সহযোদ্ধা আব্দুল হান্নানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী: দক্ষিণ মূলগ্রামে সুফি ফারুকের শ্রদ্ধা ও শোকাতুর পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের কৃতি সন্তান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) অধিদপ্তরের মেধাবী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হান্নান-এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ ৪ জুলাই ২০১৮ সকালে মরহুমের নিজ গ্রাম দক্ষিণ মূলগ্রামে তাঁর কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও তথ্যপ্রযুক্তিবীদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর

স্মৃতির পাতায় আব্দুল হান্নান

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC)-এর প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত আব্দুল হান্নান ছিলেন পান্টি এলাকার শিক্ষিত যুবসমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। ২০১৭ সালের ৩০ জুন এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি অকালে প্রাণ হারান। ২০১৭ সালের ২৬ জুন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থল ঢাকায় ফেরার পথে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া সড়কের এক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

একটি অসম্পূর্ণ স্বপ্নের গল্প

মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগে, ২৮ জুন ২০১৭ তারিখে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের বাঁশগ্রামের বাসভবনে এক অনুষ্ঠানে হান্নান উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে তিনি এলাকার তরুণদের আইসিটি সেক্টরে দক্ষ করে তোলা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে সুফি ফারুকের সাথে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন কণ্ঠে লিখেন:

“হান্নান অনেকদিন ধরে আমার সাথে দেখা করার কথা বলছিল। গত ২৮ তারিখ আমাদের বাসার অনুষ্ঠানে এসে অনেকক্ষণ ধরে এলাকার কাজ নিয়ে ওর পরিকল্পনার কথা শোনাল। তখন বুঝতে পারিনি ওর সাথে আর কোনদিন দেখা হবে না! এই বাইক জিনিসটা অনেক প্রিয় মানুষের প্রাণ নিয়ে নিলো। হাইওয়েতে পরিচিত কাউকে বাইক চালাতে দেখলে আমি গালমন্দ করি, কারণ একে একে প্রিয় মুখগুলো হারিয়ে যাওয়ার বেদনা সহ্য করা কঠিন।”

পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও ফাতেহা পাঠ

আজকের সফরে সুফি ফারুক মরহুম আব্দুল হান্নানের শোকাতুর বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সাথে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, হান্নান কেবল একজন সরকারি কর্মকর্তাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্র এলাকার আইসিটি বিপ্লবের স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর এই অকাল প্রস্থান পান্টি ইউনিয়নের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এরপর তিনি মূলগ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে হান্নানের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এলাকায় শোকের ছায়া

মেধাবী, নম্র এবং পরোপকারী হিসেবে পরিচিত আব্দুল হান্নানের মৃত্যুবার্ষিকীতে মূলগ্রাম ও পান্টি এলাকায় আজও শোকের ছায়া বিদ্যমান। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্থানীয় তরুণরা।

 

টিম SFIA | ৪ জুলাই, ২০১৮