কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে প্রতি বছর ২৫শে বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশ থেকে সমাগম ঘটে হাজার হাজার দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রভক্তের। উৎসবে আগত এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জরুরি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে টানা তিন দিন ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে “শেখ হাসিনা ফ্রি হেলথ ক্যাম্প”।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবং সমাজসেবক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই মানবিক ক্যাম্পটি পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রথমদিকে তাঁর পারিবারিক সামাজিক সংগঠন ‘সুফি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ এই ক্যাম্পটি পরিচালনা করলেও, বর্তমানে এটি সুফি ফারুকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘গুরুকুল’-এর অন্তর্গত হেলথ ক্লাব সফলভাবে পরিচালনা করছে।
মানবিক উদ্যোগের প্রেক্ষাপট
এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। এরই ধারাবাহিকতায় নিজ গ্রামে উৎসব চলাকালীন দর্শনার্থীদের জন্য তিনি এই বিশেষ চিকিৎসাসেবা ক্যাম্পের সূচনা করেন। এ প্রসঙ্গে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর জানান:
“কবিগুরুর জন্মোৎসবে আসা কোনো দর্শনার্থী বা মেহমান যেন কুঠিবাড়িতে এসে আকস্মিক অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। উৎসবে আসা যেকোনো অতিথি এখান থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারছেন।”
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য দর্শনের বাস্তবায়ন
সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর আরও উল্লেখ করেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য তাঁর অনন্য সৃষ্টি কমিউনিটি ক্লিনিক আজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত ও সফল। সরকারিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদানের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান আজ অনেক উন্নত। সরকারের এই যুগান্তকারী স্বাস্থ্যসেবা দর্শনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে শিলাইদহে এই ফ্রি হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন।
দর্শনার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা
উৎসবে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী তাঁর অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন:
“কুঠিবাড়িতে এসে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে সহকর্মীরা আমাকে ‘শেখ হাসিনা ফ্রি হেলথ ক্যাম্প’-এ নিয়ে আসেন। সেখানে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা পেয়ে আমি এখন সুস্থ বোধ করছি। পর্যটন এলাকায় এমন মানবিক উদ্যোগ দর্শনার্থীদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।”
ক্যাম্পে নিয়োজিত তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন:
“কুঠিবাড়িতে আসা মেহমানদের সেবা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সুফি ফারুক ভাইয়ের এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। প্রতিটি অঞ্চলে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতের চেহারা বদলে যাবে।”
এই প্রকল্পের ফেসবুক পাতা: https://www.facebook.com/SheikhHasinaHealthCamp
