গত কেয়ারটেকার সরকারের আমলের ঘটনা। IIG-র প্রথম কিস্তির লাইসেন্স দেয়া হল।
আমি তখন একটেলের (বর্তমানে রবি) তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছি।
IIG ম্যাঙ্গোর তখনকার প্রধান নির্বাহী Fida Haq এসেছিলেন আমার অফিসে।
উনি ইন্টারনেট লিংক বেচবেন, আমি কিনবো। সেই সম্পর্কে উনি সার্ভিস-প্রোভাইডর (বা ভেন্ডর), আর আমি কাস্টমার।
তখনও টেলিকমে স্বর্ণযুগ। প্রতি বছর কয়েকশ % গ্রোথ আর এক্সপানশন হচ্ছে।
সেই কারণে – শত শত ভেন্ডর আমাদের (টেলিকমের কর্মীদের) আশেপাশে ঘুরত, আর চরম তেল দিত। ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের (ছোট-বড় সব) কর্মকর্তারা আমাদেরকে খুশি রাখতে জান কোরবান করতো। যে কারণে – আমাদের প্রায় প্রত্যেকর মাথায় শিং গজিয়েছিল (মানে অকারণ ভাব আরকি)।
তার উপরে আমার মাথায় হয়তো একটা শিং বেশি ছিল। সবচেয়ে কম বয়সের বাংলাদেশি হিসেবে, একটি মোবাইল অপারেটরের, তথ্য-প্রযুক্তি প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার (এক ধরনের বিশেষ উত্তাপ আর কি)।
তাই স্বাভাবিকভাবেই আশা করতাম সব ভেন্ডাররা খাতির করবে। তেল দেয়া ভঙ্গিতে, নুয়ে পড়ে কথা বলবে।
ফিদা ভায়ের সঙ্গে প্রথম দেখায় চরম বিস্মিত হলাম !!!
লোকটা যেন কাউকে পাত্তাই দিতে চায় না!!! আমার কি করনিয় সেটা বলে দিতে চায় !!! আমাকে বিটিআরসির ভয় দেখায় !!! এমডির রেফারেন্স দিয়ে কথা কয় !!!
ভয়ানক ক্ষুব্ধও হলাম। মিটিঙে বসে ভাবতে থাকলাম – বেটাকে কিভাবে একটা ভাল ট্রেনিং করিয় দেয়া যায়?
কিন্তু মিটিং শেষ হবার আগেই, লোকটার কনফিডেন্স আর কথা বলার ভঙ্গী কেমনযেন আমাকে মুগ্ধ করলো। এরকম স্পেসিফিক আর মেথডিক টেকনিক্যাল ম্যানেজার আমাদের মধ্যে খুব বেশি দেখা যায়না। একসময় শোধ নেবার ভাবনাটা বাদ দিয়ে দিলাম।
এরপর অনেকদিন গেছে। তারসাথে আর দেখা সাক্ষাৎ নাই।
কিছুদিন আগে Ashif Entaz Rabii খবর দিল, আমার মতো আর একজন অটিস্টিক (এর মানে রবি ভাল জানে) লোকের সাথে রবির পরিচয় আছে , যার নাম – ফিদা হক।
রবির জন্মদিনে দেখা হয়ে শিয়র হলাম, আরেহ এই সেই লোক তো !!!
আড্ডা হল অনেক রাত। সত্যিই মজা পেয়েছি।
তার সূর্যরাজ্যে উদ্যোগের জন্য শুভেচ্ছা রইলো
উনি উদ্যোগে সফল হবেন কিনা জানি না। তবে এরকম সাহসী, একগুঁয়ে (এক অর্থে পাগল) মানুষগুলোর যেকোনো উদ্যোগের পাশে থাকতে ভাল লাগে। তাই আছি, থাকার আশা রাখি।
সূর্যরাজ্যের জয় হোক !!!
