‘পি-ফিল্ম মঞ্জুরী নীতিমালা-২০১০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরে ২টি করে শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের নিমিত্ত সরকারি অনুদান প্রদানের জন্য নিয়মাবলি, ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৪টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে মোট ৬০,০০,০০০/- (ষাট লক্ষ) টাকা এবং ১টি চলচ্চিত্র (প্রামাণ্যচিত্র) কে ৪০,০০,০০০/- (চল্লিশ লক্ষ) টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
- ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৬টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে মোট ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
- ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক, ২০১৮ মোট ৫ জন ব্যক্তি ও ১টি পত্রিকাকে (দৈনিক সংবাদ) এ পদক প্রদান করা হয়েছে। প্রতিজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকার চেক, একটি ক্রেস্ট ও সদনপত্র প্রদান করা হয়েছে।
- ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪ প্রণয়ন করা হয়েছে।

- বিগত ২০১০ 2011 2012 2013 2014, 2015 3 2০১৭ সালে যথাক্রমে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০০৮, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০০৯, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১০, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১১, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১২, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৪, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৫, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬ বিতরণ করা হয়েছে।
- সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ক্ষেত্রে ০১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্য মানের আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- উন্নতমানের চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদানের নীতিমালা-২০০০ সংশোধন করিয়া উন্নতমানের চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদানের নীতিমালা-২০১২’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- চলচ্চিত্র সংসদ / ক্লাব নিবন্ধন ও পরিচালনার জন্যে The Film Clubs (Registration and Regulation) Act, 1980 আইনটি রহিত করিয়া নতুনভাবে ‘চলচ্চিত্র সংসদ নিবন্ধন আইন ২০১১ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ রাজধানীর আগারগাঁও অঞ্চলে বিশ্বমানের ফিল্ম আর্কাইভ ভবন নির্মাণ করেছে।
- পিপিআর ২০০৮ এর আলোকে প্রণীত বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র নীতিমালা এনে ২০০৮) সালে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়।
- ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে “শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উক্ত প্রকল্পের ৪র্থ পর্যায়ের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে।
- প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য গঠিত ‘৮ম সংবাদপত্র ওয়েজবোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত রোয়েদাদ মন্ত্রিসভা কমিটি কর্তৃক চূড়ান্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে প্রকাশিত হইয়াছে। গত ২৯.০১.২০১৮ তারিখে ৯ম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
- ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্য অনুসরণীয় ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদিত হওয়ার পর গত ০৬ আগস্ট ২০১৪ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হইয়াছে।
- সংবাদপত্রকে সেবা শিল্প খাত হিসেবে ঘোষণা।
- মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে সংবাদপত্রের প্রকাশক, সম্পাদক ও প্রতিবেদকের সরাসরি গ্রেপ্তার বিধান বাতিল। বই লেখক-প্রকাশকদের জন্যও তা প্রযোজ্য।
- সাংবাদিকদের ৫% কোটা বরাদ্দ দিয়ে প্লট প্রদানের ব্যবস্থা।
- মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়াধীন দপ্তর/সংস্থা পর্যায়ে ই-টেন্ডারিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
- সন্ত্রাস, নাশকতা, জঙ্গিবাদ বিরোধী জনমত গঠনের লক্ষ্যে মাননীয় মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে ৭টি বিভাগে সুধী সমাবেশ ও সভা অনুষ্ঠানসহ জেলা তথ্য অফিসমূহের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রদর্শিত হয়ে আসছে।
- জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা-২০১৭’ এবং ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা, ২০১৭’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া, ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল (সংশোধন) আইন, ২০১৭’ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- • বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭’ জাতীয় সংসদে পাশ।
- সমপ্রচার আইন, ২০১৮’, ‘গণমাধ্যম কর্মী (চাকরী শর্তাবলী) আইন, ২০১৮’ এবং “বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে এবং ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে।
- সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন চ্যানেল যতদিন পর্যন্ত না স্বতন্ত্র ব্যবস্থাপনায় সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করিবে ততদিন পর্যন্ত বিটিভি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন’ এর অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।
- ৩৮ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ‘বিটিভি সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ বাস্তবায়ন এবং ৫৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের “ঢাকা টেলিভিশন কেন্দ্রের সম্প্রসারিত ভবনের স্টুডিও যন্ত্রপাতি স্থাপন (সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
- ৩৫ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রচারের সময় বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল টেরিস্ট্রিয়াল ও স্যাটেলাইট ট্রান্সমিশনসহ চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রে রূপান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
- ৯ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিটিভি’র বার্তা বিভাগের জন্য নতুন ক্যামেরা, কম্পিউটার, এডিটিং প্যানেল ও আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে সংগৃহীত হয়েছে।
- বিটিভির সম্প্রচার ব্যবস্থা এনালগ হইতে সম্পূর্ণ ডিজিটালে রুপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিটিভি’র অনুষ্ঠান স্যাটেলাইটে ২৪ ঘন্টা সম্প্রচার করা হচ্ছে।
- বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডের অনুষ্ঠান ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া IPTV এবং Web TV এর মাধ্যমে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে।
- বাংলাদেশ টেলিভিশনে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ২টি বুলেটিন ইশারা ভাষায় উপস্থাপিত হচ্ছে।
- বিটিভির সংবাদ সংগ্রহ ও প্রস্তুতকরণ প্রক্রিয়াকে যুগোপযোগী, পেপারলেস ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে নিউজ রুম অটোমেশনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান
- শিশু শ্রম নিরসন নীতিমালা-২০১০, বাংলাদেশ অর্থনীতিমালা-২০১২, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন-২০১৩, জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি (ওএসএইচ) নীতিমালা-২০১৩ গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ইউপিজেড আইন এবং শ্রম আইন সংশোধনের কাজও শেষ পর্যায়ে।
- ২০১৩ সালের রানা প্লাজা’র মর্মান্তিক ট্রাজেডির পরে তৈরী পোশাক খাতে নতুন যুগের সুচনা হয়েছে।
- শ্রমিকের পেশাগত অসুখের চিকিৎসার জন্য পিপিপি’র মাধ্যমে প্রায় তিন’শ তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জে দেশের প্রথম তিন’শ শয্যার পেশাগত বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শিখগিরই শুরু হবে। গত ২২ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং এএফসি হেলথকেয়ার ও ভারতের ফোর্টিজ হেলথ লিঃ এর মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি(ওএসএইচ) নীতিমালা-২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১৬ থেকে ওএসএইচ ডে পালন করা হচ্ছে। রাজশাহীতে পাঁচ একর জমির ওপর নিজস্ব জায়গায় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি ওএসএইচ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের এই দশ বছর ছিল বাংলাদেশের সেবা খাতের আমূল পরিবর্তনের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। স্বাস্থ্যসেবাকে কেবল শহরকেন্দ্রিক না রেখে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’-এর মাধ্যমে নিভৃত পল্লীর সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে ‘ডিজিটাল হেলথ’ নিশ্চিত করা ছিল এই সময়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য। শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস এবং গড় আয়ু ৭২.৮ বছরে উন্নীত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ায় মানবসম্পদ উন্নয়নে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে।
একই সাথে ঔষধ শিল্পের বিশ্বায়ন, তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমের অভূতপূর্ব স্বাধীনতা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিতকে আরও শক্তিশালী করেছে। অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্যের মতো অবহেলিত বিষয়গুলোকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মন্ডলে মূলধারায় নিয়ে আসা এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব মানবতার এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে। গত এক দশকের এই সমৃদ্ধি ও অর্জিত সক্ষমতা প্রমাণ করে যে, সঠিক নেতৃত্ব এবং জনবান্ধব পরিকল্পনা থাকলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি উন্নত ও স্মার্ট রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। সেবা খাতের এই দৃঢ় ভিত্তিই আমাদের আগামী দিনের ‘উন্নত বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন পূরণে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
