বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন ১৬ ডিসেম্বর, আমাদের মহান বিজয়ের দিন। এই আনন্দের দিনে যখন আমরা আমাদের মুক্তির আনন্দ উদযাপন করি, তখন অবধারিতভাবেই মনে পড়ে যায় বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে শোষিত ও নিপীড়িত হতে থাকা স্বাধীনতাকামী মানুষের কথা। আজকের এই শুভক্ষণে আমার অন্তরের গভীর থেকে শুভকামনা ও সংহতি জানাই—বালুচিস্তান এবং সিন্ধের মুক্তিকামী মানুষের প্রতি।
আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ একাত্তরে পাকিস্তানি জান্তাদের যে নির্মমতা প্রত্যক্ষ করেছিল, ঠিক একইরকম এক অমানবিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যাচ্ছে বালুচ এবং সিন্ধিরা। ধর্মের দোহাই দিয়ে তৈরি হওয়া পাকিস্তান নামক অবৈজ্ঞানিক রাষ্ট্রটি আসলে পাঞ্জাবিস্থানি সামরিকতন্ত্রের এক শোষণের হাতিয়ার।
বালুচিস্তান ও সিন্ধের নির্যাতন যদি না জানেন, একবার পড়ে নিন (খুব ছোট্ট করে দিলাম):
একাত্তরে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যেভাবে গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা ও নারী নির্যাতন চালিয়েছিল, ঠিক সেই একই কায়দায় আজ বালুচিস্তানে চলছে মানবাধিকার লঙ্ঘন।
‘এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ বা গুমের সংস্কৃতি: বালুচিস্তানে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র, কবি ও বুদ্ধিজীবীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাঁদের আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায় না। একে সেখানে বলা হয় ‘পিক অ্যান্ড ড্রপ’ পলিসি।
‘কিল অ্যান্ড ডাম্প’ পলিসি: অপহরণের পর ক্ষতবিক্ষত ও বিকৃত লাশ মরুভূমি বা পাহাড়ি খাদে ফেলে দেওয়া পাকিস্তানি সেনাদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
সম্পদ লুণ্ঠন ও অর্থনৈতিক শোষণ: বালুচিস্তান ও সিন্ধ প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ ও সমুদ্রবন্দরে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার মূল অধিবাসীরা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। তাদের সম্পদ লুট করে গড়ে তোলা হচ্ছে পাঞ্জাবের অর্থনীতি। সিন্ধের সুফি সংস্কৃতি ও ভাষা এবং বালুচদের নিজস্ব জাতিসত্তাকে ধ্বংস করতে রাষ্ট্রীয় মদদে মৌলবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তাই আমাদের এই বিজয়ের দিনে মন থেকে দোয়া করি—
ওরাও যেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন কালজয়ী, আপসহীন ও দূরদর্শী নেতা পায়। তাজউদ্দীন আহমদ এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামের মতো দক্ষ ও বিশ্বস্ত সংগঠক পায়, যাঁরা জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে সুসংগঠিতভাবে নিয়ে যেতে পারবেন।
বাংলাদেশের মতোই ওরাও যেন পাকিস্তান নামক শোষণের কারাগার ও ষড়যন্ত্রের জাল থেকে চূড়ান্ত মুক্তি পায়। বিশ্বের মানচিত্রে স্থান পাক স্বাধীন বালুচিস্তান ও সিন্ধুদেশ।
তবে একই সাথে এই দোয়াও করি—ওদের এই স্বাধীনতার সংগ্রামে যেন আমাদের মতো ৩০ লক্ষ তাজা প্রাণ আর ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হারাতে না হয়। এত রক্ত আর অশ্রু ছাড়াই যেন ওরা ওদের মুক্তির সূর্য ছিনিয়ে আনতে পারে।
জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!
জয় হোক পৃথিবীর সকল স্বাধীনতাকামী মেহনতি জনতার!
