কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ১নং কয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত বাড়াদী গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো হোসেনিয়া আব্দুল করিম দাখিল মাদ্রাসা। গ্রামীণ শান্ত ও মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এই মাদ্রাসাটি অত্র অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অত্যন্ত আস্থার একটি স্থান। বাড়াদী গ্রাম ও এর আশেপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের মাঝে সুশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রম: বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ‘দাখিল’ বা এসএসসি (মাধ্যমিক) সমমানের। এখানে পবিত্র কুরআন, হাদিস, ফিকহ ও আরবি সাহিত্যের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার বিষয়গুলো (যেমন—বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, ও তথ্যপ্রযুক্তি) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়ানো হয়। ইসলামি মূল্যবোধ ও আধুনিক শিক্ষার এই সুষম সমন্বয় শিক্ষার্থীদের জাগতিক ও পরকালীন জীবনের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করে।
অবকাঠামো ও পরিবেশ: মাদ্রাসাটির নিজস্ব ক্যাম্পাস রয়েছে, যেখানে পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও প্রশাসনিক ভবন বিদ্যমান। গ্রামীণ কোলাহলমুক্ত পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় এখানে পড়াশোনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী আবহ বিরাজ করে। সাধারণত মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বা সংলগ্ন স্থানে মসজিদ থাকে, যা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সালাত আদায়ে অভ্যস্ত করে তোলে। মাদ্রাসার EIIN নম্বর হলো ১১৭৬৮৮।
সামাজিক প্রভাব: বাড়াদী ও কয়া ইউনিয়নের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে হোসেনিয়া আব্দুল করিম দাখিল মাদ্রাসার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল পুঁথিগত বিদ্যাই দেয় না, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠন, দেশপ্রেম এবং মানবিক গুণাবলি অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে। এখান থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
উপসংহার: নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও সুনাগরিক গড়ার লক্ষ্যে হোসেনিয়া আব্দুল করিম দাখিল মাদ্রাসা কয়া ইউনিয়নের বুকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। দ্বীনি শিক্ষা ও জাগতিক শিক্ষার সমন্বয়ে এটি অত্র এলাকার একটি গর্বের প্রতিষ্ঠান।