একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো শক্তিশালী ও আধুনিক অবকাঠামো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে যে ভৌত কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত এক দশকে তা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অবকাঠামো খাত বিশেষ করে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তা আজ বিশ্ববাসীর কাছে এক ‘উন্নয়নের বিস্ময়’।
এই দশ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা করেছে। ২০০৯ সালে যেখানে উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪,৯৪২ মেগাওয়াট, তা ২০১৮ সালে ২০,০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’—এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ফলে আজ দেশের ৯১ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। শুধু উৎপাদন নয়, সঞ্চালন ও বিতরণেও আনা হয়েছে ডিজিটাল অটোমেশন ও স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থা।
যোগাযোগ খাতেও গত এক দশক ছিল দৃশ্যমান পরিবর্তনের সময়। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত বাংলাদেশের স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু আজ আর কল্পনা নয়, বরং এক গর্বিত বাস্তবতা। একই সাথে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, দেশের প্রথম এলিভেটেড মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের মতো মেগা প্রকল্পগুলো দেশের ভূ-প্রকৃতি ও অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। রেলপথের আধুনিকায়ন, নৌপথের নাব্য রক্ষা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
বর্তমান প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, সড়ক-সেতু, রেলপথ ও নৌ-পরিবহণ খাতের অভাবনীয় সাফল্য ও আগামীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “বাংলাদেশের অবকাঠামো” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
বিদ্যুৎ
- বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে উল্লেখ্যযোগ্য অর্জন
- বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৪,৯৪২ মেগাওয়াট থেকে ২০,০০০ মেগাওয়াটে (ক্যাপটিভসহ) উন্নীতকরণ।
- সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩,২৬৮ মেগাওয়াট থেকে ১১,৩৮৭ (১৮ জুলাই ২০১৮ ) মেগাওয়াট উন্নীতকরণ।
- জানুয়ারি ২০০৯ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিসহ মোট ১১,৯৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিতে যুক্তকরণ।
- সর্বমোট ২৪,৩৪৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৩৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি স্বাক্ষর।
- বর্তমানে ১৩,৯৮৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন।
- আরও ৫,৯৩৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র দরপত্র প্রক্রিয়াধীন।
- ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ১,১৬০ মেগাওয়াট।
- পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ি ও মহেষখালীতে কয়লাভিত্তিক সর্বমোট ৯,৯৬০ মেগাওয়াট। ক্ষমতার ৮টি মেগা প্রকল্প গ্রহণ।
- পুরাতন ও অদক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পাওয়ারিং এর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ।
- নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক ৫১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ৫২ লক্ষ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন।
- ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রুপান্তরের ভিশন বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ উৎপাদন মহাপরিকল্পনা (পিএসএমপি-২০১৬) প্রণয়ন ।

বিদ্যুৎ সঞ্চালন খাতে উল্লেখযোগ্য অর্জন
- সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ ৮,০০০ সার্কিট কিলোমিটার থেকে ১১,১২৩ সার্কিট কিলোমিটার উন্নীত।
- গ্রিড সাবস্টেশন ক্ষমতা ১৫,৮৭০ এমভিএ থেকে ৩৬,০৪৬ এমভিএতে উন্নীত।
- বাংলাদেশ ভারত ৪০০ কেভি আন্তঃসংযোগ গ্রিডলাইন নির্মাণ এবং ৮০০ কেভি আঞ্চলিক গ্রিড নির্মাণের কার্যক্রম
- গ্রিড নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ‘গ্রিড রিলায়েবিলিটি স্টাডি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নপূর্বক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পদক্ষেপ গ্রহণ।
- ২০২১ সালের মধ্যে ১০,০০০ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ।
বিদ্যুৎ বিতরণ খাতে উল্লেখযোগ্য অর্জন
- গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৮ লক্ষ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩ কোটি ৩ লক্ষে উন্নীত।
- বিতরণ লাইন ২ লক্ষ ৬০ হাজার কি.মি. হতে ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার কি.মি এ সম্প্রসারণ।
- সামগ্রিক সিস্টেম লস ১৬.৮৫% থেকে ১১.৪০% এ হ্রাস
- মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ২২০ থেকে ৪৬৪ কিলোওয়াট আওয়ার এ উন্নীত।
- বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ৪৭% থেকে ৯১% এ উন্নীত।
- এ পর্যন্ত ১২ লক্ষের অধিক প্রিপেইড মিটার স্থাপন।
- ঢাকার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আন্ডারমাইন্ডে রুপান্তরকরণের উদ্যোগ গ্রহণ।
- গ্রাহক সেবা বৃদ্ধিতে ওভারলোডেড বিতরণ ট্রান্সফরমার পরিবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ।

আইসিটি খাতে উল্লেখযোগ্য অর্জন
বিদ্যুৎ খাতকে সম্পূর্ণ অটোমেশনে আনার লক্ষ্যে নানাবিধ পদক্ষেপে গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
- আইসিটি রোড ম্যাপ প্রণয়ন।
- (Enterprise Resource Planning) (ERP) বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ।
- গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ খাতে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালুকরণ।
- অন-লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন ও নিয়োগ
- ব্যবস্থাপনা, অভিযোগ নিস্পত্তি ব্যবস্থাপনা চালুকরণ ইত্যাদি।
- ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনা চালুকরণ।
বিনিয়োগ
- বিদ্যুৎ খাতের বিশাল বিনিয়োগ অর্থ যোগানে এডিপি ব্যতীত বেসরকারি বিনিয়োগ ও ইনোভেটিভ ফাইন্যান্সিং এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নতুন আইন ও নীতিমালা
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য “সাসটেইনেবল এন্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (স্রেডা) আইন, ২০১২ প্রণয়ন।
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নব নব প্রযুক্তির উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ” বাংলাদেশ জাপানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল আইন, ২০১৫ প্রণয়ন।
- ‘বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (BPMI)” গঠ
- “বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮” প্রণয়ন।

জ্বালানি সাশ্রয়ী ও অন্যান্য কার্যক্রম
- জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে গুরুত্ব প্রদান কর ২০২১ সালের মধ্যে ১৫% এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ২০% জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিড়ি তদারকির মাধ্যমে অগ্রাধিকার প্রকল্প। হিসেবে কালা (ফার্স্ট ট্র্যাক) ভিত্তিক মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, খাতের সংস্থাসমূহে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাস সঙ্কট মোকাবিলায় এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য
( মেগাওয়াট)

- ২০২১ সালের মধ্যে ২৪,০০০ মেগাওয়াট, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০,০০০ মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
- ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সড়ক ও সেতু বিভাগ
সড়ক পরিবহন
- সারাদেশে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন ২১ হাজার ৩০২ কিলোমিটার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা সড়ক, ৪ হাজার ৪০৪টি সেতু এবং ১৪ হাজার ৮৯৪টি কালভার্ট রয়েছে।
- ২০০৯ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক উন্নয়ন খাতের আওতারা ৪ হাজার ৩৩১ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুতিকরণসহ ৫ হাজার ১৭১ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়েছে।
- অনুন্নয়ন খাতের আওতায় ৪ হাজার ৮৬৯ কিলোমিটার মহাসড়ক কার্পেটিং ও সীলকোট, ১ হাজার ৮৯২ কিলোমিটার ডিবিএসটি এবং ৮ হাজার ১৫৮ কিলোমিটার ওভারলে করা হয়েছে।
- ৪১৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চারলেন বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে।
- দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ১৯০ কিলোমিটার চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে:
- ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে।
- নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে।
- রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়ক ডিভাইডারসহ চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে।
- কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ ।

- যাত্রাবাড়ি-কাঁচপুর সড়ক আট লেনে উন্নীতকরণ। এটি দেশের প্রথম আটলেন মহাসড়ক।
- গত দশ বছরে এ বিভাগ ২৭৬টি প্রকল্প সমাপ্ত করেছে এবং ৩৪১টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সড়ক পরিবহন ও মহাসভুক বিভাগের অধীন ১৩৯টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
- এ সময়ে ৯টি ফ্লাইওভার / ওভারপাস ও ৭টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনীর মহিপালে ছয় লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। • ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ফেনীর ফতেহপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ইলিয়টগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কালুশাহ মাজার এলাকায় তিনটি রেলওয়ে ওভারপাস, কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।
- ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নির্মিত হয়েছে মাওনা ফ্লাইওভার। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে বনানী রেলওয়ে ওভারপাস, মিরপুর থেকে এয়ারপোর্ট রোড পর্যন্ত মো. জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, কুমিল্লা শহরে শাসনগাছা ফ্লাইওভার, টঙ্গীতে আহসান উল্যাহ মাস্টার ফ্লাইওভার, চট্টগ্রাম বন্দর সংযোগ ফ্লাইওভার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- এ সময়ে ৯১৪টি সেতু ও ৩ হাজার ৯৭৭টি কালভার্ট নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।
- এর মধ্যে শহিদ বুদ্ধিজীবী সেতু, সুলতানা কামাল সেতু, শেখ লুৎফর রহমান সেতু, শেখ কামাল সেতু, শেখ জামাল সেতু, শেখ রাসেল সেতু, সোনাতলা সেতু, এলাসিন সেতু- কাজির বাজার সেতু, আচমত আলী খান সেতু, শাহ আমানত সেতু, ওয়াজেদ মিয়া সেতু থানচি সেতু, রুমা সেতু, তিস্তা সেতু, শহিদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু, বড়দহ সেতু, সানন্দবাড়ি সেতু, বিরুলিয়া সেতু, চৌফলদণ্ডী সেতু, শহিদ শেখ ফজলুল হক মনি সেতু ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঢাকা-আরিচা জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সরলীকরণ করা হয়েছে। এছাড়া, সারাদেশের মহাসড়কে ১৪৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে ১৩০টি নিরসন করা হয়েছে।
- ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে উত্তরা ৩য় পর্ব হতে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০.১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশের প্রথম এলিভেটেড মেট্রোরেল-এর নির্মাণ কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
- এতে ১৬ স্টেশন থাকবে এবং উভয়দিকে ঘন্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকা’র আরবান ট্রান্সপোর্টের চাহিদা ও পরিধি ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এর উদ্যোগে ২০০৫ সালে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদী স্ট্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান এসটিপি সময়োপযোগী করে আরএসটিপি ২০১৫-৩৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা, নীতিমালা ও গাইডলাইনস সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে সংস্কার এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন আইন, বিধিমালা, নীতিমালা ও গাইডলাইনস প্রণয়ন করা হয়েছে ও হচ্ছে।
- এরই ধারাবাহিকতায় মোটরযানের এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১২, টোল নীতিমালা, সওজ’র ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ইজারা নীতিমালা, মেট্রোরেল আইন-২০১৫, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) আইন-২০১৬, রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০১৭ ইত্যাদি প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছে।
- কর্মিদের শাস্তির ব্যবস্থা রেখে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংসদে পাশ করা হয়েছে।
- সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে বিআরটিএ’র নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ২০০৯ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ জন পেশাজীবী গাড়ি চালককে দক্ষতা উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
- বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এর কার্যক্রম সুচারুরূপে পরিচালনার সুবিধার্থে ২০১০ সাল থেকে মোটরযানের যাবতীয় কর ও ফি অনলাইন ব্যাংকিং পদ্ধতিতে আদায়, ২০১১ সাল থেকে ইলেক্ট্রনিক চিপযুক্ত ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স, ২০১২ সাল থেকে। মোটরযানে রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ নাম্বারপ্লেট এবং রেডিও ফ্রিক্যুয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) ট্যাগ সংযোজন, ২০১৪ সাল ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ডিআরসি) এর কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
- মোটরযানের ফিটনেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষাপূর্বক ফিটনেস সার্টিফিকেট ইস্যুর লক্ষ্যে মিরপুরস্থ মোটরযান পরিদর্শন কেন্দ্র (ডিআইসি) প্রতিস্থাপনপূর্বক গত ৩০ অক্টোবর ২০১৬ তারিখ হতে চালু করা হয়েছে।
- বিআরটিএ’র সকল ডিজিটাল সার্ভিসের ডাটা ব্যাক-আপসহ নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে বিআরটিএ-তে একটি আন্তর্জাতিক মানের ডাটাসেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
- ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস আধুনিকায়ন ও সেবার গুণগতমান বাড়াতে প্রদান করা হয়েছে ট্যাক্সিক্যাশ সার্ভিস গাইডলাইন ২০১০ এর আওতায় অনুমোদিত দু’টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৪০০ ট্যাক্সিক্যাব চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতেও ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দশ বছরে বিভিন্ন ধরনের ৯৫৮টি বাস বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) এর বাস বহরে সংযোজন করা হয়েছে। - রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন সেবার পরিধি বৃদ্ধির জন্য আরও ৬০০টি বাস ও ৫০০টি ট্রাক সংগ্রহের কার্যক্রম প্রায় সমাপ্তির পথে।
- আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল রুটে চলাচলকারী বিআরটিসি’র ১৬টি বাসে ওয়াইফাই সুবিধা প্রদান করা হয়ে
- বিআরটিসি’র মহিলা বাস সার্ভিস সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৪টি রুটে ১৭টি বাস দ্বারা মহিলা বাস সার্ভিস পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে স্কুল বাস সার্ভিস।
- মতিঝিল-আব্দুল্লাহপুর ও মতিঝিল-নবীনগর রুটের এসি বাসের যাত্রীগণ কর্তৃক বাসের অবস্থান, আসন সংখ্যা ও অন্যান্য তথ্যাদি সহজে অবহিত হওয়ার জন্য মোবাইল এ্যাপস কতদূর চালু করা হয়েছে।
- বিআরটিসি’র আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল রুটে চলাচলরত এসি বাসসমূহে, গুলশান সার্কুলার রুটে চলাচলরত ঢাকা ঢাকার এসি বাস এবং হাতিরঝিল চক্রাকার বাস রুটে স্মার্ট কার্ড (র্যাপিড পাস) ব্যবহার শুরু হয়েছে।
- বিআরটিসি’র ১৩টি ডিপো, ১টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ৩টি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এর মাধ্যমে। জানুয়ারি ২০০৯ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার ৭১৩ জন যুবক ও যুব মহিলাকে মোটর ড্রাইভিং, মোটর মেকানিক, ওয়েল্ডিং ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
চলমান প্রকল্পসমূহ
- ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন ১৩৯টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
- ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে উত্তরা ৩য় পর্ব হতে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে ভায়াডাক্ট নির্মাণ দৃশ্যমান হয়েছে। মেট্রোরেল নির্মিত হলে উভয়দিকে ঘন্টায় ঘাট হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে। এছাড়া মেট্রোরেল রুট-১ ও রুট-৫ এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।
- ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ ঢাকা-মাওয়া-পাচ্চর-ভাঙ্গা মহাসড়ক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ এগিয়ে চলেছে। এটি হবে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে
- ভারতীয় ঋণ কর্মসূচির আওতায় আগেও নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর পৃথক সার্ভিসলেনসহ চারলেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে এবং বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। দরপত্র আহ্বান শেষে মূল্যায়নের কাজ চলছে।
- এডিবি’র অর্থায়নে জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে তেইশটি সেতু নির্মাণ এবং প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ শেষে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলেঙ্গা হতে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক সার্ভিসলেনসহ চারলেনে উন্নীতকরণ কাজও শুরু হয়েছে।

- গাজীপুর চৌরাস্তা হতে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত দ্রুতগতির বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি রুট নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
- রিশাল-পটুয়াখালী জাতীয় মহাসড়কাংশে পায়রা নদীর ওপর চারলেন বিশিষ্ট পায়রা সেতু, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুসহ বেশকিছু সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
- ক্রস-বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (বাংলাদেশ) এর আওতায় কালনা সেতুসহ ১৭টি সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
- চট্টগ্রামে শাহ আমানত সেতুর চট্টগ্রাম প্রান্তে ধীরগতির লেনসহ ছয়লেন এবং কক্সবাজার প্রান্তের সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে।
- জাইকা’র ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে চারলেন বিশিষ্ট দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর নির্মাণকাজ শেষপ্রান্তে। আশা করা যায় ডিসেম্বর ২০১৮ নাগাদ সেতু তিনটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
- ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ৮২টি সেতু নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
- দেশের পর্যটনের তীর্থস্থান কক্সবাজারের সাথে সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে।
- দু’পাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের পৃথক লেনসহ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণকাজ এগিয়ে চলেছে। শুরু হতে যাচ্ছে সিলেট-জৈন্তাপুর সড়ক উন্নয়ন কাজ।
- ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় প্রায় ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চারলেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে।
- কুমিল্লা বিশ্বরোড থেকে লাকসাম হয়ে নোয়াখালীর সোনাপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ শুরু হয়েছে।
- প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিআরটিএ’র নিজস্ব ভবন নির্মাণের কাজ শেষ প্রান্তে। শীঘ্রই। উদ্বোধন করা হবে।
- বিআরটিসি’র বহরে ভারতীয় কণ কর্মসূচির আওতায় ৩০০টি ডাবল ডেকার বাস ক্রয়ের লক্ষ্যে চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। অক্টোবরে প্রথম চালান আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
- বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলায় (রমিজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন) একটি আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
ভবিষ্যত উদ্যোগ
- পিপিপি ভিত্তিতে ঢাকা বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- দীর্ঘমেয়াদী পরিবহন পরিকল্পনার আওতায় ঢাকা মহানগরীতে মেট্রোরেলের আরও দুটি রুট (মেট্রো রুট-১ ও ৫) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- বিমানবন্দর ইন্টারসেকশন এবং মানিক মিয়া এভিনিউতে দু’টি আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- এয়ারপোর্ট থেকে ঝিলমিল পর্যন্ত বিআরটি’র ২রা রুট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে এডিবি’র অর্থায়নে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।
- সিলেট-জাফলং সড়ক চারলেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে একটি ইউলুপ নির্মাণ এবং নোয়াখালীর ব্যবসাকেন্দ্র চৌমুহনীতে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- দেশের তিন পার্বত্য জেলার ৩১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।
- এডিবি’র অর্থায়নে দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়কগুলোর প্রায় ১৭৫২ কিলোমিটার চারলেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ধাপে ধাপে মহাসড়কসমূহ দু’পাশে ধীরগতির লেনসহ চারলেনে উন্নীত করা হবে।
- ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে বাসসমূহ ছয়টি কোম্পানির আওতায় এনে রুট পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- আরএসটিপিতে পাঁচটি এমআরটি লাইন, এবং ২টি বিআরটি রুট, ইনার, মিডল ও আউটার-এই তিনস্তর বিশিষ্ট রিং রোড, ৮টি রেডিয়াল সড়ক, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে, ২১টি ট্রান্সপোর্টেশান হার নির্মাণ এবং ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, ট্রাফিক সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাস পরিবহন সেক্টর পুনর্গঠনের সংস্থান রয়েছে।
- মোটরযানের ফিটনেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষাপূর্বক ফিটনেস সার্টিফিকেট ইস্যুর লক্ষ্যে ঢাকার ইকুরিয়া, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় আরও চারটি ভিআইসি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জ জেলায় ভিআইসি স্থাপনসহ বিআরটিএ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেতু বিভাগ
- বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০, ১৯৩৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে মাওয়া সংযোগ সড়ক, জাজিরা সংযোগ সড়ক এবং সার্ভিস এরিয়া-২ এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাছাড়া মূল সেতুর ৬৫.৫০ শতাংশ এবং নদীশাসন কাজের শতাংশ ভৌত কাজ সম্পাদিত হয়েছে। জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ভৌত অগ্রগতি ৫৭ শতাংশ।
- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালি পর্যন্ত ৮৭০৩:১১ কোটি টাকা ব্যয়ে র্যাম্পসহ প্রায় ৪৬.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ১১৮৯টি ওয়ার্কিং পাইল ড্রাইভিং, ২৩৬টি পাইল ক্যাপ, ২০টি ক্রস বিম, ১১৯টি কলাম ও ১৫০টি আই গার্ডার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে ২০১৪ সালে জুন মাসে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে চীন সরকারের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে এটি জি-টু-জি ভিত্তিতে নির্মাণ চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান China Communications Construction Company (CCCC) Ltd. এর সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩.৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলি টানেলের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে। জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত ২০ শতাংশ ভৌত কাজ সম্পাদিত হয়েছে।

- গাজীপুর হতে হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতি বিমানবন্দর পর্যন্ত মোট ২০ কিলোমিটার বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি লেনের মধ্যে সেতু বিভাগ কর্তৃক ৯৩৫.১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড অংশের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- ১৬৯০১.৩২ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আগুলিয়া হয়ে ইপিজেড পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা আগুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে জিজি ভিত্তিতে নির্মাণে চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান China National Import and Export Corporation (CMC) এর সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি Chian Exim Bank এর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণ ও পূর্নবাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
- ঢাকা শহরের যানজট সমস্যা সমাধানে সাবওয়ে নির্মাণের পদক্ষেপ হিসেবে ২১৯.৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরমর্শক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
২৪ জুলাই ২০১৬ তারিখে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন’ পাস হয় এবং ০১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। - বঙ্গবন্ধু সেতুতে সৃষ্ট ফাটল মেরামতের কাজটি ২০১৩ সালে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি (সিএফআরপি) ব্যবহার করে ২৭৮ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন করা হয়। তাছাড়া ১১০ কোটি ব্যয়ে সেতুর বক্সের অভ্যন্তরের ফাটল মেরামত হয়।
- ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বালিয়াপুর হতে নিমতলী-কেরানিগঞ্জ-ফতুল্লা বন্দর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত ১৬,৩৮৮.৫০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ৩৯.২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে পিডিপিপি নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এটি জি-টু-জি (BOOT) পদ্ধতিতে অর্থায়নসহ নির্মানে মালয়েশিয়া সরকার প্রস্তাব দিয়েছে।
- গাইবান্দা এবং জামালপুর জেলার সংযোগকারী যমুনা নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের লক্ষে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ অনুমোদন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে যথাসময়ে সমীক্ষা শুরু হবে মর্মে আশা করা হচ্ছে।
- দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলায় তিনটি বৃহৎ সেতু যথা: ‘রহমতপুর-বাবুগঞ্জ-মুলাদী হিজলা সড়কে আড়িয়াল খাঁ নদীর উপৱ’, ‘লেবুখালী- দুমকী-বগা-দশমিনা-গলাচিপা-আমড়াগাছি সড়কে গলাচিপা নদীর উপর’, ‘কচুয়া-বেতাগী পটুয়াখালী-লোহালিয়া- কালিয়া সড়কে পায়রা নদীর উপর সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। সেতুগুলো নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহের অর্থ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
- পটুয়াখালী-আমতলী-বরগুনা সড়কে পায়রা নদীর উপর, বাকেরগঞ্জ-বাউফল সড়কে কারখানা নদীর উপর, ভুলতা- আড়াইহাজার-নবীনগর সড়কে মেঘনা নদীর উপর, বরিশাল-ভোলা সড়কে তেলিয়া ও কালাবদর নদীর উপর এবং বরগুনা-পাথরঘাটা সড়কে বিষখালী নদীর উপর সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। যথাসময়ে এ সেতুগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু হবে মর্মে আশা করা হচ্ছে।

- যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু এবং ধলেশ্বরী নদীর উপর ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী (মুক্তারপুর) সেতুতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে টোল আদায় করা হচ্ছে। সেতু বিভাগের আওতাধীন সেতুসমূহে অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ই-টেন্ডারিং পদ্ধতিতে চালু করেছে। তাছাড়া সেতু বিভাগ ও আওতাধীন সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা Online Grievance Redress System (GRS) চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোন প্রান্ত থেকে কেউ অভিযোগ/ পরামর্শ জানাতে পারছে এবং এর মাধ্যমে প্রতিকারও পাচ্ছে।
রেলপথ
- বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিক, যুগোপযোগী জনপরিবহন মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান।
রেলওয়েকে একটি শক্তিশালী পরিবহন নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী পদক্ষেপ
গ্রহণ করা হয়েছে। - ২০১১ সালে পৃথক ‘রেলপথ মন্ত্রণালয়’ গঠন করা হয়।
- প্রায় ১০ বছরে ৩৩০.১৫ কি.মি. নতুন রেললাইন নির্মাণ। ৯১টি স্টেশন বিল্ডিং নতুন নির্মাণ ও ২৪৮.৫০ কি.মি. মিটারগেজ থেকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর। নতুন ৭৯টি রেল স্টেশন নির্মাণ। ২৯৫টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ।
- রেলওয়ের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ৩০ বছর মেয়াদী (২০১৬-২০৪৫) একটি মাস্টার প্ল্যান অনুমোদিত। রেলপথ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন। রেলের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ৬১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।
- সর্বমোট ১১৩৫.২৩ কি.মি. রেললাইন উন্নয়ন/পুনর্বাসন/ পুনঃনির্মাণ। ১৭৭টি রেলস্টেশন উন্নয়ন/পুনর্বাসন/পুনঃনির্মাণ।
- ৬৪৪টি রেল সেতু পুনর্বাসন/পুনঃনির্মাণ। ৪৬টি লোকোমোটিভ সংগ্রহ (২০টি এমজি ও ২৬টি বিজি) এবং ২০টি ডিইএমইউ ।
- ২৭০টি (১৭০টি বিজি ও ১০০টি এমজি) ক্যারেজ সংগ্রহ। ৪৩০টি ক্যারেজ পুনর্বাসন। • ৪৩০টি যাত্রীবাহী কোচ পুনর্বাসন শেষে রেলওয়ে বহরে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা যাত্রী সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
- ৫১৬টি (৫০টি এমজি ফ্ল্যাট + ৫০টি এমজি ফ্ল্যাট + ১৭০টি এমজি ফ্ল্যাট + ১৬৫টি বিজি ট্যাঙ্ক + ৮১টি এমজি ট্যাঙ্ক) ওয়াগন সংগ্রহ এবং ৩০টি ব্রেক ড্যান (৫টি + ৫টি + ৬টি
+ ১১টি + ৩টি) এবং ২৭৭টি পুনর্বাসন। • ৯০টি সিগন্যালিং উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং ৯টি পুনর্বাসন। ১১৭ টি নতুন ট্রেন চালুকরণ। ৩৬টি ট্রেন সার্ভিস/রুট বর্ধিতকরণ। - ২টি রিলিফ ক্রেন সগ্রহ। ৬৮টি স্টেশনের সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কাজ চলমান।
- ১টি (ডুয়েলগেজ) হুইল লেদ মেশিন স্থাপন। বঙ্গবন্ধু সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ২টি লোড মনিটরিং ডিভাইস সংগ্রহ।
- চীন হতে ২০ সেট (৩ ইউনিটে ১ সেট) ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডিইএমইউ) বা ডেমু সপ্তাহ। সংগৃহীত ডেমু দ্বারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-জয়দেবপুর, ময়মনসিংহ- জয়দেবপুর, আখাউড়া-কুমিল্লা, লাকসাম-কুমিল্লা-চাঁদপুর, লাকসাম-কুমিল্লা-নোয়াখালী, সিলেট-আখাউড়া, পার্বতীপুর-ঠাকুরগাঁও, পার্বতীপুর-লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম-কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম সার্কুলার কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু।
- আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনসহ ১১৭টি নতুন ট্রেন বিভিন্ন রুটে চালু এবং ৩৬টি ট্রেনের সার্ভিস/রুট বর্ধিত করা হয়েছে। • ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে নতুন যাত্রীবাহী কোচ দ্বারা ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বিরতিহীন আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ ট্রেন উদ্বোধন।
- ১০০টি এমজি ও ৫০টি বিজি কোচ সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় ২৭০টি যাত্রীবাহী সরবরাহ পাওয়া গিয়েছে। আরও ১৫০টি এমজি যাত্রীবাহী কোচ ও ২০টি এমজি লোকোমোটিভ সপ্তাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- তারাকান্দি-বঙ্গবন্ধু সেতু (পূর্ব) ৩৫ কি.মি. নতুন রেলওয়ে সেকশন নির্মাণ। এ সেকশনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
- লালমনিরহাট হতে বুড়িমারী পর্যন্ত ৯৫ কি.মি. সংস্কারকৃত রেললাইন ট্রেন চলাচল চালু। কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া ও পাঁচুরিয়া-ফরিদপুর বন্ধ রেলওয়ে সেকশন পুনঃচালুকরণ।
- বাংলাদেশ রেলওয়েকে ৮টি লাইনস অব বিজনেস (এলওবি)-এ ভাগ করে ৫ জন এ ডিজিকে এলগুবি প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়। দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে
‘লাইনস অব বিজনেস’ (এলওবি) ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। - বাংলাদেশ রেলওতে ২০০৯ সাল হতে অদ্যাবধি বিভিন্ন শ্রেণির শূণ্য পদের বিপরীতে সর্বমোট ১০,৮০৬ জন নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট শূণ্য পদের বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান আছে।
- রেলে অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থা চালু। ট্রেন ট্র্যাকিং এন্ড মনিটরিং সিস্টেম (TIMS) চালু। • যাত্রীদের তথ্য প্রদানের জন্য কল সেন্টার ‘১৩১’ চালু।
- ই-টিকেটিং কার্যক্রমের আওতায় মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে টিকেট প্রাপ্তি এবং ট্রেনের তথ্য জানার সুবিধা চালু করা হয়েছে।
- যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এ যাবৎ বাংলাদেশ রেলওয়ের ৫৬টি স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন। অধিকন্তু, ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অফিস ভবন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
- লাকসাম-চিনকি আস্তানা সেকশনে ৬১ কিলোমিটার এবং টঙ্গী-ভৈরব বাজার সেকশনে ৬৪ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণকাজ সমাপ্ত।
- ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর ৩২১ কিলোমিটারের মধ্যে ২৪৩ কিলোমিটার ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল করছে। আখাউড়া-লাকসাম সেকশনে ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণ কাজ गान।

- ঈশ্বরদী হতে ঢালারচর পর্যন্ত ৭৮.৮০ কিলোমিটারের মধ্যে ২৫ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত।
- পুকুরিয়া ভাঙ্গা ৬.৬০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।
- নাভারণ হতে সাতক্ষীরা হয়ে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সমীক্ষা প্রকল্পটি ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে।
- চট্টগ্রাম স্টেশন ইয়ার্ড রিমডেলিং এর আওতায় ১১ কিলোমিটার রেললাইন পুনর্বাসন এবং ২.৮৭ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন।
- হ্যা ভৈরব ও ২য় তিতাস সেতু নির্মাণ কাজ সমাপ্ত। ট্রেন চলাচল করছে।
- ৮ই এপ্রিল ২০১৭, বিরল-রাধিকাপুর সেকশনে ট্রেন চলাচল উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ-ভারত রেল সংযোগ পুনঃস্থাপিত হয়। ৯ই নভেম্বর খুলনা ও কলকাতার মধ্যে আন্তঃদেশীয় প্যাসেঞ্জার বন্ধন এক্সপ্রেস উদ্বোধন। ২৫ নভেম্বর হতে বন্ধন এক্সপ্রেস কলকাতা-খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচল করছে।
- ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান মিটার গেজ সিঙ্গেল লাইনের সমান্তরালে ১৬.10 কিলোমিটার ডুয়েল গেজ নতুন একটি রেল লাইন নির্মাণকাজ চলছে।
- খুলনা হতে মোংলা পোর্ট পর্যন্ত ৬৪.৭৫ কিলোমিটার নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- কাশিয়ানি-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত ৪১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে।
- চীন সরকারের অর্থায়নে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ কাজের Feasibility Study, Detail Design and Tendering Service এর কাজ সম্পন্ন। নির্মাণ কাজ চলমান।
- পায়রা বন্দরের সাথে রেল সংযোগের লক্ষ্যে ভাঙ্গা হতে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ।
- বগুড়া হতে সিরাজগঞ্জ জেলার শহিদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলওয়ে লাইন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ। কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্প চলমান।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়
- নদীমাতৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। নৌদুর্ঘটনা হ্রাস ও নৌনিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি নৌপথের নাব্যতা বৃদ্ধি, নৌবন্দরসমূহের উন্নয়ন এবং নদীপথকে নিরাপদ রাখতে সমন্বিত ড্রেজিং কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশে প্রথম ১৯৭২ সালে ২টি এবং ১৯৭৫ সালে ৫টি ড্রেজার ক্রয় করা হয়।
- শেখ হাসিনার সরকারের গত মেয়াদে (২০০৯-২০১৪) ১৪টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছে।
- বর্তমান মেয়াদে (২০১৪-২০১৯) ২০টি ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এসব ড্রেজার দিয়ে আগামী ১১ বছরে ৬৫টি নৌপথে ৫০১৮ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করা যাবে।
- মোংলা-ঘাসিয়াখালি নৌ-পথ খনন করে চালু করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথের মধ্যে ২০ হাজার ৪০০ কিলোমিটার নৌপথ হারিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত মেয়াদে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি নৌপথ খনন কাজ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১২৭০ কিলোমিটার নৌপথ উদ্ধার করা হয়েছে ও প্রায় তিন হাজার একর জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
- নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৫০ মেট্রিক টন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন ‘নির্ভিক’ ও ‘প্রত্যয়’ নামে দু’টি উদ্ধারকারী জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
- ঢাকার চারদিকে নদী তীরের ভূমি দখলমুক্ত রাখতে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ব্যাংক প্রটেকশনসহ ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।
- ঢাকা, বরিশাল ও পটুয়াখালী নদী বন্দর আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ভোলা নদীবন্দর ও টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
- বরগুনা, ভৈরব ও যশোরের নওয়াপাড়া নদী বন্দরের উন্নয়ন এবং সীতাকুণ্ডু, কাঁচপুর ও টঙ্গীতে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।
- ২০১২ সালে অভ্যন্তরীণ নৌযানে দক্ষ চালক সৃষ্টির জন্য দু’টি ডেক ইঞ্জিনিয়ারিং পার্সোনেল ট্রেনিং সেন্টার (ডিইপিটিসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
- ৫৫ বছর পর ২০১৩ সালে বিআইডব্লিউটিএ’র জন্য ওটা লংমে এক্সাভেটর ক্রয় করা হয়েছে। এটি দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বর্জ্যা উত্তোলন করা সম্ভব হবে। আরও ৬টি লংম এক্সাভেটর ক্রয় করা হবে।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকৃতির নৌ-যানের সংখ্যা নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ‘নৌ-শুমারি’ করা হয়েছে।

- পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ী নৌরুটে রাতে নৌযান চলাচলের জন্য ‘নাইট নেভিগেশন চালু করা হয়েছে।
- ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে প্রথমবারের মত শ্যামপুরে ইকোপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে।।
- দ্বিতীয় ‘ইকোপার্ক’ কাঁচপুরে করা হয়েছে।
- বুড়িগঙ্গা, বালু, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ নদীর দূষণমুক্তির জন্য দূষণের উৎসমুখ বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছে: কাজ চলমান রয়েছে।
- বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশ হতে পরীক্ষামূলকভাবে ৮.৫০ লাখ ঘনমিটার বর্জ্য উত্তোলন করা হয়েছে।
- মাদারীপুর-চরমুগরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ এলাকার মৃতপ্রায় মধুমতি, আপার কুমার, লোয়ার কুমার ও কুমার নদীর প্রায় ১১০ কিলোমিটার এবং ঢাকা শহরে চারদিকে ৭০ কিলোমিটার বৃত্তাকার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়নসহ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬২৮ কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন করা হয়েছে।
- চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌপথ উন্নয়ন ও নাব্য রক্ষায় বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ৩২ শো কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ।
- আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু।
- সন্দ্বীপস্থ গুপ্তছড়ায় আরসিসি জেটি পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।
- সারাদেশে নৌপথে প্রায় ১০০টি ছোট পন্টুন নির্মাণ করা হয়েছে।
- বরিশালে বিআইডব্লিউটিএ পাইলট বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
- শিমুলিয়া ও কাঠালবাড়ি ফেরী ঘাট স্থানান্তরের মাধ্যমে ফেরী চলাচল যোগ্য নৌ পথের দূরত্ব হ্রাস করা হয়েছে।
- ক্সবাজার-সেন্টমার্টিন, মহেশখালী-বাশখালী, খুলনা- নোয়াপাড়া নৌপথ খনন করা হয়েছে।
- দাউদকান্দি-হোমনা-কৃষঞপুর, ভৈরব-কটিয়াদি, মোংলা বন্দর হতে চাঁদপুর-মাওয়া- গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী, চাঁদপুর-ইচুলী-হাজীগঞ্জ, শ্রীপুর-ভোলা-গঙ্গাপুর, পঞ্চগড়- দিনাজপুর-নওগাঁ-নাটোর-পাবনা নৌপথ খনন কাজ চলমান।
বিআইডব্লিউটিসি
- বিআইডব্লিউটিসির ফেরি ছিল ২০টি, বর্তমান সরকারের সময়ে ১৭টি ফেরি নির্মাণ করা হয়েছে। স্টিমার সার্ভিসে ২টি বৃহৎ জাহাজ যুক্ত করা হয়েছে। আরও ২টি বৃহৎ যাত্রীবাহী নৌযান নির্মাণাধীন রয়েছে।
- বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ এবং শরীয়তপুর, চাঁদপুরের মতলব ও নারায়ণগঞ্জ এবং গজারিয়া ও মুন্সিগঞ্জ সদরের মধ্যে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বদনাতলী-চরশিবার নৌরুটে বদনাতলী ফেরিঘাট চালু করা হয়েছে।
- জামালপুর (বাহাদুরাবাদ) ও গাইবান্ধার (বালাশীঘাট) এবং আরিচাঘাট এবং পাবনার নরদাহের মধ্যে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। জামালপুর (বাহাদুরাবাদ) ও গাইবান্ধার (বালাশীঘাট) আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজ চলমান।
- ৫৫ বছর পর ফেরিতে ওভারলোডেড ট্রাকের মালামাল পরিমাপের জন্য এ পর্যন্ত ৬টি ‘ওজন সেতু’ স্থাপন করা হয়েছে।
- ৫৫ বছর পর ৬টি ফেরিঘাটের জন্য ৬টি ‘রেকার’ ক্রয় করা হয়েছে।
- ঢাকার চারিদিকে নৌপথে ১২টি ওয়াটার বাস চালু করা হয়েছে এবং নৌরুট খনন করা হয়েছে।
- ফেরি ও নৌযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ৪০টি নৌযানে ভেসেল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ
- চট্টগ্রাম বন্দর কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ২৮ ধাপ এগিয়েছে। লন্ডনভিত্তিক শিপিং বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরানো সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট’ (Lloyds List) এর ২০১৭ সালের জরিপে (২০১৮ সালে প্রকাশিত) বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি কন্টেইনার পোর্টের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পাঁচ ধাপ এগিয়ে ৭৩তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। ২০১৬ সালের জরিপে (২০১৭ সালে প্রকাশিত) বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭১তম। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৯৮তম।
- চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রমকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ১৩৪.৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে CTMS (Computerized Container Terminal Management System) প্রবর্তন করা হয়েছে।
- CIMS চালুর ফলে Paper-based documentation হ্রাস পেয়েছে এবং দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার নিমিত্তে কর্ণফুলি চ্যানেলে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যরো Vessel Traffic Management Information System (VTMIS) স্থাপন করা হয়েছে।
- বিভিন্ন ধরণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে কন্টেইনারের ডুয়েল টাইম গড়ে পূর্বের ২৫-২৬ দিন থেকে ১১-১২ দিনে নেমে এসেছে এবং জাহাজের গড় অবস্থানকাল পূর্বের
১১-১২ দিনের স্থলে ৩ দিনে নেমে এসেছে। - চট্টগ্রাম বন্দরে যাতায়াতকারী ট্রাক/ টেইলার স্ক্যানিং করার জন্য ২০১১ সালে Two Stage Gate স্থাপন করা হয়েছে। • চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার স্ক্যানিং করার জন্য ২০১৫ সালে ‘মোবাইল স্ক্যানিং ভেহিকেল’ জন্য করা হয়েছে।
- ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড ২৩,৪৬,৯০৯ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করা হয়েছে। যেখানে ২০০৮ সালে ১০ লাখ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করা হয়েছিল।
- বিগত ৯ বছর প্রকল্পের আওতায় এবং রাজস্ব খাতে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বিপুল সংখ্যক কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে।
- বন্দরে তৈলবাহী জাহাজ বার্থিং ও খালাস কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা বায়ে ডলফিন জেটি-৪ নির্মাণ করা হয়েছে।
- অচল হয়ে পড়ে থাকা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এর নিজস্ব ওয়ার্কশপ ও ১২০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন শিল্পওয়ে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যাপক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে চালু করা হয়েছে।
- চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন-নির্গমনকারী জাহাজসমূহকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন (৪৫০০ বিএইচপি) একটি টাগবোট’ সংগ্রহ করা হয়েছে।
- চট্টগ্রাম বন্দরে আগমণ-নির্গমণকারী জাহাজসমূহে পানি সরবরাহের নির্মিত প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০০ টন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ‘ওয়াটার সাপ্লাই ভেসেল’ সংগ্রহ করা হয়েছে।
- বন্দরে জাহাজ নিরাপদে আগমন-নির্গমনের সুবিধার্থে জ্যাফট পয়েন্টে লাইট টাওয়ার পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।
- মংলা বন্দরে প্রথম গাড়ির জাহাজ খালাস করা হয়েছে বর্তমান সরকারের সময়। • সরকারের কার্যকর নীতি গ্রহণের ফলে মংলা বন্দর ক্রমান্বয়ে লাভজনক হয়ে উঠেছে।
- ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত সরকারের সময় মংলা বন্দর লোকসান করেছিল। ১১.৫ কোটি টাকা।
- ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মংলা বন্দর লাভ করেছে ৯৫ কোটি টাকা।
পায়রা সমুদ্র বন্দর
- বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারে গত মেয়াদে (২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর) পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দর স্থাপন করা হয়েছে।
- পায়রা বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ১১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যাসম্বলিত প্রকল্প চলমান।
- বহিঃনোঙ্গরে বাণিজ্যিক জাহাজ আনায়ন করে বাল্ক পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
- ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
- বন্দরে ‘ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ চালু করা হয়েছে।
- পায়রা বন্দরে একটি কন্টেইনার টার্মিনাল, একটি বাচ্চ টার্মিনাল, একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল, একটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, বিদ্যুৎ প্লান্ট, মডার্ন সিটি, বিমান বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ ১৯টি কম্পোনেন্টের কাজ চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
- বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) বর্তমানে দুটি জাহাজের বহর নিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ বাণিজ্যে নিয়োজিত থেকে সরকারের খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাে
- সরকার ছয়টি জাহাজ এবং দু’টি মাদার ট্যাঙ্কার সংযুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। শীঘ্রই চীন থেকে ছয়টি জাহাজ দেশে এসে পৌঁছবে।
- মাদার ট্যাঙ্কারসহ আরও ২৯টি জাহাজ ক্রয়ের জন্য চীনের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে: ঢাকায় বিএসসি’র নিজস্ব জায়গায় বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শেষে উদ্বোধন করা হয়েছে।
- বিএসসি’র মেরিন ওয়ার্কশপ আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ
- ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২টি স্থলবন্দরের গেজেট করেন। এর মধ্যে ২টি সচল ছিল। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আরও ১৩টি স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
- বর্তমান সরকারের সময়ে ৮টি (গোবড়াকুড়া, কড়ইতলী, নাকুগাঁও, রামগড়, সোনাহাট, টেগামুখ, চিলাহাটি ও দৌলতগঞ্জ) নতুন স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা এবং ১টি (বুড়িমারী, আখাউড়া, ভোমরা, সোনামসজিদ, হিলি, বাংলাবান্ধা, বিরল, টেকনাফ, বিবিরবাজার) অচল-বন্দর সচল করা হয়েছে।
- বেনাপোল বন্দরে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দু’টি অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল (একটি আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল ও অপর একটি আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল) নির্মাণ করা হয়েছে।
- বেনাপোল স্থলবন্দরের বিভিন্ন স্টোরেজ সুবিধা বৃদ্ধি করে ধারণক্ষমতা ৩২,০০০ মেট্রিক টন হতে ৩৬,০০০ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে।
- বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সহায়ক প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ একটি নতুন রপ্তানি টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে।
- ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বেনাপোল ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের অবকাঠামোসমূহ আধুনিকীকরণ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন বুড়িমারী স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
- আখাউড়ার স্থলবন্দরের জন্য ১০ কোটি, ভোমরা বন্দরের জন্য ২১ কোটি, নাকুগাও এর জন্য ২৬.৫০কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
- তামাবিল ও সোনাহাট স্থলবন্দর চালু করা হয়েছে।
- নতুন করে রাঙ্গামাটির তেগামুখ এবং খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর
- ২০১৪ সাল থেকে ৩৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে “Global Maritime Distress & Safety System (GMDSS) এবং ‘ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম’ স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলমান। কাজটি সম্পন্ন হলে উপকূলীয় অঞ্চলে চলাচলকারী নৌ-যানসমূহের মনিটরিং, নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ লাইট-হাউজ সুবিধা এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।
- ঢালচর (ভোলা) এবং নিঝুমদ্বীপ (নোয়াখালী) লাইটহাউজ কোস্টাল রেডিও স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়েছে।
- কুতুবদিয়া লাইট হাউজ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
- ঢাকাস্থ আগারগায়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় এবং কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

মেরিন একাডেমি
- সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিক প্রশিক্ষণের জন্য ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৪২ বছর পর শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও পাবনায় ৪টি মেরিন একাডেমির স্থাপনের কাজ চলমান।
- ২০১১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি অস্ট্রেলিয়ান মেরিটাইম কলেজের যৌথ উদ্যোগে মেরিটাইম এডুকেশন উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের অধীন একাডেমির প্রশিক্ষণ মান আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করেছে।
- নারী শিক্ষার উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও নারী সমাজের সম-অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মানননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক ২০১২ সাল থেকে প্রথমবারের মত প্রতি ব্যাচে ২০ জন করে নারী ক্যাডেট ভর্তি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে।
- মেরিন একাডেমিতে ছয়তলা সিফেয়ার্স লজ, চারতলা নারী ক্যাডেট ব্লক, বঙ্গবন্ধু টেকনো মেরিন কমপ্লেক্স, বিজয় নিরন্তর ভাস্কর্য, একাডেমি উন্নয়ন প্রকল্প ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভর্সিটির আওতায় চার বছরমেয়াদী ব্যাচেলর অব মেরিটাইম সায়েন্স অনার্স কোর্স ও সুইডেনের ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ শিক্ষা
ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টটিউট
- ১৯৭২ সালে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট-এর একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান ছিল। মামলাজনিত কারণে ২০১০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে মাদারীপুরে আরও একটি ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
- চট্টগ্রামে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ৬তলা বিশিষ্ট একটি ক্যাডেট ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে।
- একটি অত্যাধুনিক ফায়ার ট্রেনিং ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে।
- ট্রেনিং যন্ত্রপাতি যুগোপযোগী করা হয়েছে।
পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল
- চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে কন্টেইনার ঢাকা আনা নেওয়ার জন্য ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার পানগাঁও-এ বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে বার্ষিক ১,১৬,০০০ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং এর সংস্থানসহ কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর টার্মিনালটি উদ্বোধন করেন।
- টার্মিনালে ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২৬ মিটার প্রস্থের একটি বৃহৎ জেটি রয়েছে। এছাড়া ইয়ার্ড, সিএফএস, ওয়ার্কশপ, টার্মিনাল ভবন, গেইট কমপ্লেক্স ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড নিয়ে প্রায় ২৫ একর জায়গার উপর টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়েছে:
- পানগাঁও হতে হাসনাবাদ পর্যন্ত ২ লেনের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন
- নদীর তীরভূমি অবৈধ দখল, শিল্প কারখানা কর্তৃক সৃষ্ট নদী দূষণ, পরিবেশ দূষণ, অবৈধ কাঠামো নির্মাণ ও নানাবিধ অনিয়ম রোধকল্পে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার, নদী যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নৌ-পরিবহনে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলাসহ আর্থ সামাজিক উন্নয়নে নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশন আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে।
- ২২ জুলাই ২০১৩ তারিখে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, আইন পাশ হয়।
- কমিশনের উদ্যোগে ১২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাবনার বড়াল নদী উদ্ধার করা হয়েছে। নদীতে বাঁধ দিয়ে তৈরী রাস্তা অপসারণ করে ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
- বিমান পরিবহন ও পর্যটনকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
- ৯ বছরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান ১.৩৫.৭৩৫ বর্গমিটার টেক্সিওয়ে রিকন্সট্রাকশন-এর মাধ্যমে টেক্সিওয়ের ক্যাটাগরি ডি-টাইপ হতে ই-টাইপে উন্নীত করাসহ বিদ্যমান ১০৫০০ ফুট রানওয়ে এসফল্ট ওভারলেকরণের মাধ্যমে এর strength বৃদ্ধি করায় বিমানবন্দরে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উড়োজাহাজের চলাচল সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- আমদানি ও রপ্তানি কার্গো এলাকায় ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্গো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে কার্গো হ্যান্ডলিং সেমি-অটোমেশন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের বিমানবন্দরসমূহের সেফটি এবং সিকিউরিটি ব্যবস্থার উন্নয়নে হোল্ড ব্যাগেজ এক্সরে স্ক্যানিং মেশিন, ফায়ার ভেহিকেল, হোল্ড ব্যাগেজ এক্সপ্লোসিভ টেস ডিটেক্টশন সিস্টেম (ইটিডি), এন্ট্রি এক্সপ্লোসিভ কনটেইনার, কেবিন লাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, এক্সসেস কন্ট্রোল সিস্টেমসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপন করে অপারেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
- চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রাস্তার এবং যশোর, ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ডিভিওআর এবং ডিএমই স্থাপন ।
- দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে ডুয়েল ভিউ হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, ডুয়েল ভিউ হোল্ড ব্যাগেজ কেবিন স্ক্যানিং মেশিন, এলইডিএস (লিক্যুইড এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম ইটিভি (এক্সপ্লোসিভ টেস ডিটেকটর) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সামগ্রী ও ইকুইপমেন্ট স্থাপন।
- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টেক্সিওয়ে আধুনিকায়নের জন্য টেক্সিওয়ে পুনঃনির্মাণ, টেক্সিওয়ে লাইটিং সিষ্টেম স্থাপন, বিমানবন্দরের ড্রেনেজ সিস্টেম উন্নয়নসহ বিদ্যমান ১৩৫৭৩৫.০০ বর্গমিটার টেক্সিওয়ের পিসিএন ৪০ থেকে ১২০-এ উন্নীতকরণ। বিমানযানের উড্ডয়ন অবতরণ সুবিধাদি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমানবন্দরের টেক্সিওয়ে ক্যাটাগরি ‘ডি’ থেকে ‘ই’-তে উন্নীত।

- ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মিটানোর লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩য় টার্মিনাল ভবন নির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিস্তারিত ডিজাইন ও টেন্ডার ডক্যুমেন্ট প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রকল্পটি জুন 2022 এর মধ্যে সমাপ্ত হবে।
- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের উপর এসফট কনক্রিট ওভারলেকরণ সম্পন্ন। দুই লক্ষ বর্গমিটার এ সফট কনক্রিট ওভারণে প্রায় ছয় লক্ষ বর্গমিটার রানওয়ে সাইড স্ট্রিপ গ্রেডিং ও ড্রেনেজ এবং রানওয়ের সাইড স্ট্রিপ গ্রেডিং কাজ সম্পন্ন হওয়ায় রানওয়ের ভারবহন সামর্থ্যোর সূচক সংখ্যা (পেভমেন্ট ক্লাসিফিকেশন নম্বর- পিসিএন) ৭০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১১৬-এ উন্নীত। ফলে সুপরিসর বোয়িং ৩৮০ শ্রেণির সর্বাধুনিক উড়োজাহাজ এ রানওয়েতে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম। পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে রানওয়ের সাইড স্ট্রিপ গ্রেডিং ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নানসহ এপ্রোচ লাইটিং সিস্টেমের উন্নয়ন করা হয়েছে।
- কার্গো স্ক্যানিং সম্পন্ন করার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো ভিলেজে দুটি অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি টাইপ কার্গো স্ক্যানিং মেশিন ও একটি হেভি লাগেজ এক্সরে মেশিন স্থাপন করা হয়।
- বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এর নিজস্ব অর্থায়নে এপ্রোন এ চারটি সুপরিসর প্যাসেঞ্জার এয়ারক্রাফট ও দুইটি সুপরিসর কার্গো এয়ারক্রাফট এর পার্কিং সুবিধা চালু করা হয়েছে।
- বিমানবন্দরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) ২০১২ এর জুলাই মাসে ICAO এর Significant Safety Concern (SSC) তালিকা হতে বের হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত পরামর্শক নিয়োগ করে আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ পরিচালনার মাধ্যমে দেশেই দক্ষ জনবল তৈরি করা হয়েছে।
- International Civil Aviation Organization (ICAO) কর্তৃক পরিচালিত ICAO Validation Mission অভিট কার্যক্রমে বাংলাদেশ ICAO এর Safety Standard Compliance ইস্যুতে শতকরা ৭৭.৪৬ ভাগ EI (Effective Implementation) অর্জন করেছে।
- কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। বিমানবন্দরে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণের কাজ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে সমাপ্ত হবে। • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ। বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে সে অনুযায়ী কাজ চলছে।
- বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)-এর সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ কাজ অচিরেই শেষ হবে।
- সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণের কাজ ২০১৮ এর ডিসেম্বরে শেষ হবে।
- বাগেরহাট জেলার ফয়লায় নতুন খানজাহান আলী অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, তুরস্ক ও জর্ডানের সাথে প্রথমবারের মত দ্বিপাক্ষিক এয়ার সার্ভিসেস চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। বর্তমানে ৫২টি দেশের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি রয়েছে। ৭টি নতুন এয়ারলাইন্সসহ মোট ৩১টি বিদেশী এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
- নতুন ২টি যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্স, ৩টি হেলিকপ্টর সার্ভিস, ১টি কার্গো এয়ারলাইন্স, ২টি ফ্লাইং ট্রেনিং স্কুল এবং ১টি এরোনটিক্যাল ট্রেনিং কলেজের কার্যক্রম শুরু। মোট ১৯টি দেশীয় বিমান সংস্থা অপারেশন পরিচালনা করছে।
- ৩০টিরও অধিক বিদেশী এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ হতে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৭টি গন্তব্যে যাত্রী ও কার্গো সেবা পরিচালনা করছে। প্রতিবছর ৬ মিলিয়নেরও অধিক যাত্রী বিমান পরিবহন সেবা গ্রহণ করছে।
- এয়ার ট্রাফিকের চলাচল আরও নিরাপদ ও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ভারতের সাথে সম্পাদিত Letter of Agreement (LoA) ২০১৩ সালে সংশোধন করে পুনরায় স্বাক্ষরিত। ২০১৪ সালে মায়ানমারের সাথে Letter of Agreement (LoA) সম্পাদিত ।
- এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টারকে এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টার (আপার) এবং এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টার (লোয়ার)-এ দুটি ইউনিটে বিভক্ত করায় Over Flying ট্রাফিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমার এ ৩টি দেশের যেকোন একটি দেশে Air Traffic Control Services প্রদান কাজ বিঘ্নিত হলে আকাশে উড্ডয়নরত এয়ার ট্রাফিকের নিরাপত্তার জন্য অন্য ২টি প্রতিবেশী দেশের করণীয় বিষয়ক পরিকল্পনা ATS Contingency Plan রয়েছে।
- ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ATS Contingency Plan অনুমোদন করেছে এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও মায়ানমার একে অপরের ATS Contingency Plan অনুমোদন করেছে।
- বিমান বহুর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে বোয়িং কোম্পানির সাথে সম্পাদিত ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী ০২টি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
- ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিমান ২৭২.২৩ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে (নিরীক্ষা ব্যতীত) বিমান ১২০ কোটি টাকা লাভ করেছে।
- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ (মেঘদূত ও ময়ূরপঙ্খী )
- উদ্বোধন কক্সবাজার বিমানবন্দরে সুপরিসর বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান চলাচল উদ্বোধন।
- বিমান বহরে চারটি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ (আকাশবীণা, হংসবলাকা, রাজহংস ও গাংচিল) ড্রীম লাইনার এয়ারক্রাফট যোগ হচ্ছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ মাননীয় প্রধানন্ত্রী আকাশবীণা উদ্বোধন করেন। ডোমেস্টিক ফ্লাইট বৃদ্ধির জন্য কানাডা থেকে ৩টি ড্যাস-৮ বিমান ক্রয়ে কানাডার সাথে জিটুজি ভিত্তিতে চুক্তি করা হয়েছে।
পর্যটন
- পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে দিনাজপুর, কুয়াকাটা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, রাঙ্গামাটি সিলেটের জাফলং ও চট্টগ্রামে পর্যটন সুবিধানি প্রবর্তন ও সংস্থার সকল ইউনিটকে ডিজিটাইজ করতে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন।
- কুয়াকাটায় পর্যটন মোটেল ও ইয়ুথ ইন নির্মাণ। কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায় অবস্থিত সত্যজিৎ রায়ের জমিদার বাড়িতে পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সোনামসজিদ এলাকায় পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণ।
- রাজশাহী পর্যটন মোটেলের সংস্কার ও উন্নয়ন। রংপুর পর্যটন মোটেলের সংস্কার ও উন্নয়ন।
- দিনাজপুর পর্যটন মোটেল এর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন। দিনাজপুরের কান্তজির মন্দিরের সন্নিকটে পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন করা হয়েছে। আগারগাঁওস্থ শেরেবাংলা নগরে পর্যটন ভবন নির্মাণের কাজ শ্রীঘ্রই শুরু করা হবে।
- সিলেটের জাফলং-এ পর্যটন সুবিধাদি বৃদ্ধিতে ৪টি আবাসিক কক্ষ, ৫০০ আসন বিশিষ্ট রেস্তোরা ও ২টি ওয়াস রুম নির্মাণ।
- রাঙ্গামাটিতে নতুন পর্যটন মোটেল নির্মাণ। চট্টগ্রামস্থ মোটেল সৈকতের স্থলে নতুন পর্যটন মোটেল নির্মাণ।
- দেশের ২৮টি স্থানে পর্যটন সুবিধাদি নির্মাণ/ উন্নয়নসহ সাইনেজ স্থাপন করা হচ্ছে।
- পর্যটনকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ গঠন।
- বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের সকল বাণিজ্যিক ইউনিট ডিজিটাল সিস্টেম/ অটোমেশন এর আওতায় আনয়ন করা হয়েছে। অনলাইন রিজার্ভেশন পদ্ধতি চালু, এনএইচটিটিআই-এর অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া চালু, ক্রেডিট কার্ড পদ্ধতির প্রবর্তন ও ব্যবসা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রিভিলেজ কার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড আইন ২০১০ প্রণয়ন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড গঠন এবং ১ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখ থেকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। ট্যুরিজম বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্যাপক প্রচার ও বিপণনের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে। লালমনিরহাট জেলার তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পিকনিক শেড তৈরি করা হয়।
- কুষ্টিয়ায় লালন একাডেমিতে পর্যটকদের জন্য ভৌত সুবিধাদি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়: বান্দরবান জেলায় পর্যটন স্থানে সহজে গমনের জন্য Signage স্থাপন।
- নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় অবস্থিত লাঙলবন্দ তীর্থস্থান সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র ধর্মক্ষেত্র তথা ঐতিহ্যবাহী পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র বিবেচনা করে তীর্থস্থানের ঘাট ও অন্যান্য স্থাপনা মেরামত ও সংস্কার করা হয়।
- পর্যটন সম্পর্কিত খবরা-খবর ডিজিটাল মাধ্যমে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের একটি নিজস্ব মোবাইল অ্যাপস তৈরি; সোসাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারনার মাধ্যমে দেশী-বিদেশী পর্যটকগণের নিকট দেশের পর্যটন শিল্পের পরিচিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন গন্তব্য ও পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে নিয়মিত ই-নিউজলেটার প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন ই-মেইল অ্যাড্রেসে এসব ই-নিউজ লেটার পাঠানো হয়।
১২৫ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। হসপিটালিটি পেশায় দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ৫৫২ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান। - ১০টি পাঁচ তারকা, ৩টি চার তারকা ও ১০টি তিন তারকা মানের হোটেলের লাইসেন্স প্রদান ।
- আগের রূপসী বাংলা হোটেলের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের জন্য সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা ইন্টারকন্টিন্টোল নামে গত ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ খ্রি. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। সোনারগাঁও হোটেলের কক্ষসমূহের আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন এবং হোটেলটি লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
- পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল আইন, ২০১০ প্রণয়ন: বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল বিধিমালা, ২০১১ প্রণয়ন: বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল বিধিমালা, ২০১৩ প্রণয়ন; বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ প্রণয়নঃ বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ বিধিমালা, ২০১৬ প্রণয়ন: বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ প্রণয়ন; বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০১৪ প্রণয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭ প্রণয়ন।
স্থানীয় সরকার
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন। জনগণের সুবিধা প্রাপ্তির ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন।
- ২০০৯ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ৫২,২৮০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন।
- ৭৫,৭৭৩ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৩১,৬৩৭ মি. ব্রীজ/কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ / পুনর্বাসন।
- ৩,০১,৩৪১ মিঃ ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ।
- ১৬২ টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ/সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
- ১৪৯১টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন সম্প্রসারণ।
- ১,৯৮৬টি গ্রোথ সেন্টার/ হাটবাজার উন্নয়ন।
- ৭৬০টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ।
- ১০৫০.৫০ কিলোমিটার বাঁধ পুনঃনির্মাণ/উন্নয়ন।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
বর্তমান সরকারের ভিশন-২০২১, রূপকল্প-৪১, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, এসডিজির বাস্তবায়ন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কাজ করে আসছে। বর্তমান সরকারের সময়ে পানি সম্পान মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত বাস্তবায়নাধীন উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমসমূহ।
প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম
- পানি সম্পদের সমন্বিত উন্নয়ন, ব্যবহার, ব্যবস্থাপনা, বিতরণ ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে “বাংলাদেশ পানি আইন-২০১৩’, ‘বাংলাদেশ পানি বিধিমালা-২০১৮’ ও ‘উপজেলা ও ইউনিয়ন সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গাইডলাইনস-২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডকে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরে রূপান্তর করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি সংযুক্ত দপ্তর করা হয়েছে।
হাওর ও জলাভূমি উন্নয়নের লক্ষ্যে হাওর মাস্টার প্ল্যান (২০১২-২০০২) প্রণয়ন করা হয়েছে। - বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) পূর্বের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে ৫,৪৯৯টি পদ সৃজন করে অনুমোদিত জনবল কাঠামো ১৩,২২৯তে উন্নীত করা হয়েছে। যান্ত্রিক সরঞ্জাম পরিদপ্তর ও ড্রেজার পরিদপ্তর নতুনভাবে সাংগঠনিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাপ্তাহিক বন্যা পূর্বাভাস টেলিফোন/ ফ্যাক্স ই-মেইল / SMS / Voice Message বাংলা ও ইংরেজিতে প্রচার করা হচ্ছে।
- হাওর অঞ্চলের বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত, নদী/খাল পুনঃখননের জন্য স্কীম প্রকৃত ও বাস্তবায়নের নিমিত্ত কাবিটা নীতিমালা-২০১৭ পরিবর্ধন এবং পরিমাজন করা হয়েছে।
- ২০১৪-১৫ অর্থ-বছর হতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫০.০০ কোটি টাকা মূল্যমান পর্যন্ত ও ২০১৬-১৭ অর্থ-বছর হতে ১০০ কোটি টাকা মূল্যমান পর্যন্ত সকল দরপত্র ই-জিপিতে আহবান করা হচ্ছে। এর ফলে দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।
- সমাপ্ত প্রকল্পগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার লক্ষ্যে “অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০১৪” প্রণয়ন করা হয়েছে। নীতিমালাটির আলোকে ইতোমধ্যে ২.৫৯৯টি পানি ব্যবস্থাপনা সংগঠন গঠন করা হয়েছে। গঠনকৃত সংগঠনসমূহের সদস্য সংখ্য ২,২১,২৩৬ জন; যার মধ্যে পুরুষ সদস্য সংখ্যা ১,৫৮,৪২৫ জন ও মহিলা সদস্য সংখ্যা ৬২.৮১১ জন।
- দেশের প্রতিটি জেলার অভ্যন্তরের ছোট নদী/খাল / জলাশয় পুনঃখননের প্রস্তাব প্রণয়নের নির্মিত সংশ্লিষ্ট মাননীয় সংসদ সদস্যকে উপদেষ্টা এবং জেলা প্রশাসককে আহবায়ক করে জেলা পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- ড্রেজিং ও ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৮ প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান রূপকল্প, উদ্দেশ্য, দেশের বর্তমান পানি নীতি ও কৌশল, প্ল্যান (National Water Policy (NWP) (1999), BWDB অপঃ (২০০০), National Water Management) Plan ( NWMP) (2004). Coastal Zone Policy (2005), Coastal Zone Strategy (2006), Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan (2009), Perspective Plan of Bangladesh 2010-2021, Seventh Five Year Plan 2016-20, Delta Plan-2100, Vision 2041 ইত্যাদি পর্যালোচনা করে আগামী ২৫ বছরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাপাউবোতে কী কী কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন সেগুলো শ্রেণিবিভক্ত করে অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের নিমিত্তে বিভিন্ন র্যাংকিং-এ বিন্যস্ত করা হয়েছে।
- দেশব্যাপী বিশ্ব পানি দিবস- ২০১৭ ও ২০১৮ এর উদযাপন। উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কার্যক্রম বিগত ১০ বছরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ১৪০টি (নদীতীর সংরক্ষণধর্মী ৬৬টি, সেচধর্মী ২১টি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ/নিষ্কাশনধর্মী ২৩টি, ড্রেজিংধর্মী ৬টি, সমীক্ষাধর্মী ১৫ টি, ভূমি পুনরূদ্ধারধর্মী ২টি ও বাপাউবো ব্যতীত অন্যান্য সংস্থাসমূহের ৭টি) প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন করেছে।
- বর্তমানে ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তন্মধ্যে, জুন, ২০১৯ নাগাদ ৩১টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন সমাপ্ত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ১৩১টি প্রকল্প গ্রহণ করে ৭৯টির বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ৫২টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
- বিগত ১০ বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ৫৮৯.০০ কিমি নদীতীর সংরক্ষণ, বিভিন্ন নদীর প্রায় ১০৮৮ কিমি নদী খনন, ৬৭৮.০০ কিমি সেচ ও নিষ্কাশন খাল খনন এবং ২৭৭৩.০০ কিমি খাল পুনঃখনন, ১০৪৭.০০ কিমি বাঁধ (বন্যা নিয়ন্ত্রণ, উপকূলীয় ও ডুবন্ত) নির্মাণ এবং ৩৬৬০.৮১ কিমি বাঁধ পুনঃনির্মাণ/ মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া ১৭.২১ বর্গকিমি ভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
- অবকাঠামোগত এসকল উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে ১.৯৩ লক্ষ হেক্টর এলাকায় সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ ঘটেছে। ৩.৮৮ লক্ষ হেক্টর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন সুবিধার সম্প্রসারণ ঘটেছে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়নযোগ্য মোট ৫১টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে ২৬টি প্রতিশ্রুতি সর্বোতভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়িত এই প্রতিশ্রুতিসমূহের আওতায় (ক) ১৮০.৭৬ কিমি নদী ড্রেজিং/পুনঃখনন, (খ) ৮০.১৫৯ কিমি নদী তীর সংরক্ষণ, (গ) ১৬৮২.৮৯২ কিমি বাঁধ নির্মাণ/ মেরামত/পুনঃনির্মাণ, (ঘ) ৩০১.২৬৮ কিমি খাল খনন পুনঃখনন এবং (৫) ৬৬টি পানি অবকাঠামোর নির্মাণকাজ সম্পাদন করা হয়। ১৫টি প্রতিশ্রুতির কার্যক্রম চলমান আছে। বাকি ১০টির মধ্যে ৮টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। ২টি প্রতিশ্রুতির সমীক্ষা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
- দেশের নদ-নদীসমূহ ড্রেজিং করে নাব্যতা বৃদ্ধিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরন্তর অগ্রাধিকারের প্রেক্ষিতে বৃহৎ নদীসমূহের নাব্যতা ও ধারণক্ষমতা পুনরুদ্ধারে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ২৪টি নদ-নদীতে ড্রেজিং বিষয়ে সমীক্ষা সম্পাদিত হয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার আলোকে নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ নদী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ড্রেজিং মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নাধীন। বাপাউবো’র ড্রেজিং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০টি ড্রেজার ও ১৩টি এক্সকাভেটর ক্রয় করে সরবরাহ করা হয়েছে। আরও ১১টি ড্রেজার ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর মাধ্যমে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার জন্য ৩৫টি ড্রেজার ক্রয়ের ১টি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
- ‘ক্যাপিটাল (পাইলট) ড্রেজিং অব রিভার সিস্টেম ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে ২২ কিঃমিঃ ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও ২০ কিমি রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং এবং ৪টি ক্রসবার নির্মাণের ফলে যমুনা নদীতে ১৬ বর্গ কিমি ভূমি পুনরুদ্ধার হয়েছে। পুনরুদ্ধারকৃত ভূমির উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল রক্ষার জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
- দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে (কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা এলাকায়) লবনাক্ততা হ্রাসে গড়াই নদীর প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিংসহ ৩০.০০ কিলোমিটার গড়াই নদীর ড্রেজিং কার্যক্রমের প্রকল্প সমাপ্ত করা হয়েছে। নদীতে প্রবাহ অব্যাহত রাখার জন্য প্রতিবছর রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং কাজ চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং কাজের ফলে শুষ্ক মৌসুমে গড়াই নদীর প্রবাহ নিশ্চিতকরতঃ সেচ, পানীয় জল, নৌ-যোগাযোগ, লবণাক্ততা হ্রাস ইত্যাদির ক্ষেত্রে আশানুরূপ সুফল পাওয়া যাচ্ছে।
- ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যশোর জেলার এবং খুলনা জেলার প্রায় ১.২০ লক্ষ হেক্টর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে।
- ইতোমধ্যে মেহেরপুর জেলায় ভৈরব নদী, নড়াইল জেলায় চিত্রা নদী, খুলনা জেলায় আঠারোবাকি, সালতা ও ভদ্রা নদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বেমালিয়া, লংগন, তিতাস ও পাগলা নদী, লালমনিরহাট জেলায় ধরলা নদী, পঞ্চগড় জেলায় করতোয়া নদী, পাবনা জেলায় বালাই নদী, ফরিদপুর জেলায় কুমার নদ, কুষ্টিয়া জেলায় পদ্মা ও গড়াই নদী, জামালপুর ব্রহ্মপুত্র নদ, যশোর জেলায় ভৈরব নদী, কক্সবাজার জেলায় বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদী, কিশোরগঞ্জ জেলায় কালনী ও ধলেশ্বরী নদী, গোপালগঞ্জ জেলায় কুমার, ননদ, ফরিদপুর ও রাজবাড়ি জেলায় চন্দনা ও বারাশিয়া নদী প্রভৃতি নদী ড্রেজিং / পুনঃখনন, কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে / বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
- ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের অনুকূলে নরসিংদী জেলায় আড়িয়াল খাঁ, হাড়িদোয়া, ব্রহ্মপুত্র, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, পাহাড়িয়া ও মেঘনা শাখা নদী, টাঙ্গাইল জেলায় নতুন ধলেশ্বরী, পুংলী, ধলেশ্বরী ও যমুনা নদী, জামালপুর জেলায় যমুনা নদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় তিতাস নদী, নোয়াখালী জেলায় বামনী নদী, চাঁদপুর জেলার মেঘনা নদী, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলায় রক্তি, যাদুকাটা, আপার বাউলাই, পুরাতন সুরমা, নলজুর, চামতি নদী,
- মৌলভীবাজার জেলায় জুড়ি ও সোনাই নদী, চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু নদী, কক্সবাজার জেলার বাঁকখালী নদী, রংপুর জেলার তিস্তা নদী, সিরাজগঞ্জ জেলায় যমুনা নদী, রাজশাহী জেলায় পদ্মা নদী, নাটোর জেলার আত্রাই নদী, ফরিদপুর জেলার কুমার ও মরাকুমার নদ, মাগুড়া জেলায় নবগঙ্গা নদী, খুলনা জেলায় সালতা, ভদ্রা ও আঠারোবাকি নদী এবং যশোরে ভৈরব, আপার ভদ্রা, বুড়িভদ্রা ও হরিহর নদী ড্রেজিং/ পুনঃখননের কার্যক্রম রয়েছে।
- ‘পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন (ওয়ামিপ)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৩টি জেলার ১১৯টি উপজেলায় ১২৮টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন সেচ / শহর সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
- মাতামুহুরী সেচ প্রকল্প (২য় পর্যায়) বাস্তবায়নের ফলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ২০,৩৪৪ হেক্টর এলাকা সম্পূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সম্প্রসারণ ও নিষ্কাশন সুবিধার আওতায় এসেছে। ফলে প্রায় ১৩,৭১১ হেক্টর এলাকায় সেচ সুবিধা দেয়া সম্ভব হে সুরমা নদীর ডান তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সিলেট জেলার প্রায় ৪০,০০০ হেক্টর জমির ফসল সুরক্ষা প্রদান সম্ভব হয়েছে এবং এর পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০,০০০ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে।
- গোপালগঞ্জ জেলার সদর, কাশিয়ানি ও মুকসুদপুর উপজেলার কুমার নদ, বলগ্রাম তেতুলিয়া খাল, তালতলা হাতিয়ারা খালসহ অন্যান্য খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এবং পশ্চিম গোপালগঞ্জ সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ৬২,২০৭ হেক্টর এলাকায় বন্যা মৌসুমে বন্যার প্রকোপ হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় তারাইল পাঁচুরিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২১,৩০০ হেক্টর এলাকা বন্যামুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। পোল্ডারিং এর মাধ্যমে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ রোধের ফলে ১৬,০১৯ হেক্টর এলাকায় সেচ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
- “মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্পের আওতায় ফেনী জেলার ৩৫.৮০০ হে আবাদী জমি উপকৃত হয়েছে।
- নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জে ছোট ফেনী নদীর মোহনার কাছে প্রায় ১৭০ কোটি টাকা বায়ে মুছাপুর ক্লোজার ও রেগুলেটর নির্মাণের ফলে শোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লা জেলায় বিশাল এলাকা বন্যামুক্ত এবং লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ রোধ করা হয়েছে এবং ১.২১ বর্গকিমি ভূমি পুনরূদ্ধার করা হয়েছে। মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণের ফলে ঐ এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ হয়েছে।
- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সমন্বিত পানি সম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নড়াইল ও যশোর জেলায় ৫৭,০০০ হেক্টর এলাকায় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে।
- তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প (ফেজ-২, ইউনিট-১) এর আওতায় রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী: জেলার ৮,০০০ হেক্টর এলাকাকে সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। তিস্তা ব্যারেজের কার্যক্রম অটোমেশনের মাধ্যমে যুগোপযোগী করা হয়েছে। তিস্তা ব্যারেজের কমান্ড এরিয়া উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
- খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তথা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত সেচ প্রকল্পসমূহ আধুনিকায়নের নিমিত্তে Irrigation Management Improvement Programme for Muhuri Irrigation Project (IMIP- MIP) এর আওতায় বর্তমানে মুহুরী সেচ প্রকল্পের পূনর্বাসন ও আধুনিকায়নের (ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপন করে মিটারের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচের পানি সরবরাহ) কাজ চলমান রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে জি-কে (গঙ্গা-কপোতাক্ষ) ও তিস্তা সেচ প্রকল্পের আধুনিকায়ন প্রক্রিয়াধীন আছে।
- দেশের প্রায় ১১৮ লক্ষ হেক্টর এলাকার মধ্যে সেচ সুবিধা প্রদানযোগ্য, বন্যামুক্ত ও নিষ্কাশনযোগ্য প্রায় ৬৪ ৬১ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাদি রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্প পূর্ব অবস্থার তুলনায় প্রায় ১০৬.১০ লক্ষ মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে ।
- ‘নদী তীর সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং শহর সংরক্ষণ (৪র্থ পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ১০,০০০ হেক্টর জমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে ।
- ‘সেকেন্ডারি টাউনস ইন্টিগ্রেটেড ফ্লাড প্রোটেকশন (ফেজ-২)’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, জামালপুর, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, রাজশাহী ও সুনামগঞ্জ শহরের বন্যা প্রতিরোধসহ নদীভাঙ্গন রোধ, পৌর এলাকার পানিতে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে।
- রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, বান্দরবানে আলীকদম সেনানিবাস ও খুলনায় বিএনএস তিতুমীর নৌঘাটিকে নদী ভাঙ্গন হতে সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানচিত্রে সদ্য স্থান পাওয়া লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলাধীন সাবেক পাটগ্রাম ছিটমহল এবং পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলাধীন সাবেক নাজিরগঞ্জ ও দইখাতা ছিটমহল এলাকায় নদী তীর ভাঙ্গনরোধে প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
- সীমান্ত বরাবর নদীসমূহের ২৪ কিমি দৈর্ঘ্যে নদীতীর কাজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাসমূহে নদী ভাঙ্গন রোধকল্পে সম্প্রতি অনুমোদনপ্রাপ্ত “সামান্ত নদীতীর সংরক্ষণ ও উন্নয়ন (ফেজ-২)” শীর্ষক গুচ্ছ প্রকল্পের আওতায় দেশের ১২টি জেলার (সিলেট, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ফেনী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়) ২২টি উপজেলার ৭৮টি স্থানে ১৫টি সীমান্ত নদীর তীরে ৩৪.৬০৯ কিমি তাঁর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
- উপকূলীয় এলাকায় (নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলা) লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধ, জেগে ওঠা চরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য ‘চর ডেভেলপমেন্ট ও সেটেলমেন্ট প্রকল্প (ফেজ ১, ২, ৩, ৪) বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পুনরুদ্ধারকৃত ১৪,৯৭২ হেক্টর ভূমিতে ১৭,৫০৩ টি ভূমিহীন পরিবারকে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।
- ২০১২-১৩ অর্থ-বছর হতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীসমূহের ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৫-দিনের আগাম বন্যা পূর্বাভাস এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ৩০টি পয়েন্টে ১০ দিনের আগাম পূর্বাভাস প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে যেকোন মোবাইল অপারেটর হতে ১০৯০ তে ডায়াল করে নদ-নদীর পানি সমতল এবং বন্যা পূর্বাভাস সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
- হাওর ও জলাভূমির সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা এবং হাওর এলাকার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে
- (ক) ৪২৪.৭৩ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত ‘কালনী-কুশিয়ারা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ (প্রকল্প এলাকা: কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার),
- (খ) ৫৮৭.২৯ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত ‘হাওর এলাকার আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন উন্নয়ন’ (প্রকল্প এলাকা সুনামগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার) ও
- (গ) ৯৭৮.৬৩ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত ‘হাওর বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” (প্রকল্প এলাকা: কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ময়মনসিংহ) শীর্ষক প্রকল্প ত্রয় বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পসমূহের আওতায় বিদ্যমান ডুবন্ত বাঁধসমূহের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ হাওর এলাকার নদ-নদীসমূহের ড্রেজিং এবং অভ্যন্তরীণ খালসমূহের পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
- ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ‘হাওর এলাকায় আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলাতে ১০৩০ কিমি ডুবন্ত বাঁধের (কার্যকরী দের্ঘ্য ৪৩৪.৮৮৭ কিমি) মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুন্নয়ন রাজস্ব বাজেটের অর্থায়নে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ৭২৭টি স্কীমের আওতায় পিআইসি দ্বারা প্রায় ৩৭৫.০০ কিমি ডুবন্ত বাঁধের মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়।
- হাওর এলাকায় বাস্তবায়নাধীন এই ৩ প্রকল্পের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে প্রায় ৫৫.০০ কিমি দৈর্ঘ্যে ৩৭.০৯ লক্ষ ঘনমিটার মাটি ড্রেজিং করা হয়। ১৪৪.৮৪২ কিমি খাল পুনঃখনন (২৬.৪৭ লক্ষ ঘনমিটার মাটি) করা হয়।
- ইমারজেন্সি ২০০৭ সাইক্লোন (সিডর) রিকভারি এন্ড রেস্টোরেশন প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় সিডর (২০০৭) এবং আইলাতে (২০০৯) বাপাউবো’র ২৯টি ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ডারের পুনর্বাসন করা হয়েছে। উপকূলীয় ৩টি জেলার ১২টি উপজেলায় (বরগুনা- সদর, আমতলি, তালতলি, বামনা, পাথরঘাটা, বেতাগী, পটুয়াখালী- গলাচিপা, দশমিনা, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী পিরোজপুর ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া) ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্বাসন পূর্বক জনজীবন পূর্বাবস্থায় পূনরুদ্ধার এবং উপ-প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
- দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব প্রতিরোধ, লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ রোধ ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৭টি পোল্ডারের বাঁধের উচ্চতা ও প্রশস্থতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাঁধ শক্তিশালীকরণ এবং অভ্যন্তরীণ নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য Costal Embankment Improvement Project (CEIP) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে ঘূর্ণিঝড়ে জলোচ্ছাসের প্রকোপ মোকাবিলায় পোল্ডারভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় পোল্ডারসমূহের পূনর্বাসন করার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই এক দশক ছিল বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের ‘স্বর্ণযুগ’। বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪,৯৪২ মেগাওয়াট থেকে ২০,০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করে দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসা এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া ছিল এই সময়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য। একই সাথে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন এবং মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের কারিগরি সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সাহসের প্রতীক হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সড়কপথের চার লেনে রূপান্তর, রেলওয়ের আধুনিকায়ন এবং নৌপথের নাব্য পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, তা দেশের শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে এক নতুন গতি দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পায়রা ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের উদ্যোগসমূহ বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করার পথ প্রশস্ত করেছে। গত দশ বছরের এই অভাবনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়, বরং এটি ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার অবিনাশী ভিত্তিপ্রস্তর।
