শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী আহ্বান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হলেও তাঁর হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চলে। তবে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস”“মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ” খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

গত ১০ বছরে শেখ হাসিনার সরকার কেবল মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পুনরুদ্ধারই করেনি, বরং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান’ হিসেবে তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। ২০০৯ সালে যেখানে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা ছিল মাত্র ১০০ টাকা, তা ধাপে ধাপে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লাখে উন্নীত করা ছিল এক অভাবনীয় সাফল্য। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উৎসব ভাতা, শিক্ষা ভাতা, চিকিৎসা সেবা এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্র।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ (গ্লাস টাওয়ার) নির্মাণ, আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবন এবং দেশের প্রতিটি উপজেলায় ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স’ স্থাপন করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র ও ব্যক্তিত্বদের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ প্রদান করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। বীরাঙ্গনাদের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’র স্বীকৃতি প্রদান এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিকদের গেজেটভুক্ত করা ছিল ইতিহাসের দায়মুক্তির পথে এক বিশাল পদক্ষেপ।

বর্তমান প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণ, মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিশ্বদরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হলো।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

  • ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির জীবনে এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে ঢাকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তারও আগে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধকরণ। ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণে তাঁর প্রত্যয়- দীপ্ত ঘোষণা “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা”।
  •  জাতির পিতার স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। বহু ত্যাগের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির চূড়ান্ত বিজয় অর্জন।
  •  মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্ধান। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
  • ২০০৯ সাল হতে পর্যায়ক্রমে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার হার মাসিক ১০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে মাসিক ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে এবং ১০ হাজার টাকা করে বছরে দু’টি উৎসব ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
  •  ২০০৯ সাল হতে ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা পর্যায়ক্রমে ১ লক্ষ থেকে বৃদ্ধি করে ২ লক্ষে উন্নীত করা হয়েছে।
  •  বিভিন্ন শ্রেণির সর্বমোট ৭ হাজার ৮শ ৩৮ জন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, শহিদ পরিবার ও বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ পরিবারের মাসিক রাষ্ট্রীয় ভাতার পরিমাণ প্রায় ৫২% বৃদ্ধি করে পঙ্গুত্বের হার অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ভাতা নিম্নরূপ হারে প্রদান করা হচ্ছে।
  • ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সন্মানী ভাতা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এ খাতে ২৫৬ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

  • খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা প্রদান বর্তমান সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। ২০১৩ সালে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার অনূকূলে সম্মানী ভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং তাদের অনুকূলে নিম্নবর্ণিতহারে সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

  • ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ গজনবী সড়কে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ এ ৮৪টি ফ্ল্যাট ও ৭৪টি দোকান আছে। তন্মধ্যে ৩৩টি ফ্ল্যাট ও ৩৩টি দোকান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
  • বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতাভাগি সকল শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে স্বল্প মূল্যে রেশন প্রদান করা হচ্ছে। • শিক্ষা ভাতা প্রতি সন্তান (অনধিক ২ সন্তান) কে বার্ষিক ১,৬০০/- টাকা হারে শিক্ষা
    ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
  • বিবাহ ভাতা প্রতি কন্যাকে (অনধিক ২ কন্যা) বিবাহ ভাতা হিসেবে ১৯,২০০/- টাকা এককালীন প্রদান করা হচ্ছে।
  • উৎসব ভাতা উৎসব ভাতা হিসেবে বছরে ০২টি মাসিক ভাতার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।
  • প্রীতিভোজ জনপ্রতি (২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর) ২৪০/- টাকা হারে সর্বমোট ৪৮০/- টাকা প্রদান করা হচ্ছে।
  • চিকিৎসা খরচ (দেশে): ২০% ও তদুর্ধ্ব পঙ্গুত্বের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা হচ্ছে।
  •  চিকিৎসা খরচ (বিদেশে): ২০% ও তদুর্ধ্ব পঙ্গুত্ব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনে বিদেশে (ভারত, থাইল্যান্ড ও সিংগাপুর) উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সর্ব্বোচ ০৮ লক্ষ টাকা চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হচ্ছে।
  • কৃত্রিম অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চলাফেরার জন্য হুইল চেয়ার, ক্র্যাচ, লাঠি, কৃত্রিম অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, জুতা, মোজা, শ্রবণ যন্ত্র, চশমা ইত্যাদি সরবরাহ করা হচ্ছে।
  • আবহাওয়া পরিবর্তন: সম্পূর্ণ পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বৎসরে একবার কক্সবাজারে আবহাওয়া পরিবর্তন/ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
  • মৃত দেহ দাফন/সৎকার: রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতাপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করলে তাঁর ইচ্ছাকৃত স্থানে গার্ড অব অনারসহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মৃত দেহ দাফন/সৎকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
  • পানির ও পয়ঃনিষ্কাশন বিল মওকুফ : সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের গৃহস্থলি কাজে পানির বিল মওকুফ সুবিধা পেয়ে থাকেন।
  • গ্যাস বিল মওকুফ : যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে জানুয়ারি ২০০০ সাল হতে দুই বার্নারের একটি চুলার বিল মওকুফ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
  •  হোল্ডিং ট্যাত্মওকুফ : সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ১৫০০ বর্গফুট পর্যন্ত নিজস্ব বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক মওকুফ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
  •  মোবাইল ফোন: চিকিৎসা ও অন্যান্য কাজে ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের সহিত যোগাযোগের জন্য ২০১৭ সালে হুইল চেয়ারে চলাচলকারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছে। এ খাতে প্রতিজনকে মাসিক ১,১০০/- টাকা হতে ১৯০০/- পর্যন্ত মোবাইল বিল প্রসান হয়ে থাকে।
  • যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়। উক্ত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে নিম্নবর্ণিত সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন:
  • যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাগণ পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম শ্রেণিতে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত সুবিধা পেয়ে থাকেন।
  • বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটে এবং আন্তর্জাতিক যে কোন রুটে (ইকোনমি) বছরে একবার যাতায়াত সুবিধা পেয়ে থাকেন।
  •  পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে বিআরটিসির বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা পেয়ে থাকেন।
  •  বি আই ডব্লিউ, টি, এ’র জলযানে প্রথম শ্রেণিতে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা পেয়ে থাকেন।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে এলিয়ট চুলো-কে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। এই সম্মাননা ক্রেস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে নিচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মন্ট্রিয়াল, কানাডা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

 

  • সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাগণ পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে তাঁদের বহনকারী গাড়ির টোল মওকুফ সুবিধা পেয়ে থাকেন।
  • যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাগণ বি. আই ডব্লিউ, টি, এ’র ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে তাঁদের বহনকারি প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও এ্যাম্বুলেন্স বিনা ভাড়ায় পারাপারের সুবিধা পেয়ে থাকেন।
  •  যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাগণ পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল ও মোটেলে স্ব-পরিবারে সর্বোচ্চ ২ রাত বিনা ভাড়ায় বছরে একবার থাকার সুবিধা পেয়ে থাকেন।
  • যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাগণ পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে বিনা ভাড়ায় ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অবস্থানের সুবিধা পেয়ে থাকেন।
  •  অনলাইনে ভাতা প্রদান: যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ৭১৯৪ জনকে সম্মানীভাতা অন-লাইনের মাধ্যমে তাঁদের নিজস্ব হিসাব নম্বরে প্রেরণ করা হচ্ছে।
  •  মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সুষ্ঠু ও যথাযথভাবে ভাতা বিতরণের নিমিত্ত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বিতরণ নীতিমালা-২০১৩’ হালনাগাদ করা হয়েছে এবং খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বিতরণ নীতিমালা-২০১৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
  •  বঙ্গবন্ধু ছাত্র বৃত্তি প্রবর্তন: বঙ্গবন্ধু ছাত্র বৃত্তি প্রবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে ২৩৫০ জনকে বঙ্গবন্ধু ছাত্রবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।
  • সারাদেশের হাট-বাজারের ইজারালব্ধ অর্থ হতে প্রাপ্ত ৪% টাকা অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা, গৃহ নির্মাণ/সংস্কার, শিক্ষা, কন্যা সন্তানের বিবাহ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ কবলিত সময়ে জরুরি ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক সাহায্য/অনুদান হিসেবে বিতরণের নিমিত্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সকল উপজেলায় ৪ কোটি ৭৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা এবং ২০১৫ সালে ১৮,০২,৭২,০০০/- টাকা, ২০১৬ সালে ১৯,৩৯,১১,১০০/- টাকা এবং ২০১৭ সালে জুল পর্যন্ত ৯,৯০,৪৮,৪০০/- টাকা সকল উপজেলা নির্বাহী
    অফিসারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।
  • মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে ও নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করতে ৬৪টি জেলায় প্রায় ৪০০টি লাইব্রেরিতে বিনামূল্যে অনুদান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই পুস্তক বিতরণ করা হয়েছে।
  • ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে এ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৪২১৫৯ জনকে চাকুরি সুবিধার জন্য মুক্তিযোদ্ধা/ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হয়েছে।
  •  জানুয়ারি ২০০৯ জুন ২০১৭ পর্যন্ত ৬৭০৬৮টি সাময়িক সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।
  •  মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও সংগঠনকে সম্মাননা কার্যক্রমের আওতায় ৭ম পর্বে ৬০ জনসহ মোট ৩৩৮ জন ব্যক্তি ও সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ৮ম পর্বে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীকে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
  •  ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে এলিয়ট ট্রুডো-কে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর মন্ট্রিয়ালে পিয়েরে এলিয়ট ট্রডোর পুত্র এবং কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন।
  •  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ৮ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে “ম্যানেকশ সেন্টার” শংকর বিহার, ভারতীয় সেনানিবাস, নয়াদিল্লীতে এ দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ৭ জনকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।
  •  জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশের আলোকে ১৮৮ জন মহিলা মুক্তিযোদ্ধার (বীরাঙ্গনার) নাম গেজেটে প্রকাশ।
  •  রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা প্রদানকারী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ২৫৪ জন শিল্পী/কণ্ঠযোদ্ধা/শব্দ সৈনিককে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
  •  মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আর্থ-সামাজিক কল্যাণের জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কর্তৃক এ যাবৎ ১৬৭টি সমিতি/সংগঠনকে নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে।
  • মুজিব নগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন। এতে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত বাংলাদেশের মানচিত্র, সম্প্রতি UNESCO প্রামাণ্য দলিল বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার চিহ্ন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পনের ঘটনাসম্বলিত ভাস্কর্য নির্মাণসহ অডিটোরিয়াম এবং পাশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্বলিত শ্লোগান ও ছবি নিয়ে মুরাল নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি যাদুঘর ও প্রজেকশন কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। একটি অডিটরিয়াম ও প্লাজা নির্মাণের অবশিষ্ট কাজসহ চালু আছে। ফেন্সিং ও ল্যান্ড স্কেপিং অডিটোরিয়াম ভবন ও প্লাজায় গ্রীল ফেন্সিং, জেনারেটরসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ইত্যাদি স্থাপন করা হয়।
  • মুক্তিযুদ্ধকালীন উল্লেখযোগ্য সম্মুখ সমরের স্থানগুলো সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৩টি সম্মুখ সমরের স্মৃতিস্তম্ব নির্মাণ করা হয়েছে। ৩৫টি জেলার ৬৫টি স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তয় নির্মাণ করা হয়েছে।
  •  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৫০ ফুট উচ্চতার স্বাধীনতা স্তম্ভ (গ্লাস টাওয়ার) নির্মাণ করা হয়েছে। টাওয়ার সংলগ্ন সাউথ প্লাজার অবশিষ্ট কাজ শিখা চিরন্তন পুনঃনির্মাণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ জাদুঘর সজ্জিতকরণ, ভূ-গর্ভস্থ অডিও ভিজুয়াল কক্ষ, ভূগর্ভস্থ ফোয়ারা, টেরাকোটা ম্যুরাল ও উন্মুক্ত মঞ্চের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণস্থল, ইন্দিরা মঞ্চ, পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ স্থানসহ সকল উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
  •  মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে সংরক্ষণের জন্য আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। যাতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শণার্থীর সমাগম ঘটে।
  •  ৬৪টি জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে ৬০টি ভবনের নির্মাণ সম্পন্ন। ১০টি ভবনের নির্মাণকাজ চলমান।
  • ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করার লক্ষ্যে ২৯৭১টি বাসস্থানের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে বরাদ্দ প্রদান। অবশিষ্ট বাসস্থানের নির্মাণ কাজ জুন ২০১৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
  • এ পর্যন্ত ২৬৩টি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ। ৬৫টির নির্মাণ কাজ চলমান।
  •  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোতে জনবলের সংখ্যা ৪৯ জন থেকে বৃদ্ধি করে ১০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। ২০১৫-২০১৬ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ২৯ জন কর্মচারীকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

 

পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই এক দশক ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুত্থান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক স্বর্ণযুগ। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ১০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায় উন্নীতকরণ এবং তাঁদের জন্য রেশনিং, আবাসন ও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্র আজ তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রকৃত স্বীকৃতি প্রদান করেছে। বিশেষ করে বীরাঙ্গনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিকদের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’র সম্মান প্রদান ছিল ইতিহাসের এক অমীমাংসিত অধ্যায়ের গৌরবময় নিষ্পত্তি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গ্লাস টাওয়ার নির্মাণ, জেলা-উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স স্থাপন এবং মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন কেবল ইট-পাথরের স্থাপত্য নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাসের এক জীবন্ত পাঠশালা। কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে এলিয়ট ট্রুডোসহ আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে নিজের কৃতজ্ঞতাবোধের পরিচয় দিয়েছে। গত ১০ বছরের এই অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে যে, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও বীর সন্তানদের সুরক্ষা প্রদানই হচ্ছে একটি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রধান আদর্শিক ভিত্তি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই ত্যাগ এবং অর্জিত সাফল্যই হবে আগামীর বাংলাদেশের চিরস্থায়ী অনুপ্রেরণা।