২ টাকার দুনিয়া বনাম আখিরাতের হাতি | ইসলাম ও মুসলিম সিরিজ

প্রতিটি বড় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আমরা সমস্বরে আর্তনাদ করি—আন্তর্জাতিক মিডিয়া আর ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্রে আমাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় একবারও কি ভেবেছি—যাদের আমরা আজীবনের শত্রু ঘোষণা করে বসে আছি, তাদের কাছ থেকে আমরা আসলে কী আশা করি?

পরিশ্রম তাদের, উদ্ভাবন তাদের, বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগও তাদের। তারা তাদের মালিকানাধীন মিডিয়া ব্যবহার করে আমাদের ভাবমূর্তি উদ্ধার করে দেবে—এমনটা ভাবা কি ‘মামাবাড়ি’র আবদার নয়?

নিজেদের কখনো প্রশ্ন করেছি কি—কেন আমরা বিশ্বমানের মিডিয়ার মালিক হতে পারলাম না? কে আমাদের শিকল পরিয়ে রেখেছিল?

আমাদের দোয়ার শুরুতেই আছে—“রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানা…” (হে প্রভু, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করো)। আমাদের কি দুনিয়াকে অবজ্ঞা করতে বলা হয়েছে, নাকি জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর আমল দিয়ে দুনিয়া জয় করতে বলা হয়েছে? আমরা কি তবে দুনিয়াটাকে অন্যের কাছে লিজ দিয়ে দিয়েছি?

বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। তাদের বিল গেটস বা ওয়ারেন বাফেটরা কোটিপতি হয়েও সাদামাটা জীবন যাপন করেন, গবেষণায় অর্থ ঢালেন, নতুন নতুন ‘পেটেন্ট’ তৈরি করেন আর বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। আর আমাদের নব্য ধনীরা সোনার কমোড বানিয়ে বিলাসিতার দম্ভ দেখাই। আমরা কেবল তাদের তৈরি করা পণ্য কিনি আর আয়েশ করি। অথচ আমাদের ভেতরেই যারা প্রকৃত মেধাবী, যারা গবেষণা করতে চায়—তাদের আমরা নানা অজুহাতে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করি কিংবা বিপদে ফেলি।

মহান আল্লাহ আমাদের দুনিয়া দিয়েছেন কর্মক্ষেত্র হিসেবে, আর আখিরাত দিয়েছেন পুরস্কার হিসেবে। কিন্তু আমরা কী করছি? যাদের হাতে সম্পদ আছে, তারা দায়িত্বহীনভাবে অপচয় করছি। আর যাদের নেই, তাদের কেবল ‘আখিরাতের সান্ত্বনা’ দিয়ে বসিয়ে রাখছি। জ্ঞান অর্জন যে মুসলিমের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য (ফরজ)—তা আমরা প্রচার করি না। বরং তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি নিষ্ফল বিদ্রোহের মন্ত্রণা আর সস্তা আবেগের অস্ত্র।

এই দ্বিচারিতা কি মোনাফেকি নয়?

কেউ যদি আজ প্রশ্ন করে—যে জাতি দুনিয়ার সামান্য দুই টাকার হিসাব মিলাতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলে, তারা আখিরাতের মতো বিশাল হাতি শিকারের স্বপ্ন দেখে কোন সাহসে? আমাদের মুখে কি কোনো উত্তর আছে?

নাকি বরাবরের মতো একটা লম্বা হাই তুলে বলব—”আল্লাহ ভরসা”, আর কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ব?

মনে রাখবেন—ব্যক্তির অপরাধ আল্লাহ ক্ষমা করলেও, কোনো জাতির (কওম) সম্মিলিত অবজ্ঞা আর মূর্খতার অপরাধ ইতিহাস ক্ষমা করে না। ইতিহাস সাক্ষী, যে জাতি জ্ঞান আর কর্মে পিছিয়ে থাকে, পৃথিবী তাদের ওপর শাসন চালায়।

আরও দেখুন: