কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ১নং কয়া ইউনিয়নের বাড়াদী গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো ৯নং বাড়াদী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গ্রামীণ জনপদে নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘকাল ধরে এলাকার শিশুকন্যাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। বাড়াদী গ্রাম ও এর আশেপাশের এলাকার মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি মূলত এই বিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়।
শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশ:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এখানে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই, উপবৃত্তি এবং মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করা হয়। অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে শিশুরা এখানে আনন্দঘন পরিবেশে পড়াশোনা করে। বিশেষ করে ‘বালিকা বিদ্যালয়’ হওয়ায় রক্ষণশীল গ্রামীণ সমাজের অভিভাবকরা তাদের কন্যাসন্তানদের এখানে নিশ্চিন্তে পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা:
বিদ্যালয়টিতে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত পাকা ভবন, সুপরিসর শ্রেণিকক্ষ এবং শিশুদের খেলার জন্য একটি মাঠ রয়েছে। এছাড়া বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দিবস পালন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ তাদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করে।
সামাজিক গুরুত্ব:
কয়া ইউনিয়নের বাড়াদী গ্রামে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে এই বিদ্যালয়টির ভূমিকা অনস্বীকার্য। এখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ছাত্রীরা পরবর্তীতে পাশ্ববর্তী সুলতানপুর মাহ্তাবিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা অন্যান্য উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। বাল্যবিবাহ রোধ এবং মেয়েদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার প্রথম ধাপ হিসেবে এই বিদ্যালয়টি কাজ করে যাচ্ছে।
শিশুবান্ধব পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ৯নং বাড়াদী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আগামীর সুনাগরিক গড়ার কারিগর হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। কয়া ইউনিয়নের শিক্ষাঙ্গনে এই প্রতিষ্ঠানটি একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।