২নং কালোয়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় – ১ নং কয়া ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ১নং কয়া ইউনিয়নের কালোয়া গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো ২নং কালোয়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গ্রামীণ জনপদে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি দেওয়ার লক্ষ্যে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘকাল ধরে কালোয়া ও এর আশেপাশের এলাকার কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে।

নামকরণ ও বিবর্তন:

বিদ্যালয়টির নামের সাথে “বালক” শব্দটি যুক্ত থাকলেও, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতোই এটি সম্পূর্ণ সহ-শিক্ষা (Co-education) কার্যক্রম পরিচালনা করে। অর্থাৎ, এখানে ছেলে ও মেয়ে উভয়েই সমান সুযোগ নিয়ে পড়াশোনা করে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে হয়তো এটি শুধুমাত্র বালকদের জন্য ছিল, কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এটি এখন সবার জন্য উন্মুক্ত একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ।

শিক্ষা কার্যক্রম:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)-এর কারিকুলাম অনুযায়ী এখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক মণ্ডলী দ্বারা পরিচালিত এই বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস, সমাবেশ এবং শরীরচর্চা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও, সরকারি উপবৃত্তি (Stipend) এবং বিস্কুট বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিদ্যালয়টি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

অবকাঠামো ও পরিবেশ:

বিদ্যালয়টিতে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত পাকা ভবন ও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। শিশুদের খেলাধুলার জন্য সামনে রয়েছে একটি ছোট মাঠ। গ্রামীণ শান্ত ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় শিশুরা এখানে আনন্দের সাথে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। নিরাপদ পানীয় জল এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থাও এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সামাজিক গুরুত্ব:

কালোয়া গ্রামের শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে এই বিদ্যালয়টির অবদান অনস্বীকার্য। এখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববর্তী ‘কালোয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ বা অন্যান্য উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। অর্থাৎ, এটি উচ্চ শিক্ষার সোপান বা ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

২নং কালোয়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি কয়া ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার কারিগর। সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে বিদ্যালয়টি তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।