১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল এবং আবেগের দিন। এই দিনে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাপঞ্জি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১: মহান বিজয় দিবস ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ এটিই এই দিনের প্রধান এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা।
সময়: বিকেল ৪টা ৩১ মিনিট।
স্থান: তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান), ঢাকা।
ঘটনা: পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
ফলাফল: প্রায় ৯৩,০০০ পাকিস্তানি সৈন্যের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
২. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২: সংবিধান কার্যকর স্বাধীনতার ঠিক এক বছর পর এই ঐতিহাসিক দিনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর বা বলবৎ হয়। যদিও ৪ নভেম্বর ১৯৭২ তারিখে গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়েছিল, কিন্তু বিজয়ের ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৬ ডিসেম্বর থেকে এটি কার্যকর করা হয়।
৩. ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৩: বৃহত্তম মানব পতাকার রেকর্ড (তৎকালীন) ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭,১১৭ জন স্বেচ্ছাসেবী মিলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা (Human Flag) তৈরির গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছিল (পরবর্তীতে এই রেকর্ড অন্য দেশ ভেঙেছে, তবে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অনন্য ঘটনা)।
৪. ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১: সুবর্ণজয়ন্তী ও মহাবিজয়ের শপথ বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি বা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এই দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই দিনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে একযোগে ‘সুুুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ’ পাঠ করান। এটি ছিল জাতীয় সংহতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
৫. জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ (প্রতি বছর) প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অংশ নেন। রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে সালাম গ্রহণ করেন।
৬. জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন (প্রতি বছর) প্রতি বছর এই দিনের প্রত্যুষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্হ্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে।
