একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্ধারিত হয় তার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ে। “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”—এই অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনাকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক দশকে বাংলাদেশের “ধর্ম ও সংস্কৃতি” খাতে এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব সাধিত হয়েছে। গত দশ বছরে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবেই এগিয়ে যায়নি, বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের লালন এবং ধর্মীয় অবকাঠামোর আধুনিকায়নেও বিশ্বজুড়ে প্রসংশিত হয়েছে।
ধর্মীয় খাতে শেখ হাসিনার সরকারের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হলো নিজস্ব অর্থায়নে ৮,৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের মেগা প্রকল্প। এছাড়া ১০ লক্ষাধিক হজযাত্রীর হজে গমন সুগম করতে ‘ই-হজ সিস্টেম’ ও মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তন এবং যাকাত সংগ্রহে আধুনিকায়ন ছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শুধু ইসলাম ধর্মই নয়, বরং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ‘মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৮ প্রণয়ন এবং প্যাগোডা ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুর মাধ্যমে প্রতিটি ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও ধর্মীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গত এক দশক ছিল বিশ্বমঞ্চে বাঙালি সংস্কৃতির রাজকীয় উত্থানের সময়। এ সময়ে ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় বাংলাদেশের বাউল গান, জামদানি বয়নশিল্প, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও শীতল পাটি স্থান পেয়েছে, যা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে। লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখানো কিংবা ভারতের শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ নির্মাণ—এ সবই ছিল বাঙালি জাতীয়তাবোধকে সুসংহত করার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
বর্তমান আলোচনায় গত ১০ বছরে জেলা ও উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণ, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সংরক্ষণ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি রক্ষা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে ছড়িয়ে দিতে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে গৃহীত সকল উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও অর্জনসমূহ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হলো।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “বাংলাদেশের ধর্ম ও সংস্কৃতি” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

ধর্ম
- ২০০৯-২০১৮ পর্যন্ত মোট ১০,৮১,৭৬৬ জন হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালন করেছেন।
- ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ১,১১,৮৮৫টি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং দুঃস্থদের সর্বমোট ১৯৮,২৪,১৬,০০০/- টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী যেসব এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সে সব এলাকায় মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতি উপজেলায় ২টি করে মোট ১০১০টি দারুল আরকাম এবতেদায়ী মাদ্রাসা’ (১ম হতে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত) প্রতিষ্ঠা এবং ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
- সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিজস্ব অর্থায়নে ৮৭২২ কোটি টাকার প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আগারগাঁও প্রধান কার্যালয়ে ‘হালাল ল্যাব’ চালু করা হয়েছে। ও.আই.সির মহাসচিব কর্তৃক গত ৪ আগস্ট ২০১৭ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়।
- সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিরসন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ইমামগণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ২০০১ খ্রিঃ হতে ২০১৭ খ্রিঃ পর্যন্ত প্রতি বছর জাতীয় ইমাম সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
- ২০০৯ সাল থেকে সরকারিভাবে যাকাত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ২,৯৫,২০৩ জনকে প্রায় ১৭ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে নিয়মিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ, মাদক-বিরোধী প্রচারণা, নারী-শিশু পাচার, যৌতুক, নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ প্রভৃতি বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং মসজিদে প্রাক খুতবা প্রদান করা হচ্ছে।
- মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫ হাজার ৫০০ প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ১২ লক্ষ ২০ হাজার শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান এবং ২৫০টি বন্ধে শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩০ হাজার বয়স্ক ব্যক্তিকে স্বাক্ষরতা ও ধর্মীয় জ্ঞান দান করা হয়েছে। এ সময়ে প্রকল্প প্রকল্পটির জন্য ১৮৫.৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
- হিন্দু ধর্মীয় নেতা তথা পুরোহিত ও সেবাইতদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাদের সম্পৃক্ত করার জন্য ২০১৫ সালে ২৪.৪২ কোটি টাকার ‘আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরোহিত ও সেবাইতদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় ২৫ হাজার ৬০০ পুরোহিত ও সেবাইতকে ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
- ২০০৯ সাল হতে জুন, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বৌদ্ধ বিহার/প্যাগোডা / শ্মশ্মশান মেরামত ও সংস্কারের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট হতে ১,২৯,০০,০০০/- (এক কোটি উনত্রিশ লক্ষ) টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
- ২০০৯ সাল হতে জুন, ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে প্রাপ্ত মোট ৪,১০,০০,০০০/- (চার কোটি দশ লক্ষ) টাকা দেশের বিভিন্ন অস্বচ্ছল বৌদ্ধ বিহারে বিশেষ অনুদান হিসেবে বিলিবণ্টন করা হয়েছে।
- ২০১৫ সাল হতে ‘প্যাগোডা ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সাল পর্যন্ত মোট ১০০টি শিক্ষা কেন্দ্রে ৬,০০০ বৌদ্ধ শিশুকে শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে।
- ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট অধ্যাদেশ এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট অধ্যাদেশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০১৮’ এবং “খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৮’ নামে প্রবর্তন করা হয়েছে।
সংস্কার কার্যক্রম
- ২০১৫ সাল হতে সরকার ই-হজ সিস্টেম চালু করেছে। বর্তমান ই-হজ সিস্টেমে হজকার্যক্রম চলমান রয়েছে।
- মোবাইল অ্যাপ হজ গাইড হিসেবে কাজ করছে।
- ওয়াকফ প্রশাসনের সকল কর্মকান্ড ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মধ্যে আনয়নের লক্ষ্যে ওয়াকফ এস্টেটসমূহের ডাটা বেইজ প্রস্তুতকরণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ১,৩৯,২৫৬টি ওয়াকফ এস্টেট চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ওয়াকফ প্রশাসনের যাবতীয় কার্যক্রম ওয়াকফ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিতকরণের জন্য Bangladesh Waqi Administration নামে একটি ফেইসবুক পেইজ চালু করা হয়েছে।
- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল কার্যক্রম ডিজিটালে রূপান্তর করা হয় এবং ডিজিটাল আর্কাইভ স্থাপন করা হয়।
সংস্কৃতি
- দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সংস্কৃতি চর্চা ও প্রসারের মাধ্যমে সংস্কৃতিমনস্ক মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরস্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে
মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্পকলা, নাটক, চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল প্রকাশনার উৎকর্ষ সাধনে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন। - আবহমান সংস্কৃতির চর্চা ও ঐতিহ্যগত উৎসবসমূহ পালনের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ। ২০০৯-২০১৮ সময়কালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে ১৭টি দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
- বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ৪১টি দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক চুক্তি সম্পাদন করেছে এবং আরও ১৫টি দেশের সঙ্গে চুক্তি। স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
- বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের বাউল গান (২০০৮), জামদানি বয়নশিল্প (২০১৩), মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬) ও শীতল পাটি (২০১৭) ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের
তালিকায় স্থান পেয়েছে যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম বৃদ্ধি করেছে। - যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিক উদযাপন।
- দেশের ১৯টি জেলায় শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণ, সম্প্রসারণ, সংস্কার কাজ জেলা শিল্পকলা একাডেমি সমূহের সুষমকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সমাপ্ত হয়েছে। এরফলে জেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমির অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এবং মাঠ। পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে।
- দেশের সৃজনশীল শিল্পকর্ম স্থায়ীভাবে প্রদর্শন ও সংরক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চারুকলা প্রদর্শনীর লক্ষ্যে ৪টি ছবি প্রদর্শনী গ্যালারি, ১টি ভাস্কর্য গ্যালারি, ১টি ফটোগ্রাফি গ্যালারি ও ৩০০ আসনবিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়ামসহ আধুনিক জাতীয় চিত্রশালা নির্মাণ করা হয়েছে।
- নির্মিত ভবনে দেশী-বিদেশী চিত্রকর্ম সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রায় ২১৪.৪১ কোটি টাকা বারে বিভাগীয় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণ। - শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে দেশের ৪৯০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হারমোনিয়াম ও ডুগি তবলা সরবরাহ করা হয়েছে।
- ৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ মাদারীপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণ।
- উপজেলা পর্যায়ে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রচার, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ১০টি উপজেলায় উন্মুক্ত মঞ্চ ও প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
- বাউল সঙ্গীতের সংরক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য নতুন প্রজন্মের ১৭০ জন বাউলকে কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান, ১৫০টি বাউল গানের ওপর বই ও ৫০০ সিডি প্রকাশ করা হয়েছে। ১০০টি বাউলগান ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। ১২২.৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি জেলায় গণগ্রন্থাগার ভবন নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত। নবনির্মিত গণগ্রন্থাগারে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বই, বুকশেলফ ও কম্পিউটার সরবরাহ করা হয়েছে।
- আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৩.৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি জেলা গণগ্রন্থাগার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
- দেশের বেসরকারি গ্রন্থাগারসমূহ উন্নয়নের মাধ্যমে পাঠকদের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি, সেবার মান উন্নয়ন, নতুন পাঠক সৃষ্টিতে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০০৯ হতে জুন ২০১৮ পর্যন্ত ৬০১০টি গ্রন্থাগারের জন্য ১৮.৫২ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করে।
- ২০.৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কর্মসূচি সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। যার ফলে সহজেই জেলা-উপজেলায় মানুষের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে যাচ্ছে।
- ১১০.৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সাউথ এশিয়ান ট্যুরিজম ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় নওগাঁর পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার এলাকা, বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকা, দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির এবং বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে অভ্যন্তরীণ ছাউনী ও গেস্ট হাউজ নির্মাণসহ পর্যটন উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া, এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণের পর্যটন থেকে আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাঁদের বিভিন্ন আয়বর্ধক ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
- বর্তমানে দেশে সংরক্ষিত পুরাকীর্তির সংখ্যা ৪৫৩টিতে উন্নীত হয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে পতিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাচারি বাড়ী জাদুঘরে রূপান্তর, শিলাইদহে কুঠিবাড়ী সংস্কার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত বোট পুনঃনির্মাণ, রাজবাড়ী পুঠিয়াতে মনুমেন্ট, মন্দির, রাজবাড়ী সংস্কার।
- ১৩.৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে লালবাগ কেল্লার সংস্কার ও লাইট এন্ড সাউন্ড শোর মাধ্যমে লালবাগ কেল্লার ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরার কাজ সম্পন্ন।
- বাংলা একাডেমিতে ভাষা আন্দোলন জাদুঘর ও লেখক জাদুঘর স্থাপিত হয়েছে এবং একাডেমির প্রেস আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
- বাংলা একাডেমিতে ৮তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনটিতে বাংলা একাডেমির প্রশাসনিক কক্ষ, সেমিনার কক্ষ, প্রদর্শন কক্ষ ও অডিটোরিয়ামের সংস্থান রয়েছে। ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ভবন।
- বাংলা একাডেমি কর্তৃক খ্যাতনামা সাহিত্যিকবৃন্দের জীবনী বিষয়ে ১০টি গ্রন্থমালা, সাহিত্য ও ঐতিহ্যমূলক গ্রন্থ রচিত হয়েছে।
- বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রমিত বাংলা ব্যাকরণের ২টি খন্ড মুদ্রিত হয়েছে, বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান রচিত হচ্ছে। মহান শহিদ দিবস ও অন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি চতুরে মাসব্যাপী একুশে গ্রন্থমেলা, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।

- বাংলাপিডিয়া: ন্যাশনাল এনসাইক্লোপিডিয়া অব বাংলাদেশ প্রকাশ করা হয়েছে।
- জাতীয় কবির কিছু নির্বাচিত কবিতা ও পদ্য স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
- কুমিল্লা নজরুল ইন্সটিটিউট কেন্দ্র স্থাপন, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ভৌত অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং ফরিদপুরে পল্লীকবি জসিম উদ্দিন সংগ্রহশালা নির্মাণ করা হয়েছে।
- প্রতিবছর জাতীয়ভাবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উদযাপন।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর অ্যালবাম প্রকাশ। অ্যালবামের ৫,০০০ কপি মুদ্রিত হয়েছে। শুদ্ধ সুর ও বাণীতে নজরুল সঙ্গীতের ১১টি সিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
- জাতীয় জাদুঘরের সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া জাদুঘরের জন্য উন্নতমানের অডিও ভিজ্যুয়াল যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে ২০০১-২০১৭ পর্যন্ত সর্বমোট ৫,৭৪৫টি নিদর্শন সংগ্রহভুক্ত করা হয়েছে।
- ২৭৪.৯৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর তথ্য যোগাযোগ ও ডিজিটালাইজেশন কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং এর নিয়ন্ত্রণাধীন শাখা জাদুঘরের প্রায় ১ লাখ নিদর্শন তথা জাতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের নিবন্ধন ও ডকুমেন্টেশন ডাটাবেসের মাধ্যমে সংরক্ষণ।
- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, সংস্কার ও উন্নয়ন। ১৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ১টি আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর ও একটি ব্যাগেজ এক্সরে স্ক্যানিং মেশিন, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ও ২০টি ওয়াকিটকি রিপিটার সংস্থাপন, ১১৬টি অগ্নি (নির্বাপক সরঞ্জাম সরবরাহ। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গ্যালারিসমূহের আধুনিকায়ন, সংস্কার ও উন্নয়ন।
- আহসান মঞ্জিল জাদুঘরের অত্যাবশ্যকীয় উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত।
- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ৩৫ নম্বর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন গ্যালারি পুনঃসজ্জিত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সমস্ত নিদর্শনের একটি কম্পিউটারাইজড ডাটাবেজ নির্মাণ, টিকেট বিক্রয় পদ্ধতি ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ভার্চুয়াল গ্যালারি উদ্বোধন।
- কুষ্টিয়ায় নির্মিত ‘সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ ছাপাখানাকে বাংলা ভাষার মুদ্রণ জাদুঘর হিসেবে উন্নীতকরণ।
- কান্তজির মন্দির সংলগ্ন এলাকায় জাদুঘর নির্মাণ কর্মসূচি সমাপ্তকরণ, চট্টগ্রাম জাতিতাত্ত্বিক জানুঘরের প্রদর্শনী উন্নয়ন, সংগ্রহ বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন এবং বীরকন্যা প্রীতিলতা সাংস্কৃ তিক ভবন নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে।
- মানিকগঞ্জের বালিয়াটি প্রাসাদ জাদুঘরে রূপান্তর করে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
- জাতীয় আরকাইভস ভবন নির্মাণ। ফলে জাতীয় আরকাইভসের নথি-পত্রের দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ ও তথ্য সেবাদান সহজতর হয়েছে। অপ্রচলিত নথিপত্র সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ।
- জাতীয় আরকাইভসের সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্যের সংখ্যা প্রায় ৯,৩১,২৬৩।
- জাতীয় গ্রন্থাগারের সংগ্রহ সম্ভারকে অটোমেশন ও ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে আধুনিকীকরণ।
- ন্যাশনাল লাইব্রেরির জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ প্রদান। বাংলাদেশ ন্যাশনাল লাইব্রেরি সংস্কার, আধুনিকায়ন ও মান উন্নয়ন।
- ডিজিটাইজেশনের লক্ষ্যে ১ লক্ষ ৮০ হাজার পৃষ্ঠার নথিপত্র ও ৩,০০,৭৪১ পৃষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ বই, পত্র-পত্রিকা স্ক্যান এবং প্রকাশক ও লেখকদের জন্য ৩১,৭৫৬ টি আইএসবিএন বরাদ্দ।
- জাতীয় আরকাইভসের আরকাইভাল সফটওয়্যারে ৮,৪৯,০০০টি নথির ডাটা এন্ট্রি এবং জাতীয় গ্রন্থাগারের ৪৫,৯৭২টি বই, পত্র-পত্রিকার বিবলিওগ্রাফিক ডাটা এন্ট্রি।
- জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বাজেট ১ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকায় উন্নীত।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ভাষা, সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র, বর্ণমালা সংগ্রহ করা হয়েছে।
- সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের সংস্কৃতির প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণের জন্য ৩১.৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, নওগাঁ এবং দিনাজপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি স্থাপন।
- জুন ২০১৮ পর্যন্ত ৭৭৬২টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২৫.৬১ কোটি টাকা অনুদান এবং আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ১৯,৪৭৩ জন সংস্কৃতিসেবীর অনুকূলে ৩০.১৪ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
- ২৬-এ মার্চ ২০১৪ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহায়তায় অনুষ্ঠিত লাখো কণ্ঠে গাওয়া সোনার বাংলা (জাতীয় সঙ্গীত)-এর রেকর্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ যাতে অংশগ্রহণ করেছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১ জন মানুষ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত পদ্মা বোটের আদলে ৮টি পদ্মা বোট ও ১টি চপলা বোটের অনুকৃতি তৈরি করা হয়েছে। তন্মধ্যে ২টি পদ্মা বোট ও ১টি চপলা বোটের অনুকৃতি ভারতের বিশ্বভারতী ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
- ৯ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে লোক সঙ্গীত শিল্পী মরমী কবি হাছন রাজার স্মৃতি রক্ষার্থে ৪০০ আসন বিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়াম ও ১টি মিউজিয়ামসহ হাছনরাজা একাডেমি স্থাপন।
- রাজধানী ঢাকার ৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকাবাসীর ঐতিহ্য সম্পর্কিত ১৮টি ভল্যুম প্রকাশ ।
- জাতীয় জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নয় বছরে ১৩১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক প্রদান।
- ২০১০ সালে একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য ব্যক্তিদের প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ চল্লিশ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকায় উন্নীতকরণ এবং ২০১৬ সালে অর্থের পরিমাণ দুই লক্ষ টাকায় উন্নীত।
- ২০১৮ সাল হতে একুশে পদকের সংখ্যা ১৫টি হতে বৃদ্ধি করে ২১টি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- প্রতিবছর অগ্রহায়ণ মাসের ১ তারিখে সারাদেশে ‘নবান্ন উৎসব’ উদযাপন।
তৃণমূল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশে রাজস্বখাতের ৩৭টি কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন ঋতুভিত্তিক সাংস্কৃতিক উৎসব, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করার জন্য পাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। - রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শান্তি নিকেতনে নির্মিত হয়েছে বাংলার ঐতিহ্যের স্মারক ও ধারক ‘বাংলাদেশ ভবন’।
- গত ২৫-এ মে ২০১৮ বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নবনির্মিত এ ভবনটি যৌথ ভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ঢাকায় ‘Cultural Diversity Ministerial Fourm of the Asia-Pacific Region’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। - ISESCO কর্তৃক ঢাকাকে Capital of Islamic Culture for Asian Region 2012 ঘোষণার প্রেক্ষিতে গত ১৪ জুলাই ২০১২ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ সূচনা করেন।
- সার্ক কালচারাল সেন্টার, কলম্বো, শ্রীলঙ্কা’র অর্থায়নে এবং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় ২২-২৫ অক্টোবর ২০১১ ঢাকায় Symposium on Folkdance in the SAARC Region
আয়োজন করা হয়। - সার্ক কালচারাল সেন্টার, কলম্বো, শ্রীলঙ্কার অর্থায়নে এবং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় ২২-২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখ ঢাকায় SAARC Handicrafts Exhibition আয়োজন করা হয়।
- সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার লক্ষ্যে ঢাকা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ ও চট্টগ্রাম বিভাগে উন্নয়ন কনসার্ট আয়োজন।
- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৬৪টি জেলায় গত ২০-২১ জুলাই ২০১৮ দুই দিনব্যাপী ‘সাংস্কৃতিক উৎসব’ আয়োজন। ‘সাংস্কৃতিক উৎসব’- এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘সৃজনে উন্নয়নে বাংলাদেশ। দেশের প্রতিটি জেলায় স্থানীয় অধ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য এ ‘সাংস্কৃতিক উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশ এলডিসি দেশ হতে উত্তরণের সাফল্য অর্জন উপলক্ষ্যে ২২ মার্চ ২০১৮ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর “মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যশনাল রেজিস্টার এর অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে “বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের’ স্বীকৃতি লাভের অসামান্য অর্জনকে ২৫ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। “আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেজার লাইট শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
- বর্তমান সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১২-১৩ জানুয়ারি ২০১৮ বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে একুশে পদক প্রদান, দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীসহ ঢাকা লিট ফেস্ট, বেঙ্গল ক্ল্যাসিকাল মিউজিক ফেস্টিভাল প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে সহযোগিতা প্রদান করে থাকে।
- ২০১৬-১৭ অর্থবছর হতে ১০টি জেলায় ১০টি করে মোট ১৮০টি বিদ্যালয়ে ‘সংস্কৃতি চর্চা’ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
- ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আরও ১২টি জেলাকে এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অবশিষ্ট ৩৪টি জেলাকে এ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৮৬০টি বিদ্যালয়ে হারমোনিয়াম ও তবলা সরবরাহ করা হয়েছে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সংস্কৃতি চর্চার প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রশিক্ষকগণকে সম্মানী প্রদান করা হয়।

- বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সংস্কৃতি চর্চা বিকাশ ও বেগবান করার লক্ষ্যে ২৩২.৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন’ প্রকল্প সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।
- ডিজিটাল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘অনলাইনে গণগ্রন্থাগারসমূহের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
- ১৩৭.৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় চিত্রশালা এবং জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ।
- প্রায় ৭৬.৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যমান ১৫টি জেলা জেলা শিল্পকলা একাডেমির নবায়ন, সংস্কার ও মেরামত ৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম, সেমিনার হল এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির ভবন নির্মাণ।
- ৮টি জেলায় অডিটোরিয়াম ও মুক্তমঞ্চ সহ শিল্পকলা একাডেমির ভবন নির্মাণ ।
- ২১.৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন।
- ৫৩.৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি জেলা পাবলিক লাইব্রেরির উন্নয়ন।
- ৭.৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি জেলায় তিনজন বরেণ্য ব্যক্তিত্বের স্মৃতি কেন্দ্র/ সংগ্রহশালা স্থাপন।
- ৪৬.১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কপিরাইট ভবন নির্মাণ।
- ১০:০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এর অবকাঠামো উন্নয়ন।
- ১৭.৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ সেন্টার, প্রশাসনিক ভবন ও গেস্ট হাউজ নির্মাণ।
- ১০.১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নজরুলের অপ্রচলিত গানের সুর সংগ্রহ, স্বরলিপি প্রণয়ন, সংরক্ষণ, প্রচার এবং নবীন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধকরণ।
- ৪৭.৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকাস্থ নজরুল ইন্সটিটিউটের নতুন ভবন নির্মাণ এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় বিদ্যমান ভবনের রিনোভেশন।
- ৯.০২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ।
পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই এক দশক ছিল বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক নবজাগরণ। নিজস্ব অর্থায়নে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ এবং ই-হজ সিস্টেম প্রবর্তনের মাধ্যমে ধর্মীয় ব্যবস্থাপনায় যেমন আধুনিকতা এসেছে, তেমনি মন্দির, প্যাগোডা ও চার্চ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকারকে সুরক্ষিত করেছে।
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জামদানি, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও শীতল পাটির মতো ঐতিহ্যের ইউনেস্কো স্বীকৃতি এবং লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়া বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়কে বিশ্বদরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দেশের প্রতিটি জেলায় শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণে গৃহীত পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে, সরকার কেবল উন্নয়ন নয়, বরং মানুষের মনন ও শেকড়ের চর্চাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে। গত ১০ বছরের এই সমন্বিত অগ্রযাত্রা একটি জ্ঞাননির্ভর, সংস্কৃতিমনস্ক ও মানবিক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের পথকে আরও প্রশস্ত ও শক্তিশালী করেছে।
