একটি রাগের আরোহ (ওপরে ওঠার পথ) এবং অবরোহ (নিচে নামার পথ)-তে কয়টি করে স্বর ব্যবহৃত হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে রাগের যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়, তাকেই বলা হয় রাগের “জাতি”। এটি মূলত রাগের একটি গাণিতিক বা কারিগরি পরিচয়।

রাগের জাতি ভাগ
সহজ নিয়মটি হলো:
- ৫টি স্বর ব্যবহৃত হলে তাকে বলে = ঔড়ব (Audav)
- ৬টি স্বর ব্যবহৃত হলে তাকে বলে = ষাড়ব (Shadav)
- ৭টি স্বর ব্যবহৃত হলে তাকে বলে = সম্পূর্ণ (Sampurna)
যেহেতু একটি রাগের ওঠার সময় (আরোহ) এবং নামার সময় (অবরোহ) স্বরসংখ্যা ভিন্ন হতে পারে, তাই এই তিনটির সমন্বয়ে মোট ৯ ধরনের জাতি তৈরি হয়।
কয়েকটি জনপ্রিয় উদাহরণ দিলে বিষয়টি পানির মতো পরিষ্কার হবে:
১. সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ: আরোহ এবং অবরোহ—উভয় পথেই ৭টি স্বর বর্তমান।
উদাহরণ: রাগ ভৈরব বা রাগ বিলাবল। (সা রে গ ম প ধ নি — সব আছে)
২. ঔড়ব-ঔড়ব: ওঠানামা দুবারই মাত্র ৫টি করে স্বর ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: রাগ ভূপালী বা রাগ মালকোষ। (এখানে ৫টির বেশি স্বর ব্যবহারের অনুমতি নেই)
৩. ঔড়ব-সম্পূর্ণ: ওঠার সময় ৫টি স্বর, কিন্তু নামার সময় ৭টি স্বরই লাগে।
উদাহরণ: রাগ জৌনপুরী বা রাগ আশাবরী।
৪. ষাড়ব-সম্পূর্ণ: ওঠার সময় ৬টি এবং নামার সময় ৭টি স্বর।
উদাহরণ: রাগ মারোয়া বা রাগ পুরিয়া।
৫. ঔড়ব-ষাড়ব: ওঠার সময় ৫টি এবং নামার সময় ৬টি স্বর।
উদাহরণ: রাগ ললিত।
সত্যি বলতে, সাধারণ শ্রোতার জন্য এটি কেবল একটি কারিগরি তথ্য মাত্র। আপনি যখন গান শুনছেন, তখন শিল্পী ৫টি স্বর লাগাচ্ছেন না ৭টি, তা গুনে বের করার প্রয়োজন পড়ে না। তবে যারা রাগ চিনতে চান বা রাগের গঠন বুঝতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি চমৎকার একটি কম্পাস। একটি রাগের ‘জাতি’ জানলে আপনি আগে থেকেই বুঝতে পারবেন ওই রাগের সীমানা কতটুকু এবং কোন কোন স্বর সেখানে ‘বর্জিত’ বা নিষিদ্ধ।
জাতি যাই হোক না কেন, রাগের আসল সার্থকতা তার স্বরসংখ্যায় নয়, বরং সেই স্বরগুলো দিয়ে শিল্পী আপনার মনে কী ধরনের ‘রস’ বা অনুভূতি তৈরি করছেন তার ওপর।
আরও দেখুন:
