
আজ ২৪ জানুয়ারি। রক্তস্নাত চট্টগ্রাম গণহত্যা দিবস। স্বৈরশাসকের বুলেটে বিদ্ধ হয়ে তরুণ নেতাকর্মীদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার দিন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। সেই থেকে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে গেছে বিভিন্ন গোষ্ঠী। মানুষের দোয়া এবং আল্লাহর অসীম কৃপায় বারবারই তিনি বেঁচে গেছেন। এদেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন শেখ হাসিনা।

জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর প্রথম বড় হামলা হয় ১৯৮৮ সালের এই দিনে। চট্টগ্রাম মহানগরীর লালদীঘি ময়দানে স্বৈরাচারের পতন দাবিতে এক জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন ৮ দলীয় ঐক্যজোটের নেত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা থেকে বিমানযোগে এসে পৌঁছান। তিনি লালদিঘিতে পৌঁছার পর পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে জনসভায়।

নগরীর লালদিঘি, কেসিদে রোড, জেলরোড, বক্সিরহাট মোড়সহ প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জনসভায় আগতদের উপর নির্বিচারে গুলি করে। জানা যায়, নেত্রীর উপর গুলি করার সময় এক পুলিশ রাইফেলের কানেকশন বেল্ট খুলে ফেলায় তিনি বেঁচে যান। এসময় চট্টগ্রামের আইনজীবীরা শেখ হাসিনাকে কর্ডন করে আইনজীবী সমিতি অফিসে নিয়ে রক্ষা করেন। ওইদিন পুলিশের গুলিতে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীসহ ২৪ জন নিহত হয়। আহত হয় তিন শতাধিক।

পরদিন দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হত্যা করতেই পুলিশ এবং বিডিআর গুলি করেছিলো।
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি গণহত্যায় নিহতরা হলেন- মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া, মো. কাসেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ ও শাহাদাত।

