বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রথম কোনো সনাতন হিন্দু নারী হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতের (আপিল বিভাগ) বিচারপতি নিযুক্ত হলেন কৃষ্ণা দেবনাথ। তিনি দীর্ঘদিন সুনামের সাথে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট বিভাগ) দায়িত্ব পালন করেছেন, আর এবার তিনি অভিষিক্ত হলেন বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আসনে!
বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ আজ বাংলার লাখো-কোটি নারীর অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও প্রকৃত সামর্থ্যের এক জীবন্ত প্রতীক। তিনি নারী ক্ষমতায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্যে এবং বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাওয়া বিভিন্ন ধর্মের প্রতিজন নারীর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

আমরা সেদিনই একটি প্রকৃত “ফাংশনাল ডেমোক্রেসি” (Functional Democracy) বা কার্যকর গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শর্ত পূরণ করতে পারব—যেদিন ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ কিংবা বংশ পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যে কেউ শুধুমাত্র নিজের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদগুলো অলঙ্কৃত করবেন। বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের এই নিয়োগ সেই সাম্য ও যোগ্যতারই এক চমৎকার প্রতিফলন।

এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাহেন্দ্রক্ষণে সশ্রদ্ধ কুর্নিশ জানাই আরেকজন মহীয়সী নারীকে, যিনি বাঙালি নারীর প্রকৃত যোগ্যতা ও সামর্থ্যের এক দৃশ্যমান রূপ। প্রতিকূল সমাজব্যবস্থা ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে যিনি ইস্পাতকঠিন নেতৃত্ব দিয়ে নিজেকে বিশ্বদরবারে প্রমাণ করেছেন।
তিনি বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁরই দূরদর্শী হাত ধরে আজ বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে— নারী স্পিকার, নারী বিচারপতি, নারী সেনা জেনারেল, নারী ফাইটার পাইলট, প্রশাসন ও রাজনীতির শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্ব।
চারদিকে ধর্মান্ধতা আর পশ্চাৎপদতার অমানিশার মাঝে তিনি এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। সংকটে আর দুর্যোগে তিনি সবসময় হাসিমুখে অভয় মুদ্রায় বাঙালিকে জানাচ্ছেন—“ভয় নাই”।
ধন্যবাদ জননেত্রী শেখ হাসিনা। আপনার ছায়ায় এবং মায়ায় বাংলাদেশের প্রতিজন নারীর সুপ্ত সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটুক। যোগ্যতার হাত ধরে প্রতিজন নারী পৌঁছে যাক সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায়।
অভিনন্দন বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ!
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

#বিচারপতিকৃষ্ণাদে
#শেখহাসিনা
