কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ১নং কয়া ইউনিয়নের খলিসাদহ গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো ৪নং খলিসাদহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয় গ্রামীণ জনপদে নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি দেওয়ার লক্ষ্যে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘৪নং’ ক্রমিক সংখ্যাটি ইঙ্গিত দেয় যে, এটি এই অঞ্চলের বা ক্লাস্টারের অত্যন্ত পুরনো এবং শুরুর দিকের একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষা কার্যক্রম:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এই বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক (শিশু শ্রেণি) থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) প্রণীত কারিকুলাম অনুযায়ী এখানে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক মণ্ডলী দ্বারা পাঠদান করা হয়। বছরের শুরুতে বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণ এবং সরকারি উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রমের ফলে গ্রামের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনার পথ সুগম হয়েছে।
অবকাঠামো ও পরিবেশ:
বিদ্যালয়টিতে শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক ও শিশুবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারী অনুদানে নির্মিত পাকা ভবন, সুপরিসর শ্রেণিকক্ষ এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যালয়ের সামনে একটি খেলার মাঠ রয়েছে, যেখানে শিশুরা পড়াশোনার ফাঁকে খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করার সুযোগ পায়। গ্রাম্য সবুজ প্রকৃতির মাঝে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সামাজিক অবদান:
খলিসাদহ গ্রামের প্রতিটি শিশুকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে এই বিদ্যালয়টি ‘বাতিঘর’ হিসেবে কাজ করছে। ঝরে পড়া রোধ এবং শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকবৃন্দ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে শিক্ষার্থীরা উচ্চতর শিক্ষার জন্য কয়া মহাবিদ্যালয় বা পার্শ্ববর্তী উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।
ঐতিহ্য ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে ৪নং খলিসাদহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কয়া ইউনিয়নের শিক্ষাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দক্ষ ও সুনাগরিক তৈরির কারখানা হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।