২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতনের ঘটনাবলির খতিয়ান

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের সূচনা হয়। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় সংখ্যালঘু নির্যাতন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় পাকিস্তান-ধাঁচের সন্ত্রাসের ব্যবসা ও জঙ্গি নেটওয়ার্ক। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠিত এই জঙ্গি সংগঠনগুলো কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তারা বিচার বিভাগ, সাংস্কৃতিক অঙ্গন, এমনকি বিদেশি কূটনীতিকদের ওপরও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়, তা ছিল কেবল রাজনৈতিক অপরাধ নয়। বরং এটি ছিল জাতীয় চেতনাকে পদদলিত করার প্রচেষ্টা। বাঙালির হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সংস্কৃতির ওপর এটি ছিল সরাসরি আঘাত এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে এক ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকতা।

অহিংস, সহনশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাঙালি সমাজের যে গৌরবময় ঐতিহ্য, সেটিকে ওই সময়ে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালানো হয়। বাংলার মাটিতে ‘বাংলাস্তানি’ মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার এই ভয়ঙ্কর তৎপরতা দেশব্যাপী চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।

বাংলাদেশের ডানপন্থি বুদ্ধিজীবীরা প্রায়ই সংখ্যালঘু নির্যাতনের আলাপকে একটি ‘ট্যাবু’ বানিয়ে ঢেকে রাখতে চান। তারা বোঝাতে চান যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয় না। এক পর্যায়ে তারা যখন আর ঢাকতে পারেন না, তখন নির্লজ্জের মতো ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতনের উদাহরণ টেনে আনেন।

তখন যদি প্রশ্ন করা হয়—দেশভাগের পর কত শতাংশ হিন্দু পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছে, আর কত শতাংশ মুসলিম ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে? ভারত খুব উন্নত দেশ না হওয়া সত্ত্বেও কেন হিন্দুরা দলে দলে চলে গেল? কেন ভারতের মুসলিমরা সেই তুলনায় ১ শতাংশও পাকিস্তান বা বাংলাদেশে এলো না? এই সত্যগুলো তুললেই তারা রেগে গিয়ে আপনাকে ‘ভারতের দালাল’ বলবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে গেলে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। সমাজে যদি সহনশীলতা, ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতি না থাকে, তবে খুব সমৃদ্ধ দেশও যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।

তাই যারা বাংলাদেশের প্রকৃত কল্যাণ চান, তাদেরকে সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া ছাড়া একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জোট সরকারের সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতালম্বীদের উপরে নির্যাতন

Table of Contents

২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতনের ঘটনাবলির খতিয়ান

প্রামাণ্য দলিল

এই লেখায় ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি–জামাত জোট সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় মদদে সংগঠিত সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর চালানো নিপীড়নের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো। এসব ঘটনার তথ্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে নেওয়া হয়েছে সে সময়কার জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে, যা আজও জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় সেই অন্ধকার সময়ের কথা।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা কার্যক্রম

  • বিরোধী দলকে হত্যার মাধ্যমে দমন।
  • সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ।
  • বিচার বিভাগের ওপর হামলা চালানো।
  • বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর হামলা।
  • পাকিস্তানি মডেলে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।

 

২০০১–২০০৫ সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলো :

এই সময়ে সংঘটিত ভয়ঙ্কর ঘটনাবলির একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে উল্লেখযোগ্যভাবে ধরা হলো—

  • নির্বাচনের পরপরই দেশব্যাপী সংখ্যালঘু নির্যাতন।
  • ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা।
  • ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি গাওহাটি সমাবেশে সাংস্কৃতিক কর্মী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর হামলা।
  • ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট একযোগে দেশের ৬৩ জেলার মধ্যে ৬২ জেলায় বোমা হামলা।
  • বিচারক হত্যার ঘটনা (২০০৫ সালে ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা)।
  • অসংখ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাট্যমঞ্চ, বইমেলা, প্রগতিশীল রাজনীতিবিদদের সমাবেশে হামলা।

 

২০০১ এর হামলার হাইলাইট:

  • ২০ জানুয়ারি ২০০১- পল্টন সমাবেশ বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের বোমা-হামলা
  • ১৪ এপ্রিল ২০০১- রমনা বটমূলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে হুজির বোমা-হামলা, নিহত ১১, আহত দেড়-শতাধিক
  • ৩ জুন ২০০১- গোপালগঞ্জের বানিয়ারচরের গির্জায় বোমা-হামলা; নিহত ১০, আহত শতাধিক
  • ১৫ জুন ২০০১- নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা, নিহত ২২, আহত ১০০
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০১- বাগেরহাটে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় বোমা-হামলা, নিহত ৮, আহত ২0
  • ১৬ নভেম্বর ২০০১- চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ গোপালকৃষ্ণ মুহুরীকে হত্যা করে বিএনপি জামায়াত জোটের সন্ত্রাসীরা

 

২০০২ এর হামলার হাইলাইট:

  • ২১ এপ্রিল ২০০২- এই দিনে রাউজানে বৌদ্ধভিক্ষু জ্ঞানজ্যোতি মহাথেরোকে গভীর রাতে জবাই করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০০২- সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের জনসভায় বোমা হামলা, নিহত ৪, আহত অর্ধশতাধিক
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০০২- সাতক্ষীরার গুড়পুকুরে মেলা-সিনেমা হল-সার্কাস প্রাঙ্গণে বোমা হামলা, নিহত ৩
  • ৬ ডিসেম্বর ২০০২- ময়মনসিংহের ৩টি সিনেমা হলে বোমা হামলা, নিহত ২৭, আহত দুই শতাধিক

 

২০০৩ এর হামলা র হাইলাইট:

  • ১৭ জানুয়ারি, ২০০৩- টাঙ্গাইলের সখীপুরে মাজারে-মেলায় বোমা হামলা, নিহত ৭, আহত ২০
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৩- দিনাজপুর শহরে জামায়াতের জঙ্গিদের আকস্মিক বোমা-হামলা
  • ১ মার্চ ২০০৩- খুলনায় বাণিজ্য মেলায় বিএনপি-জামায়াতের জঙ্গিদের বোমা-হামলা, নিহত ১, আহত ১০ জন
  • ১৮ নভেম্বর ২০০৩- রাতের আঁধারে হত্যা করা হয় বাঁশখালীর সাধনপুর গ্রামের শীলপাড়ায় তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়ির একই পরিবারের ১১ জন

 

২০০১ এর গঠিত জামাত-বিএনপি সরকারের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহ ঘটনা সমূহ

 

২০০৪ এর হামলা র হাইলাইট:

  • ১২ জানুয়ারি ২০০৪- হজরত শাহজালালের মাজারে আর্জেস গ্রেনেড হামলা, নিহত ৭,আহত ৫০
  • ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৪- খুলনায় পরিকল্পিত বোমা-হামলা, সাংবাদিক মানিক সাহা নিহত
  • ১ এপ্রিল ২০০৪- চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান ধৃত, জড়িত তারেক জিয়া-বাবর-নিজামী গং
  • ৭ মে ২০০৪- গাজীপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা
  • ২১ মে ২০০৪- ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা, নিহত ৩
  • ২৭ জুন ২০০৪- সাংবাদিক হত্যার লক্ষ্যে জঙ্গি বোমা-হামলা, নিহত সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালু
  • ৭ আগস্ট ২০০৪- সিলেটে আওয়ামী লীগের সভায় হুজির গ্রেনেড হামলা, আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম নিহত, আহত ২০
  • ২১ আগস্ট ২০০৪- জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা, নিহত আইভি রহমানসহ ২৪ নেতা-কর্মী, আহত কয়েকশো নেতা-কর্মী
  • ২৬ আগষ্ট ২০০৩- মহালছড়িতে চাকমা ও মারমাদের ৩০০ বাড়ী পুড়িয়ে ২ জন হত্যা ১০ জন নারীকে ধর্ষণ করে জামায়াত শিবির পন্থী ক্যাডাররা

 

২০০১ এর গঠিত জামাত-বিএনপি সরকারের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহ ঘটনা সমূহ

 

২০০৫ এর হামলার হাইলাইট:

  • ১২ জানুয়ারি ২০০৫- শেরপুর ও জামালপুরে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীদের বোমা-হামলা, আহত ৩৫
  • ১৫ জানুয়ারি ২০০৫- বগুড়া ও নাটোরে যাত্রা-পালা অনুষ্ঠানে জামায়াতের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বোমা-হামলা, নিহত ৩, আগত কয়েকশো
  • ২৭ জানুয়ারি ২০০৫- হবিগঞ্জে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড হামলা, অর্থমন্ত্রী কিবরিয়াসহ নিহত ৩, আহত পঞ্চাশ জন
  • ১৭ আগস্ট ২০০৫- দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে পাঁচশো বোমা-হামলা, নিহত ৩, আহত শতাধিক
  • ৩ অক্টোবর ২০০৫- লক্ষীপুর-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম কোর্টে জেএমবির বোমা হামলা, নিহত ৩
  • ১৪ নভেম্বর ২০০৫- ঝালকাঠি জেলা আদালতে বোমা-হামলা, নিহত ২ বিচারক
  • ২৯ নভেম্বর ২০০৫- চট্টগ্রামে হাইকোর্টে বোমা-হামলা, নিহত ৩, আহত অর্ধশতাধিক
  • ২৯ নভেম্বর ২০০৫- গাজীপুরে আইনজীবী ভবনে বোমা হামলা, নিহত ১০, আহত ২২০
  • ১ ডিসেম্বর ২০০৫- গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বোমা হামলা, নিহত ১, আহত পঞ্চাশ
  • ৮ ডিসেম্বর ২০০৫- নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ে বোমা-হামলা, নিহত ৮, আহত শতাধিক
  • ২৯ ডিসেম্বর ২০০৫- চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে বোমা হামলা, নিহত ৩, আহত ২৫

 

২০০১ থেকে ২০০৬ সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বী নির্যাতন ২

 

২০০১ থেকে ২০০৬ এর মাসওয়ারি ঘটনাবলি ও পত্রিকার রেফারেন্স:

২০০১ সালের সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতনের ঘটনাবলির খতিয়ান (প্রতি মাসের):

 

পূর্নিমা রানী শীল 1 ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতনের ঘটনাবলির খতিয়ান

 

২০০২ সালের সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতনের ঘটনাবলির খতিয়ান (প্রতি মাসের):

পূর্নিমা রানী শীল 2 ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতনের ঘটনাবলির খতিয়ান

 

২০০৩ সালের সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতনের ঘটনাবলির খতিয়ান (প্রতি মাসের):

 

২০০৪ সালের সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতনের ঘটনাবলির খতিয়ান (প্রতি মাসের):

 

২০০৫ সালের সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতনের ঘটনাবলির খতিয়ান (প্রতি মাসের):

 

আরও পড়ুন:

Leave a Comment