সঙ্গীতের ঘরানা সূচি | অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিশাল জগতে প্রবেশ করতে গেলে ‘ঘরানা’ শব্দটির সঙ্গে খুব দ্রুতই পরিচয় ঘটে। প্রথমদিকে এটি অনেকের কাছেই কিছুটা জটিল বা তাত্ত্বিক মনে হতে পারে—মনে হয় যেন অপ্রয়োজনীয় কোনো বিভাজন। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই বোঝা যায়, ঘরানা আসলে সংগীত বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। এটি কেবল নাম বা অঞ্চলভিত্তিক পরিচয় নয়; বরং সুর পরিবেশনের ভঙ্গি, রাগের ব্যাখ্যা, তালের ব্যবহার এবং শিল্পীর চিন্তার একটি স্বতন্ত্র ধারা।

‘ঘরানা’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘ঘর’ বা ‘পরিবার’। সংগীতের ভাষায় এটি একটি ধারাবাহিক শিক্ষাপদ্ধতি বা স্কুল অব থট, যেখানে নির্দিষ্ট একজন গুরু বা ওস্তাদের গায়কী বা বাদনশৈলী তাঁর শিষ্যদের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়। প্রাচীনকালে সংগীতচর্চা মূলত গুরু-শিষ্য পরম্পরার ওপর নির্ভরশীল ছিল। শিষ্যরা বছরের পর বছর গুরুর কাছে থেকে শুধু গানই শিখতেন না—শিখতেন রাগের মেজাজ, সময়ের ব্যবহার, এমনকি পরিবেশনার নৈতিকতা ও নান্দনিকতাও। এই দীর্ঘ সাধনা ও ধারাবাহিক চর্চার ফলেই একটি বিশেষ শৈলী ধীরে ধীরে আলাদা পরিচয় পায়—যা পরবর্তীতে একটি ‘ঘরানা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঘরানার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বতন্ত্রতা। একেকটি ঘরানা একেকভাবে রাগকে উপস্থাপন করে। কোথাও আলাপ দীর্ঘ ও গভীর, কোথাও তানের কাজ দ্রুত ও জটিল; কোথাও বোল-বনাওয়ের সূক্ষ্মতা, আবার কোথাও লয়কারীর জটিল গঠন—এইসব ভিন্নতা ঘরানাগুলোকে আলাদা করে তোলে। একই রাগ, একই তাল—তবু ভিন্ন ঘরানার শিল্পীর কণ্ঠে তার রূপ সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে উঠতে পারে। এই ভিন্নতাই শাস্ত্রীয় সংগীতকে একঘেয়ে হতে দেয় না; বরং তাকে করে তোলে বহুমাত্রিক ও জীবন্ত।

কণ্ঠসঙ্গীতের ক্ষেত্রে যেমন ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি—প্রতিটি ধারার মধ্যেই একাধিক ঘরানা গড়ে উঠেছে, তেমনি যন্ত্রসঙ্গীতেও (সেতার, সরোদ, বাঁশি ইত্যাদি) আলাদা আলাদা ঘরানার প্রভাব দেখা যায়। আবার তালবাদ্যের ক্ষেত্রেও—বিশেষ করে তবলা ও পাখোয়াজে—ঘরানাভেদে বোল, ঠেকা ও উপস্থাপনার ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ ঘরানা কেবল গায়নশৈলীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমগ্র সংগীতচর্চার একটি বিস্তৃত কাঠামো।

তবে ঘরানা মানেই কঠোর সীমানা—এমনটি ভাবার কারণ নেই। আধুনিক সময়ে অনেক শিল্পী একাধিক ঘরানার বৈশিষ্ট্যকে আত্মস্থ করে নিজের মতো করে উপস্থাপন করেন। তবুও প্রতিটি ঘরানার মূল দর্শন ও ভিত্তি জানা থাকলে সংগীত শোনার অভিজ্ঞতা অনেক গভীর হয়। তখন আমরা কেবল গান শুনি না—বরং বুঝতে পারি, কীভাবে একটি রাগ ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

এই পর্বে আমরা ঘরানার ধারণা, তার ইতিহাস, গুরু-শিষ্য পরম্পরার গুরুত্ব এবং কণ্ঠ ও যন্ত্রসঙ্গীতের বিভিন্ন ঘরানার বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরির চেষ্টা করব।

 

সঙ্গীতের ঘরানা

 

SufiFaruq.com Logo 252x68 3 সঙ্গীতের ঘরানা সূচি | অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ

 

প্রথম জেনে আসি – সঙ্গীতের ঘরানা কী বা কিভাবে তৈরি হয়?

ঘরানা শুধু নামেই নয়, গানের চরিত্রেও আলাদা। সে কারনে একেক ঘরানার গানের রস একেক রকম। এবার দেখা যাক- সঙ্গীতে ঘরানার মধ্যে পার্থক্যে কোথায়?

জেনে নেই – ঘরানা সংস্কৃতি ও গুরু শিষ্য পরম্পরা সম্পর্কে।

গান ও বাজনায় মোটামুটি ৪ রকম ঘরানা আছে। বিস্তারিত জানতে আর্টিকেল গুলো ভিজিট করুন।

১. হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে কন্ঠশিল্পি ঘরানা (Vocal Gharana)

২. হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তত বাদ্য ঘরানা (Wind Instruments Gharana)

৩. হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে বীতাত বাদ্য ঘরানা (Bowed Instrument Gharana)

৪. শুষির বাদ্য ঘরানা (বায়ু বা ফুঁ দিয়ে বাজানো যন্ত্র – Wind Instruments)

৪. হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে অবনদ্ধ বাদ্য ঘরানা (Percussion/Drum Gharanas)

৫. হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ঘানা বাদ্য ঘরানা (Idiophone Instrument Gharanas)

আরও পড়ুন:

Leave a Comment