শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বৈদেশিক সম্পর্ক খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশেই নির্ভর করে তার সফল পররাষ্ট্রনীতির ওপর। “সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়”—জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত এই মূলনীতিকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক দশকে বাংলাদেশের “বৈদেশিক সম্পর্ক” খাতে অর্জিত হয়েছে অভূতপূর্ব সাফল্য। এই ১০ বছরে বাংলাদেশ কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে এক আত্মবিশ্বাসী ও উদীয়মান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

গত এক দশকে বাংলাদেশের কূটনীতির সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভারতের সাথে দীর্ঘ ৪০ বছরের অমীমাংসিত স্থল সীমানা চুক্তি (LBA) বাস্তবায়ন এবং ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী সমাধান। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে মায়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের ফলে বঙ্গোপসাগরে ১,১৮,৮১৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে চীনের সাথে সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ (Strategic Partnership) উন্নীত হয়েছে এবং জাপানের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রাশিয়ার সহযোগিতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ৬২টি চুক্তি স্বাক্ষর বাংলাদেশের বৈদেশিক সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ২০১৭ সালে মায়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার মানবিক সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অফ হিউম্যানিটি’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

বর্তমান আলোচনায় গত ১০ বছরে বাংলাদেশের ১৯টি নতুন মিশন স্থাপন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ পদে বাংলাদেশের নির্বাচন এবং বিশ্ব দরবারে প্রধানমন্ত্রীর প্রাপ্ত অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মাননাসহ বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্জিত সকল যুগান্তকারী সাফল্যসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “বৈদেশিক সম্পর্ক” খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বৈদেশিক সম্পর্ক" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

  • ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারত দু’দেশের সরকার কর্তৃক স্থল সীমানা চুক্তি: ১৯৭৪-এর প্রটোকল স্বাক্ষর এবং ২০১৫ এ স্থল সীমানা চুক্তির অনুসমর্থন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদীর্ঘ প্রচেষ্টারই সুফল। ইন্সট্রুমেন্ট অব রেটিফিকেশন এবং লেটার অব মোডালিটিস স্বাক্ষরের মাধ্যমে তৎকালীন ১১১টি ভারতের ছিটমহল বাংলাদেশের এবং আমাদের ৫১টি ছিটমহল ভারতের অংশ হয়ে যায়।
  • ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর বাংলাদেশ সফর ৬-৭ সেপ্টেম্বর ২০১১ বাংলাদেশ সফর করেন। এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত ল্যান্ডমার্ক সাফল্য হচ্ছে ১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন যার ফলশ্রুতিতে ভারতের কংগ্রেসের উত্তর কক্ষ অর্থ্যাৎ লোকসভা ও রাজ্যসভায় চুক্তির রেটিফিকেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
  •  ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’র বাংলাদেশ সফর ৬-৭ জুন ২০১৫ বাংলাদেশ সফর করেন। এ সফরে সর্বমোট ২২টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
  •  বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ফুলবাড়ীতে (বাংলাবান্ধার বিপরীতে) ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু করা হয়। স্থল শুল্ক স্টেশন/ স্থল বন্দর এবং অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যিক অবকাঠামো উন্নয়নে দু’দেশ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়ন এসকল পদক্ষেপসমূহ নিঃসন্দেহে ভূমিকা রাখবে।
  • গত কয়েক বছরে স্বাক্ষরিত দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল রুট সম্পর্কিত প্রটোকল, ঢাকা-গৌহাটি-শিলং এবং কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিস, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন চুক্তি দেশ দু’টির আন্তঃযোগাযোগ সম্প্রসারণে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। মৈত্রী এক্সপ্রেসের ঢাকা ও কলকাতায় প্রান্তীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস চালু হয়েছে।
  • গত ২৫-২৬ মে ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ভারতের পরিশ্চমবঙ্গ সফর করেন। সফরকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের শান্তি নিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের অর্থায়নে নবনির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’-এর উদ্বোধন করেন।
  • এর পাশাপাশি তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সমাবর্তনে ‘Guest of Honour’ হিসেবেও যোগাযোগ করেন।
  • সফরকালে আসানসোলে অবস্থিত কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি.লিট) উপাধিতে ভূষিত করে।
  • ভারত থেকে ভেড়ামারা-বহরমপুর গ্রিডের মাধ্যমে ও ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বর্তমানে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।
  • ২০১৭ সালে শুধুমাত্র সৌদি আরবে রেকর্ড সংখ্যক ৫৫১,৩০৮ জন বাংলাদেশী নিয়োগলাভ করেছে।
  •  জিসিসিভূক্ত অন্যান্য দেশেও কর্মসংস্থানের উর্ধ্বমূখী ধারা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং লেবাননেও আমাদের শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হয়েছে।
  • মানব পাচারের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুততম সময়ে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের বলিষ্ঠ কূটনৈতিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত
    হয়েছে।
  • এসময় বিভিন্ন দেশের জলসীমায় উদ্ধারকৃত ২৫৫০ জনসহ লিবিয়া, থাইল্যান্ড ও ইয়েমেন থেকে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
  • এপ্রিল ২০০৯ সালে সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশা আব্দুল্লাহ এর আমন্ত্রণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফর করেন।
  • মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর (জুন ২০১৬), সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর (অক্টোবর ২০১৪), কাতার সফর (২০১২, ২০০৯), কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর ( মে ২০১৬), ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর (ফেব্রুয়ারি ২০১৭) এ সকল দেশের সাথে আমাদের সম্পর্কের নবতর অধ্যায়ের সূচনা করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গতিশীলতা বৃদ্ধি করেছে।
  •  এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জনশক্তি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত ৬২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০০৯- ২০১৭ মেয়াদে মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সাথে ৬২ টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
  • ২০১৪ ও ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফর করেন। ২০১৪ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ক এক নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বৈদেশিক সম্পর্ক" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে বক্তৃতা দিচ্ছেন। ২৭ সেপ্টম্বর, ২০১৮

 

  • মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২০১০ এবং ২০১৪ সালে গণচীনে সরকারি সফর এবং গণচীনের রাষ্ট্রপতির ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার এক
    নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
  •  গণচীনের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সফরকালে দু’দেশের মধ্যে ২৭টি চুক্তি/সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে Strategic Partnership-এ উন্নীত হয়েছে।
  • ২০১৪ সালে চীন সফরকালে ২০ দফা সম্বলিত একটি যৌথ ইশতেহার এবং ৬টি দলিল স্বাক্ষরিত হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দুইটি চুক্তি (Agreement), দুইটি সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং দুইটি পত্র বিনিময়।
  •  চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী HE. Mr. Wang Yi গত ১৮-১৯ নভেম্বর ২০১৭ বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।
  •  জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী H.E. Mr. Taro Kono গত ১৮-১৯ নভেম্বর, ২০১৭ তারিখে বাংলাদেশ সফর করেন।
  • সফরকালে জাপানি পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বিপাক্ষিক বৈঠক মিলিত হন।
  •  বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের মে মাসে জাপানে সরকারি সফরকালে জাপান ৬০০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়।
  • এ সফরের প্রেক্ষিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ এর ৬-৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করেন। এছাড়া জাপান থেকে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে (বিদ্যুৎ, তেল, রাস্তা, এয়ারপোর্ট নির্মাণ) আরও বিনিয়োগের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
  • ২০১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট জন কেরির বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দুদেশের মধ্যে নিরাপত্তার ও সহযোগিতার বিষয় ছাড়াও জাতীয়, বহুপাক্ষিক এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পারিক সহযোগিতার ক্ষেত্র জোরদার হয়েছে।
  •  আমেরিকাস অনুবিভাগের আওতাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা সংলাপ, অংশীদারিত্ব সংলাপ, সামরিক সংলাপ, ব্যাংক সংলাপ এবং টিকফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
  • কানাডার সাথে ৪৬ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ- কানাডা দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
  • প্রথমবারের মত বাংলাদেশ ব্রাজিল দ্বিপাক্ষিক বৈঠক গত ২০ মার্চ ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়।
  • ২০১৪ সালে জুলাই মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্য সফর করেন।
  • ২০১৫ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেদারল্যান্ডস্ সফর করেন এবং টেকসইভাবে বাংলাদেশের বদ্বীপ (Delta) ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র নিবিড় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • রাশিয়ান ফেডারেশন-এর সাথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় দেশসমূহের মধ্যে বিরাজমান সুসম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রসার লাভ করেছে।
  •  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রুশ ফেডারেশনে সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চুক্তি, পারমানবিক শক্তি বিষয়ক একটি তথ্য কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তি, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের চুক্তি এবং ৬টি সমঝোতা স্মারক।
  • গত ৫ বছরে বাংলাদেশে জার্মান, বেলারুশ ও গ্রীসের রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর ছাড়াও জার্মানি, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডস সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধিবৃন্দ বাংলাদেশ সফর করেন।
  • ২০১২ সালে বেলারুশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে শিক্ষা, কৃষি, আইন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সামরিক বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বিষয়ে মোট ১২টি চুক্তি/ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
  • ১১-১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্সে সরকারি সফর করেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মি. এমানুয়েল ম্যাক্র, জাতিসংঘ মহাসচিব মি. এন্টনিও গুটেরেস এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মি. জিম ইয়ং কিম-এর যৌথ আমন্ত্রণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে প্যারিসে অনুষ্ঠিত “One Planet Summit-এ অংশগ্রহণ করেন।
  • গত ১৯-২০ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে তুরস্কের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Mr. Binali Yildirim বাংলাদেশে সরকারি সফর করেন।

 বহুপাক্ষিক সম্পর্ক।

  • ঢাকায় BIMSTEC (Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation) এর স্থায়ী সচিবালয় স্থাপন।
  • আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের আরেকটি সফল পদক্ষেপ হল সার্কের অধীনে ঢাকায় South Asian Regional Standards Organization (SARSO) এর সদর দফতর স্থাপন।
  • ৮-৯ জুন ২০১৮ তারিখে কানাডায় অনুষ্ঠিত G7 Outreach Leaders Programme- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করেন।
  •  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী David Cameron এর আমন্ত্রণে জুলাই ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম Girl Summit-এ অংশগ্রহণ করেন।
  •  ‘ব্লু ইকোনমি’ বিষয়ে জ্ঞান/ অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত ১-২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে ঢাকায় “International Workshop on Blue Economy” শীর্ষক আন্তর্জাতিক কর্মশালার অনুষ্ঠিত হয়।
  •  ২০১০ সালে জাতিসংঘের ৬৫তম অধিবেশন চলাকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহস্রাব্দ উন্নয়ন+১০ সম্মেলনে সহসভাপতিত্ব করেন।
  • ২০১১ সালে ৬৬তম অধিবেশনের সময় Clinton Global Leader Climate Initiative জাতিসংঘ মহাসচিবের Every Woman Every Child এবং সন্ত্রাস নিরোধ সংক্রান্ত শীর্ষ সভায়  প্রধানমন্ত্রী নীতিনির্ধারণী বক্তব্য প্রদান করেন এবং জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন মডেল উপস্থাপন করেন।
  • ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত ৬৭তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে ‘জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন” মডেলটি একটি নতুন রেভ্যুলশন আকারে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
  •  ৬৮ তম অধিবেশনের সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ আমন্ত্রণে Global Education First Initiative অন্যতম শীর্ষনেতা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং এমডিজি সংক্রান্ত Follow up on Efforts Made Towards Achieving the MDG উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ অনুষ্ঠানে সহ-সভাপতিত্ব করেন।
  •  নভেম্বর ২০১৬ তারিখে হাঙ্গেরির রাষ্ট্রপতি H.E. Mr. János Ader-এর বিশেষ আমন্ত্রণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত Budapest Water Summit 2016 -এ অংশগ্রহণ করে।
  •  বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর Commonwealth Parliamentary Association (CPA)-এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন, Inter-Parliamentary Union (IPU)-এর প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল, Interational Telecommunication Union (ITU) Council, The Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women (CEDAW)- International Mobile Satellite Organization (IMSO)-এর মহাপরিচালক পদে বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ Member, UN South South Steering Committee on Sustainable Development; President, UN High-level Committee on South- South Cooperation; Chairman, UN Credential Committee Chair, Global Fund for Development; Governing Body Member, International Labour Organisation Ges Vice-Chair, Executive Board, UN-Women পদে নির্বাচিত হয়েছে। এসব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে।
  • ২০১১ সালে বাংলাদেশ সফরকালে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য একটি মডেল দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
  • ২০১২ সালে ৬৭তম অধিবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Peaccbuilding Commission s Autism Speaks এর উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং মহাসচিবের Education First Initiative and Scaling UP Nutrition Movement উদ্যোগসমূহের সকল সভায় অন্যতম শীর্ষনেতা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
  •  অক্টোবর ২০১৪ সালে ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত ১০ম ও জুলাই ২০১৬ সালে উলানবাটার, মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া ইউরোপ মিটিং (আসেম) এর ১১তম সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন।
  •  বাংলাদেশ ২০১৫ সালে অভিবাসন ও উন্নয়ন সম্পর্কিত বৈশ্বিক ফোরাম (GFMD) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়।
  • Global Forum on Migration and Development ( GFMD)-এর সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ গত ১০-১২ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে ঢাকায় নবম GEMD শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করে।
  •  অক্টোবর ২০১৬ সালে ভারতের গোয়াতে অনুষ্ঠিত “BRICS-BIMSTEC Outreach Summit-এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে অংশ গ্রহণ করেন।
  •  জাতিসংঘের Millennium Development Goals (MDGs) অর্জনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০৩০ Agenda for Sustainable Development প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
  •  ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে কানাডার মন্ট্রিয়েলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফান্ডের ৫ম রিপ্লেনিশমেন্ট সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
  •  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত “United Nations Summit on Refugees and Migrants “-এর প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখেন ।
  • মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে সেপ্টেম্বর ২০১৬-এ অনুষ্ঠিত High- Level Panel on Water-এর একটি বিশেষ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
  •  সেপ্টেম্বর ২০১৬-এ “Making Every Woman and Girl Count”-শীর্ষক সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন।
  •  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৫-১৬ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মরক্কোর মারাকেশ শহরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের Framework Convention on Climate Change (UNFCCC)-এর Conference of the Parties (COP 22 ) -এর High Level Segment-এ মরক্কোর মহামান্য রাজা His Majesty King Mohammed VI-এর বিশেষ আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করেন।
  • ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রাচীনতম আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা অরগানাইজেশন অভ আমেরিকান স্টেট (ওএস) এর স্থায়ী পর্যবেক্ষকের পদমর্যাদা লাভ করে।
  • World Economic Forum (WEF)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান Professor Klaus Schwab-এর বিশেষ আমন্ত্রণে ১৭-২০ জানুয়ারী ২০১৭ তারিখে সুইজারল্যান্ডের ডাভোস (Davos) শহরে অনুষ্ঠিত WEF-এর ৪৭তম বার্ষিক সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করেন।
  •  ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত ৫৩তম Munich Security Conference (MSC)-এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন। সমুদ্রসীমা নির্ধারণ
  •  আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে ২০১২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হয় এবং বঙ্গোপসাগরে সর্বমোট ১,১৮,৮১৩ বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র এলাকার উপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
  •  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরষ্কার ও সম্মাননা প্রগত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সংখ্যক কমিটি অঙ্গ সংস্থা ও ফোরামের পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণী পর্ষদে সদস্যপদ লাভ করে যার মধ্যে ECOSOC Human Rights Council, UNDP / UNFPA, UNESCO, UN-Women, CEDAW, FAO, WHO, UNAIDS, UNEP, UN-HABITAT, IMO, ITU, UPU, ISBA, ILO, CEDAW উল্লেখযোগ্য।
  •  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: South South Award (2011). “Champions of the Earth’, ‘Tree of Peace Award’,*Cultural Diversity Medal 2012, Global Women’s Leadership Award 2018, Award for Humanitarian Leadership from Global Hope Coalition (2018), “IPS International Achievement Award” from Inter Press Service for outstanding leadership (2018).

প্রশাসনিক সাফল্য

  • ২০০৮-০৯ হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্বে বন্ধ হওয়া ৩টি মিশন পুনঃস্থাপনসহ মোট ১৯টি মিশন চালু করা হয়েছে।
  • মিশনগুলো হচ্ছে গ্রিসের এথেন্স, ইতালির মিলান, ভারতের মুম্বাই ও গুয়াহাটি, তুরস্কের ইস্তাম্বুল, পর্তুগালের লিসবন, চীনের কুনমিং, লেবাননের বৈরুত, মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়া, মরিশাসের পোর্ট লুইস, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, পোল্যান্ডের ওয়ারশ, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা, নাইজেরিয়ার আবুজা, আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স, অস্ট্রেলিয়ার সিডনী (পুনঃস্থাপন), কানাডার টরোন্টো।
  • এছাড়াও পূর্বে বন্ধ হওয়া ২টি মিশন পুনঃস্থাপনসহ আরও মোট ২টি মিশন স্থাপনের সকল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মিশনগুলো হচ্ছেঃ রুমানিয়ার বুখারেস্ট (পুনঃস্থাপন), ও ভারতের চেন্নাই।
  • আফগানিস্তানের কাবুল (পুনঃস্থাপন), সুদানের স্বাতুম ও সিয়েরা লিয়নের ফ্রিটাউন মিশন। চালুর প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে বর্তমানে অর্থবিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
  • পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহের সাংগঠনিক কাঠামোতে বিসিএস (পররাষ্ট্র বিষয়ক) ক্যাডারের ৬০টি নতুন পদ সৃজিত হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যু

  • মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে আশ্রয় দিয়েছে।
  • বাংলাদেশের এই মানবিক সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।
  • জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধান বাংলাদেশ সফর করেন।
  • বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের জন্য দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক প্রচেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছে।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে "বৈদেশিক সম্পর্ক" খাতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির দশ বছর (২০০৯-২০১৮)

 

বিবিধ

  • ISESCO কর্তৃক ঢাকা-কে ২০১২ সালের জন্য এশীয় অঞ্চলের জন্য ইসলামী সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা।
  • ASEM Ges CICA এর নতুন সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্তি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত ও ঐকান্তিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর ‘International Memory of the World Register-এ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক ঐতিহ্য’ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।
  • যুদ্ধাপরাধের বিচার ICT BD কার্যক্রম সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে সফল কূটনৈতিক প্রয়াস।
  • Visit Bangladesh Programme-এর আওতায় মোট ৩৯টি দেশের প্রায় ২০০ জন বিশিষ্ট সাংবাদিক সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফর করেন।
  • এছাড়া জাপান থেকে অমর একুশে উপলক্ষে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থী ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সফর করেন।
  •  থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থিত AIT-এ বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বঙ্গবন্ধুর Bust স্থাপন করা হয়েছে এবং প্যারিস, রোম ও মাদ্রিদে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে।
  • দূতাবাসসমূহে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ ও শাহাদাতবার্ষিকী ১৫ আগষ্ট যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে।
  • জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস প্রস্তাব পাসের প্রেক্ষিতে গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার উপর বিশ্ববাসীকে সচেতন করার জন্য দূতাবাসসমূহে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টারি ও প্রকাশনা প্রেরণ ও বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
  • বঙ্গবন্ধু রচিত ‘অসমাপ্ত আত্নজীবনী’ গ্রন্থের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে ও হচ্ছে এবং প্রচারণার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
  •  উক্ত সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিদেশী বন্ধুদের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশেষভাবে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ও কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে এলিয়ট ট্রুডোকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে।
  • মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে বিভিন্ন অডিও-ভিজুয়াল ও ডকুমেন্টারি তৈরি ও প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
  • জাতির জনকের জীবনী ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন পুস্তক সংগ্রহ ও প্রচারনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
  •  উক্ত সময়ে সফল কূটনৈতিক প্রয়াসের ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করার জন্য বিদেশে পলাতক খুনীদের কয়েকজনকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং আরো কয়েকজনকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।

 

পরিশেষে বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই এক দশক ছিল বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। জাতির পিতার দেওয়া ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’—এই আদর্শকে ধারণ করে বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারতের সাথে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক সক্ষমতারই প্রমাণ।

চীনের সাথে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’, রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশ এক শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার মতো মানবিক সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অফ হিউম্যানিটি’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। একইসাথে ১৯টি নতুন মিশন স্থাপন এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার নীতিনির্ধারণী পর্ষদে বাংলাদেশের সরব উপস্থিতি আমাদের কূটনৈতিক পরিপক্বতাকেই তুলে ধরে। গত ১০ বছরের এই গতিশীল পররাষ্ট্রনীতি কেবল আমাদের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করেনি, বরং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের পথকে করেছে নিষ্কণ্টক।