একজন প্রসূতি মা এবং তার অনাগত সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পুষ্টিকর খাবার ও সঠিক স্বাস্থ্য পরামর্শের কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ১ নং কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামে ব্যতিক্রমী এক মানবিক প্রকল্পের শুভ সূচনা করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।
প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা
প্রতিদিন একটি ডিম, এক গ্লাস দুধ, নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ—একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য এই যোগানটুকু অপরিহার্য। অনেক ক্ষেত্রে সামর্থ্য থাকলেও অসচেতনতা বা সঠিক মানসিকতার অভাবে প্রান্তিক পর্যায়ের মা-বোনেরা এই নুন্যতম পুষ্টিটুকু পান না। এর ফলে মা ও শিশু উভয়েই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অপুষ্টির শিকার হন।
সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বলেন, “আমরা আমাদের ‘মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা’য় এই সচেতনতার কথাগুলো বারবার বলি। তবে শুধু মুখে বলা নয়, একটি আদর্শ উদাহরণ তৈরি করতেই আমরা এই ‘প্রসূতি মায়ের স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিকর খাবার এবং ওষুধ সরবরাহ’ কার্যক্রমটি হাতে নিয়েছি।”
প্রথম সুবিধাভোগী ও সেবার ধরন
এই প্রকল্পের প্রথম সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বানিয়াপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক চাঁদ আলী মহাজনের স্ত্রী ময়না। এই কার্যক্রমের আওতায় ময়না তার পুরো প্রসূতিকাল জুড়ে নিচের সুবিধাগুলো পাবেন:
- পুষ্টি সহায়তা: প্রতিদিন একটি করে ডিম এবং এক পোয়া দুধ।
- চিকিৎসা সেবা: প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র সরবরাহ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
- মেডিকেল টিম: গুরুকুলের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম নিয়মিত তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেবে।
- পারিবারিক পরামর্শ: প্রসূতিকালীন সময়ে গর্ভবতী মায়ের সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে এবং কীভাবে তার যত্ন নিতে হবে, সে বিষয়ে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পুরো উদ্যোগটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর আশা প্রকাশ করেন যে, সকলের সহযোগিতা ও সমর্থনে এই সেবা মডেলটি দ্রুতই কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে অত্র অঞ্চলে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর পাশাপাশি একটি সুস্থ ও সবল প্রজন্মের ভিত্তি স্থাপন করা হবে।
আরও দেখুন:
