শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নির্ভর করে তার শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং স্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে যে দূরদর্শী প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক দশকে বাংলাদেশের ‘প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা’ খাতে সাধিত হয়েছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আধুনিকায়নের রূপরেখায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বমঞ্চে এক আত্মপ্রত্যয়ী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

গত এক দশকে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তুলতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীতে চতুর্থ প্রজন্মের এমবিটি-২০০০ ট্যাংক ও অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেম সংযোজন, নৌবাহিনীতে প্রথমবারের মতো সাবমেরিন যুক্ত করে ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা অর্জন এবং বিমানবাহিনীতে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার’ স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাত আজ স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে। বিশেষ করে নিজস্ব শিপইয়ার্ডে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সমুদ্র বিজয়ের পর ব্লু-ইকোনমি রক্ষায় নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

অভ্যন্তরীণ জননিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গত দশ বছর ছিল অগ্রগতির মাইলফলক। জঙ্গিবাদ দমন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৭৫ হাজার নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের মতো বিশেষায়িত ইউনিট গঠন এবং জরুরি সেবায় ‘৯৯৯’ চালুর ফলে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বহিরাগমন ও পাসপোর্টের ডিজিটালাইজেশন (এমআরপি ও ই-পাসপোর্ট) এবং ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি দেশের সুরক্ষা সেবা বিভাগকে করেছে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব।

বর্তমান আলোচনায় শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আকাশ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গত ১০ বছরে গৃহীত প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা খাতের বিশাল কর্মযজ্ঞ ও অভাবনীয় সাফল্যসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

প্রতিরক্ষা

  • সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে “ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীল পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন অব্যাহত।
  • সশস্ত্র বাহিনীকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ।
  • প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবনে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ব্যবহৃত দপ্তর কয়েকটি ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
  •  মন্ত্রণালয়ের লাইব্রেরির প্রায় ৬০০০ পুস্তক ডাটা অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডের কর্মচারীদের অফিস যাতায়াতের জন্য প্রাধিকাভূক্ত ৫টি (পূর্বের ৩টিসহ নতুন ২টি) মাইক্রোবাসের মধ্যে ৪টি মাইক্রোবাস, ১টি জীপগাড়ি ২টি স্টাফবাস ক্রয় ও মন্ত্রণালয়ের চিঠিপত্র বিলি বন্টনের কাজ ব্যবহারের জন্য ২টি মোটরসাইকেল ক্রয় করা হয়েছে।
  •  মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত এমওডিসি সদস্যদের জন্য এমওডিসি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

  •  মিরপুর সেনানিবাসে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (MIST) এর অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
  •  জনগণের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা প্রদান, ইন্টার্নি মেডিকেল স্টুডেন্টস এবং নার্সদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ এবং চাকুরির সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
  • মিরপুর সেনানিবাসের সামরিক / বেসামরিক কর্মচারী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ জনগণের সন্তানদের শিক্ষণ প্রদানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে স্কুল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে।
  • ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, হালিশহর (চট্টগ্রাম) এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, রাজশাহী এর সামরিক / বেসামরিক কর্মচারী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ জনগণের সন্তানদের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে স্কুল নির্মাণ।
  • মিরপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) স্থাপন করা হয়েছে।
  • তিন বাহিনীর জন্য অফিসার নিয়োগ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পাদনে ইন্টার সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ড (ISSB) এর অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
  • সিএমএইচ ঢাকা সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে এবং ভাটিয়ারী, চট্টগ্রামে বিএমএ বঙ্গবন্ধু কমপেক্স নির্মাণ করা হয়েছে।
  • মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (NDC) এর জন্য আনসঙ্গিক কাজসহ বাসস্থান নির্মাণ করা হয়েছে।
  • ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স, সেনাসদরের অভ্যন্তরে হেলমেট কনফারেন্স রুম, সৈনিকদের আধুনিক বাসস্থান (ব্যারাক) নির্মাণ এবং ধামালকোট এলাকায় নির্ঝর আবাসিক এলাকা নির্মাণ করা হয়েছে।
  •  সামিরক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্স’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
  •  বিওএফ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
  •  নির্বার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
  • বিভিন্ন সেনানিবাসে আবাসন সমস্যা সমাধানকল্পে অফিসার্স, জেসিওস এবং অন্যান্য পদবীর সৈনিকদের জন্য আধুনিক মেস, বিভিন্ন কোয়ার্টার এবং সৈনিক ব্যারাক নির্মাণসহ ফলোয়ার্স কোয়ার্টার নির্মাণ (বহুতল ভবন) করা হয়েছে। মিরপুর ডিওএইচএস-এ শহিদ পরিবারদের জন্য ১৪ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
  •  রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে অ্যামুনিশন সঠিকভাবে মজুদ করার লক্ষ্যে মিলাইল টেস্টিং সাপোর্ট (এমটিএস) শেড নির্মাণ, অ্যামো স্টোর, এমটি গ্যারেজ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ অ্যামো ল্যাব ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়েছে।
  •  জিই (আর্মি) রামু, জিই (আর্মি) লেবুখালী (এডহক), এজিই (আর্মি) সিএমএইচ ঢাকা (এডহক) গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়াও ঢাকা সেনানিবাসে পূর্ত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে সম্পাদনের নিমিত্তে জিই (আর্মি) সেন্ট্রাল ঢাকা, জিই (আর্মি) সাউথ ঢাকা, জিই (আর্মি) নর্থ ঢাকা হিসেবে নাম পরিবর্তনসহ মিরপুর সেনানিবাসে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এর অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণ ( সংশোধিত) করা হয়েছে।
  •  ২০০৯-২০১৬ অর্থবছর পর্যন্ত আর্মড পারসোনেল ক্যারিয়ার, আর্মার্ড রিকোভারি ভেহিক্যাল (ARV), (ARC) অ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান, হুইল লোড়ার, ট্যাংক, ট্যাংক ট্রান্সপোর্টর, উইপন লোকেটিং রাভার, মেশিন গান জীপ, সেলফ প্রপেলড গান (SP Gun) এন্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন (ATGW), ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র, আর্মাড পারসোনেল ক্যারিয়ার (APC), সাউন্ড রেঞ্জিং ইকুইপমেন্ট (SRE), মাল্টি লঞ্চ রকেট, অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড, হেলিকপ্টার (DAUPHIN), অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত ৪র্থ প্রজন্মের ট্যাংক এমবিটি-২০০০, MI 171 SH মিলিটারি হেলিকপ্টার FM-90 SAM System, সাঁজোয়া কোরের ট্যাংক টি-৫৯. রাডার কন্ট্রোলড গান সিস্টেম, ওবিএম-১১৫- এইচপি উইথ বোট, স্পীড বোট, পিএবিএ এক্সচেঞ্জ, রেডিও রিলে রিপিটার স্টেশন, রেডিও রিল টারমিনাল স্টেশন, লাইট এয়ার ক্রাফট, ট্যাংক সিমুলেটর, সাউন্ড রেঞ্জিং ইকুইপমেন্ট, ইলেকট্রনিক মেটেরোলজিক্যাল স্টেশন, সার্ভে থিওডোলাইট অন করা হয়েছে। এ ছাড়াও, TK (Armd) Dayzer, short Gap Crossing System, Sim for Tk T-59G (Dynamic), Fork Lift (1.5 Ton) এবং ট্যাংক এমবিটি ২০০০ এর ১২৫ মি.মি. গোল ক্রয়ের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
  •  সিলেট এবং কক্সবাজার জেলার রামুতে পদাতিক ডিভিশন গঠন। বরিশাল বিভাগের বাকেরগঞ্জ, মির্জাগঞ্জ এবং দুমকি উপজেলার লেবুখালীতে নতুন সেনানিবাস স্থাপন। কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইনে নতুন সেনানিবাস স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে।
  •  নব গঠিত জালালাবাদ সেনানিবাস এবং রামু সেনানিবাসের অধীনস্থ ১ম ধাপে ইউনিট গঠনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২য় ধাপের ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ইউনিট গঠনের অনুমোদন পাওয়া গেছে।
  • চট্টগ্রামে বিএমএ তে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স স্থাপন। • বাংলাদেশ সেনাবিহিনীর কিছু সংখ্যক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদবীকে মেজর জেনারেল পদবীতে, কর্নেল পদবীকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদবীতে, লে:কর্নেল পদবীকে কর্নেল পদবীতে, মেজর পদবীকে লে:কর্নেল পদবীতে এবং ক্যাপ্টেন পদবীকে মেজর পদবীতে উন্নীত করা হয়। এ ছাড়াও, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কিছু সংখ্যক লে: কর্ণেল (এডিসি) পদ নতুনভাবে সৃজন করা হয়েছে।
  •  স্কুল অব ইনফেন্ট্রি এন্ড ট্যাকটিকস (ST & T ) কর্তৃক Fighting In Built up Area (FIBUA) প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য একটি FIBLA ভিলেজ, বর্তমানে FIBUA ভিলেজের একটি রাস্তাসহ ১৩টি বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে।
  •  প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে নিমিত্ত ৩৩,৫৫ ও ৬৬ পদাতিক ডিভিশন এবং ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নে মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ শেষ নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইনফেন্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের (BIRC) ইনডোর ফায়ারিং রেঞ্জ নির্মাণকাজ চলমান আছে। সদর দপ্তর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনে ড্রিল সাউন্ড প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে।
  • সেনাবাহিনীর রিক্রট এবং মৌলিক প্রশিক্ষণ ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছরে উন্নীত করা হয়েছে।
  • সিএমএইচ ঢাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ডিপার্টমেন্টসমূহ নতুনভাবে বিভিন্ন ইউনিট সংযোজিত রয়েছে যেমন
  • Emergency and Casualty, Critical Care Centre, Chest Pain Unit, Family VIP VVIP(Refurbished), Burn ICU Child development centre, Male hemato- oncology, Pediatric surgery wd, Child Gastroenterology wd, Pediatric cardiac ICU, Prdiatric hemato-oncology, Cataract clinic,Retina clinic, Pediatric emergency. সামরিক চিকিসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫টি সেনানিবাস এলাকায় (বগুড়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর ও রংপুর) ৫টি আর্মি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে।
  • ২টি আর্মি নার্সিং কলেজ (কুমিল্লা এবং রংপুর ) শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়েছে।
  •  সেনাবাহিনীর অফিসার, জেসিও এবং ওআরগণের ছুটি নগদায়নের অর্থ প্রদান সরকার কর্তৃক ১২ মাসের পরিবর্তে ১৮ মাসে উন্নীত এবং জেসিও এবং ওআরগণের পেনশনযোগ্য চাকুরিকাল সরকার কর্তৃক ১৫ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর নির্ধারণ। জেসিও পলকে ১ম শ্রেণি (নন ক্যাডার) এবং সার্জেন্ট পদকে ৩য় শ্রেণি হতে ২য় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী

  •  বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ২০০১ থেকে অদ্যবধি ২টি সাবমেরিন, ফ্রিগেট, করভেট, লার্জ প্যাট্রোল ক্রাফট, প্যাট্রোল ক্র্যাফট, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল, ফ্লিট ট্যাংকার, ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক, ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি, কন্টেইনার ভেসেল, সাবমেরিন হ্যান্ডলিং টাগসহ মোট ২৭টি জাহাজ, ২টি মেরিটাইম হেলিকপ্টার ও ২টি মেরটিাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফট (এমপিএ) সংযোজিত হয়েছে।
  •  বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত দেশীয় শিপইয়ার্ড (খুলনা শিপইয়ার্ড লি:) প্রথ মবারের মত যুদ্ধজাহাজ (৫টি প্যাট্রোল ক্রাফট এবং ২টি লার্জ প্যাট্রোল ক্রাফট) নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করেছে।
  • বানৌজা নির্ভীক ও নেভাল এভিয়েশন ঘাঁটির কমিশনিং এবং স্কুল অব লজিস্টিক এন্ড ম্যানেজমেন্ট (সোলাম) এর উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় বানৌজা শেখ মুজিব, পটুয়াখালী জেলার রাবনাবাদে এভিয়েশন সুবিধাসম্বলিত পূর্ণাঙ্গ নৌঘাঁটি বানৌজা শের-ই-বাংলা এবং কক্সবাজারস্থ পেকুয়া এলাকায় বানৌজা শেখ হাসিনা (সাবমেরিন ঘাঁটি) এর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
  •  কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের বাসস্থান, নাবিক নিবাস, নৌভবন কমপ্লেক্স, নৌপ্রধানের সচিবালয় ইত্যাদি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়াও বাসস্থান ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যা দূরীকরণের লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং খুলনায় মোট ২২টি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ। চলমান রয়েছে।
  • Missile System C-802A (অত্যাধুনিক) Surface to Surface Missile এবং FL- 3000N SAM অত্যাধুনিক Surface to Air Missile বানৌজা স্বাধীনতা ও বানৌজা প্রত্যয়ে স্থাপিত হয়েছে।
  • বানৌজা বঙ্গবন্ধুতে Missile System FM-90N SAM অত্যাধুনিক Surface to Air Missile স্থাপিত হয়েছে।
  • বানৌজা বঙ্গবন্ধুর যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে OTOMAT MK- মিসাইল ক্রয় করা হয়েছে, যা ১৮০ কিঃমিঃ দূরের লক্ষবস্তুকে ধ্বংস করা সম্ভব।
  • নৌবাহিনীর মিসাইল বোট এবং জাহাজে আধুনিক সি-৭০৪ মিসাইল সংযোজন করা হয়েছে যা দ্বারা ৪০ কি:মি: দূরের লক্ষ্যবস্ত্রকে ধ্বংস করা সম্ভব।
  • ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে মহিলা নাবিক ভর্তির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মহিলা নাবিকের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ সমাপনান্তে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে নৌবাহিনীতে ১৭৫ জন নারী অফিসার এবং ৫৯ জন নারী নাবিক নিয়োজিত রয়েছেন।
  • ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
  • ২১ মার্চ ২০১৮ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম পতেঙ্গায় বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে ক্যাডেটদের উন্নত প্রশিক্ষণসুবিধা সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। ২০১৩ সালে বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। বিভিন্ন নৌঅঞ্চলে নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত স্কুল ও কলেজসমূহে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী

  •  বিমানবাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিকাল সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে।
  •  রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন বিমানের নকশা প্রণয়ন ও উদ্ভাবন এবং বিমানের বিবিধ গবেষণা কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানের লক্ষ্যে ২০২, ২০৫, ২০৭ ২০৮ ২০১০ মেইনটেন্যান্স ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
বানৌজা নবযাত্রা ও জয়যাত্রা’র কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইচ টিপে জাহাজ দু’টির উদ্বোধন করছেন। চট্টগ্রাম, ১২ মার্চ ২০১৭

 

  • এ ছাড়াও বিমানবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোতে বি বা ঘাঁটি কক্সবাজার, বি বা ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু, ৩০১ সারফেস টু এয়ার মিসাইল, বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার স্থাপন, কক্সবাজার র্যাডার ইউনিট, বিমানবাহিনী একাডেমি, এমটিডিএস, বিএএফ মিউজিয়াম সাইবার ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড আইটি পরিদপ্তর, ৪টি এটিএস বাড়ার স্কোয়াড্রন (ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর ও কক্সবাজার), ওভারসিস এয়ার অপারেশন্স পরিদপ্তর, ১০৫ এজেটি ইউনিট, ১০০ এয়ার ট্রান্সপোর্ট ট্রেনিং ইউনিটের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
  •  ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বরিশালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্যে সংস্থাপন কার্যক্রম এবং ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এবং নীতিগত অনুমোদনের লক্ষ্যে গত ৭ জানুয়ারি ২০১৮ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
কে-৮ প্রশিক্ষণ ফাইটার বিমান উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা, ১১ এপ্রিল ২০১৫

 

  •  বাংলাদেশের অব্যবহৃত এয়ারফিল্ডসমূহকে ধীরে ধীরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আনয়নের পদক্ষেপ রয়েছে।
  •  বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটির নিরাপত্তার জন্য এয়ার রেজিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান মেয়াদ পর্যন্ত চীন থেকে ১৬টি (F-7BG1) যুদ্ধবিমান, ১টি (K-8W) ২৩টি (PT-6) প্রশিক্ষণ বিমান, রাশিয়ান ফেডারেশন হতে ১৬টি (YAK-130 ) বিমান, ১৩টি (Mi-171SH) হেলিকপ্টার, ১টি Mi-171E VIP Saloon হেলিকপ্টার, ইতালি হতে ২টি AW-119KX হেলিকপ্টার ট্রেইনার, ৪টি AW-139 (Maritime Search and Rescue Helicapter) চেক রিপাবলিক হতে ৩টি L-410 Transport Trainer Aircraft, সিঙ্গাপুর হতে ১টি Mi-17/Mi-171 Series হেলিকপ্টার Simular ক্রয় করা হয়েছে।
  •  এছাড়াও ২টি Short Range Air Defence (SHORAD ) System, ৫টি Air Defence Radar, ১টি জিসিএ রাডার এবং ১টি লং রেঞ্জ Air Defence Radar ক্রয় করা হয়েছে।
    Precision Guided Bomb, KUB-500kr TV Guided Bomb, High Explosive Aerial Bomb OFAB 250-270, PL-SE11, PL-9C Missile, FM-90 মিসাইল এবং বিমান থেকে বৈমানিকদের আকাশ থেকে ভূমিতে গোলাবর্ষণের ফলাফল নির্ণয় ও নিরীক্ষাকল্পে আধুনিক প্রযুক্তির তারবিহীন Auto Scoring System ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য সামরিক সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২টি C-130J ML5 (G2G) বিমান এবং ৭টি K-8 Jet Trainer (G2G) বিমান ক্রয়ের চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে।।
  •  ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আলোকে অত্যাধুনিক ও কারিগরিভারে উৎকর্ষতাসম্পন্ন ১৬টি Multi Role Combat Aircraft (MRCA) এবং ৮টি Attack Helicopter বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
  •  এছাড়াও ১টি Medium Range Surface to Air Missile (MSAM) System, ১টি Fixed Wing Unmanned Aerial Vehicle (UAV) System, ১টি PT-6 aircraft Simulator, 3wU VVIP Helicopter Mobile Gap Filler Radar (MGFR) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য ক্রয়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
  •  একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশের আকাশসীমার উপর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সনাক্তকরণ এলাকা Air Defence Identification Zone (ADIZ) নির্ধারণ ও প্রয়োগ করা হয়েছে, যা বর্তমান ও ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
  •  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন এন্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদয় নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে এবং এর স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
  • যশোরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

  •  সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, অবস্থান, তীব্রতা, স্থলভাগ অতিক্রমের স্থান ও জলোচ্ছাসের সঠিক পূর্বাভাস প্রদানের নিমিত্ত কক্সবাজার ও খেপুপাড়ায় ডিসেম্বর ২০১০ সালে জাপান সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় জাইকা (IICA) এর তত্ত্বাবধানে ২ টি অত্যাধুনিক সিসমোমিটার স্থাপন করা হয়েছে।
  • পরবর্তীতে উক্ত নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ করে পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা ও কক্সবাজার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে আরও ৬ (ছয়) টি অত্যাধুনিক ব্রডব্যান্ড সিসমোমিটার স্থাপন করে কেন্দ্রীয় সিসমিক সার্ভারের সঙ্গে একই নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করা হয়েছে।
  • বর্তমানে সর্বমোট ১০ টি সিসমিক পর্যবেক্ষণাগার থেকে ভূমিকম্পের তথ্য ও উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে। দেশের ৩২টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারকে ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। নৌ-দুর্ঘটনা প্রশমনকল্পে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল পূর্বভাসকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
  • Establishment of Meteorological Radar System at Moulvibazar (Revised).
  •  পাঁচটি স্থানে ১ম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার স্থাপন প্রকল্প। পঞ্চগড়, কিশোরগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এবং বান্দরবান। অ্যাগ্রোমোটিওরোলজিক্যাল সার্ভিসেসের উন্নয়ন করা হয়েছে।
  • Climate services for Resilient Development (CSDR) in south Asia and bangladesh,
  • বাংলাদেশের ১৪টি নদী বন্দরে ১ম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার শক্তিশালী করা হয়েছে।
  •  আবহাওয়া পূর্বাভাস জনগণের নিকট সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বিএমডি ওয়েদার অ্যাপ’ (BMD Weather Apps) উদ্বোধন। স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ‘বিএমডি ওয়েদার অ্যাপ এর ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাভিত্তিক আবহাওয়া পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।
  • ভূমিকম্প, সুনামি, আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতি লাঘবের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ২০০৯ সাল থেকে Regional Integrated Multi-Hazard Early Warning System
    (RIMES)-এর কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে।
  •  জাইকা এর কারিগরি সহায়তায় জুলাই ২০১০ হতে ডিসেম্বর ২০১৩ মেয়াদ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
  •  নরওয়েজিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট এর কারিগরি সহায়তায় ভায়না মডেল ব্যবহার করে আবহাওয়া অধিদপ্তর সঠিক পূর্বাভাস প্রদানে সক্ষমতা অর্জন করেছে।
  • বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান স্পারসোর ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্ৰসমূহ হালনাগাদ করার পরিপ্রেক্ষিতে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা ৩টিতে উন্নীত হয়। এই ৩টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ৭টি স্যাটেলাইট (আমেরিকা ভিত্তিক ৩টি, চীন ভিত্তিক ৩টি এবং জাপান ভিত্তিক ১টি) থেকে ডাটা সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
  •  স্পারসোর ভৌত ও অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন সম্পন্ন করা হচ্ছে।

সার্ভে অব বাংলাদেশ

  • ডিজিটাল ম্যাপিং সেন্টারে (DMC) নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে। সমগ্রদেশের ১০ ২৫,০০০ স্কেলের ১৮০টি ডিজিটাল মানচিত্রের মধ্যে (বেজ ম্যাপ) ৬৮০টি মানচিত্র মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ৫টি বিভাগীয় শহেরর ১:৫,০০০ স্কেলের ২৬০টি ডিজিটাল মানচিত্র প্রণয়নের কাজ চলমান আছে।
  • মানচিত্র মুদ্রণ ব্যবস্থা উন্নতকরণের জন্য ১টি Two color offset press (KBA Rapida 105, Germany) ক্রয় ও স্থাপন এবং সফট মানচিত্রের কপি সংরক্ষণের জন্য ১টি সার্ভার ও ১টি CTP ক্রয় ও স্থাপন করা হয়েছে।
  •  ডিজিটাল পদ্ধতিতে ৮টি বিভাগীয় ম্যাপ ও ২৯টি জেলা ম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে।
  •  ঢাকা, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনায় ৬টি স্থায়ী জিএনএসএস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।
  • সারাদেশে ৮১৭টি ২য় অর্ডার জিওডেটিক হরাইজেনটল কন্ট্রোল পয়েন্ট স্থাপন। ডিজিটাল মানচিত্র প্রণয়ন, বিভিন্ন স্থানের উচ্চতা নির্ণয় করার জন্য সারাদেশে ১০৪৫টি ২য় অর্ডার জিওডেটিক ভার্টিক্যাল কন্ট্রোল পয়েন্ট স্থাপন এবং ২১৬ জন কর্মচারীকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
  •  সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের মালামাল ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণের যাবতীয় বিষয়াদি Inventory Management. System সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
  • ১০০ শয্যা বিশিষ্ট “সিরাজ-খালেদা মেমোরিয়াল ক্যান্টমেন্ট বোর্ড জেনারেল হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অধীন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ‘চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
  •  ৩ তলাবিশিষ্ট সুবিশাল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ভবন এবং রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড পরিচালিত রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের বোর্ড স্কুল ও কলেজ নির্মাণ করা হয়েছে।
  •  শহিদ মঈনুল হোসেন রোডে এবং প্রয়াস সংলগ্ন নির্ঝর আবাসিক এলকায় অত্যাধুনিক খেলনা স্থাপনসহ ২টি আধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। রজনীগন্ধা সুপার মার্কেটে ৮ তলাবিশিষ্ট রজনীগন্ধা টাওয়ার, মিরপুর ডিওএইচএস-এ ১১ তলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র

জননিরাপত্তা বিভাগ

  •  জননিরাপত্তা বিভাগ দেশের অব্যাহত উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক রাখতে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে এবং ইতোমধ্যে জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থীদের দমন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, হলি আর্টিসান মামলা ও ২১-এ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্তসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার নিশ্চিত করার জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
  •  জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে মোট ২০টি নতুন আইন প্রণয়ন, সংশোধন ও যুগপোযোগী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
  •  বর্তমান সরকার প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত ভারত, মায়ানমার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, চীন ও অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে মোট ২১টি চুক্তি/সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
  •  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর শহিদ পরিবারবর্গের হত্যাকারী সাজাপ্রাপ্ত পলাতক খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্তে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সভাপতিত্বে সরকার কর্তৃক গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
  •  যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রাশেদ চৌধুরী ও কানাডায় অবস্থানরত নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে উক্ত দু’টি দেশে ‘ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে।
  • আসামী লেঃ কর্ণেল (অবঃ) খন্দকার আব্দুর রশিদ এর মালিকানাধীন কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলায় মোট ১৬.৯৪২৫ একর খন্দকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতঃ সরকারের ১নং খাস খনিয়ানভুক্ত করা হয়েছে।
  •  রাশেদ চৌধুরীর মালিকানাধীন চাঁদপুরে ১.১৫ একর ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ ও খাস খতিয়ানভূক্ত করা হয়েছে।
  •  সারাদেশে ১০১টি নতুন থানা ভবন নির্মাণ, ৫০টি হাইওয়ে আউটপোস্ট নির্মাণ, ১৯টি নৌ পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ এবং ব্যারাক নির্মাণ, পিবিআই এর কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তদন্ত সহায়ক যন্ত্রপাতি ক্রয়, ১টি পুলিশ সুপার ভবন নির্মাণ, পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে ব্যারাক ভবন নির্মাণ, ১৯টি জেলা/ইউনিটে অস্ত্র-গোলাবারুদ মজুদাগারসহ অস্ত্রগার নির্মাণ, ৫০টি সার্কেল এএসপি অফিস-কাম- বাসভবন নির্মাণ, পুলিশ স্টাফ কলেজ, ফরেনসিক ডি এন এ ল্যাবরেটরি, সিআইডি অফিস ভবন নির্মাণ, জরাজীর্ণ থানা ভবন নির্মাণ এবং পুলিশ একাডেমি সারদার মর্ডানাইজেশন উল্লেখযোগ্য।
  •  বাংলাদেশ পুলিশের জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মোট ৭৫,২৫১টি পদ সৃজিত হয়েছে। ১৫টি নতুন ইউনিট, ৫৬টি থানা এবং ৮৯টি তদন্ত কেন্দ্ৰ গঠিত হয়েছে।
  •  বাংলাদেশ পুলিশের মোট ১০১১ জন এএসপি, এসআই ৫, ১৯২ জন, পুলিশ সার্জেন্ট ১,০৫৩ জন এবং কনস্টেবল পদে ৭৪,৮৬৩ জনের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
  •  বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ৫টি মিশন নিয়োজিত রয়েছে। জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত জনবল ও সরঞ্জামের reimbursement বাবদ ৩,৯৩৫ কোটির বেশি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত।
  •  দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসা-বাণিজ্যকে নিরাপদ রাখতে এবং অর্থনীতিকে বিকশিত করার উদ্দেশ্যে শিল্পাঞ্চল এলাকা ভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন। ফলে শিল্পাঞ্চলে সু-শৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।
  • ট্যুরিস্ট পুলিশ ইউনিট গঠন এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০১৩ সালে বিভিন্ন পদবীর ৬২১টি পদ সৃজন কার্যক্রম আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামোতে ৬৮৯টি পদ সৃজন করা হয়েছে।
  •  হাইওয়ে পুলিশকে অধিকতর শক্তিশালীকরণ। বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের অধীনে রয়েছে ৩.৮১২ কিলোমিটার সড়ক এবং লোকবল আছে ২ হাজার ৮৬০ জন।
  •  ২টি সিকিউরিটি প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং পুলিশ এন্টি টেররিজম ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
  • রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
  • যেকোন প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তার জন্য ‘৯৯৯’ সেবা চালু করা হয়েছে। যে কেউ এই নম্বর কল করে পুলিশের সহায়তা চাইতে পারবেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা ও সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
পুলিশ সপ্তাহ ২০১৫ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্যারেড পরিদর্শন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজারবাগ পুলিশ লাইন মাঠ, ২৭ জানুয়ারি ২০১৫

 

  • বর্তমান সরকারের আমলে কমিউনিটি পুলিশিং-এর কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে। সাড়ে ৩ বছরে ওপেন হাউজ ডে, জনসংযোগ সভা এবং অপরাধ বিরোধী সভাসহ মোট বিরোধ নিষ্পত্তির সংখ্যা ৪,২১,৯৮২টি।
  • ২০১৩ সালে নৌ পুলিশ ইউনিট গঠন এবং বিভিন্ন পদবির ৭৪৭টি পদ সৃজন। নৌ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বিভিন্ন পদবির ৭১২টি পদ সৃজনের মঞ্জুরী প্রদান করা হয়েছে।
  • নৌ পুলিশ ইউনিট গঠনের ফলে বিগত ৪ বছর যাবত কার্যকরভাবে জাটকা নিধন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে সম্পদ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
  •  ব্র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর সদর দপ্তর ও র‍্যাব ট্রেনিং স্কুলসহ ১৪টি র‍্যাব ব্যাটালিয়নের জন্য র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর অফিস ভবন, র‍্যাব ফোর্সেস ট্রেনিং স্কুলসহ মোট ২৪০টি নির্মাণ কাজ এবং ২৩৩টি মেরামত কাজ সম্পন্ন।

সুরক্ষা সেবা বিভাগ

  • ২০১৭-এর ১৯ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়কে সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও জননিরাপত্তা বিভাগ নামে দু’টি বিভাগে ভাগ করা হয়। সুরক্ষা সেবা বিভাগ একটি সুরক্ষিত সেবামূলক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের জনগণের সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
  •  ৬৭ জন বিদেশী নাগরিক বৈবাহিকসূত্রে বা বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন যা বিদেশের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগকে আরও বৃদ্ধি করেছে।
  •  ১৩,৪০৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশীকে দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ প্রদান। প্রবাসী বাংলাদেশীদের নাগরিকত্বের অধিকারকে সুসংহত করার জন্য নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইন, বিধি, পরিপত্র ইত্যাদি সংশোধনক্রমে বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন, ২০১৫ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
  •  ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে বৈধভাবে থাকার অধিকার নেই এমন বাংলাদেশী নাগরিকদের সনাক্তকরণ এবং তাদের স্বচ্ছতার সাথে যথাযথভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে Standard Operating Procedure প্রণয়ন ।
  • ২০১৫ হতে জুন ২০১৮ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ হতে ১২.৯৯৭ জন বাংলাদেশীকে স্বদেশ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
  •  কূটনৈতিক এবং অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীগণের জন্য ২০০৯ সাল হতে ইন্দোনেশিয়া, চিলি, তুরস্ক, লাওস, বেলারুশ, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, মালয়েশিয়া, কুয়েত, জাপান, রাশিয়া, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলংকার সাথে থাইল্যান্ড এবং শ্রীলংকার সাথে বাংলাদেশের ভিসা অব্যাহতি সংক্রান্ত চুক্তি প্রণয়ন ও কার্যকর করা হয়েছে।
  • আরও ৩২টি দেশের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি প্রণয়নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমান সরকারের অধীনে কম সময়ে জটিলতামুক্ত পদ্ধতিতে বিদেশী নাগরিকগণকে ভিসা প্রদান করা হচ্ছে। ২015-2016 2016-২০১৭ এবং ২০১৭- ২০১৮ অর্থবছরে মোট ১৫,৫৭,৭৬৬ জন বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশ সরকারের নিকট থেকে ভিসা গ্রহণপূর্বক বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন।
  •  ৩১টি জেলায় ৩৪টি বিভাগীয়/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ। ৩৩টি জেলায় ৩৩টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের জনবল ৩৯৭ হতে বৃদ্ধি করে ১১৮৪ জনে উন্নীত করা হয়েছে।
  • ঢাকার উত্তরায় নতুন পার্সোনালাইজেশন কমপ্লেক্স নির্মাণাধীন। উক্ত সেন্টার হতে পাসপোর্ট প্রিন্ট করে দেশের অভ্যন্তরে পাসপোর্ট ইস্যুকারী অফিসসমূহে এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে প্রেরণ করা হয়।
  •  বাংলাদেশ সচিবালয় এবং ঢাকা সেনানিবাসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪টি পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র সুজন।
  •  বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে পার্সোনালাইজেশন সেন্টার, ডাটা সেন্টার এবং ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার সৃজন। আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অতিরিক্ত ৬টি ভিসা সেল এবং ৯টি ইমিগ্রেশন চেক পোস্টে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
  • ২০১৬ সাল হতে পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ পালন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।
  • ২০১০ সাল থেকে এমআরপি ও এমআরডি প্রদান করা হচ্ছে। অনলাইনে এমআরপি ফি গ্রহণের নিমিত্ত ৫টি ব্যাংকের সাথে চুক্তির ফলে পাসপোর্ট প্রত্যাশী জনসাধারণ পাসপোর্ট ফি অন-লাইনের মাধ্যমে উল্লেখিত ব্যাংকসমূহে জমা প্রদান করতে পারছেন।
  • বিভাগীয়/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অসুস্থ, বৃদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পৃথক কাউন্টার রাখা হয়েছে।
  •  প্রবাসী বাংলাদেশীদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট এবং বাংলাদেশে ভ্রমণোচ্ছ বিদেশি নাগরিকদের মেশিন রিডেবল ভিসা প্রদানের লক্ষ্যে বিদেশে অবস্থিত ৬৫টি বাংলাদেশ মিশনে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট এমআরপি এবং এমআরভি কার্যক্রম চালু। সবোর্চ ৩/৫ দিনের মধ্যে বিদেশস্থ মিশনসমূহে আবেদনকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • প্রথমে ৩১টি জেলায় এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩৩টি জেলায় এ কার্যক্রম চালু হয়ে বর্তমানে ৬৪ জেলায় দুই ধাপে এমআরপি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
    সম্প্রতি মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ আশ্রয় প্রদান করে সর্বপ্রকারের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এজন্য পর্যন্ত ১০ লক্ষাধিক
    রোহিঙ্গা শরণার্থীর বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।
  • বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর কর্তৃক এমআরপি এন্ড এমআরডি শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এ যাবত ৩২.৩০,০০০টি এমআরপি এবং ১,২৪,০০০টি এমআরডি ইস্যু করা হয়েছে এবং ১৩২১৫ কোটি ৩৬ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করা হয়েছে।
  •  ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনসহ ই-গেইট স্থাপনের মাধ্যমে ইমগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক মোট ২,৯১,১১৫টি অভিযান পরিচালনা। মোট ৫৫৮ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায়। ৭৬, ১৯০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ৪০,০১৯ টি মামলায় ৪১, ৮৪৫ জন অপরাধীকে বিভিন্ন দন্ড প্রদান করা হয়েছে।
  •  মানকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনবল বৃদ্ধি করে ১৭০৬ এ উন্নীত। অধিদপ্তরের আওতায় মোট ৪০টি অফিস থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রধান কার্যালয়সহ মোট ৮৫টি অফিস। ৩৪৫ জন কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগ।
  •  কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ৫০ থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীত। ৬৫.২২২ মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা সেবা প্রদান। ১৯২টি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের অনুকূলে লাইসেন্স ইস্যু।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

  • ১৯৯ জন কর্মকর্তা/কর্মচারীকে ৪ ক্যাটাগরিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পদক প্রদান। ২০১২ সাল হতে ফায়ার সার্ভিসের পদক সংখ্যা, এককালীন অনুদান এবং মাসিক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি। কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনুকূলে পূর্ণাঙ্গ রেশন প্রদান, ২য় ও ৩য় শ্রেণির অপারেশনাল কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য ৩০% হারে ঝুঁকিভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে।
  • ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে এ পর্যন্ত ৪০,৩৭১ জন কমিউনিটি ভলান্টিয়ার প্রস্তুত করে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
  •  ৯ বছরে ১,৬০,৯৭৪টি অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী বাহিনী কর্তৃক ১৪,৯৮৭.৮৬ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করা হয়েছে।
  •  ২০১৫ সাল থেকে সারাদেশে ৯৪টি হাইওয়ে পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ Rapid Rescue Squad কার্যক্রম চালু।
  •  ৪৯ ক্যাটাগরির অগ্নি নির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে টার্ন টেবিল লেডার বা টিটিএল যা ১৭ তলা পর্যন্ত উঁচুতে আগুন নেভাতে ও উদ্ধার কাজ করতে সক্ষম। ইতোপূর্বে ফায়ার সার্ভিসের ১৫ তলা পর্যন্ত উঁচুতে আগুন নেভানোর সক্ষমতা ছিল।
  • দেশের কারাগারসমূহের ২০০৯ সালে পর্যন্ত ধারণক্ষমতা ছিল ২৮,০৩২ জন। ২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ধারণক্ষমতা ৮,৫৮২ জন বৃদ্ধি করে ৩৬,৬১৪ জন করা হয়েছে।
    ২২৮ বছরের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ঢাকার কেরাণীগঞ্জে স্থানান্তর করে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারকে সংরক্ষণপূর্বক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, জাতীয় চার নেতা স্মৃতি জাদুঘর, কনভেনশন সেন্টার, খেলার মাঠ ও পার্ক স্থাপন।
  •  কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কারা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট চালু। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩০৩৪ জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে রাজস্বখাতে মোট ৩৮১৮টি নতুন পদ সৃজন ।
  • ২০১৩ সালে ডেপুটি জেলার জেলার, উপ-তত্ত্বাবধায়ক ও কারা তত্ত্বাবধায়ক পদের বেতনস্কেল বৃদ্ধি। কারাগারের বিভিন্ন পদমর্যাদার জনবল ৩,৪৫২ হতে ১২,১৭১ তে উন্নীত করা হয়েছে।
  •  কেন্দ্রীয় কারাগার কেরাণীগঞ্জ-১, কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্প্রসারিত অংশ, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার, ঝিনাইদহ জেলা কারাগার, বি-বাড়িয়া জেলা কারাগার, গোপালগঞ্জ জেলা কারাগার, চাঁদপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, নীলফামারী জেলা কারাগার, মেহেরপুর জেলা কারাগার, নাটোর জেলা কারাগার, নেত্রকোনা জেলা কারাগার, সুনামগঞ্জ জেলা কারাগার, কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার, ফেনী জেলা কারাগার, পিরোজপুর জেলা কারাগার, মাদারীপুর জেলা কারাগার, দিনাজপুর জেলা কারাগার পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে।
  • ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ, ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার, এবং খুলনা জেলা কারাগার পুনঃনির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
  • গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত অপরাধীদের বিচার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্পন্ন করার কার্যক্রম চলমান।

 

পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই এক দশক ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী সময়। জাতির পিতার নির্দেশিত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে যে ত্রিমাত্রিক ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শক্তিতে রূপান্তর করা হয়েছে, তা আজ বিশ্ব দরবারে আমাদের গর্বিত অবস্থান সুনিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে নৌবাহিনীতে সাবমেরিন সংযোজন এবং বিমানবাহিনীতে নিজস্ব অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার স্থাপন বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

একইসাথে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জঙ্গিবাদ দমন এবং ‘৯৯৯’-এর মতো জরুরি সেবার প্রবর্তন সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে আধুনিক ও সহজলভ্য করেছে। এমআরপি পাসপোর্ট প্রদান এবং ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়নের মাধ্যমে সুরক্ষা সেবাকে করা হয়েছে আরও জনবান্ধব। মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় প্রদান ও তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও মানবিক দক্ষতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত ১০ বছরের এই সমন্বিত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন কেবল আমাদের সীমান্ত ও আকাশসীমাকেই সুরক্ষিত করেনি, বরং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।