২০০০ নারীর অংশগ্রহ‌ণে ১৫ আগষ্ট শোক দিবস এর র‍্যালি [ বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বা‌র্ষি‌কী ]

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল। ২০১৮ সালের আগস্টে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের উদ্যোগে দুই হাজার নারীর অংশগ্রহণে কুমারখালীর ইতিহাসে এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ শোক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আয়োজনটি উপজেলা পর্যায়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

 

২০০০ নারীর অংশগ্রহ‌ণে ১৫ আগষ্ট শোক দিবস এর র‍্যালি [ বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বা‌র্ষি‌কী ]
২০০০ নারীর অংশগ্রহ‌ণে ১৫ আগষ্ট শোক দিবস এর র‍্যালি [ বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বা‌র্ষি‌কী ]

উক্ত শোক র‍্যালিতে গ্রামীণ নারীদের উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও চোখে পড়ার মতো। প্রায় দুই হাজার নারী শোকের কালো ব্যাজ ধারণ করে এই র‍্যালিতে অংশ নেন, যা কুমারখালীর রাজনৈতিক ইতিহাসে ছিল এক অনন্য ও অদ্বিতীয় ঘটনা। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলে নারীর যে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন ঘটেছে, কুমারখালীর রাজপথে নারীদের এই সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণ ছিল তারই এক জীবন্ত প্রতিফলন। নারীদের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি র‍্যালিটিকে আরও বেগবান করে তোলে।

বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শোক র‍্যালিটি শুরু হয়। এরপর কুমারখালী প্রধান সড়ক ও স্বর্ণপট্টি হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে। সেখান থেকে কুমারখালী পৌরসভার সামনে দিয়ে হল বাজার বকচত্বর হয়ে পুনরায় প্রধান সড়ক ধরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। কয়েক হাজার মানুষের এই বিশাল শোক র‍্যালির অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। র‍্যালির শুরুতে সমবেত জনতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে উন্নত দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শোক র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত শোক সভায় আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর আজীবন সংগ্রাম ও ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বক্তব্যে বলেন:

“বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন বুকে নিয়ে একটি শোষণহীন সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন, তাঁর অবর্তমানে সেই স্বপ্ন পূরণের সফল কাণ্ডারি হয়ে তা বাস্তবায়ন করছেন সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, এই উন্নয়নের মহাসড়ককে মসৃণ রাখতে এবং বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে জননেত্রী শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। তাই উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সুফি ফারুক আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে পুনরায় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করার জন্য উপস্থিত আপামর জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।