আল্লামা শাফি সাহেবে এর পক্ষে আমাকেও নসিহত করেছিল আমার কাছের কিছু লোক। আমাকে বলা হয়েছিল – তিনি একজন সত্যিকারের নি:স্বার্থ আলেম। দুনিয়াবি কোন বিষয়ে তার আশা আকাঙ্ক্ষা নাই। মওদুদি ও তার অনুসারী সহ সকল ভ্রষ্ট আলেম এর বিপক্ষে তিনি সোচ্চার। সেই কারণেই তিনি জামাতে ইসলামের শত্রু। জামাত এর সাথে হাত মেলানো তো দুরে থাক – জামাত এর সুবিধা হবে, এরকম কিছু তিনি কোনভাবেই করবেন না।
যুক্তি হিসেবে দেখিয়েছিল – সফি সাহেব একসময় মওদুদি এবং জামাত এর বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন। এদেশের কয়েকশ আলেম এর সাথে হয়ে মৌদুদিকে ইসলামের শত্রু ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন – জামাতে ইসলাম ইসলাম নয়।
যুক্তির কারণে – আমি সেই নসিহতিদের কথা নিয়েছিলাম। এমন কি সাফি সাহেবের পক্ষ নিয়ে সিনিয়র কিছু সহকর্মীর সাথে তর্ক করেছি। একটা সময় পর্যন্ত তর্ক চালিয়ে গেছি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত শফি সাহেব কি দেখালেন?
সাকা চৌধুরীর পয়সায়, জামাত শিবির এর নেতাকর্মী নিয়ে, যুদ্ধাপরাধী এবং জামাত-শিবির এর এজেন্ডা বাস্তবায়নে, মহানবীর হিজরতের সাথে তুলনা করে – লংমার্চ করলেন। এমন সব কার্যক্রম ও দাবী দাওয়া পেশ করলেন – যেগুলো জামাতের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায়, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সাথে দু চারটা সাধারণ ইসলামিক দাবী মিলিয়ে বিষয়টি ইসলামিক করলেন।
কিভাবে বুঝব উনি ইসলামের শত্রু হিসেবে একসময় জামাতের বিরোধিতা করেছিলেন?
তার উদ্যোগে কোনদিন – মওদুদি বা জামাত এর বিরুদ্ধে এর ১০ ভাগের একভাগ জনগণ নিয়ে লঙ মার্চ হয় নাই। মওদুদি এবং তার ফলোয়ারদের মৃত্যুদণ্ড দেবার জন্য সরকারের উপর চাপাচাপি হয় নাই।
এই লং মার্চের দাবীর সাথেও তিনি – জামাতে ইসলামের মুল নীতির বিরুদ্ধে – দুটো দাবী যোগ করে, তার নিরপেক্ষতার প্রমাণের চেষ্টা করতে পারতেন। সকল দাবীর সাথে – জামাতে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ভাবে ইসলামের শত্রু ঘোষণা – করার দাবী জানাতে পারতেন। তিনি তার ধারে কাছে দিয়ে যান নাই। বরং তিনি – ইসলামের পুরানো জাত শত্রুদের কোলে বসে, ইসলামের নতুন চ্যাংড়া শত্রুদের মৃত্যুদণ্ড দিতে এসেছিলেন।
এখন একথা বললে কি অন্যায় হবে?
তিনি একসময় জামাতকে বিরোধিতা করেছিলেন ইসলামের শত্রু হিসেবে না, বরং বাংলাদেশের ইসলামিক লাইনে তার কর্তৃত্ব বজায় রাখতে। সেটা ছিল কর্তৃত্বের শত্রুতা, আদর্শের শত্রুতা না। তিনি সেসময় নিজের স্বার্থে – স্বার্থের শত্রুতাকে যে আদর্শিক শত্রুতায় রূপ দিয়েছিলেন। নিজের স্বার্থ রক্ষায় ইসলামের নাজায়েজ ব্যাবহার করেছিলেন।
এখন একটা যুক্তিই আসছে:
সফি সাহেব অত্যন্ত বৃদ্ধ, তিনি না বুঝে এই ফাঁদে পা দিয়েছেন। তাকে ভুল বুঝিয়ে জামাত এসব করাচ্ছে !!!
এই যুক্তি খণ্ডন করি কিভাবে?
