শ্রোতা সহায়িকা নোট সিরিজে আজকের রাগ – রাগ পুরিয়া কল্যাণ। এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। আপডেট পেতে আবারো আসার আমন্ত্রণ রইলো।

রাগ পুরিয়া কল্যাণ
মান্না দের গাওয়া “জ্বালাও আকাশ প্রদীপ” গানটি নিশ্চয় শুনে থাকবেন। লিখেছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় আর সুর করেছিলেন প্রভাস দে। এই গানটির সুর করা হয়েছিল রাগ পুরিয়া-কল্যাণ এর উপরে ভিত্তি করে।
পুরিয়া রাগের স্বরসমষ্টির সঙ্গে পঞ্চম লাগিয়ে এই রাগের সৃষ্টি। আর চলনের তফাত্ তো আছেই। এই রাগে সকল শুদ্ধ স্বরের সাথে কোমল রিশব ও তীব্র মধ্যম ব্যবহার করা হয়। মারবা ঠাটের এই রাগটির সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ (বক্র)। বাদী ষড়জ, সমবাদী পঞ্চম। গাওয়া-বাজাবার সময় বিকেল ৩টা থেকে ৬ টার, দিনের চতুর্থ প্রহর (সনাতন পদ্ধতিতে যাকে বলে “দীপ জ্যোতি কাল”)।
এই রাগটির পুর্বাঙ্গ অনেকখানি পুরিয়া বা পুরিয়া-ধানেশ্রীর মতো আর উত্তরঙ্গ ইমন এর মতো। ইমন এর মতোই আরেহনে পঞ্চম অল্প করে লাগবে। আরোহ আবরোহতে ষড়জ সচরাচর বাদ যাবে। কেউ বলেন পুরিয়া রাগের স্বরগুলোর সাথে পঞ্চম লাগিয়ে এই রাগের সৃষ্টি করা হয়েছে।
রাগ পুরিয়া কল্যাণ রাগের শাস্ত্র:
- ঠাট: মারোয়া।
- জাতি: সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ।
- আরোহ: ন# ঋ গ হ্ম ধ ন স* (এখানে ন# মন্দ্র সপ্তকের, ঋ কোমল এবং হ্ম তীব্র মধ্যম)।
- অবরোহ: স* ন ধ প হ্ম গ ঋ স (এখানে ঋ কোমল এবং হ্ম তীব্র মধ্যম)।
- বাদী স্বর: গান্ধার (গ)।
- সমবাদী স্বর: নিষাদ (ন)।
- বর্জিত স্বর: নেই।
- ব্যবহৃত স্বর: ঋষভ (ঋ) কোমল এবং মধ্যম (হ্ম) তীব্র। বাকি সব স্বর শুদ্ধ।
- সময়: সায়ংকাল বা সন্ধ্যার সন্ধিপূজাসূচক সময় (দিনের চতুর্থ প্রহর)।
- প্রকৃতি: গম্ভীর, শান্ত এবং ভক্তিপ্রধান।
- কয়েকটি চলন: ১. ন# হ্ম ঋ গ, হ্ম ঋ গ ঋ স। ২. হ্ম ধ ন ধ প। ৩. হ্ম ধ হ্ম প গ হ্ম ঋ গ, গ ঋ স।
আরোহ-আবরোহ এই লিঙ্ক গুলোতে গিয়ে শুনে নিতে পারেন । লিংক ১ ।

সেতারে পুরিয়া-কল্যান:
সেতারে রাগ পুরিয়া-কল্যাণ বাজানো অত্যন্ত কঠিন এবং এটি শিল্পীর মীন ও গিটকিরির ওপর দক্ষতার পরিচয় দেয়। মারোয়া ও কল্যাণ—এই দুই রাগের মিশ্রণে তৈরি এই রাগটি গোধূলি বেলার এক গম্ভীর ও রাজকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।
১. পণ্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় (মাইহার ঘরানা): তাঁর সেতারে “রাগ পুরিয়া-কল্যাণ – আলাপ, জোড় ও ঝালা”। (এটি এই রাগের গাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক রূপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দলিল)।
২. ওস্তাদ বিলায়েত খাঁ (ইমদাদখানী ঘরানা): তাঁর সেতারে “রাগ পুরিয়া-কল্যাণ – বিলম্বিত ও দ্রুত গৎ”। (গায়ন-অঙ্গের মাধ্যমে এই রাগের মাধুর্য ও আর্তি প্রকাশের জন্য এটি অতুলনীয়)।
৩. পণ্ডিত রবিশঙ্কর (মাইহার ঘরানা): তাঁর সেতারে “রাগ পুরিয়া-কল্যাণ – আলাপ ও গৎ”। (মাইহার ঘরানার বিশেষ তানের কাজ ও গতির বৈচিত্র্য এখানে স্পষ্ট)।
৪. ওস্তাদ শহীদ পারভেজ খাঁ (ইমদাদখানী ঘরানা): তাঁর সেতারে “রাগ পুরিয়া-কল্যাণ” (বিশেষ করে তাঁর বাম হাতের মীড় ও তার সপ্তকের কাজ এই রাগের আভিজাত্যকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে)।

আরও দেখুন:
