১৯৭১ সালের সেই রক্তঝরা দিনগুলো। বাংলার আকাশ তখন মেঘে নয়, বারুদের কালো ধোঁয়ায় ঢাকা। বাতাসে চেনা ফুলের গন্ধের বদলে লাশের গন্ধ। ঘরে ঘরে স্বজনহারা মানুষের বুকফাটা আর্তনাদ আর বুড়িগঙ্গা-পদ্মা-তিস্তার জলে ভেসে চলা শত শত নামহীন বাঙালি তরুণের নিথর দেহ। যখন এদেশের লাখো চেনা-অচেনা ঘরের সন্তান, সাধারণ কৃষক আর ছাত্ররা পেটে ক্ষুধা আর বুকে অদম্য সাহসের আগুন নিয়ে মাতৃভূমিকে বাঁচানোর মরণপণ লড়াইয়ে লড়ছিলেন—ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে চলছিল এক পরম বিশ্বাসঘাতকতার গল্প। একদল রক্তমাংসের মানুষ, যারা এদেশেরই আলো-বাতাসে বড় হয়েছিল, তারা ব্যস্ত ছিল পাকিস্তানি জল্লাদদের পা চাটতে আর নিজেদের ক্ষমতার লালসা মেটাতে।
একাত্তরের মাঝামাঝি সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানিদের গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ছে, তখন বিশ্ববাসীর চোখে ধুলো দিতে এবং পূর্ব পাকিস্তানে পরিস্থিতি ‘একেবারে স্বাভাবিক’—এমন একটা সাজানো মিথ্যা প্রমাণ করতে তৎকালীন সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান এক নিষ্ঠুর তামাশার জন্ম দেন। যার নাম দেওয়া হয় ‘উপনির্বাচন’।
মাত্র কয়েক মাস আগে, ১৯৭০ সালের সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনে এদেশের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভাগ্য লেখার ম্যান্ডেট দিয়েছিল আওয়ামী লীগকে। কিন্তু ২৫শে মার্চের সেই কালরাতের নৃশংস গণহত্যার পর পাকিস্তানি জান্তা বন্দুকের জোরে সেই রায়কে স্তব্ধ করে দেয়। তারা দলটিকে নিষিদ্ধ করে এবং বাঙালির ভালোবাসায় জয়ী গণপরিষদ সদস্যদের পদগুলো জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে ‘শূন্য’ ঘোষণা করে। তিরিশ লক্ষ শহীদের তাজা রক্ত আর কোটি মানুষের ছিনতাই হয়ে যাওয়া স্বপ্নের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে, ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পাকিস্তানি শাসকেরা মঞ্চস্থ করে এক কাল্পনিক ‘উপনির্বাচনের নাটক’।
বাঙালি যখন জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে স্বাধীনতার মূল মন্ত্রে দীক্ষিত, তখন এই কুখ্যাত দালালেরা নিজেদের পাকিস্তানি প্রভুদের একটুখানি সুনজরে আসার জন্য এবং ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভাগের আশায় অবলজ্জের মতো সেই রক্তাক্ত মঞ্চে নাম লেখাতে ছুটে গিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২১শে অক্টোবর, যখন দেশের কোনো না কোনো কোণে কোনো মায়ের কোল খালি হচ্ছিল, ঠিক সেই দিন স্বাধীনতা-বিরোধী ও আল-বদরদের মুখপত্র ‘দৈনিক সংগ্রাম’ পত্রিকায় এই বেইমানদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা বুক ফুলিয়ে প্রকাশ করা হয়। ৪৭টি শূন্য আসনে মোট ১১৫ জন প্রার্থী এই জাতীয় ধিক্কারের দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন, যেখানে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামীর মতো দলগুলোর শীর্ষ দালালদের চেনা মুখগুলো স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল।
ইতিহাসের পাতা বড় নিষ্ঠুর, সে এই চাটুকার ও মীরজাফরদের নাম কখনো মুছে যেতে দেয় না। আজকের এবং আগামী দিনের নতুন প্রজন্মের জানা দরকার—এদেশের সাধারণ মানুষ যখন স্বাধীনতার জন্য মরছিল, না খেয়ে শরণার্থী শিবিরে ধুঁকছিল, তখন ঠিক কারা নিজের ভাইয়ের রক্তে হাত ধুয়ে জল্লাদদের সাথে কোলাকুলি করছিল। ‘ইতিহাস ও রাজনীতি সিরিজ’-এর এই বিশেষ আয়োজনে ১৯৭১ সালের ২১শে অক্টোবর তারিখে দাখিল হওয়া সেই ১১৫ জন প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক নাম এবং তাদের সেই জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতার ঐতিহাসিক খতিয়ান হুবহু তুলে ধরা হলো—
২১ অক্টোবর ১৯৭১ – মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী শাসক আয়োজিত উপনির্বাচনের নাটকে অংশগ্রহণকারীর তালিকা

রংপুর: রক্তের ওপর ক্ষমতার লোভ
যখন রংপুরের টাউন হল বধ্যভূমিতে প্রতিদিন শত শত বাঙালিকে ধরে এনে নির্যাতন করা হচ্ছিল, যখন তিস্তার পানি লাশে লাশে লাল হয়ে উঠছিল; ঠিক তখন একদল মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল।
- এন-ই-৯, রংপুর—৯: (১) জনাব মুহাম্মদ রঈসুদ্দীন আহমদ, (২) জনাব সিরাজুল ইসলাম মিয়া, (৩) শাহ মুহাম্মদ রুহুল ইসলাম।
- এন-ই-১০, রংপুর—১০: (১) জনাব মুহাম্মদ আকমল হোসেন, (২) জনাব আবদুল মান্নান খান, (৩) জনাব সাঈদুর রহমান।
দিনাজপুর: সীমান্তের কান্না উপেক্ষা করে দালালি
হাজার হাজার বিপন্ন মানুষ যখন প্রাণভয়ে দিনাজপুরের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের শরণার্থী শিবিরের দিকে ছুটছে, অনাহারে-অসুখে ধুঁকে ধুঁকে মরছে শিশুরা; তখন এই মানুষগুলো ব্যস্ত ছিল পাকিস্তানি মিলিটারির দেওয়া পদের লোভে ফরম সই করতে।
- এন-ই-১৩, দিনাজপুর—১: (১) জনাব নুরুল হক চৌধুরী, (২) জনাব মকবুলুর রহমান।
- এন-ই-১৪, দিনাজপুর—২: (১) মওলানা তمیজউদ্দীন, (২) জনাব আবুল হাশেম, (৩) এম.এ. নঈম।
- এন-ই-১৫, দিনাজপুর—৩: (১) জনাব খোরশেদ আলী আহমদ, (২) জনাব আবদুল্লাহিল কাফী।
- এন-ই-১৬, দিনাজপুর—৪: (১) জনাব আবুল হাসেম, (২) জনাব রমিজউদ্দিন আহমদ।
বগুড়া ও পাবনা: জামায়াত-মুসলিম লীগের আঁতাত
উত্তরাঞ্চলের এই জনপদগুলোতে তখন পাকিস্তানি সেনাদের ছায়ায় গড়ে উঠছে রাজাকার ক্যাম্প। মা-বোনদের তুলে দেওয়া হচ্ছে ক্যাম্পে। আর সেই নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের মূল হোতা জামায়াত ও মুসলিম লীগের শীর্ষ নেতারা তখন ঢাকার রাজপ্রাসাদে বসার স্বপ্ন দেখছিলেন।
- এন-ই-১৯, বগুড়া—১: (১) জনাব আব্বাস আলী খান (যিনি পরবর্তীতে পুতুল সরকারের মন্ত্রী হন), (২) জনাব আবদুল আলীম।
- এন-ই-২০, বগুড়া—২: (১) জনাব মসিউল ইসলাম, (২) জনাব আবদুল মজিদ তালুকদার।
- এন-ই-২৪, পাবনা—১: (১) জনাব তরিকুল আলম খান, (২) জনাব আবদুল খালেক।
- এন-ই-২৬, পাবনা—৩: (১) জনাব আবদুল মতিন।
রাজশাহী: পদ্মাপাড়ের জল্লাদদের দোসর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যখন একের পর এক হত্যা করা হচ্ছিল, তরুণ ছাত্রদের ধরে নিয়ে গিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছিল; তখন এই চাটুকারেরা ইয়াহিয়ার ‘গণতন্ত্রের’ সার্টিফিকেট পেতে ব্যস্ত ছিল।
- এন-ই-৩০, রাজশাহী—১: (১) জনাব খায়েরউদ্দীন, (২) জনাব মখলেসুর রহমান, (৩) জনাব বদিউল আলম, (৪) জনাব লাল মোহাম্মদ, (৫) জনাব তসিব উদ্দীন।
- এন-ই-৩২, রাজশাহী—৩: (১) জনাব আবদুস সোবহান চৌধুরী, (২) জনাব জসীম উদ্দীন আহমদ, (৩) জনাব আবুল কাসেম।
- এন-ই-৩৩, রাজশাহী—৪: (১) জনাব আফাজউদ্দীন আহমদ, (২) জনাব মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান, (৩) মুহাম্মদ আজিজুল হক।
- এন-ই-৩৬, রাজশাহী—৭: (১) জনাব মুনীর উদ্দীন আহমদ, (২) জনাব আইনদ্দীন, (৩) জনাব dাউদ হোসেন, (৪) জনাব আবদুস সাত্তার খান চৌধুরী।
কুষ্টিয়া ও যশোর: স্বজাতির পিঠে ছুরিকাঘাত
যশোর-কুষ্টিয়ার বীর জনতা যখন প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলছিল, তখন ঘরের শত্রু এই বিভীষণরা পাকিস্তানি সেনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিতে।
- এন-ই-৩৯, কুষ্টিয়া—১: (১) জনাব আফিলউদ্দীন আহমদ, (২) জনাব নুরুল ইসলাম, (৩) জনাব আবদুল লতিফ আনসারী।
- এন-ই-৪০, কুষ্টিয়া—২: (১) জনাব সা’দ আহমদ।
- এন-ই-৪০, কুষ্টিয়া—৩: (১) জনাব আবদুল মতিন।
- এন-ই-৪২, কুষ্টিয়া—৪: (১) জনাব মিয়া মনসুর আলী, (২) মওলানা হাবীবুর রহমান, (৩) জনাব আছমত আলী, (৪) জনাব আকবর আলী মোল্লা।
- এন-ই-৪৫, যশোর—৩: (১) সৈয়দ শামসুর রহমান, (২) জনাব আবদুল ওয়াহাব।
- এন-ই-৪৬, যশোর—৪: (১) খাজা সৈয়দ শাহ্, (২) গাজী এরশাদ আলী।
- এন-ই-৪৭, যশোর—৫: (১) জনাব মাসুদ-উদ-রহমান, (২) জনাব ওয়াহেদ আলী আনসারী, (৩) জনাব মেসবাহ উদ্দীন, (৪) জনাব নাজিমউদ্দীন আল-আজাদ।
খুলনা: রাজাকার বাহিনীর আদি আঁতুড়ঘর
খুলনা থেকেই উৎপত্তি হয়েছিল কুখ্যাত রাজাকার বাহিনীর। মওলানা এ.কে.এম. ইউসুফ এবং খান এ সবুরের মতো হেভিওয়েট দালালদের নেতৃত্বে খুলনার সাধারণ মানুষের ওপর যে শোষণ ও গণহত্যা চলেছিল, এই তালিকা তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ।
- এন-ই-৫১, খুলনা—২: (১) মওলানা এ.কে.এম. ইউসুফ (রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা), (২) জনাব আলতাফ হোসেন।
- এন-ই-৫৩, খুলনা—৪: (১) জনাব আবদুস সবুর খান (খান এ সবুর), (২) জনাব শামসুর রহমান।
- এন-ই-৫৪, খুলনা—৫: (১) জনাব এস.এম. আমজাদ হোসেন, (২) জনাব জুনায়েত আহমদ, (৩) এ.একে.এম. আবদুল জলিল, (৪) জনাব আবুল হোসেন, (৫) জনাব শামসুর রহমান।
মোমেনশাহী ও ফরিদপুর: শান্তিকমিটির ছায়ায় পদলোভ
ব্রহ্মপুত্রের চরে যখন নিরীহ বাঙালিদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করা হচ্ছিল, তখন এই নেতারা নিজেদের ‘শান্তির দূত’ সাজিয়ে ইয়াহিয়ার উপনির্বাচনের খাতায় নাম লেখাচ্ছিলেন।
- এন-ই-৭৮, মোমেনশাহী—৩: (১) জনাব এস.এম. ইউসুফ আলী, (২) অধ্যক্ষ আশরাফ ফারুকী।
- এন-ই-৮৫, মোমেনশাহী—১০: (১) জনাব শাহাবুদ্দিন আহমদ, (২) জনাব এম.এ. হান্নান, (৩) জনাব আবদুর রশীদ, (৪) মৌলবী আবদুল হামিদ।
- এন-ই-৯১, মোমেনশাহী—১৬: (১) জনাব মুজীবুর রহমান।
- এন-ই-৯২, মোমেনশাহী-১৭: (১) সৈয়দ মুসলেহ উদ্দীন।
- এন-ই-৯৩, মোমেনশাহী-১৮: (১) জনাব জিল্লুর রহমান, (২) জনাব মমতাজউদ্দীন আকন্দ।
- এন-ই-৯৬, ফরিদপুর—৩: (১) জনাব আফজাল হোসেন, (২) জনাব ইউসুফ আলী চৌধুরী (মোহন মিয়া), (৩) জনাব মুকিমuদ্দীন আহমদ।
- এন-ই-৯৭, ফরিদপুর—৪: (১) জনাব আবদুর রহমান বাকাউল, (২) মওলানা আবদুল আলী, (৩) জনাব আবদুর রাজ্জাক শিকদার।
ঢাকা: বুড়িগঙ্গার লাশের ওপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন
অবরুদ্ধ রাজধানী ঢাকা তখন এক অবিন্যস্ত বধ্যভূমি। রমনা, রায়েরবাজার আর বুড়িগঙ্গায় প্রতিদিন ভাসছে যুবকদের লাশ। আর সেই ঢাকার মাটিতে বসেই খাজা খায়েরউদ্দীন আর তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা মেতে উঠেছিল এক চরম নির্লজ্জ প্রহসনে।
- এন-ই-১০৭, ঢাকা—৪: (১) জনাব এ.বি.এম. আহমদ আলী মন্ডল, (২) জনাব আকরাম হোসেন খান।
- এন-ই-১০৮, ঢাকা—৫: (১) অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী।
- এন-ই-১১৩, ঢাকা—১০: (১) জনাব মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- এন-ই-১১৫, ঢাকা—১২: (১) জনাব মাহতাব উদ্দিন, (২) জনাব মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান।
- এন-ই-১১৭, ঢাকা—১৪: (১) জনাব আলমাস আলী, (২) জনাব খাজা খায়েরউদ্দীন (পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা), (৩) জনাব সাইফুর রহমান, (৪) ডাঃ এম.কে. শিকদার, (৫) জনাব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
- এন-ই-১১৯, ঢাকা—১৬: (১) জনাব শামসুদ্দীন আহমদ, (২) জনাব মুহাম্মদ বাদশা মিয়া।
সিলেট ও কুমিল্লা: চা-বাগান আর সীমান্তের বেইমানি
সিলেটের চা-বাগানের শ্রমিক আর কুমিল্লার সাধারণ মানুষকে যখন বর্ডার বেল্টে পাখির মতো গুলি করে মারা হচ্ছিল, তখন এই অঞ্চলের দালালরা লড়ছিল কে কত বড় পাকিস্তানি অনুগত হতে পারে।
- এন-ই-১২৫, সিলেট—৬: (১) জনাব মুহাম্মদ শহীদ আলী, (২) হাফিজ মওলানা นুরুদ্দীন, (৩) জনাব ফজলুর রহমান।
- এন-ই-১২৭, সিলেট—৮: (১) জনাব সরদার আবদুর মজিদ, (২) জনাব মাহমুদ আলী, (৩) জনাব শফিকুল হক, (৪) মকবুল হোসেন খান।
- এন-ই-১৩০, কুমিল্লা—১: (১) জনাব ashরাফ আলী।
- এন-ই-১৩২, কুমিল্লা—২: (১) জনাব শফিকুল ইসলাম, (২) জনাব আলী আমজাদ খান।
- এন-ই-১৪৩, কুমিল্লা—১৩: (১) জনাব দলিলুর রহমান।
- এন-ই-১৪৪, কুমিল্লা—১৪: (১) জনাব মুহাম্মদ আবদুল হক।
চট্টগ্রাম: পাহাড় ঘেরা জনপদের মীরজাফররা
ফজলুল কাদের চৌধুরী আর ফরিদ আহমদের মতো কট্টর পাকিস্তানপন্থীরা চট্টগ্রামে তখন নিজস্ব টর্চার সেল খুলে বসেছিল। গুডসহিল হয়ে উঠেছিল এক নরক। সেই পৈশাচিকতার পুরস্কার হিসেবেই তারা এই নির্বাচনে অংশ নেয়।
- এন-ই-১৫৩, চট্টগ্রাম—১: (১) জনাব মুহাম্মদ নুরুল্লাহ।
- এন-ই-১৫৪, চট্টগ্রাম—৩: (১) জনাব এ.কে.এম. ফজলুল কাদের চৌধুরী (মুসলিম লীগ নেতা ও চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী), (২) জনাব মাহমুদুন্নবী চৌধুরী।
- এন-ই-১৫৮, চট্টগ্রাম—৬: (১) মৌলবী ফরিদ আহমদ (কুখ্যাত দালাল ও বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম উস্কানিদাতা), (২) মাহমুদুন্নবী চৌধুরী, (৩) জনাব হামিদুর রহমান, (৪) জনাব এ.কে.এম. ফজলুল কবির চৌধুরী।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দলিল
এই ১১৫ জন মানুষের নাম কেবল একটি ভোটিং লিস্টের নাম নয়। এটি আসলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মের মুহূর্তে তার পিঠে ছুরি মারা চরম বিশ্বাসঘাতকদের তালিকা। পরবর্তীতে এদের অনেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষিত হয়ে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে স্তব্ধ করার বৈশ্বিক অপচেষ্টা চালিয়েছিল। এদের এই চারিত্রহীন ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের জানা থাকা দরকার, যাতে আর কোনোদিন কোনো ছদ্মবেশে এরা আমাদের স্বাধীনতার চেতনাকে কালিমালিপ্ত করতে না পারে।
আরও দেখুন:
