শুভ জন্মদিন শেখ কামাল

১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল। তিনি ছিলেন একাধারে বীর মুক্তিযোদ্ধা, দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক, সংস্কৃতি অনুরাগী এবং আধুনিক বাংলাদেশের তারুণ্যের অগ্রদূত।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শেখ কামাল ছিলেন মুক্তিবাহিনীর অন্যতম প্রধান সংগঠক। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর এডিসি (ADC) হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি সামরিক বাহিনী ত্যাগ করে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর প্রিয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ফিরে যান এবং সাফল্যের সাথে বিএ (অনার্স) সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি শাহীন স্কুল থেকে এসএসসি (তৎকালীন ম্যাট্রিক) এবং ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি (ইন্টারমিডিয়েট) পাশ করেছিলেন।

খেলাধুলা ছিল শেখ কামালের ধ্যান-জ্ঞান। তিনি কিংবদন্তি ক্রীড়া সংগঠন ‘আবাহনী ক্রীড়াচক্র’-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই তৎকালীন বাংলাদেশের ফুটবল, ক্রিকেট ও হকিতে আধুনিক পেশাদারিত্বের ছোঁয়া লাগে।

  • নিজে একজন দুর্দান্ত ফাস্ট বোলার হিসেবে ‘আজাদ বয়েজ ক্লাব’-এর হয়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন।
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের বাস্কেটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন।
  • ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই প্রখ্যাত অ্যাথলেট সুলতানা খুকিকে ভালোবেসে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে করেন তিনি।

শুধু খেলার মাঠ নয়, দেশের সঙ্গীতাঙ্গনেও ছিল তাঁর সদর্প উপস্থিতি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে তিনি ছায়ানটে সেতারবাদন শিখেছিলেন। বাংলাদেশে আধুনিক পপ সঙ্গীতের সূচনা হয়েছিল তাঁরই হাত ধরে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী’-র মাধ্যমেই ফিরোজ সাঁই ও ফেরদৌস ওয়াহিদের মতো কিংবদন্তি পপ সঙ্গীতশিল্পীরা আলোর মুখ দেখেছিলেন।

এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যচর্চাকে বেগবান করতে তিনি ‘নাট্যচক্র’ নামক নাট্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন এবং মঞ্চ নাটকে নিয়মিত অভিনয়ও করতেন।

Leave a Comment