একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের উন্নয়ন দর্শনের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, যেখানে ‘কাউকে পেছনে ফেলে রাখা হবে না’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক দশকে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (Social Safety Net) খাতে যে বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটেছে, তা আজ বিশ্বের কাছে একটি অনন্য মডেল।
গত এক দশকে এ খাত কেবল ত্রাণ বা অনুদান বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি একটি সুসংগঠিত আইনগত ও কাঠামোগত ভিত্তি লাভ করেছে। ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল ২০১৫’ প্রণয়ন থেকে শুরু করে শিশু আইন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের মতো সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপসমূহ এ সময়েই গৃহীত হয়েছে।
শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তিকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চালু করা হয়েছে G2P (Government to Person) পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ৫৬ লক্ষাধিক ভাতাভোগী সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণনির্ভরতা কমিয়ে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করায় বাংলাদেশ আজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে রোল মডেল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সঞ্চয় মডেল চালু করে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য বিমোচনের মূল স্রোতে যুক্ত করা হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান রক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নে গত দশ বছরের এই অভাবনীয় অগ্রগতি বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সমাজকল্যাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পল্লী উন্নয়ন খাতের সেই সব মাইলফলক অর্জন ও আগামীর সমৃদ্ধির পথরেখা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হলো।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম জাতিগঠনমূলক মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয় দেশের দুঃস্থ, দরিদ্র, অবহেলিত, অনগ্রসর ও সুযোগ সুবিধাবঞ্চিত ও সমস্যাগ্রস্ত পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদান করছে। লক্ষ্যভুক্ত এ সকল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করে সমাজকল্যান মন্ত্রণালয় দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সামাজিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।
সুশাসনে আইন ও নীতির উন্নয়ন
- জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল ২০১৫ প্রশান
- ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি (পুনর্বাসন) আইন, ২০১১ প্রণয়ন।
- শিশু আইন, ২০১৩ প্রবর্তন (জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুসরণে)।
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ (জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী অধিকার সনদ অনুসরণে)।
- পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ প্রণয়ন ।
- নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
- নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট বিধিমালা ২০১৫ (নতুন আইন অনুযায়ী করা হয়েছে)।
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিধিমালা, ২০১৫ (নতুন আইন অনুযায়ী করা। হয়েছে)।
- জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা, ২০১৩ প্রণয়ন। প্রবীণ ব্যক্তিদের সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে ঘোষণা প্রদান ।
- হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি
সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমসমূহের বাস্তবায়নে উন্নয়ন
- ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বয়স্কভাতা যাতে জন প্রতি মাসিক ২৫০ টাকা হারে ২০ লক্ষ বয় ব্যক্তি/ উপকারভোগীর জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬০০.০০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা ৪০ লক্ষ উপকারভোগীর জন্য জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে ২৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে । বিগত ১০ বছরে (২০০৯-১৮) বর্তমান সরকার বয়স্কভাতা খাতে ১৪১৯৯.৯ কোটি টাকা বিতরণ করেছেন।
- ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা খাতে জন প্রতি মাসিক ২৫০ টাকা হারে ৯ লক্ষ বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা নারীর জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ১৪ লক্ষ জনের জন্য বরাদ্দ ৮৪০ কোটি টাকা। বিগত ১০ বছরে (২০০৯-১৮) বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা খাতে ৫২৬৮-২২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে ।
- ২০০৮-০৯ অর্থবছরে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীভাতা খাতে জন প্রতি মাসিক ২৫০ টাকা হারে ২ লক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাথাপিছু মাসিক ৭০০ টাকা হারে ১০ লক্ষ জনের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা। বিগত ১০ বছরে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীভাতা খাতে ৩২৬৭.৬১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
- ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি খাতে ১৩ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ লক্ষ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য বাজেট ৮০ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা। বিগত ১০ বছরে (২০০৯-১৮) প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি খাতে ১১৭১.৫৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে ।
- বেসরকারি এতিমখানা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন যাবত অনুদান (ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট) প্রদান করে আসছে। ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে ৩,০২২টি বেসরকারি এতিমখানার ৪৬.৯৫০ জন এতিমের মধ্যে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বাবদ ৩৭ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে এ খাতে ৮৬ হাজার ৪০০ শিশুর জন্য মোট বরাদ্দ রয়েছে ১০৩ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা। বিগত ১০ বছরে (২০০৯-১৮) ক্যাপিটেশন অ্যান্ট বাবদ ৬৬৫.২০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
- ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে সকল ভাতাসমূহ ভাতাভোগীর নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।
- ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে অর্থাৎ G2P (Government to Person) পদ্ধতিতে ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে। ক্রমান্বয়ে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হবে এবং সকল ধরনের ভাতাভোগীকে G2P পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম এর মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাভোগীদের কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ তৈরি করা হয়েছে, যাতে ৫৬ লক্ষ ভাতাভোগীর তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে।
- দেশব্যাপী ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে অটিজম রিসোর্স সেন্টার চালু, যা থেকে বছরে প্রায় ৪ লক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরাসরি সেবা পাচ্ছে।
- ৩২টি মোবাইল থেরাপি ভ্যানের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।

- প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ১৬ লক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্য সংগ্রাহ ও ডাটাবেইজ তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে করিয়ার ইমপ্লান্ট সেবা প্রদানের মাধ্যমে মেধাবী গরীব শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মোট ৩২৪ জনকে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সেবা প্রদান করা হয়েছে যার আনুমানিক খরচ প্রায় ৩৭.৩২ কোটি টাকা ।
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীর আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে শুর হয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ২, ৯৫৫ জনকে মোট ১১২৮.৮২ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে ।
- চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সারাদেশে ৩০,০০০ জন শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে শুরু হয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৪৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর (হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠা ৭৬ হাজার ব্যক্তি প্রশিক্ষণ, বিশেষ ভাতা এবং শিশুরা উপবৃত্তি পাচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ২৭ কোটি টাকা এবং মোট উপকারভোগী ৩৫,৯৩২ জন।
- পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত দুস্থ, অসহায়, অবহেলিত, অনগ্রসর ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠিকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে পল্লী সমাজসেবা (আরএসএস) কার্যক্রম, পল্লী মাতৃকেন্দ্র (আরএমসি), দক্ষ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং আশ্রয়ণ কার্যক্রম এ চারটি কর্মসূচি পরিচালনা করে। যাচ্ছে। শুর হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত সর্বমোট পুঞ্জিত বিতরণ ৮৭০ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা। শুর হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৫ লক্ষ ৪১ হাজার ৭৮১ জন।
- পথশিশুদের অধিকার সুরক্ষার জন্য স্থায়ীভাবে ১২টি শেখ রাসেল প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। যাতে ২৩টি আবসস্থলে ২০১২-১৩ অর্থ বছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ১০৪৯ জন (৪৪৩৩ জন বালক ও ৪৬১৬ জন বালিকা) শিশুকে সুরক্ষা। প্রদান করা হয়েছে।
- গ্রামীন দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ৪১৯ টি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে রোগকল্যাণ সমিতির মাধ্যমে হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
- সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ৮টি বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন করে জনগণের দোরগোড়ায় সমাজসেবাকে পৌঁছে দেওয়া সহজতর করা হয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ
- বিগত ১০ বছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় মোট ৩২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে যাতে জিগুবি অনুদান ৬৩৫.৮৪ কোটি টাকা ।
- ৮টি শিশু পরিবার এর হোস্টেল ভবন নবনির্মিত হয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩৭টি হোস্টেল নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আরও ৩৭টি হোস্টেল নির্মাণ চলমান রয়েছে ।
- প্রতিটি জেলায় সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১ম পর্যায়ে ২২টি জেলা। সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ চলমান রয়েছে ।
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতাল ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ এর জন্য পৃথক পৃথক ১৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮টি হাসপাতাল ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বিগত ১০ বছরে মোট ৪৫৩.৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। তন্মধ্যে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল বিশেষায়িত হাসপাতাল এন্ড নার্সিং কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল, ফিফটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কিডনি ফাউন্ডেশন হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট, নীলফামারী ডায়াবেটিক হসপিটাল, সোনাইমুড়ি অন্ধ কল্যাণ সমিতি আই হসপিটাল, কমিউনিটি হেলথ এন্ড হার্ট হাসপাতাল-পাবনা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।
- Construction of Bangladesh Mohila Samity Complex Building for the Underprivileged Women in the Society- শীর্ষক প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২৪৮০.৯৪ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে জিওবি খাতে ১৪৫৯, ৭৮ লক্ষ টাকা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রদান করে ।
- জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য সাভার থানাধীন বারইয়াম ও দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর মৌজার ১২.০১ একর খাস জমির উপর প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে ।
বিগত ১০ বছরে (২০০৯ হতে ২০১৮) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ও অর্থ বিতরণের পরিমাণ


- বিগত ১০ বছরে (২০০৯ হতে ২০১৮) মোট উপকারভোগীর সংখ্যা = ৪১৬.৮৪ লক্ষ জন এবং অর্থ বিতরণের পরিমান = ১৯১৪০.২৯ কোটি টাকা
- চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা= ৬৭ লক্ষ জন এবং বরাদ্দ = ৪৩১৬ কোটি টাকা:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ
- বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিদ্যমান ত্রাণ ও পুনর্বাসন নির্ভর পদ্ধতির পরিবর্তে একটি যুগোপযোগী ও সমন্বিত দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ছোট ছোট (১২ মি: দৈর্ঘ্য পর্যন্ত) ৪৬৮টি ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ। সমতল গ্রামীণ রাস্তায় (১২ মি: দৈর্ঘ্য পর্যন্ত) ৫৬৪৬টি ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ। কম-বেশী ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ১০-৪৪৫টি ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ।
- গ্রামীণ রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে ২০৭৮ কিলোমিটার রাস্তা হেরিং বোন বক্তকরণ। ১০৬৭.৫০ কিলোমিটার এইচবিবি রাস্তা নির্মাণের কাজ ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে সম্পন্ন হবে।
- ২৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ। ৪২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র আহ্বান।
- ১০০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ। ২২০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন।
- ভূমিকম্পে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজে ব্যবহারের জন্য ৩,০৩৫টি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ক্রয়া । মহাখালীস্থ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন ৭তলা হতে ১০ তলা পর্যন্ত উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
- ৩০টি ট্রাক মাউন্টেড স্যালাইন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সংগ্রহ।
- কক্সবাজার জেলার পাহাড়ধসের ঝুঁকি-মানচিত্র প্রণয়ন। বজ্রপাতে জান-মালের ক্ষরাক্ষতি হ্রাসে সারাদেশে ৩১ লক্ষ তাল বীজ রোপন।
- জাতীয় বিল্ডিং কোডে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ ও বজ্রপাত নিরোধক দত্ত স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট
স্থাপন। - ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এর নতুন ৩৯৩টি ইউনিট গঠন করে ৫,৮৯৫ জন নতুন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫,২৬০ জনে।
- ভূমিকম্প প্রবণ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ ৯টি জেলা শহরের জন্য মাইক্রোজোনেশন ম্যাপ ও আপদকালীন পরিকল্পনা তৈরি।
- ৩২,০০০ আরবান ভলান্টিয়ার তৈরি ও প্রশিক্ষণ দান।
- গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/কাবিটা) সাধারণ ও বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ২০০৮-০৯ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ৩,৪২,৪৬১টি প্রকল্পের অনুকূলে ১,৬১,৭১,১০০ জন উপকারভোগীদের মাঝে ২০.৩০ মে.টন খাদ্য শস্য ও ৪১৬৬.৩২ কোটি টাকা বিতরণ।
- গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ২০,৮৪,০০৫টি প্রকল্পের অনুকূলে ১,৪৭,৩০,৩৫০ জন উপকারভোগীদের মাঝে ২০,৫৩,৫৬৪ মে. টন খাদ্য শস্য ও ৪৩৫২.৩১ কোটি টাকা বিতরণ।
- মানবিক সহায়তা কর্মসূচির (জি আর, খাদ্যশস্য টাকায়) আওতায় ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছর পর্যন্ত ১.৫৮ কোটি জন উপকারভোগীদের মাঝে ২.৫২৭ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকার খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।
- মানবিক সহায়তা কর্মসূচির (নগদ অর্থ জি আর) আওতায় ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ৪২,৯৩,৯৬০ জন উপকারভোগীদের মাঝে ১৯৩ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
- গৃহনির্মাণ মঞ্জুরী (টাকা) বরাদ্দ বাবদ ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ৫,২৪,০০০ জন উপকারভোগীদের মাঝে ১০২ কোটি টাকা বিতরণ।
- ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ১০.৯২ কোটি জন উপকারভোগীদের মাঝে ৮৭৭৮ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকার খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।
- শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ কর্মসূচির আওতায় ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ৪৬,৬৩,৬৭৪ জন উপকারভোগীদের মাঝে ২২৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
- ডেউটিন বিতরণ কর্মসূচির আওতায় ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ৩৫০ কোটি টাকার ৫,১২,৬৫৪ জন উপকারভোগীদের মাঝে ঢেউটিন ক্রয় করে বিতরণ।
- অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ২০০৯ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ৭১,২০,৮১০ জন উপকারভোগীদের মাঝে ১১.৬০৭ কোটি টাকা বিতরণ করা
হয়েছে। - নব-জীবন কর্মসূচির আওতায় ৫৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র মেরামত এবং ৭টি নির্মাণ।
- ১২টি ইমার্জেন্সি পিকআপ ভ্যান ও ১২টি স্মল মেরিন রেসকিউ বোট ক্রয় করে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জেলায় প্রেরণ। ৬৪টি হ্যান্ড টুল সেট, ১৪৪টি হ্যান্ডি মেগাফোন, ১৪৪টি স্ট্রেচার, ১৪৪টি ফাস্ট এইড কিট ক্রয় করে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জেলায় বিতরণ করা হয়েছে।
- ৭৬৮টি বডি হারনেস, অরেঞ্জ ভেস্ট ও আইডেন্টিফিকেশন কার্ড, কশান টেপ, ১৪৪টি টেন্ট ও গ্রাউন্ড সাঁট, ৭৬৮টি ফ্লাশ লাইট ও পোর্টেবল জেনারেটর ক্রয় করে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জেলায় বিতরণ করা হয়েছে।
- দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি উপজেলায় পোল ফিটেড মেগাফোন সাইরেন স্থাপন। ৬টি মোবাইল এম্বুলেন্স বোট ক্রয় করে ৬টি জেলায় (খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ভোলা এবং চট্টগ্রাম) বিতরণ। ৪টি সী সার্চ এন্ড রেসকিউ বোট এ করে কোস্ট গার্ডকে ৩টি ও র্যাবকে ১টি বোট প্রদান করা হয়েছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি বিভাগ, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভারসিটি অব প্রফেসনালস প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে অনার্স মাস্টারস কোর্স চালু - আইলা ক্ষতিরান্ত ২৪টি উপজেলায় ৭৫ কিঃ মিঃ কাঁচা রাস্তাকে একক স্তর বিশিষ্ট ইটের রাস্তার রুপান্তরকরণ।
- পয়ঃনিষ্কাশন ও পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে ৫,১১২টি পরিবারকে দুর্যোগ সহনশীল পায়খানা এবং ৪১২ টি গভীর নলকূপ প্রদান। ৬,০০,০০০ আইলা ক্ষতিসত্ত জনগোষ্ঠীকে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- আবহাওয়া ও দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্য ও আগাম সতর্ক বার্তা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দেশের সকল মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে ইন্টারেকটিভ ভয়েস রেসপন্স ( IVR) system চালু করা হয়েছে ।
- বিনা পয়সায় ১০৯০তে মোবাইল কল করে আবহাওয়া বার্তা জানার ব্যবস্থাকরণ।
- নিয়মিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বার্তা প্রকাশ।
- দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ সরবরাহের জন্য দুর্যোগ বিন্ধক এলাকায় ত্রাণ সরবরাহের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে ২,০০০টি প্যারাক্ট তৈরির জন্য সহায়তা প্রদান করেছে ।
উপকূলীয় অঞ্চলের ২.৫০০ জন জেলেকে তাদের নৌকায় ব্যবহারের জন্য ১টি করে সৌরবাতি ও ২টি করে লাইফ জ্যাকেট প্রদান এবং ১২,০০০টি পরিবারকে পরিবার ভিত্তিক প্রস্তুতিমূলক সরঞ্জামাদি প্রদান করা হয়েছে । - ১৪টি কমিউনিটি রেডিও সেন্টারের মাধ্যমে দুর্যোগ বিষয়ে সর্তকবার্তা প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের শ্রোতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে ১২০০টি রেডিও প্রদান করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ৮ টি শহরের জন্য ফিজিক্যাল ও জিওলজিক্যাল ম্যাপিং সম্পন্নকরণ।
- আইলা ও সিডর আক্রান্ত এলাকার পানীয় জলের চাহিদা পূরণে অত্র প্রকল্পের মাধ্যেমে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে ৪০টি RWH, ৫০টি DTW, ২২টি test-wells এবং ১টি ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণাগার স্থাপন।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০১৫ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫ প্রণয়ন।
- ধ্বংসস্তূপ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা। দুর্যোগ পরবর্তী মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০১৬ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা- ২০১১, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা 2016-2020 প্রণয়ন ।
- Revised Standing Orders on Disaster 2010 ইংরেজি ভাষায় প্রণয়ন এবং সম্প্রতি উহার খসড়া বাংলা ভার্সন প্রণয়ন ।
- ঢাকায় জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র (এনডিআরসিসি) স্থাপন।
- বাস্তুচ্যুত ১১ লক্ষাধিক মায়ানমার নাগরিকের খাদ্য ও আশ্রয়সহ অন্যান্য মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, বস্ত্র প্রভৃতি প্রদানের ব্যবস্থাকরণ।
- বিগত ৩০-৩১ জুলাই, ২০১৭ সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করে দেশের গবেষক, পেশাজীবী, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ভুক্তভোগি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দের মূল্যবান মতামত গ্রহণ।
- ডিসেম্বর, ২০১৫ সময়ে প্রতিবন্ধিতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’- শীর্ষক ১ম আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন। সম্মেলনে গৃহীত ‘ঢাকা ঘোষণা’ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
- ১৫-১৭ মে, ২০১৮ সময়ে ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রতিবন্ধিতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’- শীর্ষক ২য় আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন। এতে বাংলাদেশসহ ২২টি দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলনে হয় ‘ঢাকা ঘোষণা’ গৃহীত।
- ২০১৭ সালে হাওরে সংঘটিত আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২,৮০,০০০ হাজার পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাউল ও নগদ ৫০০ টাকা হারে পরবর্তী ফসল না উঠা পর্যন্ত (৯ মাস) সহায়তা প্রদান।
- সরকারি অর্থায়নে হত দরিদ্রদের বসতবাড়িতে ২,১৫,৬৫৯টি সোলার প্যানেল স্থাপন। • গ্রামীণ রাস্তাঘাট হাট বাজারে ৩১৫৬২ (একত্রিশ হাজার পাঁচশত বাষট্টি) টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন।
- ১,৯০০টি উন্নত চুলা ও ০৯টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন।
- বন্যাকবলিত এলাকায় ৬০২৮টি বসত ভিটা উঁচুকরণ।
- ৩য় হতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে বিভিন্ন ধাপে ৪৩টি পাঠ্যপুস্তকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিষয় অন্তর্ভুক্তকরণ।
- এলাকা ভিত্তিক ৮টি বড় ধরনের আপদ (Hazard) এর ঝুঁকি নিরূপণ রিপোর্ট ও ম্যাপ
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
- পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং তার অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নপ্রসূত ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পসহ ২৩টি উন্নয়ন প্রকল্প/কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, এতে প্রায় ১ কোটি জনগোষ্ঠিকে সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।
- মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ কোটি মানুষ হতদরিদ্র। অবশিষ্ট হতদরিদ্র প্রায় ৩ কোটি মানুষকে প্রকল্প/কর্মসূচি আওতায় সহায়তা প্রদানে এ বিভাগ ভবিষ্যতে আরও ২৯টি প্রকল্প / কর্মসূচি বিবেচনাধীন রয়েছে।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প
- একটি বাড়ি একটি খামার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত একটি দারিদ্র্য বিমোচন মডেল। এটি ক্ষুদ্র ঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার জন্য দারিদ্র সীমার ৩ কোটি মানুষকে এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় মডেলের আওতাভুক্ত করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
- দেশের সকল জেলার সকল ইউনিয়নের প্রতিটিওয়ার্ড থেকে একটি করে মোট ৪০ হাজার ৫২৭টি গ্রামে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিটি গ্রামে ৬০টি দরিদ্র পরিবার নিয়ে একটি গ্রাম সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে যার মধ্যে ৪০ জনই নারী।
- এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ২১৩টি সমিতির ২২ লক্ষ পরিবার তথা ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের ৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকার তহবিল গড়ে নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ দেশ থেকে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে হাজার কোটি টাকা বায়ে প্রকল্পটির কার্যক্রম ৩য় বারের মত সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
- সমবায় অধিদপ্তরের অধীন সারাদেশে মোট ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭০ টি নিবন্ধিত সমবায় সমিতি রয়েছে। এ সকল সমবায় সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার

৫২৬ জন, মূলধনের পরিমাণ প্রায় ১২,৬১৯ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা এবং সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬,০৬৭কোটি ২৯ লক্ষ টাকা।
- সমবায়ীদের পণ্য দেশে এবং বিদেশে বিপণনের জন্য সমবায় বাজার কনসোর্টিয়াম স্থাপন ও সমবায় ই-কমার্স চালুর মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার সমবায় পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে।
- গ্রামীণ দরিদ্র কৃষকের উৎপাদিত দুধের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণসহ গ্রামীণ অর্থনীতি বিকাশের লক্ষ্যে মিল্ক ভিটার নিজস্ব অর্থায়নে পঞ্চগড় সদর, যশোরের অভয়নগর, গোপালগঞ্জের টুংগীপাড়া, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, টাঙ্গাগাইলের ধনবাড়ী ও পারবাহুবলীর চর, চট্টগ্রামের পটিয়া, চাঁদপুরের মতলব, ঠাকুরগাঁও সদর, ফরিদপুরের বোয়ালমারী, যশোরের ঝিকরগাছা, রংপুরের পীরগঞ্জ ও গঙ্গাচড়ায় দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ১৮০টি সমিতি ও দল গঠন, ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার ২২১ জন উপকারভোগী সদস্যভূক্ত, ৯০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা শেয়ার ও ৪৪৯ কোটি ১০ লাখ টাকা সঞ্চয় জমা উপকারভোগী সদস্যদের মধ্যে ১৪ হাজার ৬ শত ৮৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
- নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী সমাজকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় যুক্ত করে বিআরডিবি এ পর্যন্ত ৮০ হাজার ৮৮৫টি মহিলা সমিতি/ দল গঠন করেছে, যেখানে गा খ লাখ ২৪ হাজার ২৮১ জন। বিআরডিবি এ পর্যন্ত ১১৪ টি প্রকল্প এবং ৫,১৯৯ টি ক্ষুদ্র স্কীম বাস্তবায়ন করেছে।
- বিআরডিবি বর্তমানে ৮০৫ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত দু’টি প্রকল্পসহ মোট ০৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিআইডিএস কর্তৃক সম্পাদিত সমীক্ষা অনুযায়ী জিডিপিতে বিআরডিবি’র অবদান ১.৯৩%।
- গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন মানোন্নয়ন ও আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্বনিত সমবায় ভিত্তিক বিশিষ্ট ‘পল্লীজনপদ’ নির্মাণ প্রকল্প জুলাই ২০১৪ হতে ৫ বছর মেয়াদে বাস্তবায়ন কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলছে।
- প্রাথমিক পর্যায়ে ৮টি বিভাগে ১টি করে চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ভবনে ২৪০টি পরিবার বসবাস করতে পারবে।
- পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে ৩৬২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের কাজপুরোদমে এগিয়ে চলছে। চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই এক দশক ছিল বাংলাদেশের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার এক স্বর্ণযুগ। এ সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা খাত কেবল ত্রাণ বা সাময়িক সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে একটি আইনি ও কাঠামোগত ভিত্তি লাভ করেছে। বিশেষ করে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’ এবং ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন দেশের সুশাসন ও মানবিক মর্যাদার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল হিসেবে G2P (Government to Person) পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতা প্রদান এবং ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সঞ্চয় মডেল চালু করা ছিল দারিদ্র্য বিমোচনের অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ত্রাণনির্ভরতার বদলে ঝুঁকিহ্রাস ও প্রযুক্তিনির্ভর আগাম বার্তা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ বিশ্বমঞ্চে এক অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হয়েছে। ৪১৬ লক্ষাধিক উপকারভোগীর মাঝে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের এই ধারা প্রমাণ করে যে, সরকার কেবল উন্নয়ন নয়, বরং উন্নয়নের সুফল সবার মাঝে সমবণ্টন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত এক দশকের এই ধারাবাহিক অগ্রগতিই ২০৪১ সালের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের সবচেয়ে মজবুত ভিত।
