একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার প্রধান স্তম্ভ হলো তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবনের স্বপ্ন ছিল ‘সোনার বাংলা’ তথা একটি শোষণমুক্ত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়া। সেই স্বপ্নকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গত এক দশকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্ব অর্থনীতির নানা সংকট ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যথাযথ রাজস্বনীতি এবং সহায়ক মুদ্রানীতির সমন্বয়ে দেশে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ২০০৮-০৯ অর্থবছরের তুলনায় বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫ গুণ। গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬.৪৩ শতাংশ বজায় রেখে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি। মাথাপিছু আয় ১৭৫১ মার্কিন ডলারে উন্নীত হওয়া এবং দারিদ্র্যের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২১.৮ শতাংশে নামিয়ে আনা সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দর্শনেরই ফসল। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সাহস এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বৃহৎ উদ্যোগসমূহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে নতুনভাবে পরিচিত করেছে।
কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করতে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে প্রায় ৪.৬ গুণ। পাশাপাশি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনলাইন ই-চালান, iBAS++ এবং ইএফটি (EFT) পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুঁজিবাজারের সংস্কার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্সের প্রবাহে গতির সঞ্চার বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত দশ বছরের এই অগ্রযাত্রা কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক সাফল্য নয়, বরং এটি একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার শক্তিশালী ভিত্তিপ্রস্তর। বর্তমান প্রতিবেদনে সামষ্টিক অর্থনীতির এই অভাবনীয় সাফল্যের বিভিন্ন দিক ও পরিসংখ্যান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
অর্থ মন্ত্রণালয়
- বিশ্ব-অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে চলমান সঙ্কট এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে উদ্ভূত নানা প্রতিকুল পরিস্থিতি সত্ত্বেও যথোপযুক্ত রাজস্বনীতি ও সহায়ক মুদ্রানীতির প্রভাবে দেশে সমষ্টিক অর্থিৈনক স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য বজায় রয়েছে।
- এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ও রয়েছে সুস্থিত।
- গত দশ বছরে গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৪৩ শতাংশ। এছাড়া, মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৭৫১ মার্কিন ডলারে, রিজার্ভ প্রায় ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, রেমিট্যান্স প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
- দারিদ্রের হার ২১.৮ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের এই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
- প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে কর্মোদ্দীপনা সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বেতন-ভাতাদি ও অবসরকালীন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করে।
- ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
- গত দশ বছরে বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫ গুন বা ৪৯৪ শতাংশ (অর্থবছর ২০০৮-২০০৯ এর তুলনায়)। সরকারি অর্থ ও বাজেট বাস্তবায়ন আইন ২০০৯ অনুযায়ী মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামোর গভীরতা বৃদ্ধিতে অর্থ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
- ৫ (পাঁচ) টাকার নোটকে সরকারি টাকায় রুপান্তর করা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের হার বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৈদেশিক সহায়তার অঙ্গীকার এবং ব্যবহার দু’টোই বেড়েছে।
- সবদিক বিবেচনায় বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি একটি অনন্য মাত্রায় উন্নীত হয়েছে এবং এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে শক্তিশালী বেসরকারি খাত।
বাজেটের ক্রমবর্ধমান আকার বৃদ্ধি
(কোটি টাকায়)

অব্যাহত সমষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
- জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ৬.০১ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.৮৮ শতাংশ। একই সাথে মাথাপিছু জাতীয় আয় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মার্কিন ডলার হতে বেড়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হয়েছে ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার।
- বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ২০০৭-০৮ অর্থবছরের ১২.৩ শতাংশের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫.৭ শতাংশে নেমে এসেছে।।।
- ২০১৮ সালে দারিদ্র্যের হার ২১.৮ শতাংশে ও অতি দারিদ্র্যের হার ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০০৯ সালে দারিদ্রা ও অতিদারিদ্র্যের হার ছিল যথাক্রমে ৩৫.০-২.০ শতাংশ।
- সরকারি দ/জিডিপি অনুপাত ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সরকারি বায় ৪০.৬ শতাংশ মতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩০০ শতাংশে নেমে এসেছে।
- ২০০৭-০৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি বায় ৪.১ গুণ বৃদ্ধি।
- সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা হতে ৪.৬ গুণ বাড়িয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬৪ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায় বৃদ্ধি ।
- সরকারের সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগকে মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামোর আওতায় আনয়ন এবং সরকারের অ্যাধিকার বিবেচনায় চাহিদা ভিত্তিক সম্প সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৯ প্রণয়ন সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কার কৌশল ২০-২১ ।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি
(শতকরা হার)

- অর্থ বিভাগে পিপিপি ইউনিট স্থাপন PPTAF Fund নামক ঘূর্ণায়মান তহবিল গঠ
- অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক কিন্তু আর্থিকভাবে অলাভজনক পিপিপি প্রকল্পকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক প্রকল্পে রুপান্তরের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক শতকরা ৩০ ভাগ Viability Gap Financing (VGP) এর সংস্থাপন রাখা।
- পিপিপি উদ্যোগে গৃহীতব্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন সুবিধা (ইক্যুরিটি/লোন) প্রদানের লক্ষ্যে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনবিশিষ্ট। নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (Bangladesh Infrastructure Finance Fund Limited (BIFFL) প্রতিষ্ঠা (বর্তমান পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২০৫৯ কোটি টাকা)।।
- (Bangladesh Public Private Partnership (PPP) Act প্রণয়ন
- Financial Reporting Act প্রণয়ন
- অন-লাইনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ ও বেতন বিল দাখিল এবং ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইফটি) পদ্ধতিতে বেতন প্রণয়ন।
- পেনশনারদের ডাটাবেজ তৈরি এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ইএফটি’র মাধ্যমে প্রদান।
- সরকারি খাতে অর্থ জমাদানের জন্য অনলাইন ই-চালান পদ্ধতি প্রবর্তন।
- (Integrated Budget and Accounting System (iBAS++ ) নামক ইন্টারনেট ভিত্তিক, কেন্দ্রীভূত ও অত্যাধুনিক সিস্টেম চালুকরণ।
- আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত (Government Finanacial Management Information System (GEMIS) এর আলোকে বাংলাদেশ সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ শ্রেণিবিন্যাস। পদ্ধতি (Budget and Accounts Classification System BACS) প্রবর্তনসহ iBAS++ ) কোড চালুকরণ এবং এর আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন ।
- সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ এবং জি-টু-পি পদ্ধতিতে সুবিধাভোগীদের পছন্দমত ব্যাংক একাউন্ট অথবা মোবাইল হিসাব ইএফটির মাধ্যমে সরাসরি ভাতা প্রদান।
- আউটসোর্সিং (Outsourcing) সংক্রান্ত নীতিমালা ২০০৮ নীতিমালা প্রণয়ন ও হালনাগাদকরণ ।
- সকল বেতন গ্রেডে মূল বেতন প্রায় দ্বিগুন করা এবং মূল বেতনের ৩.৭৫% হতে ৫% হারে ক্রমপুঞ্জিভূতভাবে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সুবিধা প্রদান;
- সকল কর্মচারীর জন্য আহরিত মূল বেতনের ২০% হারে বাংলা নববর্ষ ভাত চালুকরণ।
- স্ব-শাসিত (Public Bodies) এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহে ছুটিসহ শান্তি ও বিনোদন ভাতা চালুকরণ।

- কর্মচারীদের অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে ১২ মাসের ছুটি নগদায়নের স্থলে ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুবিধা প্রদান এবং আনুতোষিকের হার প্রতি ১(এক) টাকার বিপরীতে ২০০/- টাকার স্থলে ২৩০/- টাকায় উন্নীতকরণ।
- শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মচারীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী সন্তানকে আজীবন এবং বিপত্নীক স্বামীকে সর্বাধিক ১৫ বছর পারিবারিক পেনশন সুবিধা এবং মাসিক চিকিৎসা ভাতা ও বছরে দু’টি উৎসব ভাতার সুবিধা প্রদান।
- পেনশনযোগ্য চাকুরিকাল ১০-২৫ বছর এর স্থলে ৫-২৫ নির্ধারণ এবং পেনশনের হার সর্বশেষ আহরিত বেতনের ৮০ শতাংশের পরিবর্তে ৯০ শতাংশ উন্নীতকরণ।
- সরকারি পেনশন এবং পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য মাসিক পেনশনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট চালুকরণ।
- সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পারিবারিক পেনশন ৩০ শতাংশ হতে বাড়িয়ে বেসামরিক কর্মচারীদের ন্যায় শতভাগ উন্নীতকরণ।
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ প্রान নীতিমালা, ২০১৮ প্রণয়ন।
- মোট ১৫ লক্ষ লোকের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৫-১৬ সাল থেকে ১০ বছর মেয়াদী (Skills for Employment Investment Program (SEIP) বাস্তবায়ন। • প্রকল্পের আওতায় পরিবহন খাতে এক লক্ষ দক্ষ ও পেশাদার গাড়িচালক তৈরির বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
- দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন অর্থের যোগান নিশ্চিত করতে ( National Human Resource Development Fund (NHRDF) গঠন।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ
- গত ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরের রাজস্ব আদায় ছিল ৪৭,৪৩৫.৬৬ কোটি টাকা। ২০১৬- ১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৭১,৬৫৬.৪৪ কোটি টাকা:
- গত দশ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯৮- ১৯% এবং গড় প্রবৃদ্ধি ১৭.১৫%
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর ও জিডিপির অনুপাত ৯.৪৬% এ উন্নীতকরণ:
- ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষমাত্রা : ১৮৫,০০০.০০ কোটি টাকা ও আহরণ : ১,৭১,৬৫৬.৪৪ কোটি টাকা।
- ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১.৭৪%;
- গত দশ বছরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে-৬ বার ।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ
- ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জুন, ২০১৮ পর্যন্ত বৈদেশিক সহায়তায় অর্জিত মোট প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ১৪.৬১২.১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ চুক্তিবাদ দিলে স্বাধীনতা পরবর্তীতে এটিই সর্বোচ্চ পরিমাণ কমিটমেন্ট।
- ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছর পর্যন্ত অর্জিত বৈদেশিক সহায়তায় কমিটমেন্টের মোট পরিমাণ ৭০.২৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থ্যাৎ প্রতি অর্থবছরে গড়ে প্রায় ৭,৮১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কমিটমেন্ট অর্জিত হয়েছে।
- ২০০০-০১ হতে ২০০৮-৯ অর্থবছর পর্যন্ত অর্জিত কমিটমেন্টের মোট পরিমাণ ১৭,৪৫৮ মিলিয়ন ডলার, অর্জিত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি অর্থবছরে গড়ে প্রায় ১.৯৪০ মিলিয়ন ডলারের কমিটমেন্ট ২০০০-২০০১ হতে ২০০৮-০৯ অর্থবছর পর্যন্ত অর্জিত কমিটমেন্টের তুলনায় ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত অর্জিত বৈদেশিক সহায়তায় কমিটমেন্টের মোট পরিমাণ প্রায় ৫২,৮৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩০০%) বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৈদেশিক সহায়তায় ডিসবার্সমেন্ট
- ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জুন, ২০১৮ পর্যন্ত বৈদেশিক সহায়তায় ডিসবার্সমেন্টের পরিমাণ ৬২৯০.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রভিশনাল) যা স্বাধীনতার পরে সর্বাধিক:
২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছর পর্যন্ত অর্জিত বৈদেশিক সহায়তায় ছাড়ের ডিসবার্সমেন্টের মোট পরিমাণ ২৮.৬০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ্যাৎ প্রতি অর্থবছরে গড়ে প্রায় ৩,১৭৮ মিলিয়ন ডিসবার্সমেন্টে অর্জিত হয়েছে: - ২০০০-০১ হতে ২০০৮-৯ অর্থবছর পর্যন্ত অর্জিত ডিসবার্সমেন্টের মোট পরিমাণ ১৪,০২৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রতি অর্থবছরে গড়ে প্রায় ১.৫৫৮ মিলিয়ন ডলারের ডিসবার্সমেন্টে অর্জিত হয়েছে:
- ২০০০-২০০১ হতে ২০০৮-০৯ অর্থবছর পর্যন্ত অর্জিত ডিসবার্সমেন্টের তুলনায় ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত অর্জিত বৈদেশিক সহায়তায় ডিসবার্সমেন্টে মোট পরিমাণ প্রায় ১৪.৫৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১০৪%) বৃদ্ধি পেয়েছে।
এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা
- ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তায় বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫২,০৫০ কোটি টাকা, যা মোট আরএডিপি আকারের ৩৬%।
- ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তায় বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২১৭,০৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি অর্থবছরে গড়ে প্রায় ২৪,১১৬ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য বাবদ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
- ২০০০-০১ হতে ২০০৮-৯ অর্থবছর অর্থবছরে সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা হতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬৭,৯০০ কোটি টাকা। অর্থ্যাৎ প্রতি অর্থবছরে গড়ে প্রায় ৭,৫৪৫ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
- ২০০০-০১ হতে ২০০৮-৯ অর্থবছর অর্থবছরে সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা হতে বিনিয়োগের তুলনায় ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিমান, প্রায় ১৪৯,১৩৭ কোটি টাকা (২২০%) বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ
- ২০১৭ – ১৮ অর্থবছরে ঋণ পরিশোধ বাবদ মোট ১,৩৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমতুল্য ১১.৪৫৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। যার মধ্যে আসল বাবদ ১০৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমতুল্য ৯,০২৬ কোটি টাকা এবং সুদ বাবদ ২৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমতূল্য ২,৪২৭ কোটি টাকা:
- ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ বাবল মোট ৯,৮৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। যার মধ্যে আসল বাবদ ৭,৯৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সুদ বাবদ ১৯০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান
- আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের মাধ্যমে ঋণ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং পুজিবাজার সংযত করে বিধান করা হয়েছে। বীমা আইন ২০১০, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ আইন এবং এশিয়ান রিইন্সুরেন্স
- কর্পোরেশন আইন ২০১৩ জারিসহ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট ও ১০টি নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
মুসক সংক্রান্ত ভ্যাট
- ২০০৭-০৮ অর্থবছরে স্থানীয় পর্যায়ে আহরণকৃত ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ১৫৪০০.৫২ কোটি টাকা এবং ২০১৬ অর্থ বছরে স্থানীয় পর্যায়ে আহরণকৃত ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৬৩৫৬২.৪২ কোটি টাকা (প্রায়);
- মূল্য সংযোজন কর আইন ও তদাধীন প্রণীত বিধি বিধান সহজীকরণ করা হয়েছে।
- ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের আওতায় ঘরে বসেই অনলাইন ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
- করদাতাগণ যেন অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন ও অর্থ পরিশোধ করতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
- ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ডিজিটালাইজড কর প্রশাসন গঠনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের cost of doing thesiness উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে এবং কর প্রশাসনের স্বচছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
- মোবাইলের সিম/রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে প্রাপ্ত সমূদয় অর্থের উপর ১% উন্নয়ন সারচার্জ আরোপের লক্ষ্যে উন্নয়ন সারচার্জ ও লেডী (আরোপ ও আদায়) আইন, ২০১৫ মহান জাতীয় সংসদে পাশ করা হয়েছে।
- পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১% পরিবেশ উন্নয়ন সারচার্জ ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য ১% তথ্য প্রযুক্তির এবং তামাক ও তামাকজাত পণ্যের উপর ১% স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে।
- রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিক কতিপয় খাতকে (যথা: রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, বেজা, হাইটেক পার্ক,পিপিপি ইত্যাদি) ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
- মূল্যসংযোজন কর বিষয়ে অধিকতর সেবা প্রদানের লক্ষ্যে (E-learning 1 VAT Line) চালু করা হয়েছে। এছাড়া, ভ্যাট বিষয়ক যে কোন প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব প্রদানের জন্য ১৬৫৫৫ নম্বরে কল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
- করদাতাদের সচেতন ও রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় করদাতাদের সাথে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় ভ্যাট দিবস ও জাতীয় ভ্যাট সপ্তাহ উদযাপন করা হয়েছে।
- বিগত দশ বছরে করদাতা সেবা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগসমূহ।
- সরকারি ও বেসরকারি এতিমখানার ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান।
- রোগী ও মৃতদেহ পরিবহনের কাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান। • জনস্বার্থের গুরুত্ব বিবেচনায় কতিপয় জীবন রক্ষাকারী ঔষধের ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি, প্রদান।
- পাটজাত দ্রব্যকে উৎপাদন, ব্যবসায়ী ও যোগদানের পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান ।
- কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট পোকমাকড় দমন ও বালাইনাশক কার্যক্রমকে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান।
- ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচিকে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান ।
- আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম এর ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভাটি অব্যাহতি প্রদান। এবং
- আহছানিয়া মিশন ক্যানসার এন্ড জেনারেল হসপিটালকে কতিপয় ক্ষেত্রে এটিভি অব্যাহতি প্রान।
পুঁজিবাজার
- স্টক এখচেঞ্জসমূহের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লেনদেনের অধিকার পৃথক করার
- লক্ষ্যে এবচেঞ্জেস ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ প্রণয়ন।
- ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ আইন, ২০১৪ প্রণয়।
- পুঁজিবাজারের অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে Securities and Exchange Ordinance, 1969 সংশোধন।
- বিএসইসিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ সংশোধন।
নতুন বিধি প্রণয়ন
- Securities and Exchange Commission (Private Placement of Debt Securities) Rules, 2012.
- Bangladesh Securities and Exchange Commission (Research Analysis) Rules, 2013.
- Bangladesh Securities and Exchange Commission (Alternative Investment) Rules, 2015.
- Bangladesh Securities and Exchange Commission (Exchange Traded Fund) Rules, 2016,
- বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিনিয়োগ শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ) বিধিমালা, ২০১৬।
- Bangladesh Securities and Exchange Commission (Qualified Investor Offer by Small Capital Companies) Rules, 2016,
- বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটলমেন্ট) বিধিমালা, ২০১৭ ।
- বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার অর্জন,
- অধিগ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০১৮।

বিদ্যমান বিধি সংশোধন
- Securities and Exchange Rules, 1987.
- সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ) বিধিমালা, ১৯৯৫।
- Credit Rating Companies Rules, 1996.
- সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬।
- সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০।
- সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১।
- Securities and Exchange Commission (Issue of Capital) Rules, 2001.
- Securities and Exchange Commission (Over-the-Counter) Rules, 2001.
- Securities and Exchange Commission (Rights Issue) Rules, 2006.
- বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা, ২০১৪ ।
- Bangladesh Securities and Exchange Commission (Public Issue) Rules, 2015.
নতুন প্রবিধান প্রণয়ন
- Dhaka Stock Exchange (Listing Regulations, 2015,
- Chittagong Stock Exchange (Listing) Regulations, 2015
বিদ্যমান প্রবিধান সংশোধন
- ডিপজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা, ২০০৩
নতুন নীতিমালা প্রণয়ন
- সরকারি কোম্পানিসমূহের সম্পদ এবং দায় পুনঃমূল্যায়ন সংক্রান্ত।
- কোন ইস্যুয়ার কোম্পানি কর্তৃক কোন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস ফার্মকে ধারাবাহিকভাবে ৩ (তিন) বছরের বেশি অডিটর হিসাবে নিয়োগ না করা বিষয়ক।
- পাবলিক অফারের পূর্বে শেয়ারের প্রাইভেট প্লেসমেন্টের শর্তাবলী বাধ্যতামূলকভাবে পরিপালন সংক্রান্ত।
- আইপিও এর জন্য আবেদনকৃত কোম্পানির সম্পদ মূল্যায়ন বিষয়ক।
- পুঁজিবাজার সংক্রান্ত শিক্ষা ও গবেষণার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট গবেষণা এনডাউমেন্ট তহবিল পরিচালনা নীতিমালা, ২০১৭।
নতুন গাইডলাইনস প্রণয়ন
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির অডিটরদের প্যানেল তৈরির লক্ষ্যে গাইডলাইনস্ ।
- মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ড হতে বে-মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে রূপান্তরের গাইডলাইনস্ ।
- ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস্ ইস্যু সম্পর্কিত গাইডলাইনস।
- যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য গাইডলাইনস।
- কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইনস্ যুগোপযোগী করে সংশোধন করত: নতুন কর্পোরেট গর্ভন্যান্স কোড প্রণয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়/বিভাগ
- ২০১৪ সালে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এ পর্যন্ত ১৪০টি একনকে সভায় সর্বমোট ১১৭২টি প্রকল্প অনুমোদতি হয়েছে।
- প্রকল্পগুলোর সর্বমোট প্রাক্কলতি ব্যয় ১৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা।
- এর মধ্যে জিওবি ৮ লক্ষ ৮ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৫ লক্ষ ২০ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা।
- এছাড়া ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আরএডিপি এবং ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরের এডিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
- ১০ বছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে ১৭ লাখ ৮২ হাজার ১০৪ কোটি টাকার।
- মোট ২ হাজার ১৩৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে এ অর্থ অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে গত তিন অর্থবছরই অনুমোদন হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ২২ হাজার ৯০৬ কোটি টাকার প্রকল্প, গত ১০ বছরে অনুমোদিত বায়ের যা প্রায় ৫৭ শতাংশ।
- দেশে বড় বাজেটের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে থাকে একনেক। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় অর্থবছরটির প্রথম একনেক সভা।
- ২০০১-২০০৮ মেয়াদের তুলনায় ২০০৮-১৮ মেয়াদে ADP এর আকার প্রায় পাঁচগুণেরও বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে।

- আর্থ-সামাজিক বিষয়ের উপর গবেষণার জন্য পরিকল্পনা বিভাগের সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ কর্তৃক ২০০৮-২০১৭ মেয়াদে ৪৬৬ জন গবেষককে আর্থিক মঞ্জুরি প্রদান করা হয়। দিন বদলের পদক্ষেপ
- জাতীয় দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্র-২ (সংশোধিত) ২০০৯-১১ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২১) প্রণয়ন ও তা মূল্যায়নের কাজ চলামান রয়েছে।
- কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের
- দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (2021-20৪১) প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে।
- ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-১৫) প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই ২০১৫ হতে জুন ২০২০ মেয়াদে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
- “প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, নাগরিক ক্ষমতায়ন (Accelerating Growth, Empowering Citizens) এর আলোকে সপ্তম পঞ্চমবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) প্রণয়ন করা হয়েছে, এবং বাংলাদেশের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল (National Social Security Strategz of Bangladesh) প্রণয়ন।
- ২০১৫ উত্তর উন্নয়ন এজেন্ডা প্রণয়ন; এবং জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০১০- 2021 ) প্রণয়ন
- একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ এর অনুমোদন করা হয়েছে।
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গৃহীত কার্যক্রম
- Millennium Development Goals: Bangladesh Progress Report-2009 * ও প্রকাশ।
- Millennium Development Goals: Need Assessment Costing 2009-2015 Bangladesh প্রণয়ন ও প্রকাশ।
- MDG Action Plan (51 Upazillas) প্রণয়ন ও প্রকাশ।
- MDG Financing Strategy for Bangladesh প্রণয়ন ও প্রকাশ।
- টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগ
- টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহের (এসডিজি) প্রায় ৮২% সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তা অর্জনের প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখা হয়েছে।
- Mapping of Ministries by Targets in the implementation of SDGs aligning with 7th Five Year Plan প্রণয়ন ও প্রকাশ।
- Data Gap Analysis for Sustainable Development Goals: Bangladesh Perspective প্রণয়ন ও প্রকাশ।
- সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন পদ্ধতি সংক্রান্ত পরিপত্র প্রকাশ। এবং সামাজিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নীতিমালা এবং কর্মকৌশল ২০১৭ (প্রথম সংস্করণ) প্রকাশ করা হয়েছে।
- সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন যাতে নির্বিঘ্নে হয় সেজন্য যুক্ত করা হয়েছে ফার্স্ট ট্রাকে। ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়াল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ, এলএনজি টার্নিমাল নির্মাণ, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প।
পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই এক দশক ছিল বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার এবং বিশ্বমঞ্চে অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের সময়। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, সহায়ক মুদ্রানীতি এবং কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ফলে বাংলাদেশ আজ একটি উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশে পরিণত হয়েছে। বাজেটের আকার ৫ গুণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং নিজস্ব অর্থায়নে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ এখন আর অন্য দেশের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল নয়।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি সুস্থিত রাখা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার মাধ্যমে সরকার যে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ধারা তৈরি করেছে, তা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথকে প্রশস্ত করেছে। বিশেষ করে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন, পুঁজিবাজারের সংস্কার এবং ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ এর মতো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করেছে। গত দশ বছরের এই অভাবনীয় সমৃদ্ধি কেবল একটি রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং এটি ১৬ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির এক প্রামাণ্য দলিল। এই দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশ আজ ‘স্মার্ট’ ও ‘উন্নত’ রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
