স্মৃতিতে কি ভাসছে ২০১৩ সালের ৬ জুনের সেই ঘটনাবহুল দিনটি?
সেদিন একযোগে দেশের চার গুরুত্বপূর্ণ সিটি কর্পোরেশন—সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী এবং খুলনায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলল বিএনপি জোটের চেনা রাজনৈতিক মেলোড্রামা। ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, এজেন্ট বের করে দেওয়া নিয়ে কান্নাকাটি, গালিগালাজ আর মারামারির এক পশলা নাটকের পর রাজশাহী ও খুলনায় ঘটা করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিল বিএনপি।
তাদের এই সুরের সাথে সুর মেলাতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি আমাদের দেশের একশ্রেণীর ‘নিরপেক্ষ’ ও ‘সুশীল’ গণমাধ্যম। দিনভর তারা ব্যস্ত রইল ভোটের কারচুপি, জালিয়াতি আর ভোট ডাকাতির মুখরোচক নানা কেচ্ছা-কাহিনী প্রচারে। সাধারণ মানুষের মনে তৈরি করা হলো চরম এক আস্থাহীনতার পরিবেশ।
সূর্য ডোবার পরের ভোলবদল!
কিন্তু আসল নাটক শুরু হলো সূর্য ডোবার পর, যখন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল আসতে শুরু করল। গণনা শেষে দেখা গেল—সবগুলো সিটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হচ্ছেন!
ব্যাস! মুহূর্তের মধ্যেই উবে গেল সকালের সেই ‘ভোট বর্জন’ আর কারচুপির কান্না। চোখের জল মুছে পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ ডলতে ডলতে ক্যামেরার সামনে হাজির হলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় শীর্ষ নেতারা। আঙুল উঁচিয়ে ‘ভি’ (V for Victory) চিহ্ন দেখিয়ে শুরু হলো মুখস্থ বুলির তুবড়ি ছোটানো—“জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিজয় ছিনিয়ে এনেছে”, “সরকারের কারচুপির নীলনকশা রুখে দিয়েছে জনতা”, ব্লা… ব্লা… ব্লা…!
সকালে যে নির্বাচন তাঁদের কাছে ছিল ‘প্রহসন’, রাতেই সেই একই নির্বাচন হয়ে গেল ‘জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিজয়’! রাজনীতির এই নির্লজ্জ ভোলবদল দেশের সচেতন মানুষকে কেবল স্তম্ভিতই করেনি, রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক দেউলিয়াত্বকেও নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
অপরাজনীতি ও পরবর্তী নাটকের রিপ্লে
দুই বছর পরের নির্বাচনেও এই একই নাটকের ‘রিপ্লে’ বা পুনরাবৃত্তি হয়তো দেখা যেত—যদি বিএনপি সাধারণ মানুষ পুড়িয়ে কিংবা হেফাজতের কাঁধে চড়ে অপরাজনীতির নতুন কোনো গোপন কার্ড খেলার চেষ্টা না করত।
যদি তারা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ভোটে আসত, তবে হয়তো চট্টগ্রামের এম মঞ্জুর আলমও অবসরের ঘোষণা থুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে অবলীলায় বলতেন—“জনগণ চট্টগ্রামকে আবারও জলাবদ্ধতার চাদরে ঢাকা দেখতে চায় বলেই তাঁকে ভালোবেসে বিজয়ী করেছে!” এরপর আবারও সেই একই ভাঙা রেকর্ড বাজত—“এই বিজয় গণতন্ত্রের বিজয়…”।
রাজনীতিতে যখন আদর্শ আর জনগণের অধিকারের চেয়ে সস্তা ক্ষমতার লোভ আর ক্যামেরার সামনের অভিনয় বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন রাজনীতির মঞ্চ স্রেফ সার্কাসে পরিণত হয়। ২০১৩ সালের ৬ জুনের সেই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দ্বিচারিতা ও সুবিধাবাদের এক জ্বলজ্বল করা কালো অধ্যায়।
![বিএনপির ভোট বর্জন বাংলাদেশের রাজনীতি বিএনপি'র ভোট বর্জন! এ কোন রাজনীতি !! 1 বিএনপি'র ভোট বর্জন! [ বাংলাদেশের রাজনীতি ]](https://sufifaruq.com/wp-content/uploads/2024/02/বিএনপির-ভোট-বর্জন-বাংলাদেশের-রাজনীতি-.jpg)