গতকাল আমাকে দীর্ঘদিন পরে হাতে বাংলা লিখতে হলো। বারবার হাত ধরে আসছিল, অক্ষরগুলো ঠিকমতো লিখতে পারছিলাম না। আধা ঘণ্টা লিখতে গিয়ে কয়েকবার হাতের এক্সারসাইজ করতে হলো।
মনে করতে পারছিলাম না শেষ কবে হাতে লিখেছি। ১৯৯৭ সালের শুরুর দিকে টানা দুই সপ্তাহ রেয়াজ করে আমার বাংলা-ইংরেজি দুটো টাইপিংয়ের গতি বাড়িয়েছিলাম। ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত ল্যাপটপ থাকায় সকল নোট, লেখালেখি টাইপ করেই করতাম। কোনো ফর্ম পূরণ ছাড়া হাতে লেখা হয়নি। আমার মনে হয় আমাদের সবারই কমবেশি একই অবস্থা। তাই বাংলা লেখার চর্চা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলাম।
যেটা মনে হচ্ছে, অন্তত প্রতিদিন না পারলেও সপ্তাহে অন্তত সবগুলো বর্ণ একবার লেখা প্র্যাকটিস করা দরকার। সেই চর্চা না থাকলে কোনোদিন বাংলায় কোনো কিছু লিখতে গেলে লজ্জার শেষ থাকবে না।
আমি অলস মানুষ। এজন্য সবসময় কোনো না কোনো একটা শর্টকাট পদ্ধতি বের করার চেষ্টা করি।
কোথাও দীর্ঘ বাংলা বক্তৃতার আগে গলা ও উচ্চারণ ঠিক করার জন্য মধ্য সপ্তকে স্বরে এবং আকারে স্লো থেকে ফাস্ট কয়েকবার তান আর “পৃথিবী ও মেঘনাদবধ” কবিতা দুবার দ্রুত আবৃত্তির তালিম পেয়েছিলাম। এই টাইপের কোনো একটা মেথড খুঁজছিলাম।
অর্থাৎ এরকম কোনো একটা প্যারাগ্রাফ যদি পাওয়া যেত, যেখানে সব স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ব্যবহার হয়েছে, তাহলে ওই প্যারাগ্রাফটা সপ্তাহে এক-দুবার লেখার রেয়াজ করলে অন্তত অক্ষরগুলো লেখার দক্ষতাটা থাকত। মনে হলো ইংরেজির মতো Pangram টাইপ কিছু পেলে মন্দ হয় না (ইংরেজি টাইপ করার সময় শিখেছিলাম “The quick brown fox jumps over the lazy dog.”)। কিন্তু বাংলা টাইপের সময় এমন কিছু পাইনি।
একটু খোঁজাখুঁজি করে কয়েকটা উদাহরণ পেলাম। আমার মতো অনেকের কাজে আসতে পারে ভেবে তুলে দিলাম। পরে আরও কিছু খুঁজে পেলে যুক্ত করব। (স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের সংমিশ্রণে):
“খড়গপুর জংশনে চিলটি ওলকপি ও ফড়িংয়ের খাঁচায় ঢুকে দুঃখের সাথে ইঁদুর ছানাটিকে খেল এবং ঐ ঔষধের বাক্সে ঋতু পরিবর্তনের আগেই দীর্ঘ ঊর্ণনাভ ও ঈগলের ডিমের ওপর বসল।”
“বড় দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, চিলটি ফড়িংয়ের খাঁচায় ঢুকে ওলকপি ও ইঁদুর ছানাটিকে গিলে খেয়েছে এবং ঐ ঔষধের বাক্সে ঊর্ণনাভটি ঋতু পরিবর্তনের আগেই দীর্ঘ ঈগল পাখির ডিমের ওপর বসেছে।”
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত গণিতজ্ঞ ও বিজ্ঞান লেখক পলাশবরন পালের লেখা (ব্যঞ্জনবর্ণের ওপর জোর দিয়ে):
“ঢাকা অভিমুখে দ্রুতগামী ছক্কু মিয়া ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখল—খড়গপুর জংশনে পৌঁছাতে আর মাত্র এক ঘণ্টা বাকি, অথচ তার পকেটে খুচরো পয়সা নেই।”
মনোজকুমার মিত্রের লেখা:
বিষণ্ণ ঔদাসীন্যে ঊষাবৌদি বাংলাভাষায় প্রচলিত ঈশপের নিখুঁত গল্পটির অর্ধেক বলতেই ঋতু ভুঁইঞা আর ঐন্দ্রিলা দারুণ হৈ-হৈ করে উঠল—ওঃ, ব্যাস্ এবার থামো বুঝেছি বড্ডো পুরানো ঢঙের কেমন এক গল্প যার নীতি বাক্য হল–“মূঢ় আড়ম্বর ও আত্মশ্লাঘার ফল জীবনে বিঘ্ন ও বৃহৎ ক্ষতি”—তাই না, এ্যাঁ?
ইন্টারনেট থেকে পাওয়া ব্লগার ইশতিয়াক জিকোর তৈরি একটি বাংলা প্যানগ্রাম যেখানে বাংলা ৫০টি বর্ণই বিদ্যমান—
বর্ষামুখর দিন শেষে, ঊর্দ্ধপানে চেয়ে যখন আষাঢ়ে গল্প শোনাতে বসে ওসমান ভুঁইঞা, ঈষান কোণে তখন অন্ধকার মেঘের আড়ম্বর, সবুজে ঋদ্ধ বনভূমির নির্জনতা চিরে থেকে থেকে ঐরাবতের ডাক, মাটির উপর শুকনো পাতা ঝরে পড়ে ঔদাসীন্যে, এবং তারই ফাঁকে জমে থাকা ঢের পুরোনো গভীর দুঃখ হঠাৎ যেন বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে ধূসর জীবনে রঙধনু এনে দেয়।