যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় নামেন, তখন নিউইয়র্কের এক সমাবেশে কংগ্রেসের জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির সদস্য ক্যারলিন মেলনি এক অনন্য মন্তব্য করেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেন:
“নারী ক্ষমতায়নের যে উদাহরণ বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছে, তা আমরাও করতে চাই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারই শুধু নন, একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাও নারী। নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খ্যাতি আজ বিশ্বজুড়ে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকানকে (বারাক ওবামা) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে আমরা ডেমোক্র্যাটরা নতুন ইতিহাস রচনা করেছি। এবার হিলারি ক্লিনটনকে জয়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট এনে আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাই।”
নারী ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলেও বাংলাদেশের প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন ক্যারলিন মেলনি।
‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ থেকে অনুপ্রেরণার বাতিঘর
খবরটা পড়ার পর একদিকে যেমন গর্বে বুক ভরে ওঠে, অন্যদিকে এক ধরনের তীব্র ব্যঙ্গাত্মক দুঃখ অনুভূত হয় হেনরি কিসিঞ্জারের জন্য। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় এই কিসিঞ্জারই অবজ্ঞার সুরে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ (Basket Case) বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
আজ সময়ের কী নির্মম অথচ সুন্দর পরিহাস! কিসিঞ্জারের সেই অবহেলিত, তাচ্ছিল্য করা বাংলাদেশ আজ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নে যে অনন্য নজির স্থাপন করেছে—বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা আজ সেই পথে হাঁটার স্বপ্ন দেখছে!
যে জাতি একদিন আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল, আজ তাদেরই প্রচারমঞ্চে বাংলাদেশকে অনুপ্রেরণার রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এটি কেবল একটি খবর নয়, এটি বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা ও ঘুরে দাঁড়ানোর এক জীবন্ত দলিল।
