অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলল! বছর ঘুরে আবারও দুয়ারে কড়া নাড়ছে প্রযুক্তির মহোৎসব—হ্যাকাথন ২০১৪। আগামী জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই মেগা ইভেন্টের গ্র্যান্ড ফিনালে। ভেন্যু হিসেবে আভিজাত্য আর ঐতিহ্যের প্রতীক ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ (বর্তমান ইন্টারকন্টিনেন্টাল) আমাদের প্রথম পছন্দ।
বিশ্বের সাথে এক সুতোয়: গ্লোবাল হ্যাকাথন
গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারও হ্যাকাথন কেবল আমাদের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিশ্বের অনেকগুলো দেশে একই সাথে এই ফাইনাল ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। প্রযুক্তির কল্যাণে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমরা বিদেশের উদ্ভাবকদের সলিউশন দেখব, আর বিশ্ববাসী দেখবে আমাদের তরুণদের সৃজনশীলতা।
এটি কেবল কোডিং করার জায়গা নয়; এটি একটি মিলনমেলা। দুই-তিন দিন ধরে আমরা সবাই মিলে গাদাগাদি করে এক জায়গায় থাকব, কোড করব, সমস্যা সমাধান করব আর কফির কাপে চুমুক দিয়ে দেশসেরা তুখোড় মেধাবীদের সাথে আড্ডা দেব। এই যে সাহচর্য, এটাই আগামীর বড় বড় স্টার্টআপের জন্ম দেবে।
কোড নয়, নজর এবার সলিউশনে
এবারের হ্যাকাথনের দর্শনে আমরা একটি বড় পরিবর্তন এনেছি। আমরা চাই না আমাদের তরুণরা কেবল কয়েক হাজার লাইনের ‘পারফেক্ট কোড’ লেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। আমাদের ফোকাস এবার সলিউশন বা সমাধানের ওপর।
- আপনার উদ্ভাবনী আইডিয়াটি যদি টেকনিক্যালি প্রমাণ করতে পারেন—তবেই আপনি সফল।
- কোড লিখে শেষ করার চেয়ে আমরা গুরুত্ব দেব আপনার সমাধানটি কতটা বাস্তবসম্মত এবং তা মানুষের সমস্যার সমাধানে কতটা কার্যকর।
বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার তোরণ
হ্যাকাথনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি টিম তাদের তৈরি করা সমাধানগুলো সরাসরি ‘প্রবলেম ওনার’ এবং স্পন্সরদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। আপনার সমাধান যদি স্পন্সরদের পছন্দ হয়, তবে কেবল পুরস্কার নয়—আপনি পেতে পারেন প্রয়োজনীয় ফান্ডিং, মেন্টরশিপ এবং আইডিয়াটিকে ব্যবসায়িক রূপ দেওয়ার সব ধরণের আইনি ও লজিস্টিক সহায়তা। আমরা চাই প্রতিটি সলিউশন যেন এক একটি সাকসেসফুল কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
দেশজুড়ে উদ্ভাবনের ডাক: গ্রাম থেকে শহর
এবারের হ্যাকাথনকে আমরা সত্যিকারের ‘জাতীয় উৎসব’ বানাতে চাই। কেবল ঢাকা বা বড় শহর নয়, আমরা প্রতিটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে প্রতিভাবান তরুণদের অংশগ্রহণ আশা করছি। মূল ইভেন্টের আগে আমরা চেষ্টা করছি প্রতিটি বিভাগে একটি করে প্রি-হ্যাকাথন বা বাছাই পর্বের আয়োজন করার। এতে করে তৃণমূলের মেধাগুলোও আলোয় আসার সুযোগ পাবে।
আমাদের প্রস্তুতি ও সহযোগিতা
গতবারের মতো এবারও আমাদের অন্যতম প্রধান পার্টনার হিসেবে থাকছে ‘প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ’। আমাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী টিমগুলো আপনাদের টিম গঠনে এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় সার্বক্ষণিক সহায়তা করবে।
তরুণ উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবকদের জন্য এটি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি নিজেকে প্রমাণের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। এই আয়োজনকে আরও সার্থক করতে আপনাদের কোনো আইডিয়া, পরামর্শ বা মতামত থাকলে তা আমাদের জানান। আপনাদের প্রতিটি গঠনমূলক চিন্তাই আমাদের এই আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
চলুন, হ্যাকাথন ২০১৪-এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে জানিয়ে দিই—বাংলাদেশ কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং আগামীর প্রযুক্তির নির্মাতা।
সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর
প্রধান নির্বাহী, বিজনেস ইনোভেশন এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার (বিআইআইসি)
আরও দেখুন:
